ডাবের পানির উপকারিতা, পুষ্টিগুণ ও ব্যবহার

ডাবের পানির উপকারিতা

ডাবের পানির উপকারিতা, পুষ্টিগুণ ও ব্যবহার

জাকারিয়া: গ্রীষ্মের প্রচন্ড দাবদাহে যখন মানুষের শরির ক্লান্ত হয়ে যায় তখন ডাবের পানি সব ক্লান্তিকে নিমিষেই দূর করে দেয়। ডাবে রয়েছে অনেক উপকারিতা।

ডাবের পানি খেতে মিষ্টি ও পুষ্টিগুনে অনন্য। ছোট থেকে বৃদ্ধ সবাই ডাব, ডাবের পানি, নারকেল খেতে পছন্দ করে। ডক্তাররা পানিশূন্যতা পূরণের জন্য ডাবের পানি খেতে বলেন।

ডাব দিনদিন বহুমুখি খাবারে পরিনত হয়ে যাচ্ছে। শুধু খাবার জন্য নয়, রুপচর্চা বা বিভিন্ন প্রসাধনী তৈরিতে ডাব ব্যবহার হয়ে থাকে। ডাবে নারিকেলের তুলোনায় বেশি পানি থাকে এবং ভেতরে নরম জেলের মত অপুষ্ট নারকেল থাকে।

ডাবের পুষ্টিগুন

একটি ডাবে পানি থাকে ৯৫% তাছাড়াও রয়েছে নাইট্রোজেন, ফসফরিক এসিড, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড, আয়রন, শর্করা, সোডিয়াম, কপার, ফাইবার এবং সেলেনিয়াম।

ডিহাইড্রেশন বা পানি স্বল্পতা পূরণে ডাবের পানি উপকারী

ডাব বা নারকেল দুটোর পানি খুবই স্বাস্থ্য বর্ধক। ডাবের পানি ইলেক্ট্রলাইটের অন্যতম উৎস। ইলেক্ট্রলাইট শরীরকে সঠিক ভাবে হাইড্রেটেড রাখার জন্য অত্যন্ত উপকারী। শরীর হাইড্রেড থাকলে পেশী ও স্নায়ুগুলো যথাযথ ভাবে কাজ করতে পারে।

এজন্য টিভেতে যেসকল কোমল পানিয় বা এনার্জি ড্রিংকের এড দেখি তা না খেয়ে ডাবের পানি খেলে অনেক বেশি উপকার হবে। যারা নিয়মিত ব্যায়ামে করেন তারা ব্যায়ামের পরে ডাবের পানি খেতে পারেন।

হার্টের জন্য ডাবের পানির উপকারিতা

ম্যাটাবোলিক সিনড্রম হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। ডাবের পানিতে এধরনের সিনড্রম কমানোর দারুণ ক্ষমতা রয়েছে। ম্যাটাবোলিক সিনড্রমকে চিহ্নিত করা হয় উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে শর্করা, ট্রাইগ্লিসারাইড এবং এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টোরেলের মাত্রা দিয়ে। তাছাড়া এইচডিএল বা ভালো কলেস্টোরেল কমে যায় ও পেটে ফ্যাট বেড়ে যায়।

গবেষণায় দেখা গেছে ডাবের পানি খেলে তা রক্ত চাপ, রক্তে শর্করা, ট্রাইগ্লিসারাইড ও ইনসুলিনের মাত্রা উন্নত করে। ডাবের পানিতে পরিমিত মানে এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় হৃদরোগের জন্য ডাব খুবই উপকারী।

ডায়বেটিসের জন্য ডাবের পানি কার্যত উপকারী

গবেষকদের মতে ডাবের পানি রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে পারে। যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের অন্যান্য শারিরিক সমস্যা দূর করতেও ডাবের পানি কার্যকরী। এটি ম্যাগনেসিয়ামের ভালো উৎস যা ইনসুলিনের সংবেদনশীলতাকে বাড়িয়ে তোলে। এতে থাকা ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে গতিশীল রাখে। ফাইবার যুক্ত খাবার ডায়াবেটিস রোগিদের জন্য খুবি উপকারী।

কিডনিতে পাথর প্রতিরোধে সহায়ক ডাবের পানি

কিডনিতে যাতে পাথর না হয় এজন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা জরুরি। নরমাল পানিই এরজন্য যথেষ্ট তবে কিছু গবেষকদের মতে ডাবের পানি পাথর না হওয়ার জন্য আরো ভালো কাজ করে।

ক্যালসিয়াম, অক্সালেট এবং অন্যান্য যৌগগুলি মিশে প্রসাবের আস্তর তৈরি করে। এগুলোই পরে পাথর তৈরি করে। ডাবের পানি কিডনি ও মূত্রনালির অন্যান্য অংশগুলিতে এমন আস্তর হওয়া আটকাতে পারে। ডাবের পানি প্রসাবে র‌্যাডিকেল উৎপাদন করতেও বাধা সৃষ্টি করে থাকে।

রক্তচাপ কমাতে ডাবের পানির উপকারিতা

ডাবের পানি রক্তচাপ কমানোর জন্য দূর্দান্ত হয়ে থাকে। ডাবের পানিতে পর্যাপ্ত পরিমানে পটাসিয়াম আছে, পটাসিয়াম রক্তচাপ কমাতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। ডাবের পানিতে আছে এন্টি-থ্রম্বোটিক ক্রিয়াকালাপ যা রক্তের জমাট বাঁধা প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে।

পুষ্টির প্রয়জনীয়তা পূরণ করতে পারে ডাবের পানি

ডাবের পানি কার্বোহাইড্রেড এবং সম্পূর্ণ চর্বিমুক্ত হয়ে থাকে, ক্যালোরির পরিমাণও খুবি কম। এছাড়াও এতে এসকরবিক এসিড, ভিটামিন-বি ও প্রোটিনের পরিমাণ বেশি। এজন্য ডাবের পানি আপনার প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে পারে।

এন্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাদ্য সরবরাহ করে

ডাবের ভেতরে থাকা জেলির মতো নরম মাংস অক্সিডেটিভ টিস্যু গুলিকে ক্ষতি হওয়া থেকে রক্ষা করে। ডাবের এ অংশটি স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রোটিন, বিভিন্ন ভিটামিন এবং খনিজের অন্যতম উৎস। এটি খেতেও সুস্বাদু, এজন্য আমরা ডাবের ভেতরের এ অংশটুকুও তৃপ্তি নিয়ে খেয়ে থাকি।

সৌন্দয্য বৃদ্ধি ও ত্বকের যত্ন নিতে ডাবের পানি উপকারী

ডাব নারিকেলে পরিনত হওয়ার পরে এর থেকে স্বাস্থ্যকর নারিকেল তেল তৈরি করা হয়ে থাকে। নারিকেলের তেল সমগ্র পৃথিবী জুরেই চুলের যত্ন নিতে ব্যবহার করা হয়। এর তেল মানুষের ত্বক, মাথার ত্বক ও চুলের যত্নে ময়শ্চরাইজার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ডাবের ভেতরের পাতল অংশ একটু থেতলে নিলে তা প্রাকৃতিক সানস্  ক্রিম হিসেবে ব্যবহার করা যায়। প্রাচীনকালথেকেই নারিকেলের তেল খাওয়া, ওষুধ তৈরি ও রুপচর্চায় ব্যবহার হয়ে আসছে।

নারিকেলের ১০টি স্বাস্থ্য উপকারিতা

  • ১. নারিকেল এন্টিব্যাক্টেরিয়াল, এন্টি-ভাইরাল, এন্টি-ফাঙ্গাল এবং পরজীবি মুক্ত। যার জন্য নারিকেল আপনার ইমিউন সিস্টেমকে স্বাস্থ্যকর করে তোলে।
  • ২. নারিকেল দ্রুত শক্তি সরবরাহের প্রাকৃতিক উৎস। যা আপনার শরির এবং এথলেটিক কর্মক্ষমতাকে বাড়ায়।
  • ৩. নারিকেলে থাকা পুষ্টি, ভিটামিন এবং খনিজ হজম ক্ষমতাকে বাড়ায়।
  • ৪. ইনসুলিন এবং ডায়াবেটিসের সাথে সর্ম্পকিত লক্ষণগুলি উন্নত করে।
  • ৫. ফ্রিরেডিক্যাল অপসারনের মাধ্যমে দেহকে ক্যান্সারের হাত থেকে রক্ষা করে সাহায্য করে।
  • ৬. হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় এবং ভালো কোলেস্টোরেলের(এইচডিএল) মাত্রা  বাড়িয়ে দেয়।
  • ৭. থাইরয়েড ফাংশন পুনরুদ্ধার ও সমর্থনে সাহায্য করে।
  • ৮. কিডনিরোগ এবং মুত্রাশয়ের অসুখ থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে।
  • ৯. ওজন কমাতে সাহায্য করে।
  • ১০. রুপচর্চায় উপকারি ভূমিকা রাখে নারিকেল।

 

তথ্যসূত্র: হেলথলাইন.কম ও সানওয়ারিওর

প্রেস/জেএ/এনজে

এসেন্সিয়াল অয়েলের উপকারিতা ও ব্যবহার

এসেন্সিয়াল অয়েলের উপকারিতা

এসেন্সিয়াল অয়েলের উপকারিতা

রিয়া সরকারঃ স্পাতে না গিয়েই নিজেকে স্ট্রেসমুক্ত/ চাপমুক্ত রাখতে চান? এসেন্সিয়াল অয়েল আপনাকে ঠিক একিরকম অনুভুতি দিতে পারে ঘরে বসেই।

এসেন্সিয়াল অয়েল সাধারনত এরোমাথেরাপি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি উদ্ভিদের নির্যাস থেকে নেওয়া হয় যা ওষুধের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এটি আপনাকে মানসিক ও শারীরিক উভয় ভাবেই সতেজ রাখতে সাহায্য করবে।

কিছু এসেন্সিয়াল অয়েলে রয়েছে এনটিসেপটিক, এনটি ব্যকটেরিয়াল এবং এনটি ইনফ্লামাটরি বৈশিষ্ট্য। এটি আমাদের শরীরের সুগন্ধি হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে।

অনেক ধরনের এসেন্সিয়াল অয়েল রয়েছে। যেমন- ল্যভেনডার, ইউকেলিপটাস পিপারমেনট, স্যান্ডেলউড, রউজ, ক্যমোমাইল, ইয়াং ইয়াং, টি ট্রি, জেসমিন, লেমন, অলিভ অয়েল। বিভিন্ন ধরনের অয়েল বিভিন্ন কারনে ব্যবহার হয়ে থাকে।

স্ট্রেসমুক্ত রাখতে এসেন্সিয়াল অয়েলের উপকারিতাঃ

গবেষণায় দেখা গেছে প্রায় ৪৩ শতাংশ মানুষ কিছু না কিছু ব্যাবহার করে থাকেন নিজেদের স্ট্রেসমুক্ত রাখতে তার মধ্যে এসেন্সিয়াল অয়েল অন্যতম। এর সুগন্ধি আমাদের উদ্বেগ/ চাপ কমাতে সাহায্য করে।


পিপারমিনট এসেন্সিয়াল অয়েলের উপকারিতা  

নানান কারনে আমাদের মাথা ব্যথা হয়ে থাকে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, পিপারমিনট ও ল্যাভেনডার একসাথে মাথায় মালিশ করলে মাথা ব্যথা কমে যায়। এমনকি মাইগ্রেনের ব্যথাও কমে যায়।

ল্যাভেনডার এসেন্সিয়াল অয়েলের উপকারিতা

ল্যাভেনডার এসেন্সিয়াল অয়েল ঘুমের জন্য দারুন কাজ করে। ঘুমানোর সময় আমাদের অনেকেরই মাথায় নানান ধরনের চিন্তা থাকে, অনেক কিছু নিয়ে দুশ্চিন্তা করি আর সেই কারনে আমাদের ঘুম আসতে দেরি হয়। আবার অনেক সময় সারারাত ঘুমাতে পারিনা। এরকম সমস্যাতে ল্যাভেনডার এসেন্সিয়াল অয়েল বা ক্যমোমাইল অয়েল একটু মাথায় লাগিয়ে নিলে কিছুক্ষনের মধ্যেই আপনার ঘুম চলে আসবে। এছাড়াও ল্যাভেনডার অয়েল খুশকি দূর করে ও চুল পরা কমাতে সাহায্য করে।

অলিভ অয়েল

অলিভ অয়েল রুক্ষ ত্বকের জন্য দারুন উপকারি। এতে রয়েছে ভিটামিন এ এবং ই যা আমাদের ত্বকের জন্য খুবই উপকারি। শীতকালে আমাদের সবার ত্বকই রুক্ষ হয়ে যায় এবং নানা সমস্যা দেখা দেয়। অলিভে অয়েল সেই সব সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে থাকে। অলিভে অয়েল চুলের জন্যও খুব উপকারি, এটি চুলে  কনডিশনার হিসেবে কাজ করে থাকে। এছাড়াও অলিভে অয়েল মেইকআপ তোলার জন্যও খুব ভালো।

ইউক্যালিপটাস

এই এসেন্সিয়াল অয়েল শ্বাসযন্ত্রের ইনফেকশন কমানোর সাথে সাথে শরীরের ব্যথা, কেটে যাওয়া বা পুড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা সমাধান করে থাকে। এছাড়াও এটি বিভিন্ন কফ সিরাপের মধ্যে ব্যবহার হয়ে থাকে। ইউক্যালিপটাস আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যকে সুস্থ রাখে এবং নানা ওষুধের মধ্যেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

সিনামেন


সিনামেন অয়েল ম্যাঙ্গানিজ, আইরন এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ। এটি মস্তিস্কের কার্যকারিতা উন্নত করে, রক্তকে বিশুদ্ধ করে এবং হৃদরোগ ও ডায়েবেটিক্সের হাত থেকেও আমাদের মুক্তি পেতে সাহায্য করে। শীতকালে রাতে ঘুমানোর আগে শরীরে লাগিয়ে নিলে আমাদের কফ ও শ্বাস কষ্টের সমস্যা কমে যাবে।

টি ট্রি অয়েল

টি ট্রি অয়েল ত্বকের জন্য খুবই উপকারি। ব্রণের সমস্যা দূর করতে এর ভূমিকা অতুলনীয়। প্রতিদিনের মইশচারাইজারের সাথে ১ থেকে ২ ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে লাগিয়ে নিলে ব্রণের সমস্যা দূর হবে। এছাড়াও ফেইসওয়াশের সাথে টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে রোজ মুখ ধুয়ে নিলেও এই সমস্যা দূর হবে।

এসেন্সিয়াল অয়েল এরোমাথেরাপি ছাড়াও আমাদের নানা ভাবে উপকারে আসে। অনেকেই এসেন্সিয়াল অয়েল রুম ফ্রেশনার হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। অনেকে বলে থাকেন এটি ঘরে ব্যবহারের ফলে মশার আনাগনাও কমে যায়।

** তবে অনেক সময় এসেন্সিয়াল অয়েলের গন্ধ নিলে বাচ্চাদের এবং গর্ভবতী মহিলাদের সমস্যা হতে পারে, সেই দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।

তথ্যসূত্র: টইহেলথলাইন

অনলাইনপ্রেস২৪/এরএস/এনজে

আদার উপকারিতা, পুষ্টিগুন এবং ব্যবহার

আদার উপকারিতা

আদার উপকারিতা, পুষ্টিগুন এবং ব্যবহার

আদা প্রাচীন কাল থেকেই রান্নার মসলা ও বিভিন্ন ওষুধি কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আদার উপকারিতা ও এর পুষ্টিগুন অনেক। পৃথিবীতে স্বাস্থ্যকর যতগুলো মসলা আছে আদা তার মধ্যে অন্যতম একটি।

তবে আমাদের অনেকের মধ্যে সঠিক ধারণাই নেই সহজলভ্য এই রসনা উপাদানের ভেষজ গুণাগুণের ব্যাপারে। তাই আসুন জেনে নেই আদার উপকারিতা, পুষ্টিগুন এবং ব্যবহার সর্ম্পকে।

প্রতি ১০০ গ্রাম আদায় বিদ্যমান পুষ্টি উপাদান

  • এনার্জি- ৮০ক্যালোরি
  • কার্বোহাইড্রেড- ১৭গ্রাম
  • ফ্যাট- ০.৭৫গ্রাম
  • পটাসিয়াম- ৪১৫মিলিগ্রাম
  • ফসফরাস- ৩৪মিলিগ্রাম

সাধারণ ঠান্ডা-সর্দি-কাশি থেকে মুক্তি পেতে আদা উপকারী

আদা সাধারণ ঠান্ডা-সর্দি-কাশির চিকিৎসার প্রাকৃতিক উপাদান। তাজা আদা স্বাসযন্ত্রকে সুরক্ষা প্রদান করে থাকে। এ অবস্থায় প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে শুধু আদা বা হালকা গরম পানির সাথে আদা মিশিয়ে খেলে সর্দি-কাশি ভালো হয়ে যাবে।

ব্যাথা নিরাময়ে আদা উপকারী

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিদিন ২ গ্রাম কাঁচা আদা অথবা গরম পানির সাথে আদা মিশেয়ে খেলে শরিরের ব্যাথা কমে যায়। যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন তাদের পেশিতে হালকা ব্যাথা অনুভব হয়। তাই তারা নিয়মিত এভাবে আদা খেতে পারেন।

মহিলাদের পিরিওডের আগে বা পিরিওডের সময় ব্যাথা হয়। কুসুম গরম জলে আদা মিশিয়ে খেলে এজাতীয় ব্যাথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

শারীরের জ্বালা-যন্ত্রনা কমাতে আদার উপকারিতা

নিয়মিত আদা চিবিয়ে খেলে আরর্থারাইটস জনিত জ্বালা-যন্ত্রনা থেকে মু্ক্তি পাওয়া যায়। খাদ্য গবেষকদের মতে আদাতে থাকা ফাইটোকেমিক্যাল শারীরিক প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। এজন্য শুধু মসলা হিসেবে নয়, কাঁচা আদা খাওয়ারো অভ্যাস করা জরুরি।

বমিভাব দূর করতে উপকারী

আদা বমি বমি ভাব দূর করতে সহায়তা করতে পারে। কেমোথেরাপি করা শিশুদের উপর একটি গবেষনায় দেখা যায়, আদার রস অধিকাংশ শিশুর বমি ভাব দূর করতে সক্ষম হয়েছে।  ১৫০০ মিলিগ্রামের আদার ডোজ বমি ভাবকে দূর করতে সক্ষম। যাদের অল্পতেই বমি হয়ে থাকে তারা নিয়মিত আদা খেতে পারেন।

ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করে

আদা প্রোটিন বা অন্যান্য পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে না। তবে আদা এন্টিঅক্সিডেন্টের একটি দুর্দান্ত উৎস। এজন্য আদা রাসায়নিক বিক্রিয়ার চাপ কমাতে পারে।

ফ্রি রেডিক্যাল এক ধরনের বিষাক্ত পদার্থ, যার মাত্রা শরীরে বেড়ে গেলে রাসায়নিক বিক্রিয়ার চাপ হয়। যা ক্যান্সার সহ নানা ধরনের রোগের কারণ হয়ে থাকে। এন্টিঅক্সিডেন্ট ফ্রি রেডিক্যাল সমূকে ধ্বংস করতে পারে। এজন্য আদা কলোরেক্টাল ক্যান্সার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।

কোলেস্টোরেল হ্রাস করে

বেশি মাত্রার লাইপোপ্রোটিন (খারাপ কোলেস্টোরেল) হৃদরোগের ঝুঁকির সাথে যুক্ত। আমরা নিয়মিত যে খাবার খাই সেগুলো দেহে এলডিএল (খারাপ কোলেস্টোরেল) এর মাত্রা বৃদ্ধি করে। আদা এই ক্ষতিকর কোলেস্টোরেলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

ইনফেকশনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদার উপকারিতা

তাজা আদাতে জৈবিক পদার্থ আছে, যা সংক্রামণ হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। আদা বা আদার রস ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিকে বাধা দিতে পারে।

জিঙ্গিভাইটিস এবং পিরিয়ডোন্টাইটিস এমন ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে আদা খুবি কার্যকর। আরএসভি জাতীয় ভাইরাস যা শ্বাসতন্ত্রের সংক্রামিত রোগের কারণ হয়। তাজা আদা এ ধরনের ভাইরাসের বিরুদ্ধে উপকারি ভূমিকা রাখে।

আদা খাওয়ার পদ্ধতি

  • ১. গরম পানির সাথে আদা থেতলিয়ে মিশিয়ে খেতে পারেন।
  • ২. আদা পরিষ্কার করে ছুলে লেবুর রসের সাথে মিশিয়ে হজম হওয়ার জন্য খেতে পারেন।
  • ৩. আদা থেতলানো বা আদার রস চায়ের সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন। দুধ  বা রঙ যেকোনও চায়ের সাথেই আদা খাওয়া যায়।
  • ৪. আদা ঘন করে জাল ‍দিয়ে আদার সিরাপ করে খেতে পারেন।
  • ৫. এছাড়া আদার আচার তৈরি করে খাবারের সাথে নিয়মিত আদা খেতে পারেন।
  • ৬. অনেকেই ঘুম থেকে উঠার পর দুর্বলতা অনুভব করেন। এজন্য ঘুম থেকে উঠে অল্প আদা খেতে পারেন। নিয়মিত খাওয়ার পর এ দুর্বলতা ভাব কেটে যাবে।

অনলাইনপ্রেস/জেএ/এনজে

তথ্যসূত্র: হেলথলাইনমেডিক্যাল নিউজ টুডে

অনন্য এক ভেষজ কাঁচা হলুদের উপকারিতা

কাঁচা হলুদের উপকারিতা

কাঁচা হলুদের উপকারিতা

রিয়া সরকারঃ কাঁচা হলুদের উপকারিতা নিয়ে যত বলা হবে ততোই কম। বহু প্রাচীনকাল থেকেই কাঁচা হলুদ রান্নার সাথে সাথে ওষুধি হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে।

কাঁচা হলুদ আমাদের শরীরের নানান সমস্যা সমাধান করে থাকে। রান্না থেকে শুরু করে রূপচর্চায়  কাঁচা হলুদের ব্যবহার দেখা যায়। এতে রয়েছে এনটি-ফাঙ্গাল, এনটি- ব্যকটেরিয়াল, এনটি-অক্সিডেনট, এনটি-ইনফ্লামেটোরি, এনটি-কারসিনোজেনিক গুনাগুন।

জেনে নেওয়া যাক তাহলে কাঁচা হলুদের উপকারিতা সম্পর্কে।

কাঁচা হলুদ হজম শক্তি বৃদ্ধি করে

রান্নায় হলুদ ব্যবহার হয়ে থাকে সাধারণত এর রঙের জন্য, তাছাড়াও আরেকটি কারণ হলো হলুদ আমাদের হজমে সাহায্য করে। এর মধ্যে রয়েছে এনটি-অক্সিডেনট এবং এনটি- ইনফ্লামাটরি যা আমাদের হজম শক্তি বৃদ্ধি করে। এটি আয়ু্র্ভেদিক ওষুধ হিসেবেও ব্যবহার হয়ে থাকে।

কাঁচা হলুদ পেটের সমস্যা দূর করে

অনেক সময়ই আমরা পেটের সমস্যায় ভুগি। অনেক কারণ থেকেই তা হয়ে থাকে। কখনো কখনো হজম না হলেও পেটে ব্যাথা হতে পারে। কাঁচা হলুদ সেই সব সমস্যা নিরাময় করতে দারুন কাজ করে। পেটের সমস্যা দূর করতে কাঁচা হলুদ খুবই উপকারী।

হাড়ের ব্যথা দূর করে

বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাড়ের নানান ধরনের সমস্যা শুরু হতে থাকে। এনটি-ইনফ্লামাটরি হাড়ের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। কাঁচা হলুদ খাওয়ার ফলে আমাদের হাড়ের অনেক সমস্যা যেমন- আরথ্রাইটিস, ওসট্রিও-আরথ্রাইটিস এর মতো নানা জটিলতা নিরাময় হয়।

ত্বকের যত্নে কাঁচা হলুদের ব্যবহার

অনেক আগে থেকেই কাঁচা হলুদ ত্বকের সমস্যা সমাধানের জন্য ব্যবহার হয়ে আসছে। হলুদে রয়েছে এনটি- অক্সিডেনট যা আমাদের ত্বককে বিভিন্ন সমস্যার হাত থেকে রক্ষা করে। রোদে পুড়ে আমাদের ত্বকে কালচে ভাব হয়ে যায়, কাঁচা হলুদ ব্যবহার করলে সেই সমস্যা কমে যাবে। ত্বককে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে কাঁচা হলুদ। এমনকি কাঁচা হলুদ ব্যবহার করে ব্রণের সমস্যাও দূর করা যায়। তাহলে এখন থেকে ব্রণের সমস্যা হলে বাইরের পণ্য না কিনে আপনার রান্না ঘরেই সমাধান খুঁজে নেয়ার চেষ্টা করুন।

ডায়াবেটিকস কমাতে সাহায্য করে

যারা ডায়াবেটিস এর সমস্যায় ভুগে থাকেন তারা অনেকেই ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি কিছু ঘরোয়া সমাধানও খুঁজে থাকেন এর জন্য। তাদের জন্য কাঁচা হলুদ খুবই উপকারি। কাঁচা হলুদ ইনসুলিন লেভেল কে কন্ট্রোলে রাখে। তাই ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি যদি প্রতিদিন কাঁচা হলুদ খাওয়া যায় তাহলে কিন্তু সমস্যা অনেকাংশেই কমে যাবে। ডায়েবেটিসকে সব রোগের জনক বলা হয়। তাই এই রোগকে কন্ট্রোলে রাখা খুবই জরুরি। কিছু কিছু নিয়ম মেনে চললেই আমাদের ডায়েবেটিকস কন্ট্রোলে থাকবে।

লিভার ভালো রাখে

কাঁচা হলুদে রয়েছে এনটি-অক্সিডেনট যা আপনার লিভারকে যেকোনো খারাপ কিছু থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে। তাই যাদের কাঁচা হলুদ খাওয়ার অভ্যাস নেই তারা চট জলদি এই অভ্যাস গড়ে তুলুন।

এছাড়াও কাঁচা হলুদ প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সার, প্রসটেট ক্যান্সারের মতো কঠিন রোগের হাত থেকেও আমাদের বাঁচিয়ে থাকে।

কাঁচা হলুদের অপকারিতা

কাঁচা হলুদের আবার অনেক সাইড এফেক্ট ও রয়েছে। যেগুলো জেনে নেওয়া খুবই জরুরি। গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত হলুদ খাওয়ার ফলে আবার পেটের অনেক সমস্যা হয়ে থাকে। তাই অবশ্যই পরিমান মতো খেতে হবে।

কাঁচা হলুদ আমাদের রক্তের কোলেসটরাল কমায় এবং রক্ত পাতলা করে। তাই যারা রক্ত পাতলার ওষুধ খেয়ে থাকেন তারা অবশ্যই খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন।

তথ্যসুত্র: মেডিক্যাল নিউজ টুডেএনডিটিভি

অনলাইনপ্রেস/আরএস/এনজে

আশ্চর্য এক প্রাকৃতিক ওষুধ রসুনের উপকারিতা ও পুষ্টিগুন

রসুনের উপকারিতা

রসুনের উপকারিতা ও পুষ্টিগুন

জাকারিয়াঃ রান্নায় স্বাদ বাড়ানোর জন্য রসুন ব্যবহার হয়। তবে রসুনের রয়েছে অনেক উপকারিতা ও পুষ্টিগুন। এর পুষ্টিগুনের জন্য প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন রোগের পথ্য হিসেবে রসুনের ব্যাপক ব্যবহার ছিলো।

পশ্চিমা ওষুধের জনক প্রাচীন গ্রীক ‍চিকিৎসক হিপোক্রেটিস, তিনি  বেশিরভাগ চিকিৎসার জন্য রসুনের কথা বলেছেন। এতে বোঝা যায় প্রাচীনকাল থেকেই মানুষের চিকিৎসার জন্য রসুন ব্যবহার হয়ে আসছে। রান্না করা কিংবা কাঁচা সবসময়ই রসুনের পুষ্টিগুন অটুট থাকে। এতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে প্রাকৃতিক এন্টিবায়োটিক রয়েছে।

রসুনের পুষ্টিগুন

রসুনে প্রচুর ক্যালসিয়াম, আমিষ ও অল্প পরিমানে ভিটামিন-সি রয়েছে। এছাড়াও আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ফসফরাস, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, দস্তা, সেলেনিয়াম, ফোলেট, ভিটামিন-বি৬, প্রোটিন এবং চিনি রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে।

হৃদপিন্ডের যত্নে রসুনের উপকারিতা

খাবারের সাথে নিয়মিত রসুন খেলে উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টোরেল হ্রাস পায়। রসুনের ‍নির্যাস হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও কার্ডিয়াক ইভেন্টগুলোর জন্য ভালো।

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যাদের উচ্চ কোলেস্টোরেল রয়েছে, রসুন তাদের মোট কোলেস্টোরেল ও এলডিএল কমাতে সহায়তা করে। এজন্য কাঁচা  অথবা রান্না করা খাবারের সাথে নিয়মিত রসুন খান।

সাধারণ সর্দি-কাশি নিরাময়ে রসুন উপকারী

রসুনের প্রফিল্যাক্টিকের কারনে মানুষের সর্দি-কাশির প্রবনতা হ্রাস পায়। সাধারণ সর্দি-কাশি হলে আদার সাথে কাঁচা রসুন খেলে উপকার পাওয়া যায়।

অনেক চিকিৎসকের মতে কাঁচা রসুনের সর্বাধিক উপকারিতা, আবার অনেকে বলেন কাঁচা বা রান্না উভয় ক্ষেত্রেই এর গুণ সমান। একটি গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত রসুন খেলে ঠান্ডা-কাশি হওয়ার চান্স ৩% পর্যন্ত কমে যায়।

ব্লাড প্রেসারের জন্য উপকারী

রসুন শরীরের রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। নিয়মিত রসুন খেলে আপনার রক্তচাপ ১০% পর্যন্ত কমে আসতে পারে। রসুন রক্তের এন্টিঅক্সিডেন্টকে শক্তিশালি করে। তাই ব্লাডপ্রেসারের রোগীরা নিয়মিত রসুন খেয়ে নিজের ব্লাডপ্রেসারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন।

কোলেস্টোরেল নিয়ন্ত্রনে সহায়ক রসুন

রসুন আপনার কোলেস্টোরেলকে কমিয়ে হৃদরোগের মতো দুরারোগ্য ব্যাধির ঝুঁকি হ্রাস করতে পারে। একদল গবেষক গবেষণায় দেখেছেন, ‍নিয়মিত রসুন খেলে পাঁচ মাসের মধ্যে রক্তে খারাপ কোলেস্টোরেল কমে যায়।

অন্য আর সব প্রাকৃতিক ওষুধের মতো কিছুটা সময় বেশি নিলেও এর কার্যকারিতা ‍দীর্ঘস্থায়ী। এজন্য কোলেস্টোরেল নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে আজীবন রসুন খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

হাড়কে মজবুত করে তুলতে রসুন উপকারী

রসুন মহিলাদের মধ্যে এসট্রোজেন বাড়িয়ে তোলে যা হাড়ের ক্ষয় রোধে সহায়ক। নিয়মিত রসুন খেলে অস্টিও আর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি কমে যায়। মেয়েদের পিরিয়ড যখন একেবারেই শেষ হয়ে যাবে অর্থাৎ মেনপোজ এর সময় রসুন হাড়ের জন্য খুবই উপকারী। এজন্য নিয়মিত রসুন খাবার তালিকায় রাখতে হবে। রান্না খাওয়ার পাশাপাশি কাঁচা রসুনো খেতে হবে।

মস্তিষ্কের জন্য উপকারী

বয়স বাড়ার সাথে সাথে ফ্রির‌্যাডিক্যাল ক্ষয়জনিত সমস্যা দেখা দেয় যা দূর করতে সাহায্য করে রসুন। রসুনে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে এন্টিঅক্সিডেন্ট। যা মস্তিষ্ককে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে, ফলে বয়স গেলেও মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বজায় তাকে।

নিয়মিত রসুন খেলে মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিক থাকে। যার ফলে ডিমেনশিয়া ও আলঝাইমার মতো মস্তিষ্কের ব্যাধির ঝুঁকি কমে যায়।

ত্বকের যত্ন নিতে রসুনের উপকারিতা

ত্বকের যত্ন নিতে রসুন উপকারী ভূমিকা পালন করে। রসুনে একাধারে রয়েছে এন্টিঅক্সিডেন্ট, এন্টিফাঙ্গাল এবং এন্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান। মুখে ব্রণ হয় ব্যাকটেরিয়ার জন্য। এজন্য যদি ব্রণ হয় তাহলে ব্রণে কাঁচা রসুন ঘষুন।

রসুনের এন্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে সুরক্ষা প্রদান করে থাকে। রসুন ত্বকের এন্টিএজিং এর কাজ করে থাকে। তবে যদি সেনসেটিভ ত্বক হয়ে থাকে তবে ত্বকে রসুন বেশি ব্যবহার করবেন না।

খেলোয়ড়দের জন্য রসুন উপকারী

রসুন কর্মক্ষমতা বাড়ানো এবং ক্লান্তি দূর করার জন্য প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবহার হয়ে আসছে। গ্রীসের অলিম্পিক ক্রীড়াবিদরা তাদের খেলার সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য রসুন ব্যবহার করতো। এখন বর্তমান সময়ের ক্রীড়াবিদরাও ব্যয়ামের ক্লান্তি দূর করতে রসুন খেয়ে থাকেন। এজন্য নিজেকে ফিট রাখতে নিয়মিত রসুন খান।

ক্যান্সার রোধে উপকারী ভূমিকা রাখে

নিয়মিত রসুন খেলে ফুসফুসের ক্যান্সার, ব্রেইন ক্যান্সার ও প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে যায়। যারা ধুমপান করেন তাদের ফুসফুসে ক্যান্সার হওয়ার চান্স অনেকা। চিনা গবেষকদের মতে যারা ‍নিয়মিত কাঁচা রসুন খায় তাদের ফুসফুসের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি চল্লিশ শতাংশ কমে আসে। রসুনে থাকা আর্গানো সালফার ব্রেইন টিউমারের কোষ ধ্বংসে সাহায্য করে।

যৌনশক্তি বৃদ্ধিতে রসুনের উপকারিতা

সাধারনত পুরুষদের মধ্যে অনেক ধরনের যৌন সমস্যা থেকে থাকে। অনেকের ক্ষেত্রে যা খুবই বড় আকারের সমস্যা হয়ে দাড়ায়। প্রতিদিন ২/৩ কোয়া কাঁচা রসুন খেলে যৌন সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। রসুনা থাকা এলিসিন নামক উপাদান পুরুষের যৌনশক্তি বৃদ্ধিতে জাদুকরি ভূমিকা পালন করে।

দ্রুত বীর্য পতন রোধ ও পাতলা বীর্য ঘন করতে রসুনের তুলোনা হয় না। তাই নিজের যৌন সমস্যা দূর করতে নিয়মিত রসুন খেতে পারেন।

তথ্যসূত্র: হেলথলাইনমেডিক্যাল নিউজ টুডে

অনলাইনপ্রেস/জেএ/এনজে

টক দইয়ের উপকারিতা সম্পর্কে জানেন কি?

টক দই এর উপকারিতা

টক দইয়ের উপকারিতা

রিয়া সরকারঃ প্রাচীনকাল থেকেই টক দই খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। টক দই কমবেশি আমরা সবাই খেয়ে থাকি। যদিও খাওয়া ছাড়াও টক দই নানা ভাবে খাওয়ায় ব্যবহার হয়। টক দই দিয়ে বিভিন্ন রকম ডেসার্ট বানানো যায় যা বাড়ির বাচ্চারা খেতে খুব ভালোবাসে। তবে টক দই এর পুষ্টিগুণ বা উপকারিতা সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানিনা।

টক দইয়ে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এবং মিনারেল যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। এছাড়াও টক দইয়ের রয়েছে নানা ধরনের অজানা উপকারিতা।

হজম শক্তি বৃদ্ধিতে টক দই উপকারী

কখনো কখনো আমাদের খাওয়া বেশি হয়ে যায়, খাওয়ার পর অসস্তি হতে থাকে। আবার কোন অনুষ্ঠানে আমরা অনেক বেশি খেয়ে ফেলি যার ফলে আমাদের হজম ঠিক করে হয়না এবং নানান সমস্যা হতে থাকে। যেমন পেট ব্যথা, বুকে চাপ ধরে থাকা ইত্যাদি। এইসব সমস্যা সমাধান করা যায় টক দই খেলে। খাওয়ার পর একটু টক দই খেলে এই সব সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে।

ব্লাড প্রেসার কন্ট্রোল করে টক দই

যাদের ব্লাড প্রেসার আছে তাদের অনেক নিয়ম মেনে চলতে হয়। নানান ধরনের ওষুধও খেতে হয় প্রেসার কন্ট্রোলে রাখতে। কিন্তু আমরা হয়ত অনেকেই জানিনা টক দইয়ে রয়েছে মিনারেলস যা কোলেসটোরাল করায় এবং ব্লাড প্রেসারকে কন্ট্রোলে রাখে।

হাড়ের শক্তি বাড়ায়

আমরা অনেকেই অনেক ছোট থেকে খুব পরিশ্রমের কাজ করে থাকি এবং সেই তুলনায় পর্যাপ্ত খাওয়াও হয়না। যার ফলে বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাড়ের শক্তি কমতে থাকে এবং শুরু হয় নানান সমস্যা। কোমরে ব্যথা, হাঁটুতে ব্যথা, এগুলো যেন লেগেই থাকে। যদি আমরা প্রতিদিন টক দই খেতে পারি তাহলে এইসব সমস্যা থেকে রেহাই পেতে পারি। দইয়ের মধ্যে রয়েছে ক্যালসিয়াম যা আমাদের হাড়ের শক্তি বৃদ্ধি করে।

দুশ্চিন্তা কমাতে সাহায্য করে

কাজের চাপেই হোক অথবা ব্যক্তিগত জীবনেই হোক আমরা প্রত্যেকেই কিছু না কিছু নিয়ে দুশ্চিন্তা করি। আজকাল এর যেন কোন কমতি নেই। মানুষের জীবন যত বেশি যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছে দুশ্চিন্তা যেন ততোই বাড়ছে। আমরা ভেবে পাইনা কি করলে আমরা চিন্তা মুক্ত থাকতে পারব। কিন্তু আমরা জানিনা নিজেকে চিন্তা মুক্ত রাখার ওষুধ আমাদের ঘরেই রয়েছে। টক দই আমাদের দেহের কর্টিসল উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে রাখে যা আমাদের শরীরের স্ট্রেস হরমোন দূর করে এবং সুস্থ রাখে।

ত্বকের জন্য টক দইয়ের উপকারিতা

টক দই আমাদের ত্বকের নানা সমস্যার দূর করে থাকে। টক দইয়ে রয়েছে জিঙ্ক এবং ভিটামিন ই যা আমাদের ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। যেকোনো ধরনের ইনফেকশন দূর করতে টক দই দারুণ ভাবে কাজ করে। রুক্ষ ত্বকের জন্য টক দই খুবই উপকারী। টক দই রোদে পোরা দাগ দূর করে এবং ত্বককে মসৃণ করে।

ওজন কমাতে টক দইয়ের উপকারিতা

শুরুতেই বলেছিলাম টক দইয়ের উপকারিতা সম্পর্কে আমরা অনেকেই অনেক কিছু জানিনা, তেমনি একটি তথ্য হল টক দই আমাদের ওজন কমাতে সাহায্য করে। আমরা ওজন কমাতে কত কিছু করে থাকি, অনেকে আবার খাওয়া বন্ধ করে দেন ওজন বাড়ার ভয়ে। প্রতিদিন টক দই খেলে আপনার ওজন ধীরে ধীরে কমে যাবে। এমনকি আপনি যদি কোন ডায়েট ফলো করতে থাকেন তার সাথেও টক দই খাওয়া যেতে পারে।

বাচ্চারা অনেক সময়ই দুধ খেতে চায়না যার ফলে পুষ্টির ঘাটতি দেখা দেয়। দুধের পরিবর্তে বাচ্চাদের টক দই খাওয়াতে পারি। তাতে পুষ্টির অভাব দূর হবে আর স্বাদও বদলাবে।

এছাড়াও টক দই আমাদের ইমিউনিটি বাড়াতে সাহায্য করে। যারা টক দইয়ের উপকারিতা সম্পর্কে জানতেন না এবং খাওয়া থেকে বিরত থাকতেন আজ থেকে টক দই খেতে শুরু করুন এবং শরীরের নানা সমস্যা দূর করুন।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

অনলাইনপ্রেস/আরএস/এনজে

ডিমের খাওয়ার উপকারিতা ও পুষ্টিগুন

ডিমের খাওয়ার উপকারিতা

ডিমের খাওয়ার উপকারিতা ও পুষ্টিগুন

আমরা সবাই ডিম খাই, কারন ভালো লাগে। কিন্তু ডিম খাওয়ার উপকারিতা বা এর পুষ্টিগুন কি তা সম্পর্কে আমাদের সঠিক ধারণা নেই। যাদের ওজন বেশি বা যারা হার্টের রোগী তারা অনেকেই ডিম খান না। কারন তারা ভাবেন যে ‍ডিম খেলে ওজন অতিরিক্ত বেড়ে যাবে, হার্ট অ্যাটাক হবে ইত্যাদি। তবে যে সকল ডায়াবেটিস রোগীদের হার্টের সমস্যা আছে তাদের নিয়মিত ডিম না খাওয়াই ভালো।

ডিমের পুষ্টিগুন

প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, পটাসিয়াম, ‍জিংক, কোলেস্টোরেল, সেলেনিয়াম, ফলেট, এনার্জি, ফ্যাট, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি, ভিটামিন-কে এবং ভিটামিন-ই।

ডিম মস্তিষ্কের জন্য উপকারী

রেগুলার ডিম খেলে স্মৃতিশক্তি বেড়ে যায়, মস্তিষ্ক সতেজ থাকে কারণ ‍ডিমে কোলিন থাকে প্রচুর। কোলিন ভিটামিন-বি পরিবারের অংশ আর ডিমে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন-বি থাকে। কিছু গবেষণা প্রমাণ করেছে যে, ডিম থেকে প্রাপ্ত কোলিন হৃদরোগ, স্মৃতিশক্তি হ্রাস ও ফ্যাটি লিভারের মত রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা রাখে।

চোখের যত্নে ডিমের উপকারিতা অনেক

বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের দৃষ্টিশক্তি কমতে থাকে। ডিমে থাকা পুষ্টি উপাদান চোখের দৃষ্টি অবক্ষয় জনিত সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। ডিমে থাকা ভিটামিন-এ এবং ওমেগা-৩ চোখের রেটিনাকে ক্ষতির হাত থেকে সুরক্ষা করে।

ডিমে প্রচুর এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা অন্যান্য চোখের রোগ ও জীবাণু থেকে চোখকে রক্ষা করে থাকে। গবেষকদের মতে উদ্ভিদে থাকা এন্টিঅক্সিডেন্ট খেকে ডিমের এন্টিঅক্সিডেন্ট মানুষের শরীরে বেশি প্রভাব ফেলে।

ওজন কমাতে ডিম উপাকারী

যারা অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভূগেন তারা ওজন কমাতে অনেক ধরনের পন্থা অবলম্বন করে থাকেন। বিভিন্ন ধরনের প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট নিয়ে থাকেন। যার কারণে শরীরে নানা ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়। ডিম প্রোটিনের প্রাকিৃতিক উৎস। নিয়মিত ডিম খেয়ে শরীরে ওজনের ভারসাম্য ঠিক রাখা যায় এবং এতে করে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় না।

ওমেগা-৩ এর উৎকৃষ্ট উৎস হচ্ছে ডিম

ওমেগা-৩ হচ্ছে আমাদের দেহের অতি প্রয়োজনীয় একটি চর্বির। যা মানুষের কোষ ঝিল্লিকে কাজ করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তৈলাক্ত মাছ ওমেগা-৩ এর প্রধান উৎস আর ডিমের মধ্যেও ঐ একই ধরনের ওমেগা-৩ পাওয়া যায়। হৃদপিন্ড, মস্তিষ্ক ও চোখের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ওমেগা-৩ খুবি গুরুত্বপূর্ণ।

ডিম কোলিনের অন্যতম সেরা উৎস

কোলিন পুষ্টি উপাদান সম্পর্কে আমাদের বেশির ভাগ মানুষের ধারনা নেই, কোলিন আমাদের স্বাস্থের জন্য অনেক উপকারী। কোষের স্বাভাবিক ক্রিয়াকালাপের জন্য কোলিন খুবি প্রয়োজন। গর্ভাবস্থায় শিশুর মস্তিষ্কের  বিকাশের জন্য কোলিন অতি প্রয়োজনীয় । যেহেতু ডিমে কোলিন থাকে তাই গর্ভাবস্থায় মায়েরা প্রতিদিন ডিম খেতে পারেন।

ভালো কোলেস্টোরেলের (এইচডিএল) মাত্রা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখে

ডিম উচ্চ ঘনত্বের লাইপোপ্রোটিন (এইচডিএল) বা ভালো কোলেস্টোরেলের মাত্রা বাড়াতে সহায়তা করে। এইচডিএল হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করতে সাহায্য করে। এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টোরেল কমাতে ডিম সহায়ক। তাই যারা ভাবেন যে ডিম খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়বে তাদের ধারনা ভূল। এজন্য সবাই নিয়মিত ডিম খেতে পারেন। তবে যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের জন্য ডিম হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

পেশি গঠনে ডিমের ভূমিকা অনেক

ডিম হলো প্রোটিনের দুর্দান্ত উৎস আর প্রোটিন শরীরের টিস্যু গঠনে ভূমিকা রাখে এবং শক্তি বজায় রাখতে সহায়তা করে। এজন্য হাড়কে শক্তিশালী ও মজবুত রাখতে নিয়মিত ডিম খেতে পারেন।

তথ্যসূত্র: অস্ট্রেলিয়ানএগস.কম এবং লিটলথিংকস.কম

অনলাইনপ্রেন/জেএ/এনজে

গ্রিন টি এর উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিন

গ্রিন টি এর উপকারিতা

গ্রিন টি এর উপকারিতা

রিয়া সরকারঃ গ্রিন টি’তে রয়েছে জানা অজানা হাজারো গুণের সমাহার, যা আমাদের জন্য খুবই স্বাস্থ্যকর। গুনাগুণ না জানার ফলে আমরা অনেকেই গ্রিন টি খাই না। অথচ দুধ চা বা রঙ চা এর তুলনায় গ্রিন টি এর উপকারিতা অনেক বেশি। চায়না এবং ইন্ডিয়াতে দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন টি ঔষধি হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে।

তাহলে জেনে নেওয়া যাক গ্রিন টির স্বাস্থ্যগত উপকারিতা।

ক্যন্সার নিরাময়ে গ্রিন টি

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউশন অফ ক্যন্সার এর মতে, গ্রিন টি ক্যন্সার নিরাময় করতে সাহায্য করে। চায়ের পলিফেনল গুলো আমাদের শরীরে টিউমারের বৃদ্ধি হ্রাস করে থাকে এবং ইউ ভি বি বিকিরনের ফলে যে ক্ষতি হয় তা থেকে রক্ষা করে।

হার্ট ভালো রাখতে গ্রিন টি

আমরা সকলেই নিজের শরীরকে ভালো রাখতে চাই। তবে আমাদের দেশে কম বেশি অনেকেই হার্ট এর সমস্যায় ভোগেন। অনেক ওষুধ খাওয়ার পরেও তা নিয়ন্ত্রনে থাকে না। যদি আমরা নিয়ম করে রোজ গ্রিন টি খেতে পারি তাহলে কিছুটা হলেও উপকার পাওয়া যাবে।

কোলেসটরেল কমাতে গ্রিন টি

বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে আমাদের শরীরে নানা ধরনের রোগের বাসা বাঁধতে শুরু করে। তবে কিছু কিছু ছোট ছোট জিনিস মেনে চললেই শরীরকে ভালো রাখা যায়। যেমন গ্রিন টি আমাদের শরীরের খারাপ কলেসটরাল দূর করতে সাহায্য করে। তাই রোজ নিয়ম করে গ্রিন টি খাওয়ার অভ্যাস করে ফেলুন।

গ্রিন টি স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়

গবেষণায় দেখা গেছে গ্রিন টি এবং কফি আমাদের স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। আমাদের দেশে প্রচুর মানুষ স্ট্রোকের কারণে মারা যায়। তাই যদি সাধারণ কিছু অভ্যাসের ফলে এর থেকে উপকার পাওয়া যায় তাহলে নিশ্চয়ই আমরা প্রত্যেকেই তা মেনে চলব।

ওজন কমাতে গ্রিন টি

ওজন যত তাড়াতাড়ি বাড়ে ততো তাড়াতাড়ি কিন্তু কমে না। আমরা অনেকেই এর জন্য প্রচুর কিছু করে থাকি। অনেক ডায়েট ফলো করে থাকি। তবুও ফল মেলে না। কিন্তু অনেকেই হয়ত জানিনা গ্রিন টি আমাদের ওজন কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন গ্রিন টি খেলে খুব দ্রুত আপনার ওজন কমতে শুরু করবে।

ত্বকের সমস্যা কমাতেও গ্রিন টির ব্যবহার

গ্রিন টি আমাদের ত্বকের নানা ধরনের সমস্যা সমাধান করে থাকে। রুক্ষ ত্বকের জন্য গ্রিন টি খুবই উপকারী। এছাড়াও এটি ত্বকের লালচে ভাব দূর করে। গ্রিন টি খুশকি দূর করতেও অসাধারণ কাজ করে থাকে।

স্মৃতিশক্তি বাড়াতে গ্রিন টি

প্রতিনিয়ত আমাদের কাজের চাপ বেড়েই চলেছে যার ফলে আমরা অনেকেই অনেক সময় অনেক কিছু ভুলে যাই। কাজের চাপে অনেক কিছু মনে রাখতে পারিনা। গ্রিন টি সেই সমস্যার সমাধান করে দিতে সাহায্য করে। গ্রিন টি খেলে কাজের চাপের মাঝেও আপনার মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ততা ফিরে আসবে এবং ধীরে ধীরে আপনার স্মৃতিশক্তিও বৃদ্ধি পাবে।

ঘুম ও গ্রিন টি

রাতে ঘুম হচ্ছে না? দুশ্চিন্তা, মাথা ব্যথা? সব কিছুর সমাধান একসাথে পেয়ে যাবেন। নানা নানা কারণে আমাদের অনেকেরই রাতে ঘুম হয়না। যদি এই সমস্যাতে আপনিও ভুগে থাকেন তাহলে রাতে খাওয়ার পর এক কাপ গ্রিন টি খেয়ে ফেলুন। দেখবেন কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনি স্বপ্নের রাজ্যে চলে যাবেন। গ্রিন টি আমাদের নার্ভ সিস্টেম কে সচল করে।

যেগুলো করা থেকে বিরত থাকবেন

* খালি পেটে গ্রিন টি খাওয়া যাবে না। খালি পেটে চা, কফি খেলে অ্যাসিডিটির সমস্যা হতে পারে।

* ভারি খাবারের পরিবর্তে গ্রিন টি খাবেন না।

নিজেকে সুন্দর ও সুস্থ রাখতে গ্রিন টি খুবই উপকারী। গ্রিন টি আপনাকে শুধু সুস্থই রাখে না বরং আপনার ত্বককেও সুন্দর রাখতে সাহায্য করে থাকে। তাই প্রতিদিন গ্রিন টি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন এবং সুস্থ ও সুন্দর থাকুন।

তথ্যসূত্র: টাইমসনাওনিউজ.কম।

অনলাইনপ্রেস/আরএস/এনজে

লেবুর উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানেন কি?

লেবুর উপকারিতা

লেবুর উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ

লেবু পছন্দ করে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। লেবুর উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না। রান্না করে বা রান্না ছাড়া সব ভাবেই লেবু খাওয়া যায়।

গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে যখন শরীর ক্লান্ত হয়ে যায় তখন এক গ্লাস লেবুর সরবত শরীরের সকল ক্লান্তিকে নিমিষেই দূর করে দেয়। খাবারের স্বাদ বাড়াতে লেবুর তুলনা হয় না।

শুধুই কি স্বাদের জন্যে লেবু খাই আমরা? যদি এ প্রশ্ন করি তাহলে বেশির ভাগ মানুষের উওর হবে ‘হ্যাঁ’। আমাদের মধ্যে লেবুর উপকারিতা সম্পর্কে তেমন বিশেষ কোন ধারনা নেই বললেই চলে। তাই আসুন জেনে নেই লেবুর উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে।

মাঝারি সাইজের একটি লেবু থেকে চল্লিশ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ভিটামিন-সি পাওয়া যায়, যা একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের দৈনিক ভিটামিন-সি এর চাহিদা পূরণ করতে পারে।

ভিটামিন-সি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয়। শরীরে কাটা বা ক্ষতস্থান তাড়াতাড়ি শুকাতে সাহায্য করে ভিটামিন-সি।

লেবুতে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড ক্যালসিয়ামের হওয়া হওয়া আটকে শরীরকে পাথুরি রোগ হতে সুরক্ষা প্রদান করে। এছাড়া লেবুর খোসার ভেতরে থাকা ফ্ল্যাভানয়েড শরীরের শিরা গুলিকে শক্তিশালী করে যার ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায়।

ওজন কমাতে লেবুর উপকারিতা

লেবু বা লেবুর রস খেলে ওজন কমে। লেবু শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমতে দেয় না। এছাড়া লেবুতে থাকা প্যাকটিন নামক ফাইবার ঘন ঘন ক্ষুধার ভাবকে কমিয়ে দেয়। কিন্তু এতে আপনার শরীরে অন্য কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়না। ক্ষুধা ভাব কমে যাওয়ায় আপনি অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকবেন। যার ফলে আপনার ওজন বৃদ্ধি পাবে না। এজন্য খাবারের সাথে কিংবা সরবত করে নিয়মিত লেবু খান।

স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়

ইসকোমিক সাধারণ ধরনের একটা স্ট্রোক। যখন রক্ত জমাট বেধে মস্তিস্কে রক্ত চলাচলে বাধা দেয় তখন এই স্ট্রোক হয়। লেবুতে থাকা ফ্ল্যাভানয়েড গুলি ইসকোমিক স্ট্রোকের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।

লেবু ক্যান্সার ও হৃদরোগের হাত থেকে রক্ষা করে

একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে নিয়মিত ফ্ল্যাভানয়েড যুক্ত খাবার খেলে ক্যান্সার ও কার্ডিওভাসক্যুলার রোগের ঝুঁকি কমে যায়। এজন্য নিয়মিত লেবু অথবা লেবুর সরবত খেতে পারেন।

রক্ত চাপ বা ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে লেবুর উপকারিতা

লেবুর উপকারিতা গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হলো নিয়মিত লেবু খেলে ব্লাডপ্রেসার নিয়ন্ত্রণে থাকে। জাপানে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে যেসকল মহিলারা নিয়মিত হাটে ও লেবুর সরবত খায়। তাদের ব্লাডপ্রেসার ঠিক থাকে অন্য মহিলাদের তুলনায়।

হাঁপানি সমস্যায় লেবুর ব্যবহার

যারা হাঁপানির সমস্যায় ভুগেন তাদের জন্য লেবু খুবই উপকারী। লেবুতে রয়েছে ভিটামিন-সি যা স্বাসকষ্ট কমিয়ে আনতে সাহায্য করে। নিয়মিত ভিটামিন-সি যুক্ত খাবার খেলে সর্দি কাশি কমে যায়।

রক্ত স্বল্পতা দূর করতে লেবুর উপকারিতা

রক্ত স্বল্পতার প্রধান কারণ আয়রনের ঘাটতি। ভিটামিন-সি যুক্ত খাবার আয়রনের ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে। এজন্য যে সব খাবারে আয়রন আছে তা বেশি বেশি খাবেন। যেমন- গরুর লিভার, পালং শাক, শুকনো মটর, ছোলা ও  মাংস। লেবুতে থাকা ভিটামিন-সি এসব আয়রন যুক্ত  খাবারকে আরও সমৃদ্ধশালী করে তোলে।

শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে লেবু

লেবু আপনার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে। যেসব খাবারে অতিমাত্রায় ভিটামিন-সি ও এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকে সেগুলো শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে তোলে। লেবু ভিটামিন-সি তে ভরপুর। সাধারণ সর্দি-কাশি-জ্বরের জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে এসব পুষ্টি উপাদান।

রূপচর্চায় লেবুর উপকারিতা

রূপচর্চা করতেও লেবুর উপকারিতা অনেক। মুখে লেবুর রস মাখলে তৈলাক্ত ভাব দুর হয়। ওলিভওয়েলের সাথে লেবুর রস মিশিয়ে নখে লাগালে নখ শক্ত হয়। লেবুর রস মাখলে মুখে ব্ল্যাক হেডস দুর হয়ে যায়। এছাড়া চুলে লেবুর রস মাখলে খুশকি চলে যায় এবং চুল পরা কমে।

হজম ক্ষমতা বাড়ায়

পেট বা খাদ্য যন্ত্রের পরিচর্যাতেও লেবুর উপকারিতা আছে। নিয়মিত লেবুর শরবত খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়। লিভারের ইনফেকশন হয় না। এটি বদহজম হওয়া, বুক জ্বালা করা ও গ্যাস্টিকের সমস্যাকে দুর করে। পেটকে কৃমির আক্রমণ হতে রক্ষা করে।

লেবুর খোসা খাওয়ার উপকারিতা

লেবু এমন একটা খাদ্য উপাদান যার খোসা খেলে পাবেন অনেক উপকার। লেবুর খোসার থাকা ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য জনিত সমস্যা দূর করে। লেবুর খোসা মুখে ঘষে মুখের কালো দাগ, বলি রেখা সরানো যায়। ডায়াবেটিস রোগীরা লেবুর খোসা খেতে পারেন কারণ এটা রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে।

লেবু এমন একটি খাদ্য উপাদান যার উপকারিতা বরে শেষ করা যাবে না। লেবু নিজে একা যেমন পুষ্টি গুনে ভরপুর তেমনি অন্য খাবারের সাথে মিশে তার পুষ্টিগুণকেও বাড়িয়ে দেয়। এজন্য লেবুর উপকারিতা পেতে নিয়মিত লেবু বা লেবুর সরবত খান।

 

তথ্যসূত্র: মেডিক্যাল নিউজ টুডে।

অনলাইনপ্রেস/জেএ/এনজে

সুস্থ থাকুন সেল্ফ কোয়ারিনটিনে, কোভিড-১৯

সুস্থ থাকার উপায়

সুস্থ থাকুন সেল্ফ কোয়ারিনটিনে

 

রিয়া সরকারঃ পুরো পৃথিবী এখন করোনা ভাইরাস এর মহামারি নিয়ে আতঙ্কিত। আমাদের প্রত্যেকেরই এখন একি চিন্তা কবে পৃথিবী এই মহামারির থাবা থেকে মুক্ত হবে, কবে আমরা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারব। এই সময়ে আমরা অনেকেই কি করবো কি করবো না তা নিয়ে চিন্তিত। কোনটা সঠিক তথ্য আর কোনটা সঠিক নয় সে নিয়েও অনেক মতবিরোধ। অনেকেই অবসাদগ্রস্ত হয়ে পরছেন। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে এই কঠিন পরিস্থিতিতে এখন নিজেকে সুস্থ রাখাই হচ্ছে আমাদের প্রধান কাজ।

নিজেদের মনকে ভালো রাখার দায়িত্ব আমাদের নিজেদের। আর মন ভালো থাকলে শরীর ও থাকবে ফুরফুরে। তাহলে জেনে নিই কিভাবে আমরা সুস্থ ও সুন্দর থাকতে পারব।

সুস্থ থাকতে শরীরচর্চা

শরীরচর্চা বা এক্সারসাইজ রোজ নিয়ম করে করতে হবে। প্রতিদিন আধ ঘণ্টা এক্সারসাইজ আপনার শরীরকে ভালো রাখবে। আমরা অনেকেই হয়ত বাইরে হাঁটতে যেতাম যেটা এখন সম্ভব হচ্ছে না। বাড়ির ছাদে বা ঘরের মধ্যেই আমরা কিছুক্ষণ হাঁটতে পারি আর সাথে কিছু সাধারণ ব্যায়াম। বিভিন্ন ডাক্তারেরা জানাচ্ছেন নিঃশ্বাসের ব্যায়াম এখন আমাদের প্রত্যেকের জন্য খুবই উপকারী।

মেডিটেশন

মেডিটেশন করা আমাদের প্রত্যেকের জন্যই উপকারী। এর ফলে আমাদের টেনশন দূর হয়, মাথা ঠাণ্ডা থাকে এবং ঘুম ভালো হয়। রোজ নিয়ম করে মেডিটেশন করতে পারলে মন ও শরীর দুই ভালো থাকবে। নিয়মিত মেডিটেশন করে সুস্থ থাকুন সেল্ফ কোয়ারিনটিনে।

সুস্থ থাকার জন্য খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন

আমরা অনেকেই অনেক সময়ই নিয়ম মেনে খাওয়া দাওয়া করিনা। সময় মতো খাওয়া টা খুবই প্রয়োজনীয়। এই সময়ে আমাদের বলা হচ্ছে গরম পানি খেতে, আদা চা, কালোজিরা এসব খেতে। আর অবশই এমন খাবার খেতে হবে যা আমাদের ফুসফুসের জন্য ভালো।

কারণ করোনা ভাইরাস সবার আগে আমাদের ফুসফুসের ক্ষতি করছে। পানি খেতে হবে প্রচুর পরিমাণে। চিনিযুক্ত খাবার যতটা সম্বব কম খেতে হবে। চেষ্টা করতে হবে রোজ দিনের খাবারের তালিকায় যেন সবুজ শাক সবজি, ফল থাকে। এলকোহল একেবারে বন্ধ করতে হবে। আর অবশ্যই গরম পানি দিয়ে গারগিল করতে হবে বার বার।

সুস্থ থাকতে ঘুম খুব প্রয়োজনীয়

এই সময়ে আমাদের প্রত্যেকের দরকার পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম। ঘরে বসে থাকতে থাকতে আমরা দুশ্চিন্তায় ডুবে থাকছি। চিন্তার ফলে আমাদের রাতে ঠিক করে ঘুম হচ্ছেনা এবং দিনের পর দিন শরীর খারাপ হয়ে যাচ্ছে, দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। আর এই সময়ে আমাদের বিশ্রাম করাটা খুবই প্রয়োজনীয়। তাই মনে রাখতে হবে ঘুমের সাথে আড়ি হলে চলবে না।

কোয়ারিনটিনে রূপচর্চা

এটাই সঠিক সময় ত্বকের যত্ন নেওয়ার। কমবেশি আমাদের সবাইকেই কাজের জন্য বাইরে যেতে হয় আর নয়তো ঘরের কাজের জন্য নিজেকে সময় দেওয়া হয়না। তাই এখন এই সময়টিকে কাজে লাগিয়ে আমরা নিজেদের কে আরেকটু সুন্দর রাখতে পারি। মুখ সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে। ফেইসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে অবশ্যই মইশচারাইজার লাগাতে হবে।

এই সময়ে নানা ধরনের তাজা ফলমূল পাওয়া যায়, সেগুলো খাওয়ার সাথে সাথে আমরা মুখেও লাগাতে পারি। তরমুজ খুব ভালো ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে। ত্বক মসৃণ রাখতে মধু ব্যবহার করা যেতে পারে। বেসন, মধুর সাথে একটু লেবুর রস মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে রেখে কিছুক্ষণ পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিলে উপকার পাওয়া যাবে। তবে যদি কারো এলারজির সমস্যা থাকে তাহলে লেবু ব্যবহার না করাই ভালো। ঘরোয়া উপকরণ দিয়েই আমরা ত্বকের যত্ন করতে পারি এই কোয়ারিনটিনের সময়ে।

সব থেকে জরুরি বিষয় হল এই সময় আমাদের প্রত্যেকের বার বার সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে। হাত থেকেই মূলত ভাইরাসটি আমাদের শরীরে প্রবেশ করে। তাই বার বার করে হাত ধুতে হবে।

* ভুয়ো খবরে কান না দিয়ে বিশ্বাসযোগ্য জায়গা থেকে তথ্য সংগ্রহ করুন, সেল্ফ সুস্থ থাকুন সেল্ফ কোয়ারিনটিনে।

তথ্যসূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাজাকার্তা পোস্ট

অনলাইনপ্রেস/আরএস/ এনজে