কাপড়ের মাস্ক বানানোর নিয়ম জানুন, সুরক্ষিত থাকুন

মাস্ক

কাপড়ের মাস্ক বানান ঘরে বসে, বেঁচে থাকুন কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ থেকে

রিয়া সরকার: করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর থেকে বিশ্বজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র মাস্ক সংকট, কাপড়ের মাস্ক হতে পারে সমাধান। তাই বাজার থেকে সার্জিক্যাল মাস্ক বা এন ৯৫ মাস সংগ্রহ করা এখন সহজ নয়।

কিন্তু আপনি চাইলে ঘরে বসে নিজেই বানিয়ে নিতে পারেন কাপড়ের মাস্ক। বিভিন্ন গবেষণা বলছে কাপড়ের তৈরি মাস্ক ৬০ শতাংশ ভাইরাস ফিল্টার করতে সক্ষম।

  • ৬০০ এর দ্বিগুণ সুতোর বালিশের ওয়ার অথবা ফ্ল্যানেল পায়জামা ব্যবহার করে আপনি এমন একটি কাপড়ের মাস্ক তৈরি করতে পারেন। এটি ৬০ শতাংশ পর্যন্ত জীবাণু বা ভাইরাস ফিল্টার (পরিস্রাবণ) করতে সক্ষম।
  • এছাড়াও এইচপিএ ফিল্টার, ভ্যাকুমক্লিনার ব্যাগ এবং কুইলারের সুতো বিপদজনক কণাকে ফিল্টার করতে সাহায্য করে।
  • তবে যেগুলো বাড়ির বায়ু চলাচলে বাঁধা দেয় এমন ফাইবার ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। ভাইরাসের কণাগুলোকে ফিল্টার করা সত্ত্বেও এগুলি আপনার ফুসফুসকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

এই মাসের শুরুর দিকে আমেরিকার রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রগুলো (সিডিসি) আমেরিকানদের কোভিড-১৯ এর “বিস্তার কমানোর জন্য” জনসমাগম হয় এমন স্থানে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সার্জেন ডা জেনারেল অ্যাডামস টুইটারে একটি ভিডিওর মাধ্যমে জানিয়েছেন কিভাবে আপনার নিজের মাস্ককে উন্নত করা যায়।

তবে ডিআইওয়াই এর সুরক্ষার ক্ষেত্রে অবশই সতর্ক থাকতে হবে। আপনার বাড়িতে বানানো মাস্কটি আপনাকে কতটা সংক্রমিত হওয়া থেকে রক্ষা করবে তা আপনার তৈরিকৃত মাস্কের উপকরণের ওপর নির্ভর করবে।

সিডিসি জানিয়েছে, বাড়িতে তৈরি করা কাপড়ের মাস্ক বা স্বল্প ব্যয়ে তৈরিকৃত মাস্কগুলো অতিরিক্ত সেচ্ছাসেবীর জন্যও ব্যবহার করা যেতে পারে। সিডিসি আরও জানিয়েছেন যে, ভাইরাসের বিস্তার কমানোর জন্য কমপক্ষে ৬ ফুট সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষকে ডাব্লিউএইচও থেকে মাস্ক না পরার নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল । কারণ তারা মনে করেছিলেন সাধারণ মানুষের তুলনায় স্বাস্থ্য কর্মীদের মাস্ক বেশি প্রয়োজন এবং বাজারে মাস্ক স্বল্পতা ছিল।

তবে সিডিসি এখন ঘরে তৈরি মাস্ক এর ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কেক স্কুল অফ মেডিসিনের মেডিকেল শিক্ষার ক্লিনিকাল অধ্যাপক ড. বেনজামিন লাব্রোট বলেছেন, প্রথমদিকে মাস্ক সংকটের কারণে সাধারণ জনগণকে মাস্ক ব্যবহার না করার মতো ভুল নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু মাস্ক ব্যবহার ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ।

বাড়িতে তৈরি মাস্কগুলোর জন্য সেরা উপকরণ

লাব্রটের মতে, একটি সারজিক্যাল মাস্ক কেবলমাত্র ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ ভাইরাস কণা ফিল্টার করতে পারে যা এইসব মাস্কের জন্য স্বাভাবিক। তিনি আরও বলেন ৬০০ এর দ্বিগুণ পিলোকাসে (বালিশের ওয়ার) বা ফ্যানেল পায়জামা ব্যবহার করে আপনি একটি মাস্ক তৈরি করতে পারেন যা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কণাকে ফিল্টার করবে।

খুব সহজে আলোক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে আপনি মাস্কের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে নিতে পারে। যদি ফ্যব্রিকের মধ্য দিয়ে যত কম আলো পরিবাহিত হবে মাস্কটি আপনাকে তত বেশি সুরক্ষা দিবে। যত ঘন হবে ততই আপনি সুরক্ষিত হবেন।

সাধারণ সুতোর কাপড়ের চেয়ে কুইলটারের কাপড় বেশি উপযোগী

সুতির গেঞ্জি বা পায়জামা ছাড়াও আরও কিছু বিকল্প রয়েছে যা ভালো ফিল্টারের কাজ করে। লাব্রট বলেছেন, কিছু ডিআইওয়াই মাস্ক আছে যা আনুমানিক এন ৯৫ মাস্ক এর মত, কিন্তু তা একই সুরক্ষা দিতে পারছে কিনা সেদিকে লক্ষ্য রাখা জরুরি।

এইচইপিএ ফিল্টার, ভাকুয়াম ক্লিনার ব্যাগ প্রভৃতি ফিল্টার হিসেবে দুর্দান্ত কাজ করেছে। কুইলটারের সুতো ৪০ শতাংশ ফিলটারে সক্ষম, যা সাধারণ মাস্কের তুলনায় ভালো কাজ করে।

লাব্রট আরও জানান, যখন আপনি ঘন ফ্যাব্রিকের মাস্ক ব্যবহার করতে শুরু করবেন তখন আপনি কিছু সমস্যার সম্মুখীন হবেন। এর ফলে শ্বাস প্রশ্বাসে বাঁধা সৃষ্টি হতে পারে। আপনি যদি এমন কিছু ব্যবহার করে থাকেন যা তুলোর তৈরি নয় তাহলে আপনাকে অবশই সাবধান হতে হবে।

তথ্যসূত্র: হেলথলাইন

অনলাইনপ্রেস/আরএস/এনজে

ঠাণ্ডা ও সর্দি জ্বরের প্রাকৃতিক নিরাময়

ঠাণ্ডা ও সর্দি জ্বর

ঠাণ্ডা ও সর্দি জ্বরের ঘরোয়া সমাধান

জাকারিয়া: দ্রুত বদলাচ্ছে আবহাওয়া। মৌসুম বদলের এই সময়ে অনেকেই বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগে থাকেন এর মধ্যে জ্বর, ঠাণ্ডা, সর্দি-কাশি অন্যতম। আমাদের কাছে এই সমস্যাটি ঠাণ্ডা ও সর্দি জ্বর নামে পরিচিত।

এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আমরা সাধারণত নানা ওষুধের উপর নির্ভর করে থাকি। তবে আমেরিকার বিখ্যাত মায়ো ক্লিনিকের দেয়া তথ্য মতে, সাধারণ ঠাণ্ডা এবং সর্দি জ্বরের কোন চিকিৎসা নেই। এটি এমনিতেই সেরে যায়।

ঠাণ্ডা জ্বর ও সর্দি হয়ে থাকে ভাইরাসের ইনফেকশনের কারণে তাই অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারেও কোন সুফল পাওয়া যাবে না, কারণ অ্যান্টিবায়োটিক শুধুমাত্র ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে আপনি শুধুমাত্র উপসর্গগুলি কম করার জন্য ওষুধ খেতে পারেন। যেমন জ্বর বা মাথা ব্যথা কমাতে প্যারাসিটামল ব্যবহার করা যেতে পারে।

তবে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা ভেবে অনেকেই অ্যালোপ্যাথি ব্যবহার করতে চান না, তারা বেছে নেন প্রাকৃতিক সমাধান। ওষুধ আবিষ্কার হওয়ার আগে থেকে মানুষ বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপায় ব্যবহার করে জ্বর, ঠাণ্ডা, সর্দি-কাশি সহ অনেক রোগ নিরাময় করে আসছেন।

আসুন জেনে নিই প্রাকৃতিক উপায়ে জ্বর, ঠাণ্ডা, সর্দি-কাশি নিরাময়ের কিছু ভেষজ সমাধান সম্পর্কে

ঠাণ্ডা সারাতে মধুর ব্যবহার

ঠাণ্ডা, সর্দি-কাশির সমস্যা সমাধানের জন্য মধু খুবই উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে কফ নিরাময়েও এটি বেশ কার্যকর। উষ্ণ গরম পানিতে মধু মিশিয়ে নিয়মিত খেতে পারেন। তাছাড়া প্রতিদিন এক চামচ করে মধু খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন।

এছাড়া পবিত্র কোরআন মাজিদেও মধুর উপকারিতার কথা বলা আছে। মধুতে মানুষের জন্য রয়েছে রোগের প্রতিকার- সূরা আন-নাহাল।

হলুদ-দুধ ঠাণ্ডা ও সর্দি জ্বরের প্রথাগত চিকিৎসা

গরম দুধে কাঁচা হলুদ জাল করে খেতে পারেন। দীর্ঘদিন ধরে বাংলার থেকে গ্রামে গঞ্জে ঠাণ্ডা ও সর্দি জ্বর সারাতে এই দাওয়াই ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

হলুদকে বলা হয় প্রাকৃতিক অ্যান্টি ভাইরাল উপাদান। এটি আপনাকে ঠাণ্ডা থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে সহায়তা করবে। রাতে ঘুমানোর আগে হলুদ দুধ পান করুন।

তুলসি পাতা ঠাণ্ডা জ্বরে অত্যন্ত কার্যকর

প্রাচীনকাল থেকে বিভিন্ন রোগের ওষুধ হিসেবে তুলসী পাতার ব্যবহার হয়ে আসছে। তুলসী পাতা প্রচুর অক্সিজেন উৎপন্ন করে যা জ্বরের ও কাশির জন্য অনেক উপকারী।

এক চা চামচ আদার রসের সাথে তুলসী পাতার রস ও মধু মিশিয়ে খেলে দীর্ঘস্থায়ী কাশির উপশম হয়।

সর্দি-কাশি নিরাময়ে আদার উপকারিতা

ঠাণ্ডা বা সর্দি-কাশির প্রতিষেধক হিসেবে আদার কার্যকারিতা অনেক। আদা চিবিয়ে খেলে বা আদা দিয়ে ফোটানো গরম পানি পান করলে তাৎক্ষণিক গলা খুসখুস ও গলা ব্যথা নিরাময় হয়। এটি আপনাকে সর্দি-কাশি থেকে পরিত্রাণ পেতেও সহায়তা করবে।

আদাতে বিদ্যমান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।

আদা চা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। এটি একদিকে যেমন সুস্বাদু তেমনি ঔষধি গুণেও ভরপুর।

ঠাণ্ডার উপশমে লং বা লবঙ্গ

লং জ্বর, ঠাণ্ডা, সর্দি-কাশির ওষুধ হিসেবে বহু বছর ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। লং চিবিয়ে অথবা লং এর রস খেলে কফ, সর্দি, কাশি, গলা ফুলা আর শ্বাসকষ্টে সুফল পাওয়া যায়।

আপনি চাইলে লাল চায়ে লবঙ্গ মেশাতে পারেন।

থানকুনি পাতা

২ চামচ থানকুনি পাতার রসের সঙ্গে অল্প চিনি মিশিয়ে খেলে কাশি থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। একটানা এক সপ্তাহ খেলে কাশির কোন চিহ্নই থাকবে না।

ঋতু পরিবর্তনের সময় যে জ্বর হয় তা সারানোর জন্য থানকুনি পাতা বিকল্প নেই। ১ চামচ থানকুনি ও ১ চামচ শিউলি পাতার রস সকালে খালি পেটে খেলে অল্প সময়েই জ্বর সেরে যায়। শারীরিক দুর্বলতা থেকেও মুক্তি মেলে।

টক দই

এটি একটি পুষ্টিকর খাবার, এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল ও আমিষ। টক দই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এজন্য জ্বর, ঠাণ্ডা, সর্দি-কাশি থেকে বাঁচতে নিয়মিত টক দই খাওয়া উচিৎ।

এছাড়া জ্বরের সময় প্রচুর পরিমাণে পানি, ফল এবং ফলের রস খাবেন।

গরম পানির ভাপ

কোন বড় গামলায় গরম পানি নিয়ে তাতে নিশ্বাস নিন। এটি সর্দি গলিয়ে বের করে দিতে সহায়তা করবে। তাছাড়া এটি শুকনো কফ গলাতেও সহায়তা করে।

লবণ পানিতে কুলকুচি

হালকা উষ্ণ পানিতে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে সেই পানি দিয়ে কুলকুচি করুন। এটি আপনার গলা ব্যথা ও খুসখুস করা উপশম করবে।

প্রেস/জেএ/এনজে

তথ্যসূত্র: মায়ো ক্লিনিক, টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং হেলথ লাইন