ঘরোয়া উপায়ে শুষ্ক হাতের যত্ন

ঘরোয়া উপায়ে শুষ্ক হাতের যত্ন

ঘরোয়া উপায়ে শুষ্ক হাতের যত্ন

রিয়া সরকারঃ সারাদিনের কাজে আমাদের হাতের ওপর অনেক ঝড়-ঝাপটা যায় তবুও হাতের যত্ন নিতে আমরা অনেকেই অবহেলা করে থাকি।এই হাতের সাহায্যে আমরা টাইপিং থেকে শুরু করে রান্না-বান্না, বাসন ধোওয়া সবই করে থাকি। আর সারাদিনের পর যখন হাতের দিকে নজর পরে তখন তা রুক্ষ, শুষ্ক দেখায়। তাই মুখের যত্নের সাথে সাথে হাতেরও যত্নের খুবই প্রয়োজন।

যেসব কারনে হাত রুক্ষ ও শুষ্ক দেখায়

  • রোদ থেকে সুরক্ষিত থাকে না বলে আমদের হাত রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে যায়। রোদে বেরোনোর সময় আমরা অনেকেই মুখে সানস্ক্রিন লাগালেও হাতে অনেকেই তা ব্যবহার করিনা। তার ফলে সূর্যের রশ্মি আমাদের হাতে সরাসরি পরে এবং হাতের ত্বক রুক্ষ করে দেয়। তাই আমাদের উচিত মুখের সাথে সাথে হাতের ত্বকের ও যথাযথ পরিচর্যা করা।
  • প্রতিদিন ঘরের কাজ যেমন- কাপড় কাঁচা, বাসন ধোওয়া, রান্না করা ইত্যাদি করার ফলে হাত রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে যায়।
  • অতিরিক্ত ক্ষারযুক্ত সাবান/ ডিটারজেনট ব্যবহারের ফলেও হাত রুক্ষ হয়ে যায়।

রুক্ষতা দূর করতে যা করবেন

সুন্দর ও মসৃণ হাত আমরা সবাই চাই কিন্তু অনেক কারনেই হয়তো হাতের পরিচর্যা করা হয় না। কিছু সাধারন নিয়ম মানলেই আমরা আমাদের হাত কে সুন্দর ও মসৃণ রাখতে পারি।

  • সানস্ক্রিন ব্যবহারের সময় অবশ্যই পুরো হাতে এবং আঙ্গুলে লাগাতে হবে।
  • যতটা সম্ভব ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। যেহেতু ঘর কে পরিষ্কার রাখতে হবে তাই প্রয়োজনে হাতে গ্লাভস পরে কাজ করুন।
  • রাতে ঘুমানোর আগে হাতে মইশচারাইযার ব্যবহার করুন। এতে আপনার হাত কোমল ও মসৃণ হবে।

ঘরোয়া উপায়ে যেভাবে হাতের যত্ন নেবেন

রুক্ষ ত্বক শুধু মাত্র মুখের বা শরীরেরই হয় এমনটা নয়। দৈনন্দিন কাজের মধ্যে আমাদের হাত সব থেকে বেশি ব্যবহার হয়। তাই হাতের ত্বক ও রুক্ষ ও শুষ্ক হতে পারে। সবসময় বাইরের কেনা পণ্য ব্যবহার করা যায় না তাই ঘরোয়া কিছু উপায়ে হাতের যত্ন করা যেতে পারে। চলুন জেনে নিই সেই উপায়গুলো।

নারকেল তেল

নারকেল তেল শুধু চুলের যত্নে সাহায্য করে থাকে টা নয়। এটি আমাদের ত্বকের যত্নেও একি ভাবে সাহায্য করে। ২-৩ টেবিল চামচ নারকেল তেল নিয়ে পুরো হাতে লাগিয়ে ২-৩ ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। তাছাড়া নারকেল তেল সারারাত লাগিয়েও রাক্ষতে পারেন। এতে আপনার হাতের ত্বক মসৃণ ও নরম হবে ।

আরও পড়ুন: ত্বকের যত্নে নারকেল তেল

পেট্রোলিয়াম জেলি

রাতে ঘুমানোর আগে পেট্রোলিয়াল জেলি হাতে ভালো করে মেখে নিন। পেট্রোলিয়াম জেলি রুক্ষতা কমাতে দারুন কাজ করে।

মধু

মধুর উপকারিতা সম্পর্কে যতই বলা হোক না কেন টা যেন কম। মধু আমাদের শরীরের জন্য যেমন উপকারি তেমনি ত্বকের যত্নে এর গুনাগুন অতুলনীয়। হাতের যত্নে মধু দারুন কাজ করে থাকে। ২ থেকে ৩ চামচ মধু নিয়ে হাতে ভালো করে লাগিয়ে ৩০ মিনিট রেখে দিন। তারপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন। মধু আপনার হাতের রুক্ষতা দূর করবে এবং হাতের মইশচার ফিরিয়ে আনবে। আরও পড়ুন: ত্বকের যত্নে মধুর উপকারিতা : ঘরে বসে রূপচর্চা

বাদাম তেল/ আমানড অয়েল

৩ থেকে ৪ টেবিল চামচ বাদাম তেল নিয়ে হাতে ভালো করে মেখে নিতে হবে। আমানড অয়েলে রয়েছে ফ্যটি এসিড যা আপনার ত্বকের মসৃণটা ফিরিয়ে দিতে সাহায্য করে। এশেনসিয়াল সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন।

দুধ

রুক্ষ ত্বকের জন্য খুব খুবই উপকারী। প্রথমে একটি পাত্রে দুধ হালকা গরম করে নিয়ে তাতে ২০ মিনিটের মতো হাত ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে। এভাবে প্রতিদিন করলে খুব জলদি আপনি আপনার সমস্যার সমাধান মিলবে। দুধের উপকারিতা এবং পুষ্টিগুন সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন।

প্রতিদিনের ব্যস্ত সময়ের মধ্যেও কিছুটা সময় বের করে এই ঘরোয়া উপায়গুলোর সাহায্যে আপনি আপনার হাতের যত্ন নিতে পারেন। নিজেকে সুন্দর রাখুন ও সুস্থ থাকুন।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

ঘরোয়া উপায়ে চোখের নিচের কালো দাগ/ ডার্ক সার্কেল দূর করুন

চোখের নিচের কালো দাগ

ঘরোয়া উপায়ে চোখের নিচের কালো দাগ/ ডার্ক সার্কেল দূর করুন

রিয়া সরকারঃ উজ্জ্বল ফর্সা ত্বক পাওয়াটা প্রত্যেকের চাহিদা হলেও তা পাওয়াটা সহজ নয়। তার ওপর যদি চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে যায় তাহলে সেটা দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়ায়। 

চোখের নিচের কালো দাগ ছেলে মেয়ে প্রত্যেকেরই হতে পারে। এর কারনে আপনার মুখের সৌন্দর্য নষ্ট হয় এবং আপনার ত্বককে নিস্তেজ ও ক্লান্ত দেখায়। দুর্ভাগ্যক্রমে হলেও এটা সত্যি যে চোখের নিচের কালো দাগ দূর করা খুব কষ্টসাধ্য ও সময় সাপেক্ষ। এর কারনে আপনাকে অনেক সময়ই আপনার বয়সের তুলনায় বয়স্ক দেখায়।

যেসব কারনে চোখের নিচে কালো দাগ হয়ে থাকেঃ

যেকোনো বয়সেই চোখের নিচে কালো দাগ বা ডার্ক সার্কেল পরতে পারে। এটি মুলত নিজেদের অসতর্কতার কারনে হয়ে থাকে। চোখের নিচে কালো দাগ হওয়ার কারন গুলো জানা খুবই প্রয়োজনীয়। এসব কারন জানা থাকলে আপনি প্রথম থেকেই তা প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

প্রথম ও প্রধান কারন হল ঘুম কম হওয়া অথবা অতিরিক্ত ঘুম, যার ফলে  আপনার চোখের নিচের অংশ অনেকাংশে ফ্যাঁকাসে ও নিস্তেজ দেখায়।

এছাড়াও বলা হয়ে থাকে বয়স বাড়ার সাথে সাথে  চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে যায়। আরেকটি কারন হল, চোখে অতিরিক্ত চাপ পরা। যেকোনো কারনেই যেমন- অনেক সময় ধরে মোবাইল ব্যাবহার করা, বা কম্পিউটারের দিকে অনেক্ষন তাকিয়ে থাকলে আপনার চোখে অতিরিক্ত চাপ পরে এবং ধীরে ধীরে চোখের নিচে কালো দাগ পরতে শুরু করে। এছাড়াও, ডিহাইড্রেশন, সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি বা জন্মগত কারনেও হয়ে থাকে।

ঘরোয়া উপায়ে যেভাবে কালো দাগ দূর করবেনঃ

সময় সাপেক্ষ হলেও ঘরোয়া কিছু সাধারণ উপায়ে আপনি এই সমস্যার হাত থেকে রক্ষা পেতে পারেন।

ঠাণ্ডা সেক

চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতে ঠাণ্ডা সেক খুবই উপকারি। ১ টুকরো বরফ নিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে রাখুন ১০ মিনিট পর্যন্ত, দিনে ২ বার। এভাবে ব্যবহার করতে থাকলে আস্তে আস্তে কালো দাগ চলে যাবে এবং চোখে ফোলা ভাবও দূর করবে।

শশা

শশায় রয়েছে ভিটামিন সি যা ত্বকের উজ্জলতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়াও শশা চোখের নিচের কালো দাগ দূর করে থাকে। ১টি শশাকে গোল গোল করে টুকরো করে ঠাণ্ডা অবস্থায় চোখের ওপর ধরে রাখুব ১০ মিনিট। তারপর কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। এছাড়াও শসার রসের সাথে লেবুর রস মিশিয়ে চোখের নিচে লাগিয়ে নিতে পারেন। এভাবে দিনে ২বার লাগিয়ে নিলে খুব তারাতারি চোখের নিচের কালো দাগ দূর হবে।

টমেটো

টমেটো তে রয়েছে ভিটামিন সি এবং লাইকোপেন। লাইকোপেন ত্বকের কালচেভাব দূর করার সাথে সাথে ত্বকের কোষ গুলোকে ভালো রাখতে সাহায্য করে।

যেভাবে ব্যবহার করবেন

লেবুর রসের সাথে টমেটোর রস মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে নিতে হবে। ১০মিনিট পর কুসুম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। এভাবে দিনে ২বার করে ব্যবহার করলে ত্বকের কালচে ভাব আস্তে আস্তে কমে যাবে।

আলু

আলু খেতে যেমন সবাই খুব ভালোবাসে তেমনি আলু ত্বকের জন্য খুবই উপকারি। আলু ত্বকের নানান সমস্যা সমাধান করে থাকে। আলুর মধ্যেও ভিটামিন সি রয়েছে যা আপনার ত্বককে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে এবং ত্বকে রোদে পোরার দাগ, ব্রণের দাগ বা যেকোনো রকমের দাগ দূর করতে সাহায্য করে।
যেভাবে ব্যবহার করবেনঃ ১টি আলুকে গ্রেট করে রস বের করে নিতে হবে। তারপর আলুর রস আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে রাখতে হবে। ১০মিনিট পর কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। এটি রোজ লাগান যেতে পারে, যতদিন পর্যন্ত না আপনার কালো দাগ দূর হয়।

নারকেল তেল এবং ভিটামিন ই

চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতে নারকেল তেল এবং ভিটামিন ই তেল খুবই উপকারি। এই তেল আপনার বলিরেখা দূর করতেও সাহায্য করে। কালো দাগ দূর করতে আপনাকে দুটো তেল একসাথে মিশিয়ে লাগাতে হবে। রাতে ঘুমানোর আগে আপনার চোখের নিচে লাগিয়ে সারারাত রেখে দিন। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। রোজ ব্যবহার করলে এর ফল খুব দ্রুত পাওয়া যাবে।

এগুলো হল খুব সাধারণ ঘরোয়া কিছু উপায় যা ব্যবহার করে আপনি আপনার চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতে পারবেন। এছাড়াও পর্যাপ্ত ঘুম ও ব্যায়াম খুবই জরুরি। আর অবশ্যই রোদে বেরোনোর আগে সানগ্লাস পরতে হবে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি।

প্রেস/আরএস/এনজে

থানকুনি পাতার উপকারিতা সম্পর্কে জানুন

থানকুনি পাতার উপকারিতা

থানকুনি পাতার উপকারিতা

থানকুনি পাতার পুষ্টিগুনের জন্য ঐতিহ্যবাহী চীনা এবং আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় এর বেপক প্রচলন ‍ছিল। উপকারিতা কথা বিবেচনা করলে এটি অন্যতম একটি আয়ূর্বেদিক উপাদান। ইনফেকশন, পোড়া, দাগ, শরীর ছিলে যাওয়া সহ নানান জটিলতার প্রাথমিক চিকিৎসায় থানকুনি পাতার ব্যবহার হয়। থানকুনি পাতায় এমন কিছু রাসায়নিক রয়েছে যা প্রদাহ এবং শিরাগুলিতে রক্তচাপ কমায়। থানকুনি পাতা কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায় যা ক্ষত নিরাময়ে সহায়তা করে।

থানকুনি পাতা জয়েন্টের ব্যাথার উপশম করতে সাহায্য করতে পারে

থানকুনি পাতায় থাকা এন্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বাত চিকিৎসার ক্ষেত্রে কার্যকরি হতে পারে। এর ফলে যৌথ প্রদাহ, কার্টিলেজ ক্ষয় এবং হাড়ের ক্ষয় হ্রাস পায়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকার ফলে থানকুনি পাতা দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাতেও প্রভাব ফেলে।

একটানা দুই সপ্তাহ ৫০০ মিলিগ্রামের মতো পাতা নিয়ে থেতলে ব্যাথার জাগায় লাগালে পারেন।

শরীরে উৎপন্ন বিষক্রিয়ার প্রভার হ্রাস করতে পারে থানকুনি পাতা

অ্যান্টিবায়োটিকের বিষাক্ত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দমন করতে থানকুনি পাতা ব্যবহার করা যেতে পারে। তাছাড়াও যক্ষার চিকিৎসাতেও এর ব্যবহার হয়ে থাকে।

ইঁদুরের উপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, অ্যান্টিবায়োটিক দেয়ার আগে ৩০ দিনের জন্য এসব ইঁদুরকে ১০০ ‍মিলিগ্রাম করে থানকুনি পাতা দেওয়া হয়েছিলো। যার ফলে এদের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিকের বিষাক্ততা কাজ করেনি।

আরও পড়ুন: শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে লেবুর উপকারিতা

থানাকুনি পাতা স্মৃতিশক্তি বাড়াতে উপকারি ভুমিকা রাখে

২০১৬ সালে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে থানকুনি পাতায় থাকা এক্সট্রাক্ট ও ফলিক এসিডের প্রভাবে স্ট্রোক করা রোগীর মস্তিষ্কের ফাংশন আরও বেশি সক্রিয় হয়েছে। এ সমিক্ষায় রোগীদের তিনটি গ্রুপে ভাগ করে পরিক্ষা করা হয়। প্রথম গ্রুপে ১০০০ মিলিগ্রাম থানকুনি পাতা দেয়া হয়, ‍দ্বিতীয় গ্রুপে ৭৫০ মিলিগ্রাম থানকুনি পাতা দেয়া হয়, এবং তৃতীয় গ্রুপে ৩ মিলিগ্রাম করে ফলিক এসিড দেয়া হয়।

যদিও থানকুনি পাতা ও ফলিক এসিড ‍দুটোই মস্তিষ্কের সচলতা বাড়াতে সমান ভাবে উপকারী, তবে থানকুনি পাতা মেমোরির ডোমেন বাড়াতে বেশী কার্যকরি। এজন্য নিয়মিত থানকুনি পাতা খেতে পারেন ১০০০ মিলিগ্রামের মতো।

থানকুনিপাতা আলঝাইমার রোগের ‍চিকিৎসায় উপকারী

থানকুনি পাতায় মেমোরি এবং স্নায়ুর ফাংশন বাড়ানোর ক্ষমতা রয়েছে। যার ফলে এটি আলঝাইমার রোগের চিকিৎসা করার ক্ষমতা রাখে বলে ধারণা করা হয়।

২০১২ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে থানকুনি পাতা আলঝাইমার রোগের উপর ইতিবাচক প্রভার ফেলে। মস্তিষ্কের কোষ গুলিকে বিষক্রিয়ার হাত থেকে রক্ষা করে এবং একটি ফলক তৈরি করে যা আলঝাইমার হাত থেকে রক্ষা করে। তবে গবেষকদের মতে এ রোগের ‍চিকিৎসায় থানকুনি পাতার প্রভাব নিয়ে আরো গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

উদ্বেগ এবং চাপ কমাতে থানকুনি পাতার উপকারিতা

ঘুম কম হলে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়ে যায়। গবেষকদের মতে থানকুনি পাতার পুষ্টি উপাদান উদ্বেগ হ্রাস করতে সহায়তা করে।

ঘুম কম হলে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়ে যাবে, অ্যাক্সিডেটিভ ক্ষতি হবে এবং নিউরোইনফ্লেমেশন হবে। এজন্য যাদের ঘুম কম তারা নিয়মিত থানকুনি পাতা খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। যাদের ঘুম কম তারা দুই সপ্তাহ ৫০০ মিলিগ্রাম পরিমাণে থানকুনি পাতার রস খেতে পারেন।

ডিপ্রেশন দূর করতেও থানকুনি পাতার উপকারিতা

মস্তিষ্কের ক্রিয়ার উপর থানকুনি পাতার ইতিবাচক প্রভাব ডিপ্রেশন দূর করতে সহায়তা করতে পারে। ২০১৬ সালে ৩৩ জন ডিপ্রেশনের রোগীর উপর একটি গবেষনা করা হয়। তখন তাদেরকে ৬০ দিন ডিপ্রেশনের ওষুধের বদলে থানকুনি পাতা খাওয়ানো হয়। এরপর তারা নিজেরাই বলে যে তাদের মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও হতাশা অনেকাংশে কমে গেছে। ডিপ্রেশনের সময় শরীরের ওজন, তাপমাত্রা ও হার্টরেট এর তারতম্য দেখা দেয়া। থানকুনি পাতার প্রভাবে এগুলোও সাভাবিক থাকে।

রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি এবং শরীর ফোলা কমাতে সহায়তা করতে পারে থানকুনি পাতা

প্রায় দুই হাজারের মতো বিশ্বস্ত উৎস থেকে প্রাপ্ত গবেষণায় দেখা গেছে থানকুনি পাতা রক্তপ্রাত বন্ধ করা, গোড়ালি ফোলা এবং ৩ ঘন্টার বেশী লম্বা ফ্লাইটে বসে থাকার ফলে ব্যাথার প্রভাবকে কমাতে সহায়তা করে। এছাড়াও ভেরিকোজ শিরা চিকিৎসা করতে থানকুনি পাতা কার্যকর হতে পারে।

ঘুম কম বা ইনসমনিয়ায় যারা আক্রান্ত তাদের জন্য থানকুনি পাতা উপকারী

থানকুনি পাতায় উদ্বেগ, স্ট্রেস ও হতাশার চিকিৎসা সম্ভব। এজন্য অনিদ্রার চিকিৎসার জন্য এ পাতা কার্যকর হতে পারে। কারণ ঘুম কম হলেই উদ্বেগ, স্ট্রেস ও হতাশা মানুষের মধ্যে বেশি কাজ করে। ডাক্তারদের মতে অনিদ্রার সমস্যা দূর করতে থানকুনি পাতা ভেষজ প্রতিকার। অনিদ্রা বা ইনসমনিয়ায় ভূগলে ২/৩ সপ্তাহ দৈনিক তিনবার ৩০০মিলিগ্রামের মতো থানকুনি পাতা খেতে পারেন।

ত্বকের দাগকে কমাতে সহায়তা করে থানকুনি পাতা

দাগ মুক্ত সুন্দর ত্বক কার না পছন্দ? কিন্ত ব্রণ, কেটে যাওয়া সহ নানা কারণে আমাদের ত্বকে দাগের সৃষ্টি হয়। এই দাগ দূর করতে আমরা অনেক কিছুই করে থাকি, আবার অনেক সময় ক্যামিক্যাল পণ্য ব্যবহারে ত্বক আরও নষ্ট হয়। অথচ খুব সহজে থানকুনি পাতায় এর সমাধান পেতে পারেন।

ডাক্তাররা মনে করেন থানকুনি পাতায় থাকা টেরপোনয়েড উপাদান শরীরে কোলজেন উৎপাদন বাড়ায়। কোলজেন দাগ পড়ার হাত থেকে ত্বককে রক্ষা করে, শুধু তাই নয় পুরাতন দাগ দূর করতেও এই উপাদানটি অনেক বেশি কার্যকর।

ত্বকের দাগ দূর করতে আক্রান্ত স্থানে প্রতিদিন ‍দুইবার করে থানকুনি পাতার রস অথবা এর মলম ব্যবহার করতে পারেন।

রূপচর্চা বিষয়ক আরও আর্টিক্যাল পড়তে ক্লিক করুন-

ক্ষত নিরাময় করতে থানকুনি পাতা উপকারী

থানকুনিপাতা অনেক ধরনের ক্ষত নিরাময়ে প্রভাব ফেলে। ধারালো কিছু দিয়ে কাঁটলে, পরে গিয়ে কেটে গেলে অথবা পুরানো কিছুর সাথে লেগে কেটে গেলে থানকুনি পাতা নিয়ে থেতলে ক্ষতস্থানে মেখে নিন। এবপর যতদ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ক্ষত স্থানের প্রাথমিক চিকিৎসায় থানকুনি পাতা অনেক কার্যকর।

সাধারণ সতর্কতা এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

অনেকের ক্ষেত্রে থানকুনি পাতা মাথা ব্যাথা, পেট ব্যাথা এবং মাথা ঘোরানোর কারণ হতে পারে। এজন্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে অল্প করে শুরু করুন।  যদি বেশি সমস্যা হয় তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

থানকুনি পাতা ব্যবহার করবেন না, ‍যদি আপনি-

  • গর্ভবতী হয়ে থাকেন।
  • সন্তানকে বুকের দুধ পান করাচ্ছেন।
  • হেপাটাইটিস বা লিভারের অন্যান্য রোগ থেকে থাকে।
  • ১৮ বছরের নিচে হলে।
  • ত্বকে ক্যান্সারের সমস্যা থাকলে।

অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শে ব্যবহার করুন যাদি আপনার-

  • ডায়াবেটিস থাকে।
  • উচ্চ কোলেস্টোরেল থাকে।
  • ঘুম বা উদ্বেগের জন্য নিয়মিত ওষুধ খাওয়ার দরকার হয়।
  • যদি মূত্রবর্ধক ব্যবহার করে থাকেন।

যদিও সাধারন ভাবে ব্যবহারের জন্য থানকুনি পাতা নিরাপদ তবুও বেশী মাত্রায় কখনো ব্যবহার করবেন না। অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার করবেন।

তথ্যসূত্র: হেলথলাইন.কম

প্রেস/জেএ/এনজে

ত্বকের যত্নে নারকেল তেল

ত্বকের যত্নে নারকেল তেল

ত্বকের যত্নে নারকেল তেল

রিয়া সরকারঃ ত্বকের যত্নে নারকেল তেল যে কত উপকারী সে সম্পর্কে হয়ত আমরা জানিনা। আমরা এটা জানি যে নারকেল তেল আমাদের চুলের জন্য উপকারী কিন্তু এটি আশ্চর্যজনক ভাবে আমাদের ত্বকের যত্নে ব্যবহার হয়ে থাকে। শুষ্ক ত্বকের জন্য নারকেল তেল খুব বেশি উপকারী। এতে রয়েছে এনটি ব্যাকটেরিয়াল ও এনটি ফাঙ্গাল গুণাগুণ যা আমাদের ত্বকের জন্য খুবই ভালো। এবার জেনে নেওয়া যাক নারকেল তেল আমাদের ত্বকের কি কি উপকারে করে থাকে।

নারকেল তেল ত্বককে মইশচারাইজ করতে সাহায্য করে

ত্বকের মইশচার ধরে রাখাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শুষ্ক ত্বকের জন্য নারকেল তেল দারুণ ভাবে মইশচারাইজারের কাজ করে থাকে। কারণ এতে রয়েছে ফ্যাটি এসিড ও ভিটামিন ই যা শুষ্ক ত্বককে মইশচারাইজ করতে সাহায্য করে।

নারকেল তেল মেইকআপ রিমুভাল হিসেবে কাজ করে

আমরা যারা রোজ বাইরে যাতায়াত করি তাদের কম বেশি সবারই মেইকআপ করতে হয়। ত্বকের যত্নের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হল মেইকআপ তুলে মুখ ভালো করে পরিষ্কার রাখা। আর এই মেইকআপ তুলতে আমরা নানা ধরনের পণ্যও ব্যবহার করে থাকি। অনেকে হয়ত জানিনা যে নারকেল তেল আমাদের মেইকআপ রিমুভাল হিসেবেও কাজ করে থাকে। তুলোর মধ্যে নারকেল তেল নিয়ে আলতো হাতে মুখ পরিষ্কার করে নিতে হবে। মেইকআপ তোলার সাথে সাথে আপনার ত্বককে মসৃণ ও করে নারকেল তেল।

নারকেল তেল বার্ধক্য প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে

ত্বকে বয়সের সাথে সাথে বার্ধক্যের ছাপ পরতে শুরু করে এবং বিভিন্ন ধরনের সমস্যাও দেখা দেয়। নারকেল তেল সেসব খুব সহজেই সমাধান করে দিতে পারে। এটি ত্বকের গভীরে গিয়ে আপনার ত্বককে ভেতর থেকে মসৃণ করে এবং ত্বককে পুনর্জীবিত করে তোলে। তাহলে এখন ঘরে বসেই ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করে নিজেকে নানান সমস্যার হাত থেকে রক্ষা করতে পারবেন।

লিপবাম হিসেবে কাজ করে নারকেল তেল

ঠোঁট ফাটার সমস্যায় আমরা সবাই ভুগি। শীতকালে যেন এর হাত থেকে কেওই রক্ষা পাইনা। নারকেল তেল ব্যবহার করলে এই সমস্যার সমাধান খুব চটজলদি পেয়ে যেতে পারি। অনেকেরই হয়ত জানা নেই যে নারকেল তেল আমাদের ঠোঁট ফাটার হাত থেকে বাঁচাতে পারে। রোজ ঠোঁটে নারকেল তেল লাগালে ঠোঁটের মরা চামড়া উঠে যাবে এবং ঠোঁট মসৃণ ও সুন্দর থাকবে।

ফাঙ্গাল ইনফেকশন রোধ করে

আপনি যদি ফাঙ্গাল ইনফেকশনের সমস্যায় পরেন তাহলে বাইরে কোথাও না গিয়ে আপনার ঘরের নারকেল তেলটি ব্যবহার করুন। নারকেল তেলে রয়েছে এনটি-ফাঙ্গাল গুণাগুণ যা আপনাকে ফাঙ্গাল ইনফেকশনের হাত থেকে রক্ষা করবে।

সানসক্রিন হিসেবে কাজ করে নারকেল তেল

রোদে পুড়ে ত্বক কালো হয়ে গেছে? বিভিন্ন পণ্য ব্যবহার করেও সুফল পাচ্ছেন না? তাহলে এবার নারকেল তেল ব্যবহার করে দেখুন আপনার সমস্যার সমাধান খুঁজে পাবেন। নারকেল তেল ত্বককে ইউ ভি রেডিয়েশন থেকে বাঁচায়। তাই বাইরে বেরনের আগে মুখে নারকেল তেল লাগিয়ে বেরতে ভুলবেন না।

এছাড়াও নারকেল তেল চুলের যত্নে দারুণ উপকারী। চুল পরে যাওয়া থেকে শুরু করে, চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়া, চুলের ডগা ফেটে যাওয়া সব সমস্যার যেন একটাই সমাধান। সপ্তাহে ২ থেকে ৩ দিন নারকেল তেল একটু গরম করে চুলের গোঁড়ায় গোঁড়ায় লাগালে চুলের গোঁড়া শক্ত হয় এবং চুল পরা বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের অনেকেরই রোদে পুড়ে চুল লালচে হয়ে যায়। তাই সেই সমস্যার সমাধানও নারকেল তেল দিতে পারে। নিয়ম করে চুলে তেল লাগালে আস্তে আস্তে আপনার চুল আগের মতো সুন্দর ও ঝলমলে হয়ে যাবে।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।

অনলাইনপ্রেস২৪/আরএস/এনজে

এসেন্সিয়াল অয়েলের উপকারিতা ও ব্যবহার

এসেন্সিয়াল অয়েলের উপকারিতা

এসেন্সিয়াল অয়েলের উপকারিতা

রিয়া সরকারঃ স্পাতে না গিয়েই নিজেকে স্ট্রেসমুক্ত/ চাপমুক্ত রাখতে চান? এসেন্সিয়াল অয়েল আপনাকে ঠিক একিরকম অনুভুতি দিতে পারে ঘরে বসেই।

এসেন্সিয়াল অয়েল সাধারনত এরোমাথেরাপি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি উদ্ভিদের নির্যাস থেকে নেওয়া হয় যা ওষুধের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এটি আপনাকে মানসিক ও শারীরিক উভয় ভাবেই সতেজ রাখতে সাহায্য করবে।

কিছু এসেন্সিয়াল অয়েলে রয়েছে এনটিসেপটিক, এনটি ব্যকটেরিয়াল এবং এনটি ইনফ্লামাটরি বৈশিষ্ট্য। এটি আমাদের শরীরের সুগন্ধি হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে।

অনেক ধরনের এসেন্সিয়াল অয়েল রয়েছে। যেমন- ল্যভেনডার, ইউকেলিপটাস পিপারমেনট, স্যান্ডেলউড, রউজ, ক্যমোমাইল, ইয়াং ইয়াং, টি ট্রি, জেসমিন, লেমন, অলিভ অয়েল। বিভিন্ন ধরনের অয়েল বিভিন্ন কারনে ব্যবহার হয়ে থাকে।

স্ট্রেসমুক্ত রাখতে এসেন্সিয়াল অয়েলের উপকারিতাঃ

গবেষণায় দেখা গেছে প্রায় ৪৩ শতাংশ মানুষ কিছু না কিছু ব্যাবহার করে থাকেন নিজেদের স্ট্রেসমুক্ত রাখতে তার মধ্যে এসেন্সিয়াল অয়েল অন্যতম। এর সুগন্ধি আমাদের উদ্বেগ/ চাপ কমাতে সাহায্য করে।


পিপারমিনট এসেন্সিয়াল অয়েলের উপকারিতা  

নানান কারনে আমাদের মাথা ব্যথা হয়ে থাকে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, পিপারমিনট ও ল্যাভেনডার একসাথে মাথায় মালিশ করলে মাথা ব্যথা কমে যায়। এমনকি মাইগ্রেনের ব্যথাও কমে যায়।

ল্যাভেনডার এসেন্সিয়াল অয়েলের উপকারিতা

ল্যাভেনডার এসেন্সিয়াল অয়েল ঘুমের জন্য দারুন কাজ করে। ঘুমানোর সময় আমাদের অনেকেরই মাথায় নানান ধরনের চিন্তা থাকে, অনেক কিছু নিয়ে দুশ্চিন্তা করি আর সেই কারনে আমাদের ঘুম আসতে দেরি হয়। আবার অনেক সময় সারারাত ঘুমাতে পারিনা। এরকম সমস্যাতে ল্যাভেনডার এসেন্সিয়াল অয়েল বা ক্যমোমাইল অয়েল একটু মাথায় লাগিয়ে নিলে কিছুক্ষনের মধ্যেই আপনার ঘুম চলে আসবে। এছাড়াও ল্যাভেনডার অয়েল খুশকি দূর করে ও চুল পরা কমাতে সাহায্য করে।

অলিভ অয়েল

অলিভ অয়েল রুক্ষ ত্বকের জন্য দারুন উপকারি। এতে রয়েছে ভিটামিন এ এবং ই যা আমাদের ত্বকের জন্য খুবই উপকারি। শীতকালে আমাদের সবার ত্বকই রুক্ষ হয়ে যায় এবং নানা সমস্যা দেখা দেয়। অলিভে অয়েল সেই সব সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে থাকে। অলিভে অয়েল চুলের জন্যও খুব উপকারি, এটি চুলে  কনডিশনার হিসেবে কাজ করে থাকে। এছাড়াও অলিভে অয়েল মেইকআপ তোলার জন্যও খুব ভালো।

ইউক্যালিপটাস

এই এসেন্সিয়াল অয়েল শ্বাসযন্ত্রের ইনফেকশন কমানোর সাথে সাথে শরীরের ব্যথা, কেটে যাওয়া বা পুড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা সমাধান করে থাকে। এছাড়াও এটি বিভিন্ন কফ সিরাপের মধ্যে ব্যবহার হয়ে থাকে। ইউক্যালিপটাস আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যকে সুস্থ রাখে এবং নানা ওষুধের মধ্যেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

সিনামেন


সিনামেন অয়েল ম্যাঙ্গানিজ, আইরন এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ। এটি মস্তিস্কের কার্যকারিতা উন্নত করে, রক্তকে বিশুদ্ধ করে এবং হৃদরোগ ও ডায়েবেটিক্সের হাত থেকেও আমাদের মুক্তি পেতে সাহায্য করে। শীতকালে রাতে ঘুমানোর আগে শরীরে লাগিয়ে নিলে আমাদের কফ ও শ্বাস কষ্টের সমস্যা কমে যাবে।

টি ট্রি অয়েল

টি ট্রি অয়েল ত্বকের জন্য খুবই উপকারি। ব্রণের সমস্যা দূর করতে এর ভূমিকা অতুলনীয়। প্রতিদিনের মইশচারাইজারের সাথে ১ থেকে ২ ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে লাগিয়ে নিলে ব্রণের সমস্যা দূর হবে। এছাড়াও ফেইসওয়াশের সাথে টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে রোজ মুখ ধুয়ে নিলেও এই সমস্যা দূর হবে।

এসেন্সিয়াল অয়েল এরোমাথেরাপি ছাড়াও আমাদের নানা ভাবে উপকারে আসে। অনেকেই এসেন্সিয়াল অয়েল রুম ফ্রেশনার হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। অনেকে বলে থাকেন এটি ঘরে ব্যবহারের ফলে মশার আনাগনাও কমে যায়।

** তবে অনেক সময় এসেন্সিয়াল অয়েলের গন্ধ নিলে বাচ্চাদের এবং গর্ভবতী মহিলাদের সমস্যা হতে পারে, সেই দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।

তথ্যসূত্র: টইহেলথলাইন

অনলাইনপ্রেস২৪/এরএস/এনজে

ত্বকের যত্নে জাফরানের উপকারিতা ও রূপচর্চায় এর ব্যবহার

জাফরানের উপকারিতা

ত্বকের যত্নে জাফরানের উপকারিতা

রিয়া সরকার: বহু প্রাচীনকাল থেকেই জাফরান রূপচর্চার উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। প্রাচীনকালে জাফরান শুধুমাত্র রাজ পরিবারের রূপচর্চার জন্য ব্যবহৃত হত, যা এখনকার দিনে বদলে গেছে।

যদিও জাফরান কেনা বা জাফরান ত্বকের যত্নে ব্যবহার করা ব্যয়বহুল। জাফরানের মধ্যে প্রচুর পরিমাণ এনটি-ব্যকটোরিয়াল গুণাগুণ রয়েছে। যদি আপনার পক্ষে জাফরান কেনা সম্ভব না হয় তাহলে এমন কিছু হারবাল পণ্য কিনতে পারেন যার মধ্যে জাফরান উপকরণ হিসেবে রয়েছে।

আর যারা জাফরান ত্বকের যত্নে ব্যবহার করতে পারবেন তাদের জন্য জেনে নেওয়া প্রয়োজন জাফরান কিভাবে আপনার ত্বকের উপকার করে।

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে জাফরান

শীতকালে আমাদের ত্বক রুক্ষ ও প্রাণহীন দেখায়। ত্বকের সতেজতা ফিরিয়ে আনতে জাফরান খুবই উপকারী। ১ চামচ মধুর সাথে কিছুটা জাফরান মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে নিতে হবে। নিয়ম করে এই প্যাকটি ব্যবহার করলে ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরে আসবে। মধু ত্বক আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনে এবং জাফরান ত্বকের রক্ত সঞ্চালন ও ঠিক রাখে।

এছাড়াও দুধের সাথ জাফরান ব্যবহার করাা যায়। দুধের মধ্যে কিছুটা জাফরান ভিজিয়ে আধ ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। তার সাথে ১ চা চামচ চন্দন মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিতে হবে। মুখে লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। এই প্যাকটি রোজ ব্যবহার করা যেতে পারে।

জাফরান রোদে পোরা দাগ দূর করে

রোদে পুড়ে আমাদের ত্বকে লালচে এবং কালচে দাগ পরে যায়। এই দাগ দূর করতে অনেক কিছুই ব্যবহার করি আমরা। তবে জাফরান ব্যবহার করলে এই পোরা দাগ খুব সহজেই দূর করা যাবে।

দুধের মধ্যে জাফরান ভিজিয়ে সারারাত রেখে দিতে হবে। পরদিন সকালে ভালো করে ব্লেনড করে নিতে হবে। তারপর আঙ্গুলের সাহায্যে আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে নিতে হবে। শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। এভাবে ব্যবহার করলে রোদে পোরা দাগ খুব সহজেই দূর করা যাবে।

ত্বকে টোনার হিসেবে কাজ করে

মুখ পরিষ্কার করার পর আমরা টোনার ব্যবহার করে থাকি। জাফরান আমদের ত্বকের টোনার হিসেবে দারুণ কাজ করে। ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে টোনার খুব জরুরি। গোলাপজলের সাথে জাফরান মিশিয়ে একটি বোতলে ভরে রাখতে পারেন। তুলো দিয়ে মুখে লাগিয়ে নিতে হবে। জাফরান ব্যবহারের ফলে আমাদের ত্বকের তারুণ্য বজায় রাখে।

ব্রণ দূর করতে জাফরানের ব্যবহার

ব্যয়বহুল হওয়া সত্ত্বেও অনেকেই জাফরান ব্যবহার করে থাকেন ব্রণ দূর করার জন্য। তবে অনেকেই তার সঠিক ব্যবহার জানেননা। তুলসীপাতার সাথে জাফরানের পেস্ট বানিয়ে মুখে লাগাতে হবে। এটার এনটি-ব্যাকটেরিয়াল গুণাগুণ ত্বকের ইনফেকশন দূর করে। এই মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে নিতে হবে। শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। তবে ব্রণের সমস্যা দূর করতে এই প্যাক রোজ ব্যবহার করতে হবে।

মিশ্র ত্বকের সমস্যা দূর করে জাফরান

আমাদের অনেকেরই মিশ্র ত্বকের সমস্যা রয়েছে। মুখে একভাগ সাদা আরেকভাগ কালো হয়ে থাকে। এই মিশ্র ত্বকের সমস্যা নিরাময় করতে জাফরান ব্যবহার করা হয়। চন্দনের সাথে জাফরান মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগাতে হবে। রোজ ব্যবহার করলে এই সমস্যার সমাধান পাওয়া যাবে।

জাফরান সব ধরনের ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। নিয়ম করে এর ব্যবহার করা গেলে ত্বকের নানা সমস্যা দূর করা যায়। যারা হারবার পণ্য ব্যবহার করবেন যার উপকরণে জাফরান থাকবে তাদের অবশ্যই দেখে নেবেন কোন পণ্যটি কোন ত্বকের জন্য উপকারী।

তথ্যসূত্র: দ্যা হেলথ সাইট।

অনলাইনপ্রেস/আরএস/এনজে

ত্বকের যত্নে মধুর উপকারিতা : ঘরে বসে রূপচর্চা

ত্বকের যত্নে মধুর উপকারিতা

ত্বকের যত্নে মধুর উপকারিতা

রিয়া সরকার: বলা হয়, সেরা জিনিসগুলো আমাদের সামনে থাকে কিন্তু আমরা সেটা বুঝতে পারিনা। মধু তেমনই এক জিনিস। আমাদের প্রায় সবারই রান্নাঘরে মধু থাকে কিন্তু আমরা সেটার সব ধরনের গুণাগুণ সম্পর্কে জানিনা। প্রাচীনকালে যখন রূপচর্চার এত পণ্য বাজারে ছিলনা তখন আয়ুর্বেদ মধুর নানা গুণাগুণকে আমাদের সামনে এনেছে।

আজকাল যেকোনো ত্বকের সমস্যার জন্য বাজারে বিভিন্ন পণ্য পাওয়া যায়। তবে ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বকের যত্ন নিলে অনেক ক্ষেত্রেই উপকার পাওয়া যায়। আর মধু এমনই এক জিনিস যা আমাদের ত্বকের কম বেশি সব সমস্যার সমাধান করতে পারে।

কিভাবে এই সমাধান পাওয়া যায় জেনে নেওয়া যাক

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে মধুর উপকারিতা

আমরা সবাই চাই নিজেদের ত্বককে সুন্দর ও উজ্জ্বল করতে কিন্তু তা করতে অনেকেই ব্যর্থ হই। মধু আমাদের ত্বকের মৃতকোষ তুলে ফেলতে ফেলতে সাহায্য করে, এর ফলে আমাদের ত্বক আরও উজ্জ্বল হয়।

মুখ ভালো করে ধোওয়ার পর মধু লাগিয়ে কিচ্ছুক্ষণ রেখে আলতো হাতে ঘষে ঘষে ধুয়ে নিতে হবে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে। এভাবে ব্যবহার করতে থাকলে ত্বক উজ্জ্বল হবে।

মধু ত্বকের দাগ দূর করে

ত্বকের যেকোনো দাগ দূর করতে মধুর অসাধারণ কাজ করে। ত্বকের কালো দাগ, রোদে পোরার দাগ, এমনকি পুড়ে যাওয়ার দাগ ও মধু দূর করে। ব্রণের দাগ দূর করতে মধু রোজ ব্যবহার করা যেতে পারে। কেটে যাওয়া বা পুড়ে যাওয়া জায়গার ওপর মধু লাগিয়ে রাখলে ঘা শুখিয়ে যাবে।

মধু ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখে

রোদে পুড়ে আমাদের অনেকেরই ত্বক রুক্ষ হয়ে যায়। মধুর ব্যবহারের ফলে এই রুক্ষতা কমে যাবে এবং ত্বকের আর্দ্রতা বাজায় থাকবে। রুক্ষতার কারণে ত্বকে নানা ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে, মুখ ক্লান্ত দেখায়। তাই মধু আমাদের ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখে এবং ত্বককে মইশচারাইজ করে।

মুখ পরিষ্কার রাখতে মধুর ব্যবহার

প্রচুর পরিমাণে এনটি-অক্সিডেনট, এনটি-সেপটিক ও এনটি-ব্যকটেরিয়াল গুণাগুণ থাকার কারণে ত্বকের ব্ল্যকহেডস ও ওয়াইটহেডস দূর করে ত্বককে পরিষ্কার করে। রোজ মধু ব্যবহার করলে আমাদের এসব সমস্যা দূর করা সম্ভব হবে।

বলিরেখা দূর করতে মধু

আমাদের বয়সের সাথে সাথে মুখে বয়সের ছাপ পরতে শুরু করে। অনেকে হয়ত নানা ধরনের পণ্য ব্যবহারও করছেন তবে সুফল পাচ্ছেন না তেমন ভাবে। আবার অনেকেই হয়ত ঘরোয়া পদ্ধতিতে বলিরেখা দূর করতে চাইছেন কিন্তু জানা নেই কি ব্যবহার করলে এই সমস্যার সমাধান মিলবে।

আপনার হাতের কাছেই সমাধান রয়েছে। মধু ব্যবহার করে অনেকেই মুখের বলিরেখা দূর করতে সক্ষম হয়েছেন। ভালো করে মুখ ধুয়ে মধু লাগিয়ে রাখলে এবং তার কিছুক্ষণ পর ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে নিলে মুখের বলিরেখা দূর হবে।

শুষ্ক ঠোঁটের যত্নে মধুর ব্যবহার

অনেকেরই সব মরসুমেই ঠোঁট ফাটার সমস্যা থাকে। মধু ব্যবহার করে কিছুক্ষণের মধ্যেই এর সুফল পাবেন। রুক্ষ ঠোঁটে মধু লাগিয়ে একটু ঘষে নিলে মরা চামরা উঠে যাবে আর আপনার ঠোঁট হবে মসৃণ। এভাবে রোজ ব্যবহার করলে ঠোঁটের ফাটা ভাব চলে যাবে।

অনেকেরই আবার রোদে পুড়ে হাত বা ঘাড়ে অসমবর্ণ হয়ে যায়। সেসব স্থানে রোজ মধু লাগিয়ে নিলে ত্বকের সমতা ফিরে আসবে। মধু শুধু শরীরের যত্নেই নয় আমাদের ত্বকের সব সমস্যার সমাধান হতে পারে।

তবে মনে রাখতে হবে ত্বকে সরাসরি মধু ব্যবহারের ফলে যদি যদি চুলকানি বা অন্য সমস্যা দেখা দেয় তাহলে মধুর সাথে একটু পানি মিশিয়ে নিতে হবে।

তথ্যসূত্র: ফেমিনা

অনলাইনপ্রেস/আরএস/এনজে

ত্বকের যত্নে আলুর উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিন

ত্বকের যত্নে আলু

ত্বকের যত্নে আলুর উপকারিতা সম্পর্কে জানেন কি

রিয়া সরকার: আমরা ত্বকের যত্নে আলুর উপকারিতা সম্পর্কে অনেকেই সচেতন নই। তবে আমাদের সবারই পছন্দের খাবারের মধ্যে আলু অন্যতম। সেদ্ধ হোক, ভাজা হোক বা রান্না করেই হোক আলু সবরকম ভাবেই আমাদের প্রিয় খাবার। এতে রয়েছে ভিটামিন সি, বি-১, বি-৩, বি-৬, এবং মিনারেলস যেমন- ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম এবং ফসফরাস।

তবে আমরা অনেকেই হয়ত জানিনা যে আলু আমাদের ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় এবং ত্বক পরিষ্কার রাখে। এবার তাহলে জেনে নেওয়া যাক আলু কি কি উপায়ে এবং কিভাবে আমাদের ত্বকের উপকার করে থাকে।

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে আলুর উপকারিতা

অনেকেই হয়ত আমরা জানিনা যে আলু ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। আলু আমাদের ত্বকের অতিরিক্ত তেল সরিয়ে দেয়, বন্ধ কোষ গুলোকে খুলে দেয় যার ফলে ভেতরে জমে থাকা জীবাণু বেরিয়ে আসে।

যেভাবে লেবু আলুর প্যাক তৈরি করবেন

প্রথমে একটি আলুকে ঘষে নিয়ে রস আলাদা করে নিতে হবে। তারপর ৩ টেবিল চামচ আলুর রসের সাথে ২ টেবিল চামচ মধু এবং ২ টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিতে হবে।

ভালো করে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে নিতে হবে। ১৫ মিনিট রেখে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। লেবু এবং আলু ত্বককে ফর্সা করে আর মধু আপনার ত্বককে মসৃণ করবে।

সপ্তাহে ৩-৪দিন এই প্যাকটি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এই প্যাকটি লাগানোর পর যদি আপনার ত্বকে চুলকানির মতো সমস্যা দেখা দেয় তাহলে লেবু বাদ দিয়ে দিতে হবে।

ব্রণের সমস্যায় আলুর উপকারিতা

ব্রণের সমস্যায় আমরা অনেকেই অনেক কিছু ব্যবহার করে থাকি। অনেকে বাইরের পণ্যও ব্যবহার করে থাকি আবার অনেকে ঘরোয়া ভাবেও তা দূর করার চেষ্টা করি। কিন্তু এটা হয়ত অনেকেই জানিনা আলু কিভাবে আমাদের ব্রণের সমস্যা দূর করে।

যা করনীয়

আলুর রস বা পেস্ট এর সাথে টমেটো পেস্ট মিশিয়ে তাতে ২ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে প্যাক তৈরি করতে হবে। প্যাকটি মুখে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট রেখে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।

এর ফলে আস্তে আস্তে আপনার ব্রণের সমস্যা কমে যাবে। আলু এবং টমেটো তে রয়েছে এনটি অক্সিডেনট গুনাগুণ যার দ্বারা আমাদের ত্বকের ব্যাকটেরিয়া দূর করা সম্বব হয়। সপ্তাহে ১দিন করে এই প্যাকটি ব্যবহার করতে হবে।

আরও পড়ুন: মুখের ব্রণ দূর করার উপায়, সহজে সুন্দর ত্বক

চালের গুড়োর সাথে আলু যেভাবে উপকার করে

আমাদের ত্বকে নানা ধরনের ধুলো ময়লা জমে ত্বকের ছিদ্র গুলোকে বন্ধ করে দেয়। আর সেই থেকেই শুরু হয় নানা ধরনের ত্বকের সমস্যা। চালের গুড়ো আমাদের ত্বকের মৃতকোষ দূর করতে সাহায্য করে থাকে।

আলুর রসের সাথে ১ টেবিল চামচ চালের গুড়ো, ১ চামচ লেবু, ১ চামচ মধু মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিতে হবে। মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে নিতে হবে। এই প্যাকটি আপনার ত্বককে উজ্জ্বল করবে।

মুলতানি মাটি ও আলুর ব্যবহার

মুলতানি মাটি আমাদের ত্বকের অতিরিক্ত তেল দূর করে। এর সাথে রোদে পরার দাগ দূর করে ত্বকের উজ্জ্বলতা ফেরায়।

মুলতানি মাটির সাথে আলুর রস মিশিয়ে মুখে লাগাতে হবে। এই প্যাকটি তৈলাক্ত ত্বকের জন্য দারুণ উপকারী। তবে মনে রাখতে হবে রুক্ষ ত্বকে ব্যবহার করলে এই মিশ্রণটির সাথে মধু মিশিয়ে নিতে হবে যা আপনার ত্বকের মইশচার ধরে রাখবে।

বলিরেখা দূর করতে আলুর উপকারিতা

বয়সের সাথে সাথে মুখে ছাপ পরতে শুরু করে। সেই ছাপ দূর করার উপায় আমাদের ঘরেই থাকে। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়ত সে বিষয়ে জানিনা। বলিরেখা দূর করতে আলু অসাধারণ কাজ করে। ১টি আলুর সাথে ২ টেবিল চামচ কাঁচা দুধ, ৩-৪ ফোঁটা গ্লিসারিন মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে নিতে হবে। আলু এবং গ্লিসারিন ত্বকের বলিরেখা দূর করার সাথে সাথে চোখের নিচের কালো দাগ ও দূর করে।

হলুদ-আলুর উপকারিতা

প্রাচীনকাল থেকেই আমরা জেনে আসছি হলুদ এনটিসেপটিক হিসেবে কাজ করে। হলুদ আমাদের ত্বককে ফর্সা করে, ত্বকে জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে, এমনকি রোদে পরা দাগও দূর করতে সাহায্য করে। আলুর সাথে হলুদ মিশিয়ে মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে রাখতে হবে। শুকিয়ে যাওার পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।

ত্বকের যত্নে আলুর উপকারিতা অতুলনীয়। আলু আমরা যেকোনভাবেই ত্বকে ব্যবহার করতে পারি। আলুর প্রচুর গুণাগুণ রয়েছে যা আমাদের ত্বককে সুন্দর করতে সাহায্য করে।

তথ্যসূত্র: স্টাইলক্রেজ

অনলাইনপ্রেস/আরএস/এনজে

চুল পড়া বন্ধ করার উপায়, ঘরোয়া সমাধান

চুল পড়া

চুল পড়া বন্ধ করার কার্যকর ৬টি প্রাকৃতিক উপায়

রিয়া সরকার: সৌন্দর্যের মূলমন্ত্র হল চুলকে ভালো রাখা। চুলের কারণেই তাদের সৌন্দর্যের পরিপূর্ণতা পায়। এ কারণেই চুল পড়া সৌন্দর্য হানির অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত।

তাই আমরা সবাই নিজেদের চুলকে ভালো রাখার যথাসাধ্য চেষ্টা করি। বাজার থেকে কেনা ক্যমিকেল মিশ্রিত পণ্য ব্যবহারের ফলে অনেকের চুলের ক্ষতি হয় এবং চুল পড়ার সমস্যা শুরু হয়।

তাই কিভাবে ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুল পড়া বন্ধ করার উপায় সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

যেসব কারণে চুল পড়ে থাকে

বিভিন্ন জনের বিভিন্ন কারণে চুল পরে থাকে। অনেকের অপুষ্টির কারণে চুল পরে থাকে। যেমন শরীরে ভিটামিন ডি এর অভাব থাকলে চুল পরে। অনেকের আবার হরমনাল কারণ জনিত সমস্যা- থাইরয়েড, পিসিওএস এসবের কারণে চুল পরে।

কাজের চাপের কারণে আজকাল মানুষের চিন্তা বা স্ট্রেস বেড়েছে আর এই স্ট্রেস এর কারণে শারীরিক নানা সমস্যার সাথে সাথে চুল পড়ার হার ও অনেক বেশি বেড়েছে। এছাড়াও জেনেটিক বা জিনগত কারণেও চুল পরে থাকে।

এলোভেরা দিয়ে যেভাবে চুল পড়া বন্ধের উপায়

এলোভেরা যেমন আমাদের ত্বকের জন্য ভালো তেমনি চুলের জন্যও অসাধারণ কাজ করে। এলোভেরা চুলের ত্বককে নরম এবং মসৃণ করে এমনকি ত্বককে পরিষ্কার করে।

এলোভেরার জেল বের করে তা মাথার ত্বকে ঘষে নিতে হবে। ঘণ্টা খানেক রাখার পর শ্যাম্পু করে নিতে হবে। এভাবে ব্যবহারের ফলে সুফল পাওয়া যাবে।

পেয়াজের রস

পেয়াজের গুণাগুণ সম্পর্কে আমরা সবাই একটু আধটু জানি। রান্নায় পেয়াজ যেমন স্বাদ বাড়ায় তেমনি পেয়াজ আমাদের চুল পড়া বন্ধ করতে অতুলনীয় ভূমিকা রাখে। বহু প্রাচীনকাল থেকেই পেয়াজ চুল পড়া রোধ করতে ব্যবহার হয়ে আসছে। পেয়াজের রস চুলের ঘনত্বও বাড়াতে সাহায্যে করে। পেয়াজের এনটি ব্যকটেরিয়াল গুনাগুণ আমাদের ত্বকের নানা ধরনের ইনফেকশন কমায়।

পেঁয়াজ ঘষে নিয়ে রস আলাদা করে চুলের গোঁড়ায় গোঁড়ায় লাগিয়ে নিতে হবে। ১৫মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে নিতে হবে।

চুল পড়া রোধে ডিমের উপকারিতা

প্রচুর পরিমাণের প্রোটিন থাকার কারণে ডিম আমাদের চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। একটা ডিমের সাথে ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিতে হবে।

এই প্যাকটি শ্যাম্পু করার পর চুলে লাগিয়ে ১০মিনিট রেখে দিতে হবে। তারপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে কন্ডিশনার করে নিতে হবে। রুক্ষ চুলের জন্য এই প্যাকটি খুবই উপকারী।

যষ্টিমধু যেভাবে চুল পড়া রোধ করে

যষ্টিমধু চুলের গোঁড়ার ছিদ্রগুলোকে খুলে দেয় এবং চুল পড়া বন্ধ করে। মাথার ত্বকের চুলকানি, যেকোনো ঘা ইত্যাদি দূর করে যষ্টিমধু। এর থেকে ভালো ফল পেতে সপ্তাহে ১দিন করে ব্যবহার করতে হবে।

নিমপাতা

নিমপাতা আমাদের নানা ধরনের সমস্যা দূর করে থাকে। নিমপাতা খেলে আমাদের পেটের সমস্যা দূর হয়, এমনকি এটি ডাইবেটিকস কন্ট্রোলে রাখতে সাহায্য করে। তেমনি নিমপাতা আমাদের খুশকি দূর করে। খুশকির কারণে আমাদের চুল পরে যায়। তাই খুশকি নিরাময় করা খুব জরুরি।

নিমপাতা পিষে নিয়ে চুলের গোঁড়ায় গোঁড়ায় লাগিয়ে নিতে হবে। ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে নিতে হবে। সপ্তাহে ২ দিন করে ব্যাবহার করলেই ফল পাওয়া যাবে। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে নিমপাতা ত্বককে রুক্ষ করে দেয় তাই রুক্ষ চুলের জন্য সাথে মধু মিশিয়ে নিতে হবে।

চুল পড়া রোধে নারকেল তেলের উপকারিতা

প্রাচীনকাল থেকেই নারকেল তেল চুলের জন্য ব্যবহার হয়ে আসছে। চুলের গোঁড়া শক্ত করতে এবং চুলকে কালো করতে এর ভূমিকা অতুলনীয়। নারকেল তেল একটু গরম করে আঙ্গুল দিয়ে হালকা হাতে চুলের গোঁড়ায় লাগাতে হবে। তাতে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়।

যাদের চুলে খুশকির সমস্যা আছে তারা তেল লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে নিতে হবে। এছাড়া যাদের চুল রুক্ষ তারা সারারাত চুলে তেল লাগিয়ে রেখে পরদিন সকালে শ্যাম্পু করে নিতে পারেন। তেল আপনার চুলকে মসৃণও করে।

চুলের সমস্যা হোক বা ত্বকের, খেয়াল রাখতে হবে আমরা প্রতিদিন যথেষ্ট পরিমাণের পুষ্টিকর খাবার খাচ্ছি কিনা। রোজ ৭ থেকে ৮ গ্লাস পানি অবশ্যই খেতে হবে।

জেনে নিন খুশকি দূর করার উপায়

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।

অনলাইনপ্রেস/আরএস/এনজে

মুখের ব্রণ দূর করার উপায়, সহজে সুন্দর ত্বক

মুখের ব্রণ দূর করার উপায়

রিয়া সরকার: ব্রণের সমস্যায় আমরা সবাই কম বেশি ভুগে থাকি। মুখের ব্রণ দূর করার উপায় নিয়েও তাই আমাদের আগ্রহের কমতি নেই।

ব্রণের কারণে আমাদের ত্বকে অনেক সময় দাগ, লালচে ভাব হয়ে থাকে। এগুলোর কারণে আমরা অনেকেই অনেক প্ল্যান বাতিল করি এবং নানা ধরনের পণ্য ব্যবহার করি।

কিন্তু তাতেও অনেক সময় ফল মেলেনা। তাই আজ জেনে নেব মুখের ব্রণ দূর করার উপায় সম্পর্কে, যা খুব সহজেই অনুসরণ করা সম্ভব।

প্রথমেই মনে রাখতে হবে ব্রণ দূর করতে আমরা যে যা কিছুই ব্যবহার করি না কেন সব থেকে জরুরি হল মুখ পরিষ্কার রাখা। বাইরে থেকে এসে ভালো করে মেকআপ তুলে মুখ ধুয়ে নিতে হবে।

লেবুর সাহায্যে ব্রণ নিরাময়

পানির সাথে লেবুর রস মিশিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। এতে মুখ যেমন পরিষ্কার হবে তেমনি ব্রণের সমস্যা ও কমতে থাকবে। লেবুর এসিড ব্রণকে শুকিয়ে ফেলে এবং দাগ দূর করতে সাহায্য করে।

টি ট্রি অয়েল

টি ট্রি অয়েল ব্রণের জন্য দারুণ উপকারী। আপনার ফেইসওয়াশের সাথে ১ ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে মুখ ধুয়ে নিলে ব্রণের সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য এটি খুব উপকারী।

দারুচিনি ও ব্রণ

আপনারা হয়ত ভাবছেন রান্নার মশলা দিয়ে ব্রণের সমস্যা থেকে কিভাবে মুক্তি মিলবে? দারুচিনির মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুনাগুণ যা আপনার ত্বকের ব্রণের সমস্যাকে দূর করতে সাহায্য করবে।

৩ টেবিল চামচ মধুর সাথে ১ টেবিল চামচ দারুচিনি গুড়ো ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। ১০ মিনিট মুখে লাগিয়ে রেখে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। কিছুদিনের মধ্যেই আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পেতে শুরু করবেন।

গ্রিন টি

গ্রিন টিতে রয়েছে এনটিইনফ্লামেটোরি গুনাগুণ। ব্রণের ফলে আমাদের ত্বকে প্রচুর পরিমাণে তেল জমে যায় এবং পর্যাপ্ত অ্যান্টিঅক্সিডেনট থাকেনা।

গ্রিন টি আমাদের ত্বকে পর্যাপ্ত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের বাজে কোষগুলোকে মেরে ফেলতে সাহায্য করে। গ্রিন টি এভাবে আমাদের ত্বককে পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।

যেভাবে গ্রিন টি ব্যবহার করবেন

১ কাপ পানিতে ২ টেবিল চামচ গ্রিন টি ভিজিয়ে রাখতে হবে কিছুক্ষণ। তারপর পাতলা কাপড় বা তুলো ভিজিয়ে ত্বকে লাগিয়ে ১০মিনিট রেখে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।

ব্রণ নিরাময়ে ডিম

ডিম যেমন আমাদের শরীরে পুষ্টি যোগায় তেমনি ব্রণ নিরাময়েও সহায়তা করে। খাওয়ার পাশাপাশি কিভাবে ডিম দিয়ে আমরা ব্রণ দূর করতে পারি তা জেনে নেওয়া যাক।

যেভাবে ব্যবহার করবেন

ডিমের সাদা অংশের সাথে মধু মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে নিতে হবে। ১০ থেকে ১৫মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখতে হবে। মিশ্রণটি শুখিয়ে এলে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। এই প্যাকটি সবধরনের ত্বকের জন্য দারুণ উপকারী।

ভিনেগারের সাহায্যে ব্রণ দূর করার উপায়

ভিনেগারের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিবায়টিক গুণাগুণ যা আমাদের ত্বকের ব্যাকটেরিয়া কে দূর করে। মূলত ব্যাকটেরিয়ার কারণেই আমাদের ত্বকে ব্রণের সমস্যা দেখা দেয়। ভিনেগার সেসব সমস্যা থেকে আমাদের রেহাই দিয়ে থাকে। ভিনেগারের সাথে পানি মিশিয়ে মুখে লাগাতে হবে। এই মিশ্রণটি ব্রণযুক্ত ত্বকের জন্য টোনার হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে।

ব্রণ দূর করার প্রকৃতিক উপায় হিসেবে মধু

প্রাচীনকাল থেকেই মধু বিভিন্ন ভাবে ব্যবহার হয়ে আসছে। চিকিৎসা ক্ষেত্রেও মধুর ব্যবহার নানা ভাবে হয়ে আসছে। মধু একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক যা যেকোনো ক্ষত সারিয়ে তুলতে কাজ করে।

আমাদের ত্বকের নানা সমস্যাও মধুর ব্যবহারে নিরাময় করা যায়। আঙ্গুলের সাহায্যে বা তুলো দিয়ে ব্রণের ওপর মধু লাগিয়ে রাখতে হবে। শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে।

এছাড়া যেকোনো প্যাকের সাথে মধু মিশিয়েও ব্যবহার করা যেতে পারে। তাতে আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতাও বাড়বে এবং ব্রণের সমস্যা ও নিরাময় হবে।

রসুন

অনেক প্রাচীন বিশেষজ্ঞরা চিকিৎসার জন্য রসুন ব্যবহার করে থাকেন। রসূনের মধ্যে রয়েছে এনটি ব্যাকটেরিয়াল এবং এনটি ইনফ্লামেটোরি গুণাগুণ। এগুলি জীবাণু বা যেকোনো সংক্রমণের হাত থেকে আমাদের ত্বককে বাচায়। তাই আমাদের প্রতিদিনের ডায়েটের মধ্যে রসুন রাখতে হবে। অনেকেই কাঁচা রসুন খেয়ে থাকেন। আবার অনেকে গারলিক পাউডার বা ক্যপ্সুল খেয়ে থাকেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে রসুন ত্বকের ওপর সরাসরি কখনই ব্যবহার করা যাবে না। এর ফলে ত্বকে জ্বালাপোড়া হতে পারে।

ব্রণের সমস্যা থেকে সেরে উঠতে সময় লাগলেও তা নিরাময় দুর্লভ কিছু নয়। বাজারের পণ্য ব্যবহার না করেও আপনি ঘরে বসে প্রাকৃতিক উপাদান দিয়েও এর সমস্যা দূর করতে পারেন।

বিশেষ টিপসঃ ত্বকের যেকোনো সমস্যার জন্যই আমাদের প্রতিদিন নিয়মিত ৭-৮ গ্লাস পানি পান করতে হবে। এছাড়া ব্রণের দাগের জন্য আপনি বরফের টুকরো ব্রণের ওপরে হালকা ঘষে নিলে অনেক উপকার পাবেন।

ত্বকের যত্নে শশার উপকারিতা বা রূপচর্চায় শসার ব্যবহার

অনলাইনপ্রেস/আরএস/এনজে

তথ্যসূত্র: TOI