তুলসী পাতার উপকারিতা, পুষ্টিগুন ও ব্যবহার

তুলসী পাতা

তুলসী পাতার উপকারিতা, পুষ্টিগুন ও ব্যবহার

তুলসী একটি গুল্ম যার মাটির উপরে থাকা গাছের অংশগুলি ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। তুলসী পাতার উপকরিতা অনেক এবং এটি নানা পুষ্টিগুনে ভরপুর। প্রাচীন কাল থেকেই তুলসী গাছের পাতা ব্যবহৃত হয়ে আসছে ওষুধ তৈরিতে।

তুলসী পাতা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থানীয় একটি গাছ। চোখের রোগ থেকে শুরু করে, দাদ, পোকামাকড়ের কামড়, পেটের চিকিৎসা সব কিছুতেই তুলসী পাতার চিকিৎসার ইতিহাস রয়েছে। পাতা থেকে বীজ পর্যন্ত তুলসী শরীর, মন এবং আত্মার জন্য একটি টনিক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

বিভিন্ন অবস্থায় চিকিৎসার জন্য গাছের ভিন্ন ভিন্ন অংশের পরামর্শ দেয়া হয়, যেমন-

  • ব্রঙ্কাইটিসের জন্য তুলসী গাছের তাজা ফুল ব্যবহার করা।
  • ম্যালেরিয়ার জন্য কালো মরিচ সহ পাতা এবং বীজ ব্যবহার করা।
  • ডায়রিয়া, বমি বমি ভাবের জন্য পুরো উদ্ভিদটি ব্যবহার করা।
  • দাউদ, এক্সিমার জন্য এর তৈরি মলম বা পাতা বেটে এর পেস্ট ব্যবহার করা।
  • পেটের আলসার অথবা চোখের রোগের জন্য তুলসী পাতা থেকে তৈরি এলকোহলের নির্যাস ব্যবহার করা।
  • পোকা মাকড়ের কামড়ের জন্য এ পাতার তৈরি তেল ব্যবহার করা।

তবে অবশ্যই এগুলো ব্যবহার করার সময় আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলে নিবেন।

তুলসী পাতার পুষ্টিগুন

তুলসী পাতায় রয়েছে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, ক্যালসিয়াম, দস্তা, আয়রন, পত্রহরিৎ। তাছাড়াও এন্টিঅক্সিডেন্ট এবং এন্টিব্যক্টেরিয়াল উপাদান রয়েছে।

তুলসী পাতার উপকরিতা সমূহ

তুলসী পাতার ব্যবহারে মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ হ্রাস পায়

তুলসী গাছের সমস্ত অংশ অ্যাডাপ্টোজেন হিসেবে কাজ করে। অ্যাডোপ্টোজেন হলো প্রাকৃতিক পাদার্থ যা আপনার শরীরকে মানসিক চাপের সাথে মানিয়ে নিতে সহায়তা করে এবং মানসিক ভারসাম্যকে প্রোমট করে।

তবে বিজ্ঞান বলে তুলসীতে আপনার মনকে বিভিন্ন ধরনের স্ট্রেস সহ্য করতে সহায়তা দেয়ার ফার্মাকোলজিকাল বৈশিষ্ঠ্য রয়েছে। রাসায়নিক, শারীরিক, সংক্রামক, আবেগপ্রবন, যৌন সমস্যা, ঘুমের অভাব, বিস্মৃতি এবং অবসাদ এ ধরনের চাপ কমাতে নিয়মিত তুলসী পাতা গ্রহনের তুলোনা হয় না।

আয়ুর্বেদিক এবং ইন্ট্রিগেটিভ মেডিসিন জার্নাল অনুসারে, তুলসী পাতায় ডায়াজেপাম ও অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট বৈশিষ্ঠ্য রয়েছে। একটি সমিক্ষায় দেখা গেছে যেসব ব্যাক্তিরা প্রতিদিন ৫০০ মিলিগ্রাম তুলসী পাতার নির্যাস গ্রহণ করেন তারা কম উদ্বেগ, চাপ ও হতাশাগ্রস্থ বোধ করেন। আয়ুর্বেদরা তুলসী পাতার চা ব্যবহারের পরামর্শ ‍দিয়ে থাকেন। যেহেতু এটি কেফিন মুক্ত তাই প্রতিদিন পান করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

উদ্দীপনা এবং শরীরকে প্রাণবন্ত করতে তুলসী উপকারী

তুলসীতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে এন্টিঅক্সিডেন্ট। যা আপনার শরীরকে বিষমুক্ত করে থাকে। তুলসী পাতা আপনার শরীরকে  বিষাক্ত রাসায়নিক থেকে রক্ষা করতে পারে। তুলসী পাতা ক্যান্সারের কোষ বৃদ্ধির ক্ষমতাকে হ্রাস করে ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারে।

সংক্রামন থেকে রক্ষা এবং এর ক্ষতির চিকিৎসা হয় তুলসী পাতায়

তুলসী পাতায় থাকা এক্সট্রাক্ট ক্ষত নিরাময়ের গতি ও শক্তি বাড়ানের জন্য উপকারী। তুলসী পাতা হলো ব্যাক্টেরিয়া বিরোধী, সংক্রামন বিরোধী, এন্টিফাংগাল, তাপ প্রদাহ বিরোধী এবং বেদনানাশক। অনেকেই ক্ষত নিরাময়ের প্রাকৃতিক চিকিৎসা সরূপ তুলসী পাতা ব্যবহার করে থাকে। তুলসী পাতা ক্ষত সারানোর শক্তি, নিরাময়ের সময় এবং সংকোচনকে বাড়িয়ে তোলে।

রক্তে সুগার কমাতে তুলসী পাতা উপকারী

আপনার যদি প্রিডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিস থেকে থাকে তাহলে তুলসী গাছের সমস্ত অংশ আপনার রক্তের শর্করাকে হ্রাস করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে তুলসী পাতা ডায়াবেটিসের লক্ষণ গুলিকে রোধ করতে সহায়তা করতে পারে। যেমন- ওজন বৃদ্ধি, উচ্চ কোলেস্টরল, মূত্র নিরোধক, উচ্চ রক্তচাপ ও রক্তে ইনসুলিন।

তবে অবশ্যই আপনার ডায়েটে তুলসী পাতা যুক্ত করার আগে ডাক্তারের সাথে কথা বলে নিবেন। যদি আপনি রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রনের জন্য ইতিমধ্যে ওষুধ গ্রহন করে থাকেন তবে এটি আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা আরোও কমিয়ে দিতে পারে।

প্রদাহ এবং জয়েন্টের ব্যাথা কমাতে তুলসী পাতা উপকারী

তুলসী পাতা আরামদায়ক, উদ্বেগ এবং প্রদাহ মোকাবেলা করতে সক্ষম। এটি বাতের ব্যাথা ও ফাইব্রোমাইজালিয়াতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সহায়তা করতে পারে। কারণ এতে রয়েছে এন্টিঅক্সিডেন্ট ও এন্টিইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ঠ্য যা এডাপ্টোজেন হিসেবে কাজ করে থাকে।

পেটের সুরক্ষায় তুলসী পাতা উপকারিতা অনেক

তুলসী পাতার আলসার মোকাবেলার ক্ষমতা রয়েছে। তুলসী পাতা প্রাকৃতিক ভাবে আপনার পেটের প্রতিরক্ষা বৃদ্ধি করে। যেমন- এসিড হ্রাস করা, শ্লেষ্মা নিঃসরণ করা, শ্লেষ্মা কোষ বৃদ্ধি ও শ্লেষ্মা কোষের জীবন প্রসারিত করা।

পেপটিক আলসারের ওষুধের অনেক ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে যা কিছু মানুষের মধ্যে অস্বস্তি এনে দিতে পারে। এই রোগের চিকিৎসায় তুলসী পাতা বিকল্প হতে পারে।

তাছাড়া ঝাঁকুনি, ক্ষুধা হ্রাস, অন্ত্রের গ্যাস, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং আরো অনেক পেটের সমস্যা সমাধানের জন্য তুলসী পাতা ব্যবহার হয়ে থাকে।

ব্যবহার পদ্ধতি

পাতা, ফুল বা শুকনো পাতার গুড়া ব্যবহার করে আপনি তুলসী পাতার চা তৈরি করতে পারেন। এক কাপ ফুটন্ত জলে ২-৩ চামচ ‍তুলসী রেখে তা ৫-৬ মিনিট ফুটিয়ে চায়ের মতো করে পান করতে পারেন।

এর পাতা রান্নাতেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। অনেকেই আবার কাঁচা খেয়ে থাকেন। তুলসীর স্বাদ মশলাদার এবং তেতো। তুলসী গাছের পাতা এবং ফুল থেকে তেল নিঃসরণ করা হয়। তুলসী তেলেরও নানা ঔষুধি গুণাগুণ রয়েছে।

তথ্যসূত্র: হেলথলাইন।

প্রেস/জেএ/এনজে

ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জানেন কি?

ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ও প্রতিকার

ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ও প্রতিকার

এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রামণের তিন থেকে পনেরো ‍দিনের মধ্যে সাধারণত ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গ গুলো দেখা দেয়। ডেঙ্গু জ্বর একটি মশা বাহিত রোগ যা বিশ্বের গ্রীষ্মমন্ডলীয় এবং উপনেবেশীয় অঞ্চলে হয়ে থাকে। প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ডেঙ্গু সংক্রামনের লক্ষ লক্ষ ঘটনা ঘটে থাকে। কয়েক প্রজাতির এডিস মশকী (স্ত্রী মশা) ডেঙ্গু ভাইরাসের প্রধান বাহক। যেগুলোর মধ্যে এডিস ইজিপ্টি মশকী প্রধানতম। ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধী টিকা কয়েকটি দেশে অনুমোদিত হয়েছে  তবে এই টিকা শুধু একবার সংক্রমিত হয়েছে এমন রোগীর ক্ষেত্রে কার্যকর। মূলত এডিস মশার কামড় এড়িয়ে চলাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রধান উপায়। তাই মশার আবাস স্থল ধ্বংস করে মশার বংশবিস্তার প্রতিরোধ করতে হবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী কালে ডেঙ্গু একটি বৈশ্বিক আপদে পরিনত হয়। এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও অন্যান্য মহাদেশের ১১০টির অধিক দেশে ডেঙ্গু জ্বরের প্রদুর্ভাব হয়। প্রতি বছর পাঁচ থেকে পঞ্চাশ কোটি মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়।

ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ গুলো কি কি?

ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ যখন দেখা দেয় তখন সংক্রামিত মশা দ্বারা কামড়ের চার থেকে সাত দিন অতিবাহিত হয়ে যায়। ডেঙ্গু জ্বর হলে সাধারণত শরিরের তাপমাত্রা অত্বাধিক বেড়ে যায়। জ্বর হয় ১০৪ ডিগ্রী ফারেনহাইট সাথে আরো কিছু লক্ষণ দেখা যায়। সেগুলো হলো-

  • মাথা ব্যাথা।
  • পেশী, হাড় ও জয়েন্টে ব্যাথা।
  • বমি বমি ভাব/বমি হওয়া।
  • চোখের পেছনে ব্যাথা।
  • গ্রন্থি ফুলে যাওয়া।
  • শরিরে র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি হওয়া।

কিছু কিছু রোগীর ক্ষেত্রে লক্ষন গুলো আরও খারাপ হয় এবং জীবনের উপর হুমকি হয়ে উঠতে পারে। রক্তনালী গুলি প্রায়সই ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ফুটো হয়ে যায়।

ডেঙ্গু হেমোরজিক জ্বর বা গুরুত্বর ডেঙ্গু আপনার জীবনের জন্য হুমকি হয়ে যেতে পারে। এ অবস্থা হয়েছে তা বুঝার জন্য কিছু লক্ষণ রয়েছে-

  • সাংঘাতিক পেটে ব্যাথা।
  • অবিরাম বমি বমি ভাব।
  • আপনার মাড়ি বা নাক থেকে রক্তপাত হতে পারে।
  • প্রসাব, পায়খানা বা বমির সাথে রক্ত যেতে পারে।
  • ত্বকের নিচে রক্ত ক্ষরণ যা ক্ষতপ্রাপ্ত হতে পারে।
  • শ্বাস নিতে কষ্ট বা দ্রুত শ্বাস নেয়া।
  • ঠান্ডা ত্বক।
  • অবসাদ।
  • বিরক্তি বা অস্থিরতা।

ডাক্তারের কাছে যাবেন কখন?

জ্বর হওয়ার পরে যদি আপনি এ সমস্ত লক্ষণ গুলো অনুভব করেন তাহলে নিকটস্থ ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

ডেঙ্গু জ্বর হওয়ার কারণ সমূহ

ডেঙ্গু জ্বর মশা দ্বারা ছড়িয়ে থাকা চার ধরনের ডেঙ্গু ভাইরাসের যেকোন একটির কারণে হয়ে থাকে যা মানুষের আবাস্থল ও আশেপাশে সমৃদ্ধ হয়। একটি মশা যখন ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যাক্তিকে কামড় দেয়, তখন ভাইরাসটি মশার মধ্যে প্রবেশ করে। সংক্রামিত মশা যখন অন্য ব্যাক্তিকে কামড় দেয় তখন ভাইরাসটি সেই ব্যাক্তির রক্ত প্রবাহে প্রবেশ করে।

ডেঙ্গু জ্বর থেকে নিরাময়ের পরে আপনার যে ধরনের ভাইরাস সংক্রামিত হয়েছিল তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। তবে অন্য তিনটি ডেঙ্গু জ্বরের ভাইরাসের নয়। ডেঙ্গু হেমোরজিক ফিভার নামে পরিচিত মারাত্বক ডেঙ্গু জ্বর হওয়ার ঝুঁকি প্রকৃতপক্ষে বৃদ্ধি পায়, যদি আপনি দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ বার আক্রান্ত হন।

আরোও অনেক কারন রয়েছে যা আপনাকে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে নিয়ে আসে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে এমন অঞ্চলে বসবাস করলে বা ভ্রমণ করলে। গ্রীষ্মমন্ডলীয় বা উপনিবেশিয় অঞ্চলে থাকার কারণে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হলো দক্ষিণ পূর্ব-এশিয়া, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরিয় দীপপুঞ্জ, লাতিন আমেরিকা এবং ক্যারাবিয়ান।

জটিলতা

গুরুতর ডেঙ্গু জ্বর ফুসফুস, যকৃত বা হার্টের ক্ষতি করতে পারে। রক্তচাপ বিপদজনক স্তরে নেমে যায়, যার ফলে শক  এবং কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

ডেঙ্গু জ্বরের প্রতিরোধ

ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারি মশা ভোর থেকে সন্ধ্যা অবধি সক্রিয় থাকে তবে রাতেও কামড়াতে পারে। এজন্য সবসময় মশারি টানিয়ে ঘুমাবেন। বাইরে বের হবার সময় ফুল হাতা শার্ট, ফুল প্যান্ট ও জুতা-মোজা পরিধান করুন।

এডিস মশার বংশ বিস্তারকে ধ্বংস করুন। আপনার বাসার আশেপাশের যে সব স্থানে পানি জমে থাকার জায়গা আছে সেসব জায়গা পরিষ্কার করুন। গাড়ির টায়ার, ফুলের টব, এসি/ফ্রিজের জমে থাকা পানি, ভাঙ্গা বোতল/বালতি, ছাদে জমে থাকা পানি পরিষ্কার করুন নিয়মিত।

যে সব স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় সেসব স্থানে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে ‍দিন। অথবা মশা মারার ওষুধ ছিটানোর ব্যবস্থা করুন।

প্রচুর পরিমানে পানি,সরবত ইত্যাদি তরল খাবার পান করুন।

দিনের বেলায় ঘুমানোর অভ্যাস ত্যাগ করুন।

যদি সম্ভব হয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে থাকুন। পরিষ্কার, আলো বাতাস সম্পূর্ন এবং শুকনা ঘরে থাকবেন।

জ্বর আসলে মাথায় পানি দিবেন এবং ভেজা কাপড় দিয়ে শরির মুছে ফেলবেন।

ডেঙ্গু জ্বরের ওষুধ?

ডেনগভ্যাক্সিয়া, ৯ থেকে ৪৫ বছর বয়সি  আক্রান্ত, যে অঞ্চলে আক্রান্তের প্রবনতা বেশি সে সকল অঞ্চলে দেয়ার অনুমতি রয়েছে। ১২ মাসে এই ভ্যাক্সিনের ৩টি ডোজ দেওয়া হয়। তবে ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ব্যবহারে সিথিলতা রয়েছে। তবে ওয়ার্ল্ড হেল্থ অর্গানাইজেশন জোর দিয়ে বলেছে, যে সকল অঞ্চলে এ রোগটি সাধারণ ভাবে রয়েছে সেখানে ভ্যাক্সিনটির ব্যবহার এত জরুরি নয়। মশার বংশবৃদ্ধি রোধ করাই আসল কাজ।

তাই আপাতত আপনি যদি এমন কোন অঞ্চলে করে থাকেন যেখানে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ রয়েছে, সেখানে ডেঙ্গু জ্বর এড়ানোর সর্বোওম উপায় হলো এ রোগটি মশা দ্বারা কামড়ানো না হওয়া এবং এর বংশ বিস্তারের জায়গা গুলোকে ধ্বংস করে দেয়া।

তথ্যসূত্র: মায়োক্লিনিক

প্রেস/জেএ/এনজে

আমের উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিন

আমের উপকারিতা

আমের উপকারিতা

রিয়া সরকারঃ আম আমাদের সবারই খুব প্রিয় ফল, স্বাদে অনন্য আমের উপকারিতা অনেক। পৃথিবীর অনেক জায়গাতে আম কে ফলের রাজা বলা হয়। খেতে যেমন ভালো তেমনি এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণের পুষ্টিগুণ।

গবেষণায় দেখা গেছে, আম আমাদের ইমিউনিটি সিস্টেমকে ভালো রাখার সাথে সাথে হজম শক্তি বাড়ায় এবং দৃষ্টিশক্তিকে আরও উন্নত করতে সাহায্য করে। এমনকি আম ক্যন্সারের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে।

ক্যান্সার রোধে আমের উপকারিতা

ডাক্তারের মতে, আমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ এনটিঅক্সিডেন্ট যেমন- কোরেসেটিন, ফিসেটিন, গ্যালিক এসিড, মিথাইল গ্যালেট যা আমাদের শরীরকে স্তন ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার, প্রস্টেট ক্যান্সার এবং লিউকেমিয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।

কোলেসটরল কমাতে আমের উপকারিতা

আমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ফাইবার ও পেকটিন যার ফলে রক্তে খারাপ কোলেসটরল বা লো ডেনসিটি লিপো-প্রোটিন কমিয়ে আনতে সাহায্য করে।

ত্বক পরিষ্কার রাখতে আমের উপকারিতা

আমে রয়েছে ভিটামিন সি ও ভিটামিন এ যা ত্বককে ভালো রাখতে খুবই উপকারী। আমের পুষ্টিগুণ ত্বকের মৃতকোষ দূর করে ত্বকে নতুন জেল্লা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।

দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে আমের উপকারিতা

প্রতিদিনের ডায়েটে আম থাকা খুব উপকারী, কারণ আম আমাদের দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। আমে রয়েছে প্রচুর বিটা ক্যারোটিন যা ভিটামিন এ উৎপাদন করতে সাহায্য করে। আমের এনটিঅক্সিডেনট দৃষ্টিশক্তি উন্নত করার সাথে সাথে বার্ধক্য জনিত নানান চোখের সমস্যা সমাধান করে থাকে।

হজম শক্তি ভালো রাখতে আমের উপকারিতা

আম একটি এনজাইম যুক্ত ফল যা আমাদের শরীরের অতিরিক্ত প্রোটিনের পরিমাণ কমায়। আমের আঁশের গুনাগুণ হজমে ও পরিপাকে সহায়তা করে। এছাড়াও আমে যেহেতু প্রচুর পানি এবং ফাইবার রয়েছে তাই এটি কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যার সমাধান করে থাকে।

ইমিউন সিস্টেমকে ভালো রাখতে আমের উপকারিতা

আমে ভিটামিন সি, এ এবং অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের ক্যারোটিনয়েড থাকে। ভিটামিন এ শরীরের ইমিউনিটি সিস্টেম কে ভালো রাখতে খুবই উপকারী কারণ ভিটামিন এ আমাদের যেকোনো ধরনের ইনফেকশনের হাত থেকে রক্ষা করে থাকে এবং ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর সাথে সাথে আপনার ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা ও দূর করে থাকে। এছাড়াও আমে রয়েছে ভিটামিন কে, ই, এবং ভিটামিন বি যা আপনার ইমিউন সিস্টেমকে ভালো রাখতে দারুণ উপকারী।

এছাড়া যাদের শরীরে আইরন বা ক্যালসিয়ামের ঘাটতি রয়েছে তাদের আম খাওয়া উচিত কারণ আমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আইরন ও ক্যালসিয়াম।

আরও পড়ুন: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় কাঁচা হলুদ

ডাইবেটিকস নিয়ন্ত্রণে আমের উপকারিতা

আমরা অনেকেই হয়ত ভেবে থাকি যে আম মিষ্টি তাই ডাইবেটিকস রোগীদের আম খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কিন্তু এই ধারনাটি একদমই ভুল। খেতে মিষ্টি হলেও আম ডাইবেটিকস রোগীরাও খেতে পারবেন। আমের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স গড় ৪১ থেকে ৬০ পর্যন্ত যা গড়ে ৫১ হয়। ৫৫ এর কম হলে তা ডাইবেটিকস রোগীদের জন্য নিরাপদ হিসেবে ধরা হয়। কম গ্লাইসেমিক খাবার গুলো রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অতিরিক্ত বাড়ায় না। যার ফলে শরীরে কোন প্রকার অসুবিধা তৈরি হয়না এবং ফাইবার সমৃদ্ধ বলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

আমে ক্যালরি কম কিন্তু পুষ্টিতে ভরপুর। জেনে নেওয়া যাক ১কাপ আমের (১৬৫ গ্রাম) পুষ্টিগত উপাদান।

ক্যালরি: ৯৯
প্রোটিন: ১.৪ গ্রাম
কার্বসঃ ২৪.৭ গ্রাম
ফ্যাটঃ ০.৬ গ্রাম
ডাইবেটিক ফাইবারঃ ২.৬ গ্রাম
ভিটামিন সিঃ ৬৭%
কপারঃ ২০%
ফলেটঃ ১৮%
ভিটামিন বি ৬ঃ ১১.৬%
ভিটামিন এঃ ১০%
ভিটামিন ইঃ ৯.৭%
ভিটামিন বি ৫ঃ ৬.৫%
ভিটামিন কেঃ ৬%
নিয়াসিনঃ ৭%
পটাসিয়ামঃ ৬%
রিবফ্লেবিনঃ ৫%
ম্যঙ্গানিসঃ ৪.৫%
থায়ামিনঃ ৪%
ম্যগ্নেসিয়ামঃ ৪%

তথ্যসূত্র: হেলথলাইন, আর্টিক্যালস হাউ

থানকুনি পাতার উপকারিতা সম্পর্কে জানুন

থানকুনি পাতার উপকারিতা

থানকুনি পাতার উপকারিতা

থানকুনি পাতার পুষ্টিগুনের জন্য ঐতিহ্যবাহী চীনা এবং আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় এর বেপক প্রচলন ‍ছিল। উপকারিতা কথা বিবেচনা করলে এটি অন্যতম একটি আয়ূর্বেদিক উপাদান। ইনফেকশন, পোড়া, দাগ, শরীর ছিলে যাওয়া সহ নানান জটিলতার প্রাথমিক চিকিৎসায় থানকুনি পাতার ব্যবহার হয়। থানকুনি পাতায় এমন কিছু রাসায়নিক রয়েছে যা প্রদাহ এবং শিরাগুলিতে রক্তচাপ কমায়। থানকুনি পাতা কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায় যা ক্ষত নিরাময়ে সহায়তা করে।

থানকুনি পাতা জয়েন্টের ব্যাথার উপশম করতে সাহায্য করতে পারে

থানকুনি পাতায় থাকা এন্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বাত চিকিৎসার ক্ষেত্রে কার্যকরি হতে পারে। এর ফলে যৌথ প্রদাহ, কার্টিলেজ ক্ষয় এবং হাড়ের ক্ষয় হ্রাস পায়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকার ফলে থানকুনি পাতা দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাতেও প্রভাব ফেলে।

একটানা দুই সপ্তাহ ৫০০ মিলিগ্রামের মতো পাতা নিয়ে থেতলে ব্যাথার জাগায় লাগালে পারেন।

শরীরে উৎপন্ন বিষক্রিয়ার প্রভার হ্রাস করতে পারে থানকুনি পাতা

অ্যান্টিবায়োটিকের বিষাক্ত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দমন করতে থানকুনি পাতা ব্যবহার করা যেতে পারে। তাছাড়াও যক্ষার চিকিৎসাতেও এর ব্যবহার হয়ে থাকে।

ইঁদুরের উপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, অ্যান্টিবায়োটিক দেয়ার আগে ৩০ দিনের জন্য এসব ইঁদুরকে ১০০ ‍মিলিগ্রাম করে থানকুনি পাতা দেওয়া হয়েছিলো। যার ফলে এদের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিকের বিষাক্ততা কাজ করেনি।

আরও পড়ুন: শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে লেবুর উপকারিতা

থানাকুনি পাতা স্মৃতিশক্তি বাড়াতে উপকারি ভুমিকা রাখে

২০১৬ সালে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে থানকুনি পাতায় থাকা এক্সট্রাক্ট ও ফলিক এসিডের প্রভাবে স্ট্রোক করা রোগীর মস্তিষ্কের ফাংশন আরও বেশি সক্রিয় হয়েছে। এ সমিক্ষায় রোগীদের তিনটি গ্রুপে ভাগ করে পরিক্ষা করা হয়। প্রথম গ্রুপে ১০০০ মিলিগ্রাম থানকুনি পাতা দেয়া হয়, ‍দ্বিতীয় গ্রুপে ৭৫০ মিলিগ্রাম থানকুনি পাতা দেয়া হয়, এবং তৃতীয় গ্রুপে ৩ মিলিগ্রাম করে ফলিক এসিড দেয়া হয়।

যদিও থানকুনি পাতা ও ফলিক এসিড ‍দুটোই মস্তিষ্কের সচলতা বাড়াতে সমান ভাবে উপকারী, তবে থানকুনি পাতা মেমোরির ডোমেন বাড়াতে বেশী কার্যকরি। এজন্য নিয়মিত থানকুনি পাতা খেতে পারেন ১০০০ মিলিগ্রামের মতো।

থানকুনিপাতা আলঝাইমার রোগের ‍চিকিৎসায় উপকারী

থানকুনি পাতায় মেমোরি এবং স্নায়ুর ফাংশন বাড়ানোর ক্ষমতা রয়েছে। যার ফলে এটি আলঝাইমার রোগের চিকিৎসা করার ক্ষমতা রাখে বলে ধারণা করা হয়।

২০১২ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে থানকুনি পাতা আলঝাইমার রোগের উপর ইতিবাচক প্রভার ফেলে। মস্তিষ্কের কোষ গুলিকে বিষক্রিয়ার হাত থেকে রক্ষা করে এবং একটি ফলক তৈরি করে যা আলঝাইমার হাত থেকে রক্ষা করে। তবে গবেষকদের মতে এ রোগের ‍চিকিৎসায় থানকুনি পাতার প্রভাব নিয়ে আরো গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

উদ্বেগ এবং চাপ কমাতে থানকুনি পাতার উপকারিতা

ঘুম কম হলে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়ে যায়। গবেষকদের মতে থানকুনি পাতার পুষ্টি উপাদান উদ্বেগ হ্রাস করতে সহায়তা করে।

ঘুম কম হলে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়ে যাবে, অ্যাক্সিডেটিভ ক্ষতি হবে এবং নিউরোইনফ্লেমেশন হবে। এজন্য যাদের ঘুম কম তারা নিয়মিত থানকুনি পাতা খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। যাদের ঘুম কম তারা দুই সপ্তাহ ৫০০ মিলিগ্রাম পরিমাণে থানকুনি পাতার রস খেতে পারেন।

ডিপ্রেশন দূর করতেও থানকুনি পাতার উপকারিতা

মস্তিষ্কের ক্রিয়ার উপর থানকুনি পাতার ইতিবাচক প্রভাব ডিপ্রেশন দূর করতে সহায়তা করতে পারে। ২০১৬ সালে ৩৩ জন ডিপ্রেশনের রোগীর উপর একটি গবেষনা করা হয়। তখন তাদেরকে ৬০ দিন ডিপ্রেশনের ওষুধের বদলে থানকুনি পাতা খাওয়ানো হয়। এরপর তারা নিজেরাই বলে যে তাদের মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও হতাশা অনেকাংশে কমে গেছে। ডিপ্রেশনের সময় শরীরের ওজন, তাপমাত্রা ও হার্টরেট এর তারতম্য দেখা দেয়া। থানকুনি পাতার প্রভাবে এগুলোও সাভাবিক থাকে।

রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি এবং শরীর ফোলা কমাতে সহায়তা করতে পারে থানকুনি পাতা

প্রায় দুই হাজারের মতো বিশ্বস্ত উৎস থেকে প্রাপ্ত গবেষণায় দেখা গেছে থানকুনি পাতা রক্তপ্রাত বন্ধ করা, গোড়ালি ফোলা এবং ৩ ঘন্টার বেশী লম্বা ফ্লাইটে বসে থাকার ফলে ব্যাথার প্রভাবকে কমাতে সহায়তা করে। এছাড়াও ভেরিকোজ শিরা চিকিৎসা করতে থানকুনি পাতা কার্যকর হতে পারে।

ঘুম কম বা ইনসমনিয়ায় যারা আক্রান্ত তাদের জন্য থানকুনি পাতা উপকারী

থানকুনি পাতায় উদ্বেগ, স্ট্রেস ও হতাশার চিকিৎসা সম্ভব। এজন্য অনিদ্রার চিকিৎসার জন্য এ পাতা কার্যকর হতে পারে। কারণ ঘুম কম হলেই উদ্বেগ, স্ট্রেস ও হতাশা মানুষের মধ্যে বেশি কাজ করে। ডাক্তারদের মতে অনিদ্রার সমস্যা দূর করতে থানকুনি পাতা ভেষজ প্রতিকার। অনিদ্রা বা ইনসমনিয়ায় ভূগলে ২/৩ সপ্তাহ দৈনিক তিনবার ৩০০মিলিগ্রামের মতো থানকুনি পাতা খেতে পারেন।

ত্বকের দাগকে কমাতে সহায়তা করে থানকুনি পাতা

দাগ মুক্ত সুন্দর ত্বক কার না পছন্দ? কিন্ত ব্রণ, কেটে যাওয়া সহ নানা কারণে আমাদের ত্বকে দাগের সৃষ্টি হয়। এই দাগ দূর করতে আমরা অনেক কিছুই করে থাকি, আবার অনেক সময় ক্যামিক্যাল পণ্য ব্যবহারে ত্বক আরও নষ্ট হয়। অথচ খুব সহজে থানকুনি পাতায় এর সমাধান পেতে পারেন।

ডাক্তাররা মনে করেন থানকুনি পাতায় থাকা টেরপোনয়েড উপাদান শরীরে কোলজেন উৎপাদন বাড়ায়। কোলজেন দাগ পড়ার হাত থেকে ত্বককে রক্ষা করে, শুধু তাই নয় পুরাতন দাগ দূর করতেও এই উপাদানটি অনেক বেশি কার্যকর।

ত্বকের দাগ দূর করতে আক্রান্ত স্থানে প্রতিদিন ‍দুইবার করে থানকুনি পাতার রস অথবা এর মলম ব্যবহার করতে পারেন।

রূপচর্চা বিষয়ক আরও আর্টিক্যাল পড়তে ক্লিক করুন-

ক্ষত নিরাময় করতে থানকুনি পাতা উপকারী

থানকুনিপাতা অনেক ধরনের ক্ষত নিরাময়ে প্রভাব ফেলে। ধারালো কিছু দিয়ে কাঁটলে, পরে গিয়ে কেটে গেলে অথবা পুরানো কিছুর সাথে লেগে কেটে গেলে থানকুনি পাতা নিয়ে থেতলে ক্ষতস্থানে মেখে নিন। এবপর যতদ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ক্ষত স্থানের প্রাথমিক চিকিৎসায় থানকুনি পাতা অনেক কার্যকর।

সাধারণ সতর্কতা এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

অনেকের ক্ষেত্রে থানকুনি পাতা মাথা ব্যাথা, পেট ব্যাথা এবং মাথা ঘোরানোর কারণ হতে পারে। এজন্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে অল্প করে শুরু করুন।  যদি বেশি সমস্যা হয় তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

থানকুনি পাতা ব্যবহার করবেন না, ‍যদি আপনি-

  • গর্ভবতী হয়ে থাকেন।
  • সন্তানকে বুকের দুধ পান করাচ্ছেন।
  • হেপাটাইটিস বা লিভারের অন্যান্য রোগ থেকে থাকে।
  • ১৮ বছরের নিচে হলে।
  • ত্বকে ক্যান্সারের সমস্যা থাকলে।

অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শে ব্যবহার করুন যাদি আপনার-

  • ডায়াবেটিস থাকে।
  • উচ্চ কোলেস্টোরেল থাকে।
  • ঘুম বা উদ্বেগের জন্য নিয়মিত ওষুধ খাওয়ার দরকার হয়।
  • যদি মূত্রবর্ধক ব্যবহার করে থাকেন।

যদিও সাধারন ভাবে ব্যবহারের জন্য থানকুনি পাতা নিরাপদ তবুও বেশী মাত্রায় কখনো ব্যবহার করবেন না। অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার করবেন।

তথ্যসূত্র: হেলথলাইন.কম

প্রেস/জেএ/এনজে

পুদিনা পাতার উপকারিতা ও গুনাবলি

পুদিনা পাতা

পুদিনা পাতার উপকারিতা ও গুনাবলি

জাকারিয়া: পুদিনা পাতার উপকারিতা ও গুনাবলি অনেক। প্রচীনকাল থেকে পরিচিত রন্ধন ‍উপাদানগুলোর একটি পুদিনা পাতা। তবে শুধু রান্নার উপাদান বললে ভুল হবে, পুদিনা পাতার রয়েছে অনেক উপকারী ওষুধি গুনাগুন।

ডাক্তারদের মতে পুদিনা পাতায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে এন্টিঅক্সিডেন্ট, যা সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে খুবই প্রয়োজনীয়। সহজেই সবুজ সালাদ, স্মুদি, মিষ্টি, চা, চাটনি এবং এমনকি পানির সাথে মিশেয়েও আপনি পুদিনা পাতা খেতে পারেন।

পুদিনা পাতার পুষ্টিগুন

ক্যালোরি, ফাইবার, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, ফসফরাস, পটাসিয়াম, আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ, ফলেট, প্রোটিন, এন্টিঅক্সিডেন্ট, ক্যালসিয়াম।

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা সমাধানে পুদিনা পাতার উপকারিতা

বিরক্তিকর পেট ব্যাথা এবং বদহজম কমাতে হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ পুদিনা পাতার ব্যবহার করে আসছে। গবেষকদের দেওয়া তথ্য মতে বদহজম, আইবিএস, শিশুদের পেটে ব্যাথা সহ অনেক গুলি গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল অবস্থার প্রতিকার হিসেবে পুদিনাপাতা উপকারী ভূমিকা পালন করে থাকে। এতে থাকা এন্টঅক্সিডেন্ট ক্ষতিকারক জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করে।

এলার্জির সমস্যা সমাধানে পুদিনা পাতা উপকারি

পুদিনা গাছে রয়েছে এন্টিঅক্সিডেন্ট এবং ইনফ্লেমেটোরি এজেন্ট। এই উপাদানগুলি হাঁপানির লক্ষন কমাতে সহায়তা করে থাকে। পুদিনায় থাকা এন্টি-এলার্জিনিক প্রভাব শরীরে এলার্জির ক্ষতিকারক সমস্যাগুলিকে দূর করে দেয়। তবে এলার্জির সমস্যার জন্য পুদিনা খাওয়া থেকে এর  তেল ব্যবহারের উপকারিতা বেশি।

সাধারণ ঠান্ডা-কশি সমাধানে পুদিনা পাতার উপকারিতা

পুদিনায় মেন্থল থাকে যা সুগন্ধযুক্ত ডোনজেস্ট্যান্ট। এটি কফ ও শ্লেষ্মা কমাতে সহায়তা করে থাকে। এর ফলে কফ বেরিয়ে যায়। বাচ্চাদের ঠান্ডা লেগে বুকে কফ জমলে মেন্থল যুক্ত মলম বা বাম বুকে, পিঠে ঘষে চিকিৎসা করা যায়। তবে শিশুর ঠান্ডার সমস্যা গুরুতর হয়ে গেলে বাচ্চাদের এ ধরনের চিকিৎসা না ‍দিয়ে সরাসরি ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

আরও পড়ুন: ঠাণ্ডা-কাশি নিরাময়ের প্রাকৃতিক উপায় সমূহ

ডায়েটের জন্য পুদিনা পাতা উপকারী

নরম কান্ডযুক্ত এক অনন্য ভেষজের নাম হলো পুদিনা পাতা। এগুলো রান্নার প্রক্রিয়া শেষে খাবারে যুক্ত করা ভালো। যার ফলে খাবারের স্বাদ বজায় থাকে এবং হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। যার ফলে পুদিনা পাতা ডায়েটের জন্য খুবই উপকারী।

মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে

অনেক গবেষক মনে করেন পুদিনা খাওয়া ছাড়াও এর উদ্ভিদ থেকে নেয়া প্রয়োজনীয় তেলের সুগন্ধে শ্বাস নেওয়া মস্তিষ্কের উপকার করে থাকে। কিছু শিক্ষার্থীর উপর করা গবেষণায় দেখা গেছে যে, পরীক্ষা শুরুর আগে পুদিনার তেলের ঘ্রাণ তাদের মস্তিষ্কেকে সতেজ করে তুলেছে। এছাড়াও হতাশা, উদ্বেগ এবং অবসান্নতার মাত্রা কমাতেও এই তেলের সুগন্ধি কার্যকরী ভূমিকা রয়েছে।

স্তন্যপান করানোর ব্যাথা কমাতে পুদিনা পাতা উপকারী

বুকের দুধ পান করানো মায়েদের সাধারণত ঘা এবং ফাটা স্তনবৃন্তের সমস্যা হয়। যার ফলে বাচ্চাকে দুধ পান করানোটা অনেক সময় কষ্টকর হয়ে যায়। ত্বকে পুদিনার প্রলেপ লাগালে স্তন্যদান করানোর ব্যাথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। পুদিনা পাতার প্রেলেপ বা তেল স্তনের স্তরের চারপাশে লেপে ‍দিলে ব্যাথা এবং স্তনফাটা প্রতিরোধ করা যায়।

মুখের দুরগন্ধ দূর করতে পুদিনা পাতা উপকারী

সাধারণ ভাবে পুদিনা পাতা ‍চিবিয়ে খেলে অথবা পুদিনার ফ্লেভারযুক্ত চুইংগাম খেলে মুখের দুরগন্ধ দূর হয়। ডাক্তারদের মতে পুদিনার সুগন্ধ যুক্ত চুইংগাম দুই-তিন ঘন্টা মুখের দুর গন্ধকে সরিয়ে রাখে, তবে ব্যাকটেরিয়া বা অন্যান্য ক্ষতিকারক যৌগকে কমায় না। এজন্য পুদিনা পাতা চিবিয়ে অথবা চায়ের সাথে খেতে পারেন।

সাধারণ সতর্কতা বা অপকারিতা

অন্যান্য অনেক উদ্ভিদ উপাদানের মতো পুদিনা পাতাও অনেকের শরীরে প্বার্শপ্রতিক্রিয়ার কারণ হয়ে দাড়ায়। বেশি মাত্রায় পুদিনার তেল ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। দরকার হলে ডাক্তারের পরামর্শে তেল ব্যবহার করুন।

কোন শিশু বাচ্চার মুখে পুদিনার তেল লাগাবেন না। ঝাঁকুনি ‍দিয়ে বাচ্চাদের শ্বাস কষ্ট দেখা দিতে পারে। কোন ধরনের ওষুধ পুদিনা পাতার সাথে খাওয়া যাবে কিনা তা অবশ্যই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিবেন।

অতিরিক্ত মাত্রায় পুদিনা পাতা খাওয়া, তেল ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

প্রেস/জেএ/এনজে/

তথ্যসূত্র: মেডিক্যাল নিউজ টুডে এবং হেলথলাইন

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার ঘরোয়া উপায়

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার ঘরোয়া উপায়

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার ঘরোয়া উপায়

রিয়া সরকারঃ আমাদের দেশে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা ঘরে ঘরেই দেখা যায়। এমনকি আজকাল বয়সের তোয়াক্কা না করেই সব বয়সের মানুষকেই যেন আকড়ে ধরছে এই সমস্যা।

এই সমস্যার সমাধান পাওয়া খুব একটা সহজ না হলেও এর থেকে দূরে থাকার কিছু উপায় রয়েছে যা আমাদের সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে।

প্রতিদিনের রুটিনে কিছু পরিবর্তনই আমাদের সুস্থতার কারণ হতে পারে। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক কিভাবে আমরা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি।

প্রতিদিন ব্যায়াম করলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে

এটা বলা যেতে পারে যে, ব্যায়াম সব রোগের সমাধান। ব্যায়াম বা প্রতিদিন হাঁটার মাধ্যমে আপনি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন। ব্যায়াম করলে হার্ট এর রক্ত সঞ্চালন ভালো হয় যার ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন ও সুস্থ থাকুন।

আরও পড়ুন- শরীরচর্চার উপকারিতা

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে

উচ্চ রক্তচাপের মুল কারণ হল শরীরের অতিরিক্ত ওজন। আপনার শরীরের ওজন যত বাড়বে ততোই আপনি নানা শারীরিক সমস্যার আক্রান্ত হবেন। তাই অবশ্যই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। যতটা সম্ভব চর্বি যুক্ত খাবার থেকে দূরে থাকুন। ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকলে শুধু উচ্চ রক্তচাপ না আপনার শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা কমে যাবে।

চিন্তা মুক্ত থাকতে হবে

এখনকার ব্যস্ত জীবনে প্রতিদিনের কাজের চাপের মাঝে নিজেকে চিন্তা মুক্ত রাখাটা সত্যিই কঠিন। প্রতিদিনই যেন কোন নতুন প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হই আমরা। এর মাঝেও খুঁজে নিতে হবে নিজেকে ভালো রাখার উপায়।

অতিরিক্ত চিন্তা বা দুশ্চিন্তা আপনার উচ্চ রক্তচাপের কারণ হতে পারে। দুশ্চিন্তার হাত থেকে নিজেকে মুক্ত করতে যোগ ব্যায়াম, নিশ্বাসের ব্যায়াম বা ধ্যান করা যেতে পারে। এতে আপনার মন হালকা হবে, ঘুম ভালো হবে, যা আপনার রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখবে।

ওজন কমাতে ও চিন্তামুক্ত থাকতে সহায়তা করে টক দই

ধূমপান বর্জন করে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন

“ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক”- আজকাল এটা যেন শুধু সিনেমার শুরুতে অথবা সিগারেটের প্যাকেটের গায়ের লেখা। ধূমপান আপনাকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর পথে নিয়ে যায়। সবটা জেনেও যেন আমরা মানতে রাজিনা।

তবে সুস্থ থাকতে হলে ধূমপান বর্জন করতে হবে। সিগারেটের একেকটা টান আপনার শরীরের রক্তচাপ বাড়ায়। এতে থাকা ক্যামিক্যল আপনার রক্তনালীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে অবশ্যই ধূমপান বর্জন করতে হবে।

খাবারে সোডিয়ামের পরিমাণ কম রাখতে হবে

লবণ আমাদের খাবারের স্বাদ বাড়াতে সাহায্য করে। লবণ ছাড়া খাবার মানে স্বাদহীন খাবার। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে লবণ খাওয়া উচ্চ রক্তচাপের কারণ হতে পারে। ডাক্তাররা বলে থাকেন, ব্লাড প্রেসার কমে গেলে স্যালাইন খাওয়াতে কারণ স্যালাইনে রয়েছে পরিমাণ মতো লবণ ও চিনি, যা আপনার ব্লাড প্রেসার বাড়াতে সাহায্য করে। তাই যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে তাদের অবশ্যই খাবারে লবণ পরিমাণ কম থাকতে হবে।

অ্যালকোহল খাওয়া কমাতে হবে

মদ বা অ্যালকোহল রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, ১৬% উচ্চ রক্তচাপের কারণ হল মদ বা অ্যালকোহল পান করা। অ্যালকোহল শুধু রক্তচাপের কারণ নয়, এটি ডিপ্রেশনের মতো ভয়াবহ রোগেরও কারণ হতে পারে।

চা-কফি খাওয়া কমিয়ে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন

সকালে ঘুম থেকে উঠে চা বা কফি খায়না এরকম খুব কম মানুষই হয়ত আছে। প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় চা বা কফি আমাদের সবারই থাকে। তবে আমরা হয়ত অনেকেই জানিনা এই চা বা কফি আমাদের উচ্চ রক্তচাপের কারণ হতে পারে।

ক্যাফেইন আমাদের শরীরকে খুব ঝটপট চাঙ্গা করে দেয়। তাই কখন যদি আমাদের ব্লাড প্রেসার কমে যায় বা কোন কারণে দুর্বল বোধ করি, তখন কফি খেলে শরীরের দুর্বল ভাব খুব তাড়াতাড়ি কেটে যায় এবং শরীরকে চাঙ্গা করে দেয়।

এছাড়াও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় ম্যাগনেসিয়াম যুক্ত খাবার রাখতে হবে। যেমন- সবুজ শাক-সবজি, মিষ্টি আলু, টমেটো, কলা ইত্যাদি। তবে যাদের কিডনিতে সমস্যা আছে তাদের ম্যাগনেসিয়াম বেশি খাওয়া ক্ষতিকর হতে পারে। তাই অবশ্যই যেকোনো নতুন ডায়েট শুরু করার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

তথ্যসূত্র: মেডিক্যাল নিউজ টুডে

অনলাইনপ্র্রেস/আরএস/এনজ

শরীরচর্চার যত স্বাস্থ্য উপকারিতা

শরীরচর্চার উপকারিতা

শরীরচর্চার উপকারিতা

রিয়া সরকারঃ শরীরচর্চাকে সব রোগের সমাধান বলা যেতে পারে। শুধু শারীরিক সমস্যা নয় মানসিক ভাবেও নিজেকে সুন্দর ও সুস্থ রাখতে শরীরচর্চা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

অনেকে ভাবেন শুধু জিমে গিয়েই তা সম্ভব, কিন্তু তা একেবারেই  সত্যি নয়। ঘরে বসেও আপনি শরীরচর্চা করতে পারেন বিভিন্ন ভাবে। যেমন সাতার কাঁটা, হাঁটা, দৌড়ানো, নাচ এগুলো সবই শরীরচর্চার একেকটা ধরন।

তাহলে জেনে নিই শরীরচর্চা করে আমরা কিভাবে সুস্থ থাকতে পারি।

শরীরচর্চা আপনাকে প্রাণোচ্ছল রাখে

শরীরচর্চা করে আপনি নিজেকে ডিপ্রেশন থেকে মুক্ত রাখতে পারেন এবং নানা ধরনের দুচিন্তা থেকে বিরত রাখতে পারেন। ৩০-৪৫ মিনিট শরীরচর্চা করলে আপনার শরীর ভালো থাকার সাথে সাথে মানসিক ভাবেও আপনি ভালো থাকবেন। এর ফলে বয়স বাড়ার সাথে সাথে সৃষ্ট ডাইমেনসিয়া জনিত রোগের হাত থেকেও আপনি নিজেকে সুস্থ রাখতে পারবেন। তাই এর অভ্যাস গড়ে তোলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

শরীরচর্চা আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করে

গবেষণায় দেখা গেছে, আলস্য হচ্ছে ওজন বাড়ার প্রথম ও প্রধান কারণ। আমরা অনেকেই শরীরচর্চা নিয়ে খুব উদাসীন। আজ করবো কাল করবো করে আর হয়ত করে ওঠা হয়না।

শরীরচর্চার ফলে আপনি খুব দ্রুত আপনার বাড়তি ওজন কমাতে পারেন। ওজন কমানোর জন্য যেমন ডায়েটও দরকার, তেমনি নিয়ম করে শরীরচর্চাও প্রয়োজন। ওজন বৃদ্ধি পেলে যেমন নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয় তেমনি মানসিক সমস্যাও শুরু হতে থাকে। নিয়ম করে শরীরচর্চা করলে এসব থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে পারবেন।

হাড়ের সুরক্ষায় শরীরচর্চার প্রয়োজনীয়তা

হাড়ের শক্তি বৃদ্ধিতে শরীরচর্চার প্রয়োজনীয়তা অতুলনীয়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাড়ের শক্তি কমতে থাকে এবং নানা ধরনের সমস্যা শুরু হতে থাকে। তাই প্রতিদিন শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তুললে এই সমস্যা সমাধান করা যেতে পারে। এমনকি অষ্টিওপ্ররোসিসের মতো সমস্যাও সমাধান করা যেতে পারে।

আমাদের ব্যস্ত জীবনযাত্রার মধ্যেও কিছুটা সময় বের করে নিজের শরীরের যত্ন নেওয়া খুবই প্রয়োজন।

হার্ট ভালো রাখতে শরীরচর্চা

আমাদের দেশে প্রচুর মানুষ হার্টের সমস্যায় ভোগেন। এর কারণ হতে পারে অসচেতন জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস ইত্যাদি। তবে শুধু ৩০-৪০মিনিট শরীরচর্চার ফলে এই সমস্যার সমাধান হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা সবসময় বলে থাকেন হার্টের রোগ যাদের আছে তাদের রোজ শরীরচর্চা করতে হবে। এটিকে আপনার প্রতিদিনের রুটিনের মধ্যে অবশ্যই রাখতে হবে। তাহলেই আপনি সুস্থ থাকতে পারবেন।

শরীরচর্চায় ত্বকের যত্ন

শরীরচর্চা বা ব্যায়াম শুধু আপনার শরীরকেই ভালো রাখে না আপনার ত্বককেও ভালো রাখতে সাহায্য করে। আমরা হয়ত অনেকেই জানিনা যে শরীরের ভেতরের নানা জটিলতার কারণে আমাদের ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়।

যেমন অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার ফলে মুখে ব্রণের সমস্যা হতে পারে। আর শরীরচর্চার ফলে আমরা আমাদের প্রতিদিনের অতিরিক্ত দুশ্চিন্তাকে কমাতে পারি। ফলে আমাদের ত্বকেরও সমস্যা সমাধান হবে। এছাড়াও, শরীরচর্চার ফলে আমাদের রক্তসঞ্চালন ভালো হয় এবং এর থেকে বার্ধক্য জনিত ত্বকের সমস্যা অনেকাংশে কমে যায়।

ঘুমাতে সাহায্য করে

শরীরচর্চা আপনাকে সারাদিনের ব্যস্ততার পর ভালো করে ঘুমাতে সাহায্য করবে। এছাড়াও যাদের রাতে ঘুম হয়না তাদের জন্যও দারুণভাবে কাজ করে। ব্যায়াম করার ফলে আমাদের শরীর ক্লান্ত হয় যার ফলে খুব তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পরতে পারি। আর ঘুম ভালো হলে আপনার শরীরের বিভিন্ন সমস্যাও দূর হবে। তাই যারা এখনও শরীরচর্চা নিয়ে উদাসীন তারা এই অভ্যাস গড়ে তুলুন।

শরীরচর্চার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে যতই বলা হোক না কেন তা কম বলা হবে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমরা নানা ধরনের মানসিক এবং শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকি এবং বুঝতে পারিনা যে কি করলে এই সমস্যা গুলোর সমাধান মিলবে। যদি প্রতিদিন নিয়ম করে আমরা শরীরচর্চা করতে পারি তাহলে এইসব সমস্যা থেকে খুব সহজেই বেরিয়ে আসতে পারব। তাই যেকোনো বয়সের মানুষেরই শরীরচর্চা করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

 

তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন

অনলাইনপ্রেস২৪/আরএস/এনজে

ডাবের পানির উপকারিতা, পুষ্টিগুণ ও ব্যবহার

ডাবের পানির উপকারিতা

ডাবের পানির উপকারিতা, পুষ্টিগুণ ও ব্যবহার

জাকারিয়া: গ্রীষ্মের প্রচন্ড দাবদাহে যখন মানুষের শরির ক্লান্ত হয়ে যায় তখন ডাবের পানি সব ক্লান্তিকে নিমিষেই দূর করে দেয়। ডাবে রয়েছে অনেক উপকারিতা।

ডাবের পানি খেতে মিষ্টি ও পুষ্টিগুনে অনন্য। ছোট থেকে বৃদ্ধ সবাই ডাব, ডাবের পানি, নারকেল খেতে পছন্দ করে। ডক্তাররা পানিশূন্যতা পূরণের জন্য ডাবের পানি খেতে বলেন।

ডাব দিনদিন বহুমুখি খাবারে পরিনত হয়ে যাচ্ছে। শুধু খাবার জন্য নয়, রুপচর্চা বা বিভিন্ন প্রসাধনী তৈরিতে ডাব ব্যবহার হয়ে থাকে। ডাবে নারিকেলের তুলোনায় বেশি পানি থাকে এবং ভেতরে নরম জেলের মত অপুষ্ট নারকেল থাকে।

ডাবের পুষ্টিগুন

একটি ডাবে পানি থাকে ৯৫% তাছাড়াও রয়েছে নাইট্রোজেন, ফসফরিক এসিড, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড, আয়রন, শর্করা, সোডিয়াম, কপার, ফাইবার এবং সেলেনিয়াম।

ডিহাইড্রেশন বা পানি স্বল্পতা পূরণে ডাবের পানি উপকারী

ডাব বা নারকেল দুটোর পানি খুবই স্বাস্থ্য বর্ধক। ডাবের পানি ইলেক্ট্রলাইটের অন্যতম উৎস। ইলেক্ট্রলাইট শরীরকে সঠিক ভাবে হাইড্রেটেড রাখার জন্য অত্যন্ত উপকারী। শরীর হাইড্রেড থাকলে পেশী ও স্নায়ুগুলো যথাযথ ভাবে কাজ করতে পারে।

এজন্য টিভেতে যেসকল কোমল পানিয় বা এনার্জি ড্রিংকের এড দেখি তা না খেয়ে ডাবের পানি খেলে অনেক বেশি উপকার হবে। যারা নিয়মিত ব্যায়ামে করেন তারা ব্যায়ামের পরে ডাবের পানি খেতে পারেন।

হার্টের জন্য ডাবের পানির উপকারিতা

ম্যাটাবোলিক সিনড্রম হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। ডাবের পানিতে এধরনের সিনড্রম কমানোর দারুণ ক্ষমতা রয়েছে। ম্যাটাবোলিক সিনড্রমকে চিহ্নিত করা হয় উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে শর্করা, ট্রাইগ্লিসারাইড এবং এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টোরেলের মাত্রা দিয়ে। তাছাড়া এইচডিএল বা ভালো কলেস্টোরেল কমে যায় ও পেটে ফ্যাট বেড়ে যায়।

গবেষণায় দেখা গেছে ডাবের পানি খেলে তা রক্ত চাপ, রক্তে শর্করা, ট্রাইগ্লিসারাইড ও ইনসুলিনের মাত্রা উন্নত করে। ডাবের পানিতে পরিমিত মানে এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় হৃদরোগের জন্য ডাব খুবই উপকারী।

ডায়বেটিসের জন্য ডাবের পানি কার্যত উপকারী

গবেষকদের মতে ডাবের পানি রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে পারে। যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের অন্যান্য শারিরিক সমস্যা দূর করতেও ডাবের পানি কার্যকরী। এটি ম্যাগনেসিয়ামের ভালো উৎস যা ইনসুলিনের সংবেদনশীলতাকে বাড়িয়ে তোলে। এতে থাকা ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে গতিশীল রাখে। ফাইবার যুক্ত খাবার ডায়াবেটিস রোগিদের জন্য খুবি উপকারী।

কিডনিতে পাথর প্রতিরোধে সহায়ক ডাবের পানি

কিডনিতে যাতে পাথর না হয় এজন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা জরুরি। নরমাল পানিই এরজন্য যথেষ্ট তবে কিছু গবেষকদের মতে ডাবের পানি পাথর না হওয়ার জন্য আরো ভালো কাজ করে।

ক্যালসিয়াম, অক্সালেট এবং অন্যান্য যৌগগুলি মিশে প্রসাবের আস্তর তৈরি করে। এগুলোই পরে পাথর তৈরি করে। ডাবের পানি কিডনি ও মূত্রনালির অন্যান্য অংশগুলিতে এমন আস্তর হওয়া আটকাতে পারে। ডাবের পানি প্রসাবে র‌্যাডিকেল উৎপাদন করতেও বাধা সৃষ্টি করে থাকে।

রক্তচাপ কমাতে ডাবের পানির উপকারিতা

ডাবের পানি রক্তচাপ কমানোর জন্য দূর্দান্ত হয়ে থাকে। ডাবের পানিতে পর্যাপ্ত পরিমানে পটাসিয়াম আছে, পটাসিয়াম রক্তচাপ কমাতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। ডাবের পানিতে আছে এন্টি-থ্রম্বোটিক ক্রিয়াকালাপ যা রক্তের জমাট বাঁধা প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে।

পুষ্টির প্রয়জনীয়তা পূরণ করতে পারে ডাবের পানি

ডাবের পানি কার্বোহাইড্রেড এবং সম্পূর্ণ চর্বিমুক্ত হয়ে থাকে, ক্যালোরির পরিমাণও খুবি কম। এছাড়াও এতে এসকরবিক এসিড, ভিটামিন-বি ও প্রোটিনের পরিমাণ বেশি। এজন্য ডাবের পানি আপনার প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে পারে।

এন্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাদ্য সরবরাহ করে

ডাবের ভেতরে থাকা জেলির মতো নরম মাংস অক্সিডেটিভ টিস্যু গুলিকে ক্ষতি হওয়া থেকে রক্ষা করে। ডাবের এ অংশটি স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রোটিন, বিভিন্ন ভিটামিন এবং খনিজের অন্যতম উৎস। এটি খেতেও সুস্বাদু, এজন্য আমরা ডাবের ভেতরের এ অংশটুকুও তৃপ্তি নিয়ে খেয়ে থাকি।

সৌন্দয্য বৃদ্ধি ও ত্বকের যত্ন নিতে ডাবের পানি উপকারী

ডাব নারিকেলে পরিনত হওয়ার পরে এর থেকে স্বাস্থ্যকর নারিকেল তেল তৈরি করা হয়ে থাকে। নারিকেলের তেল সমগ্র পৃথিবী জুরেই চুলের যত্ন নিতে ব্যবহার করা হয়। এর তেল মানুষের ত্বক, মাথার ত্বক ও চুলের যত্নে ময়শ্চরাইজার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ডাবের ভেতরের পাতল অংশ একটু থেতলে নিলে তা প্রাকৃতিক সানস্  ক্রিম হিসেবে ব্যবহার করা যায়। প্রাচীনকালথেকেই নারিকেলের তেল খাওয়া, ওষুধ তৈরি ও রুপচর্চায় ব্যবহার হয়ে আসছে।

নারিকেলের ১০টি স্বাস্থ্য উপকারিতা

  • ১. নারিকেল এন্টিব্যাক্টেরিয়াল, এন্টি-ভাইরাল, এন্টি-ফাঙ্গাল এবং পরজীবি মুক্ত। যার জন্য নারিকেল আপনার ইমিউন সিস্টেমকে স্বাস্থ্যকর করে তোলে।
  • ২. নারিকেল দ্রুত শক্তি সরবরাহের প্রাকৃতিক উৎস। যা আপনার শরির এবং এথলেটিক কর্মক্ষমতাকে বাড়ায়।
  • ৩. নারিকেলে থাকা পুষ্টি, ভিটামিন এবং খনিজ হজম ক্ষমতাকে বাড়ায়।
  • ৪. ইনসুলিন এবং ডায়াবেটিসের সাথে সর্ম্পকিত লক্ষণগুলি উন্নত করে।
  • ৫. ফ্রিরেডিক্যাল অপসারনের মাধ্যমে দেহকে ক্যান্সারের হাত থেকে রক্ষা করে সাহায্য করে।
  • ৬. হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় এবং ভালো কোলেস্টোরেলের(এইচডিএল) মাত্রা  বাড়িয়ে দেয়।
  • ৭. থাইরয়েড ফাংশন পুনরুদ্ধার ও সমর্থনে সাহায্য করে।
  • ৮. কিডনিরোগ এবং মুত্রাশয়ের অসুখ থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে।
  • ৯. ওজন কমাতে সাহায্য করে।
  • ১০. রুপচর্চায় উপকারি ভূমিকা রাখে নারিকেল।

 

তথ্যসূত্র: হেলথলাইন.কম ও সানওয়ারিওর

প্রেস/জেএ/এনজে

আদার উপকারিতা, পুষ্টিগুন এবং ব্যবহার

আদার উপকারিতা

আদার উপকারিতা, পুষ্টিগুন এবং ব্যবহার

আদা প্রাচীন কাল থেকেই রান্নার মসলা ও বিভিন্ন ওষুধি কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আদার উপকারিতা ও এর পুষ্টিগুন অনেক। পৃথিবীতে স্বাস্থ্যকর যতগুলো মসলা আছে আদা তার মধ্যে অন্যতম একটি।

তবে আমাদের অনেকের মধ্যে সঠিক ধারণাই নেই সহজলভ্য এই রসনা উপাদানের ভেষজ গুণাগুণের ব্যাপারে। তাই আসুন জেনে নেই আদার উপকারিতা, পুষ্টিগুন এবং ব্যবহার সর্ম্পকে।

প্রতি ১০০ গ্রাম আদায় বিদ্যমান পুষ্টি উপাদান

  • এনার্জি- ৮০ক্যালোরি
  • কার্বোহাইড্রেড- ১৭গ্রাম
  • ফ্যাট- ০.৭৫গ্রাম
  • পটাসিয়াম- ৪১৫মিলিগ্রাম
  • ফসফরাস- ৩৪মিলিগ্রাম

সাধারণ ঠান্ডা-সর্দি-কাশি থেকে মুক্তি পেতে আদা উপকারী

আদা সাধারণ ঠান্ডা-সর্দি-কাশির চিকিৎসার প্রাকৃতিক উপাদান। তাজা আদা স্বাসযন্ত্রকে সুরক্ষা প্রদান করে থাকে। এ অবস্থায় প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে শুধু আদা বা হালকা গরম পানির সাথে আদা মিশিয়ে খেলে সর্দি-কাশি ভালো হয়ে যাবে।

ব্যাথা নিরাময়ে আদা উপকারী

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিদিন ২ গ্রাম কাঁচা আদা অথবা গরম পানির সাথে আদা মিশেয়ে খেলে শরিরের ব্যাথা কমে যায়। যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন তাদের পেশিতে হালকা ব্যাথা অনুভব হয়। তাই তারা নিয়মিত এভাবে আদা খেতে পারেন।

মহিলাদের পিরিওডের আগে বা পিরিওডের সময় ব্যাথা হয়। কুসুম গরম জলে আদা মিশিয়ে খেলে এজাতীয় ব্যাথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

শারীরের জ্বালা-যন্ত্রনা কমাতে আদার উপকারিতা

নিয়মিত আদা চিবিয়ে খেলে আরর্থারাইটস জনিত জ্বালা-যন্ত্রনা থেকে মু্ক্তি পাওয়া যায়। খাদ্য গবেষকদের মতে আদাতে থাকা ফাইটোকেমিক্যাল শারীরিক প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। এজন্য শুধু মসলা হিসেবে নয়, কাঁচা আদা খাওয়ারো অভ্যাস করা জরুরি।

বমিভাব দূর করতে উপকারী

আদা বমি বমি ভাব দূর করতে সহায়তা করতে পারে। কেমোথেরাপি করা শিশুদের উপর একটি গবেষনায় দেখা যায়, আদার রস অধিকাংশ শিশুর বমি ভাব দূর করতে সক্ষম হয়েছে।  ১৫০০ মিলিগ্রামের আদার ডোজ বমি ভাবকে দূর করতে সক্ষম। যাদের অল্পতেই বমি হয়ে থাকে তারা নিয়মিত আদা খেতে পারেন।

ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করে

আদা প্রোটিন বা অন্যান্য পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে না। তবে আদা এন্টিঅক্সিডেন্টের একটি দুর্দান্ত উৎস। এজন্য আদা রাসায়নিক বিক্রিয়ার চাপ কমাতে পারে।

ফ্রি রেডিক্যাল এক ধরনের বিষাক্ত পদার্থ, যার মাত্রা শরীরে বেড়ে গেলে রাসায়নিক বিক্রিয়ার চাপ হয়। যা ক্যান্সার সহ নানা ধরনের রোগের কারণ হয়ে থাকে। এন্টিঅক্সিডেন্ট ফ্রি রেডিক্যাল সমূকে ধ্বংস করতে পারে। এজন্য আদা কলোরেক্টাল ক্যান্সার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।

কোলেস্টোরেল হ্রাস করে

বেশি মাত্রার লাইপোপ্রোটিন (খারাপ কোলেস্টোরেল) হৃদরোগের ঝুঁকির সাথে যুক্ত। আমরা নিয়মিত যে খাবার খাই সেগুলো দেহে এলডিএল (খারাপ কোলেস্টোরেল) এর মাত্রা বৃদ্ধি করে। আদা এই ক্ষতিকর কোলেস্টোরেলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

ইনফেকশনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদার উপকারিতা

তাজা আদাতে জৈবিক পদার্থ আছে, যা সংক্রামণ হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। আদা বা আদার রস ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিকে বাধা দিতে পারে।

জিঙ্গিভাইটিস এবং পিরিয়ডোন্টাইটিস এমন ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে আদা খুবি কার্যকর। আরএসভি জাতীয় ভাইরাস যা শ্বাসতন্ত্রের সংক্রামিত রোগের কারণ হয়। তাজা আদা এ ধরনের ভাইরাসের বিরুদ্ধে উপকারি ভূমিকা রাখে।

আদা খাওয়ার পদ্ধতি

  • ১. গরম পানির সাথে আদা থেতলিয়ে মিশিয়ে খেতে পারেন।
  • ২. আদা পরিষ্কার করে ছুলে লেবুর রসের সাথে মিশিয়ে হজম হওয়ার জন্য খেতে পারেন।
  • ৩. আদা থেতলানো বা আদার রস চায়ের সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন। দুধ  বা রঙ যেকোনও চায়ের সাথেই আদা খাওয়া যায়।
  • ৪. আদা ঘন করে জাল ‍দিয়ে আদার সিরাপ করে খেতে পারেন।
  • ৫. এছাড়া আদার আচার তৈরি করে খাবারের সাথে নিয়মিত আদা খেতে পারেন।
  • ৬. অনেকেই ঘুম থেকে উঠার পর দুর্বলতা অনুভব করেন। এজন্য ঘুম থেকে উঠে অল্প আদা খেতে পারেন। নিয়মিত খাওয়ার পর এ দুর্বলতা ভাব কেটে যাবে।

অনলাইনপ্রেস/জেএ/এনজে

তথ্যসূত্র: হেলথলাইনমেডিক্যাল নিউজ টুডে

অনন্য এক ভেষজ কাঁচা হলুদের উপকারিতা

কাঁচা হলুদের উপকারিতা

কাঁচা হলুদের উপকারিতা

রিয়া সরকারঃ কাঁচা হলুদের উপকারিতা নিয়ে যত বলা হবে ততোই কম। বহু প্রাচীনকাল থেকেই কাঁচা হলুদ রান্নার সাথে সাথে ওষুধি হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে।

কাঁচা হলুদ আমাদের শরীরের নানান সমস্যা সমাধান করে থাকে। রান্না থেকে শুরু করে রূপচর্চায়  কাঁচা হলুদের ব্যবহার দেখা যায়। এতে রয়েছে এনটি-ফাঙ্গাল, এনটি- ব্যকটেরিয়াল, এনটি-অক্সিডেনট, এনটি-ইনফ্লামেটোরি, এনটি-কারসিনোজেনিক গুনাগুন।

জেনে নেওয়া যাক তাহলে কাঁচা হলুদের উপকারিতা সম্পর্কে।

কাঁচা হলুদ হজম শক্তি বৃদ্ধি করে

রান্নায় হলুদ ব্যবহার হয়ে থাকে সাধারণত এর রঙের জন্য, তাছাড়াও আরেকটি কারণ হলো হলুদ আমাদের হজমে সাহায্য করে। এর মধ্যে রয়েছে এনটি-অক্সিডেনট এবং এনটি- ইনফ্লামাটরি যা আমাদের হজম শক্তি বৃদ্ধি করে। এটি আয়ু্র্ভেদিক ওষুধ হিসেবেও ব্যবহার হয়ে থাকে।

কাঁচা হলুদ পেটের সমস্যা দূর করে

অনেক সময়ই আমরা পেটের সমস্যায় ভুগি। অনেক কারণ থেকেই তা হয়ে থাকে। কখনো কখনো হজম না হলেও পেটে ব্যাথা হতে পারে। কাঁচা হলুদ সেই সব সমস্যা নিরাময় করতে দারুন কাজ করে। পেটের সমস্যা দূর করতে কাঁচা হলুদ খুবই উপকারী।

হাড়ের ব্যথা দূর করে

বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাড়ের নানান ধরনের সমস্যা শুরু হতে থাকে। এনটি-ইনফ্লামাটরি হাড়ের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। কাঁচা হলুদ খাওয়ার ফলে আমাদের হাড়ের অনেক সমস্যা যেমন- আরথ্রাইটিস, ওসট্রিও-আরথ্রাইটিস এর মতো নানা জটিলতা নিরাময় হয়।

ত্বকের যত্নে কাঁচা হলুদের ব্যবহার

অনেক আগে থেকেই কাঁচা হলুদ ত্বকের সমস্যা সমাধানের জন্য ব্যবহার হয়ে আসছে। হলুদে রয়েছে এনটি- অক্সিডেনট যা আমাদের ত্বককে বিভিন্ন সমস্যার হাত থেকে রক্ষা করে। রোদে পুড়ে আমাদের ত্বকে কালচে ভাব হয়ে যায়, কাঁচা হলুদ ব্যবহার করলে সেই সমস্যা কমে যাবে। ত্বককে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে কাঁচা হলুদ। এমনকি কাঁচা হলুদ ব্যবহার করে ব্রণের সমস্যাও দূর করা যায়। তাহলে এখন থেকে ব্রণের সমস্যা হলে বাইরের পণ্য না কিনে আপনার রান্না ঘরেই সমাধান খুঁজে নেয়ার চেষ্টা করুন।

ডায়াবেটিকস কমাতে সাহায্য করে

যারা ডায়াবেটিস এর সমস্যায় ভুগে থাকেন তারা অনেকেই ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি কিছু ঘরোয়া সমাধানও খুঁজে থাকেন এর জন্য। তাদের জন্য কাঁচা হলুদ খুবই উপকারি। কাঁচা হলুদ ইনসুলিন লেভেল কে কন্ট্রোলে রাখে। তাই ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি যদি প্রতিদিন কাঁচা হলুদ খাওয়া যায় তাহলে কিন্তু সমস্যা অনেকাংশেই কমে যাবে। ডায়েবেটিসকে সব রোগের জনক বলা হয়। তাই এই রোগকে কন্ট্রোলে রাখা খুবই জরুরি। কিছু কিছু নিয়ম মেনে চললেই আমাদের ডায়েবেটিকস কন্ট্রোলে থাকবে।

লিভার ভালো রাখে

কাঁচা হলুদে রয়েছে এনটি-অক্সিডেনট যা আপনার লিভারকে যেকোনো খারাপ কিছু থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে। তাই যাদের কাঁচা হলুদ খাওয়ার অভ্যাস নেই তারা চট জলদি এই অভ্যাস গড়ে তুলুন।

এছাড়াও কাঁচা হলুদ প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সার, প্রসটেট ক্যান্সারের মতো কঠিন রোগের হাত থেকেও আমাদের বাঁচিয়ে থাকে।

কাঁচা হলুদের অপকারিতা

কাঁচা হলুদের আবার অনেক সাইড এফেক্ট ও রয়েছে। যেগুলো জেনে নেওয়া খুবই জরুরি। গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত হলুদ খাওয়ার ফলে আবার পেটের অনেক সমস্যা হয়ে থাকে। তাই অবশ্যই পরিমান মতো খেতে হবে।

কাঁচা হলুদ আমাদের রক্তের কোলেসটরাল কমায় এবং রক্ত পাতলা করে। তাই যারা রক্ত পাতলার ওষুধ খেয়ে থাকেন তারা অবশ্যই খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন।

তথ্যসুত্র: মেডিক্যাল নিউজ টুডেএনডিটিভি

অনলাইনপ্রেস/আরএস/এনজে