ত্বকের যত্নে শশার উপকারিতা বা রূপচর্চায় শসার ব্যবহার

ত্বকের যত্নে শশা

ত্বকের যত্নে শসার উপকারিতা বা রূপচর্চায় শসার ব্যবহার

রিয়া সরকার: আমাদের প্রতিদিনের খাবারের সাথে সালাদ হিসেবে শসা খেয়ে থাকি। শসা যেমন খেতে সুস্বাদু তেমনি এটি আমাদের ত্বকের জন্যও দুর্দান্ত। ত্বকের যত্নে শসার উপকারিতা অনেক।

তাই খাওয়ার সাথে সাথে শসা আমরা ত্বকেও ব্যবহার করতে পারি। শসাতে যেসব গুনাগুণ রয়েছে সে সম্পর্কে একটু জেনে নেওয়া যাক।

শসাতে অ্যান্টিইনফ্লামেটরি গুনাগুণ ছাড়াও রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেনট, ফলিক এসিড এবং ভিটামিন সি এর মতো পুষ্টি উপাদান যা আমাদের ত্বকের জন্য খুব উপকারী।

ত্বকের যত্নে শসার উপকারিতা

আমরা অনেকেই অনেক দামি পণ্য ব্যবহার করে থাকি আমাদের ত্বককে ভালো রাখার জন্য। কিন্তু সেসব থেকে আমরা সবসময় উপকার পাইনা।

তাই ঘরে বসেই ঘরোয়া উপকরণের মাধ্যমে নিজের ত্বককে সুন্দর করে তুলুন। যেনে নিন ত্বকের যত্নে আমাদের অতি পরিচিত সবজি শসার উপকারিতা ।

শসা ত্বকের ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে

গবেষণা করে দেখা গিয়েছে শসা আমাদের চোখের নিছের ফোলা ভাব কমায়।

আমরা অনেকেই রাত জেগে কাজ করি, বা যেকোনো কারণেই রাতে ঘুম ঠিক করে না হলে চোখের নিচে ফুলে থাকে।

সেই ফোলা জায়গায় এক টুকরো শসা কিছুক্ষণ ধরে রাখলে ফোলাভাব কমে যাবে।

দাগ ও ব্রণের সমস্যায় শসা

যাদের ত্বকে ব্রণের সমস্যা আছে বা যাদের তৈলাক্ত ত্বক তাদের জন্য শসা খুব উপকারী।

মৃতকোষ জমে আমাদের ত্বককে রুক্ষ করে দেয় এবং ত্বকে দাগ হয়ে যায় অনেক সময় সেসব দাগ দূর করতে শসা অতুলনীয় ভূমিকা পালন করে।

শসা আমাদের ত্বককে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।

বলিরেখা দূর করে

শসার মধ্য ভিটামিন সি এবং ফলিক এসিড থাকে।

ভিটামিন সি তে নতুন কোষ বৃদ্ধির ক্ষমতা থাকে আর ফলিক এসিড দুষিত পদার্থ/দূষণ হাত থেকে ত্বককে বাঁচায়।

দূষণের কারণে আমাদের ত্বকে খুব তাড়াতাড়ি বলিরেখা পরে যায়, যা আমরা শসার ব্যবহারের দ্বারা আমরা কমাতে পারি।

জ্বালাপোড়া কমায় ও রোদে পোড়া দাগ দূর করে

যাদের রোজ বাইরে যেতে হয় তাদের সবারই ত্বক রোদে পুড়ে কালো হয়ে যায়।

শসা ব্যবহার করে আমরা ত্বকের যেকোনো জ্বালাপোড়া, লালচে ভাব, কালচে ভাব দূর করতে পারি।

শসার প্রদাহ নাশক বৈশিষ্ট্য ত্বকে ঠাণ্ডা ভাব আনে।

যেভাবে শসার মাস্ক তৈরি করবেন

প্রথমে একটি পাত্রে শসা ভালো করে ব্লেনড করে নিয়ে ছাকনির সাহায্যে শসার রস আলাদা করে নিতে হবে।

তারপর মুখ ভালো করে ধুয়ে নিয়ে শসার রসটি লাগিয়ে তা ১৫মিনিট পর্যন্ত রাখতে হবে।

তারপর মুখ ভালো করে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।

এটি ব্যবহারের পর আপনার মুখের ক্লান্তভাব দূর হবে এবং মুখ ফ্রেশ লাগবে।

ত্বকের যত্নে শসা ও এলোভেরা

এলোভেরা ও শসার প্যাক আমাদের ত্বকের রুক্ষতা দূর করে।

শসা ভালো করে ব্লেনড করে রস আলাদা করে নিতে হবে।

তারপর ২ টেবিল চামচ এলোভেরার জেল ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে।

মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে ১৫মিনিট রেখে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।

এই মিশ্রণটি রুক্ষ ত্বকের জন্য দারুণ কাজ করে থাকে।

শসা, ওটমিল এবং মধু

যারা ব্রণের সমস্যায় ভুগছেন এই মিশ্রণটি তাদের জন্য খুবই উপকারী।

প্রথমে শসা ভালো করে ব্লেনড করে রস আলাদা করে নিতে হবে।

এর সাথে ১ টেবিল চামচ ওটমিল, ১ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে নিতে হবে।

ভালো করে মিশিয়ে মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে নিতে হবে।

১৫মিনিট রেখে মুখ ভালো করে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। ওটমিল মৃত কোষগুলোকে তুলতে সাহায্য করে এবং মধু আপনার ত্বককে মসৃণ করবে।

এছাড়া যা করনীয়

শসার তৈরি যেকোনো প্যাক মুখে লাগানোর আগে অবশ্যই মুখের মেকআপ তুলে নিতে হবে।

প্যাক মুখে লাগিয়ে তা ১০ থেকে ১৫ মিনিট ভালো করে আলতো হাতে বা সার্কুলার মোশনে মেশাতে হবে তাতে আপনার ত্বকের রক্ত চলাচল ভালো হবে।

সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বারের বেশি যেকোনো প্যাক ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে আপনার ত্বক রুক্ষ হয়ে যেতে পারে।

আরও পড়ুন: খুশকি দূর করার উপায়, প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে সমাধান

অনলাইনপ্রেস/আরএস/এনজে

তথ্যসূত্র: হেলথলাইন।

বসন্ত ঋতুতে ত্বকের যত্ন, ঘরে বসেই রূপচর্চা

ত্বকের পরিচর্যা

রিয়া সরকার: বসন্ত ঋতুতে ত্বকের যত্ন আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়, এটি ঘরে বসেই রূপচর্চা সিরিজের প্রথম পর্ব ।

কারণ আমরা সবাই চাই নিজেকে সুন্দর রাখতে এবং সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করতে।

যেকোনো মরশুমই হোক না কেন নিজের ত্বককে সুন্দর রাখতে আমরা সকলেই কিছু না কিছু ত্বকের পরিচর্যা করে থাকি।

মৌসুম বদলের সাথে সাথে আমাদের ত্বকের কিছু পরিবর্তন দেখা যায়। তাপ এবং আর্দ্রতার কারণে আমদের ত্বক সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকে।

শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কমতে থাকে এবং ত্বকের শুষ্ক ভাব আরও বাড়তে থাকে। এমনকি যাদের ত্বক তৈলাক্ত তারাও বার বার মুখ ধোওয়ার পর শুষ্কতা অনুভব করেন।

তাই আমরা যদি কিছু নিয়ম মেনে চলি তাহলেই খুব সহজে ত্বকের পরিচর্যা করে নিজেরা নিজেদের ত্বককে সুন্দর রাখতে পারবো।

ত্বকের ওপর বসন্তের প্রভাব

শীতের রুক্ষতার পরে আসে বসন্ত। এই বসন্ত ঋতুতে ত্বকের যত্ন নেয়া খুব জরুরি।

কারণ বসন্তের শুরু থেকেই আমরা নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে থাকি যেমন- অ্যালার্জি, র্যা শ ইত্যাদি।

এগুলো সাধারণত দূষণের কারণে হয়ে থাকে। দূষণের কারণে আমাদের ত্বক আস্তে আস্তে রুক্ষ হতে থাকে।

তাই আমাদের এমন কিছু ত্বকের পরিচর্যা পণ্য ব্যবহার করতে হবে যা আমাদের ত্বকের আর্দ্রতাকে বজায় রেখে ত্বককে পরিষ্কার রাখবে।

যেকোনো পণ্য ব্যবহারের আগে অবশ্যই জেনে নিতে হবে তা আমদের ত্বকের জন্য ক্ষতিকর কিনা।

স্বাভাবিক থেকে রুক্ষ যেকোনো ত্বকের জন্যই বাইরে বেরোনোর আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।

তবে বাড়িতে থাকলে যেকোনো ভালো মইশচারাইজার ব্যবহার করতে হবে।

বসন্ত ঋতুতে ত্বকের যত্ন বা বসন্তে ত্বকের পরিচর্যা

সব ধরনের ত্বকের ক্ষেত্রেই মেইকআপ করার আগে যেকোনো মইশচারাইজার লাগিয়ে নিলে আমদের ত্বক ভালো থাকবে।

কারণ কেমিক্যাল আমাদের ত্বককে রুক্ষ করে দেয়। আর যাদের তৈলাক্ত বা মিশ্র ত্বক তাদের সানস্ক্রিন জেল ব্যবহার করতে হবে।

এছাড়াও বিভিন্ন ঘরোয়া উপায়ে ত্বকের পরির্যা করে আমরা আমাদের ত্বকের সৌন্দর্য বজায় রাখতে পারি।

মধুতে ত্বকের পরিচর্যা

অতি প্রাচীনকাল থেকেই মধু নানা ভাবে ত্বকের পরিচর্যা করতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সব ধরনের ত্বকের জন্য এটি খুবই উপকারী।

এটি আমাদের ত্বকের আর্দ্রতা এবং ত্বকের কোমলতা বজায় রাখে।

মধুর সাথে ডিমের সাদা অংশ আর লেবু মিশিয়ে ১৫মিনিট মুখে লাগিয়ে রেখে তারপর ঠাণ্ডা জলে ধুয়ে নিতে হবে।

এই মিশ্রণটি তৈলাক্ত ত্বকের জন্য খুব এ উপকারী।

ত্বকের পরিচর্যা এবং অ্যালোভেরা

অ্যালোভেরাও ত্বকের জন্য খুব উপকারি। অ্যালোভেরার জেল আমদের ত্বককে মসৃণ করে। রাতে ঘুমানো আগে অ্যালোভেরা মুখে লাগানো যেতে পারে।

ত্বক পরিষ্কার করা

ত্বকের পরিচর্যা করার সহতম একটি উপায় হল প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে অবশ্যই মুখ ভালো করে পরিষ্কার করতে হবে।

আমরা অনেকেই কাজের ব্যস্ততার জন্য অনেক সময়ই মুখ না ধুয়েই ঘুমিয়ে পড়ি।

তাতে সারাদিনের লেগে থাকা ধুলো, ময়লা আমাদের ত্বকের ক্ষতি করে।

তাই ঘুমানোর আগে অবশ্যই মুখ ভালো করে ফেইসওয়াশ দিয়ে ধুয়ে মইশচারাইজার বা নাইট ক্রিম লাগিয়ে ঘুমাতে হবে।

স্ক্রাবিং

আমাদের ত্বকে প্রচুর পরিমাণে মৃতকোষ থাকে, এটি দূর করার জন্য স্ক্রাবিং করা জরুরি।

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য সপ্তাহে ২ বার জন্য এবং রুক্ষ ত্বকে ১ বার স্ক্রাবিং করতে হবে।

ঘরে মশচারাইজার তৈরি করুন

১০০ এমএল গোলাপজলের সাথে ১ চা চামচ গ্লিসারিন মিশিয়ে বোতল এ ভরে তা ফ্রিজে রেখে দিন।

এই মিশ্রণটি সব ধরনের ত্বকের পরিচর্যা করতে মইশচারাইজার এর কাজ করবে।

ত্বকের পরিচর্যার স্বার্থে যেগুলো করা থেকে বিরত থাকতে হবে

  • একদিনে দু থেকে তিন বারের বেশি মুখ ধোবেন না। ক্ষারযুক্ত সাবান আমাদের ত্বকের পি এইচ ব্যালেন্সকে ব্যাহত করে।
  • ব্রণ বা র‌্যাশ এর ওপর কখনই স্ক্রাব ব্যবহার করবেন না।
  • আমরা অনেকেই চোখের কালো দাগ দূর করতে চোখের নিচে ক্রিম ব্যবহার করি। অবশ্যই ঘুমানোর আগে তা তুলে নিতে হবে।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

অনলাইনপ্রেস/আরএস/এনজে