আশ্চর্য এক প্রাকৃতিক ওষুধ রসুনের উপকারিতা ও পুষ্টিগুন

রসুনের উপকারিতা

রসুনের উপকারিতা ও পুষ্টিগুন

জাকারিয়াঃ রান্নায় স্বাদ বাড়ানোর জন্য রসুন ব্যবহার হয়। তবে রসুনের রয়েছে অনেক উপকারিতা ও পুষ্টিগুন। এর পুষ্টিগুনের জন্য প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন রোগের পথ্য হিসেবে রসুনের ব্যাপক ব্যবহার ছিলো।

পশ্চিমা ওষুধের জনক প্রাচীন গ্রীক ‍চিকিৎসক হিপোক্রেটিস, তিনি  বেশিরভাগ চিকিৎসার জন্য রসুনের কথা বলেছেন। এতে বোঝা যায় প্রাচীনকাল থেকেই মানুষের চিকিৎসার জন্য রসুন ব্যবহার হয়ে আসছে। রান্না করা কিংবা কাঁচা সবসময়ই রসুনের পুষ্টিগুন অটুট থাকে। এতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে প্রাকৃতিক এন্টিবায়োটিক রয়েছে।

রসুনের পুষ্টিগুন

রসুনে প্রচুর ক্যালসিয়াম, আমিষ ও অল্প পরিমানে ভিটামিন-সি রয়েছে। এছাড়াও আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ফসফরাস, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, দস্তা, সেলেনিয়াম, ফোলেট, ভিটামিন-বি৬, প্রোটিন এবং চিনি রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে।

হৃদপিন্ডের যত্নে রসুনের উপকারিতা

খাবারের সাথে নিয়মিত রসুন খেলে উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টোরেল হ্রাস পায়। রসুনের ‍নির্যাস হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও কার্ডিয়াক ইভেন্টগুলোর জন্য ভালো।

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যাদের উচ্চ কোলেস্টোরেল রয়েছে, রসুন তাদের মোট কোলেস্টোরেল ও এলডিএল কমাতে সহায়তা করে। এজন্য কাঁচা  অথবা রান্না করা খাবারের সাথে নিয়মিত রসুন খান।

সাধারণ সর্দি-কাশি নিরাময়ে রসুন উপকারী

রসুনের প্রফিল্যাক্টিকের কারনে মানুষের সর্দি-কাশির প্রবনতা হ্রাস পায়। সাধারণ সর্দি-কাশি হলে আদার সাথে কাঁচা রসুন খেলে উপকার পাওয়া যায়।

অনেক চিকিৎসকের মতে কাঁচা রসুনের সর্বাধিক উপকারিতা, আবার অনেকে বলেন কাঁচা বা রান্না উভয় ক্ষেত্রেই এর গুণ সমান। একটি গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত রসুন খেলে ঠান্ডা-কাশি হওয়ার চান্স ৩% পর্যন্ত কমে যায়।

ব্লাড প্রেসারের জন্য উপকারী

রসুন শরীরের রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। নিয়মিত রসুন খেলে আপনার রক্তচাপ ১০% পর্যন্ত কমে আসতে পারে। রসুন রক্তের এন্টিঅক্সিডেন্টকে শক্তিশালি করে। তাই ব্লাডপ্রেসারের রোগীরা নিয়মিত রসুন খেয়ে নিজের ব্লাডপ্রেসারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন।

কোলেস্টোরেল নিয়ন্ত্রনে সহায়ক রসুন

রসুন আপনার কোলেস্টোরেলকে কমিয়ে হৃদরোগের মতো দুরারোগ্য ব্যাধির ঝুঁকি হ্রাস করতে পারে। একদল গবেষক গবেষণায় দেখেছেন, ‍নিয়মিত রসুন খেলে পাঁচ মাসের মধ্যে রক্তে খারাপ কোলেস্টোরেল কমে যায়।

অন্য আর সব প্রাকৃতিক ওষুধের মতো কিছুটা সময় বেশি নিলেও এর কার্যকারিতা ‍দীর্ঘস্থায়ী। এজন্য কোলেস্টোরেল নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে আজীবন রসুন খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

হাড়কে মজবুত করে তুলতে রসুন উপকারী

রসুন মহিলাদের মধ্যে এসট্রোজেন বাড়িয়ে তোলে যা হাড়ের ক্ষয় রোধে সহায়ক। নিয়মিত রসুন খেলে অস্টিও আর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি কমে যায়। মেয়েদের পিরিয়ড যখন একেবারেই শেষ হয়ে যাবে অর্থাৎ মেনপোজ এর সময় রসুন হাড়ের জন্য খুবই উপকারী। এজন্য নিয়মিত রসুন খাবার তালিকায় রাখতে হবে। রান্না খাওয়ার পাশাপাশি কাঁচা রসুনো খেতে হবে।

মস্তিষ্কের জন্য উপকারী

বয়স বাড়ার সাথে সাথে ফ্রির‌্যাডিক্যাল ক্ষয়জনিত সমস্যা দেখা দেয় যা দূর করতে সাহায্য করে রসুন। রসুনে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে এন্টিঅক্সিডেন্ট। যা মস্তিষ্ককে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে, ফলে বয়স গেলেও মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বজায় তাকে।

নিয়মিত রসুন খেলে মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিক থাকে। যার ফলে ডিমেনশিয়া ও আলঝাইমার মতো মস্তিষ্কের ব্যাধির ঝুঁকি কমে যায়।

ত্বকের যত্ন নিতে রসুনের উপকারিতা

ত্বকের যত্ন নিতে রসুন উপকারী ভূমিকা পালন করে। রসুনে একাধারে রয়েছে এন্টিঅক্সিডেন্ট, এন্টিফাঙ্গাল এবং এন্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান। মুখে ব্রণ হয় ব্যাকটেরিয়ার জন্য। এজন্য যদি ব্রণ হয় তাহলে ব্রণে কাঁচা রসুন ঘষুন।

রসুনের এন্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে সুরক্ষা প্রদান করে থাকে। রসুন ত্বকের এন্টিএজিং এর কাজ করে থাকে। তবে যদি সেনসেটিভ ত্বক হয়ে থাকে তবে ত্বকে রসুন বেশি ব্যবহার করবেন না।

খেলোয়ড়দের জন্য রসুন উপকারী

রসুন কর্মক্ষমতা বাড়ানো এবং ক্লান্তি দূর করার জন্য প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবহার হয়ে আসছে। গ্রীসের অলিম্পিক ক্রীড়াবিদরা তাদের খেলার সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য রসুন ব্যবহার করতো। এখন বর্তমান সময়ের ক্রীড়াবিদরাও ব্যয়ামের ক্লান্তি দূর করতে রসুন খেয়ে থাকেন। এজন্য নিজেকে ফিট রাখতে নিয়মিত রসুন খান।

ক্যান্সার রোধে উপকারী ভূমিকা রাখে

নিয়মিত রসুন খেলে ফুসফুসের ক্যান্সার, ব্রেইন ক্যান্সার ও প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে যায়। যারা ধুমপান করেন তাদের ফুসফুসে ক্যান্সার হওয়ার চান্স অনেকা। চিনা গবেষকদের মতে যারা ‍নিয়মিত কাঁচা রসুন খায় তাদের ফুসফুসের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি চল্লিশ শতাংশ কমে আসে। রসুনে থাকা আর্গানো সালফার ব্রেইন টিউমারের কোষ ধ্বংসে সাহায্য করে।

যৌনশক্তি বৃদ্ধিতে রসুনের উপকারিতা

সাধারনত পুরুষদের মধ্যে অনেক ধরনের যৌন সমস্যা থেকে থাকে। অনেকের ক্ষেত্রে যা খুবই বড় আকারের সমস্যা হয়ে দাড়ায়। প্রতিদিন ২/৩ কোয়া কাঁচা রসুন খেলে যৌন সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। রসুনা থাকা এলিসিন নামক উপাদান পুরুষের যৌনশক্তি বৃদ্ধিতে জাদুকরি ভূমিকা পালন করে।

দ্রুত বীর্য পতন রোধ ও পাতলা বীর্য ঘন করতে রসুনের তুলোনা হয় না। তাই নিজের যৌন সমস্যা দূর করতে নিয়মিত রসুন খেতে পারেন।

তথ্যসূত্র: হেলথলাইনমেডিক্যাল নিউজ টুডে

অনলাইনপ্রেস/জেএ/এনজে

টক দইয়ের উপকারিতা সম্পর্কে জানেন কি?

টক দই এর উপকারিতা

টক দইয়ের উপকারিতা

রিয়া সরকারঃ প্রাচীনকাল থেকেই টক দই খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। টক দই কমবেশি আমরা সবাই খেয়ে থাকি। যদিও খাওয়া ছাড়াও টক দই নানা ভাবে খাওয়ায় ব্যবহার হয়। টক দই দিয়ে বিভিন্ন রকম ডেসার্ট বানানো যায় যা বাড়ির বাচ্চারা খেতে খুব ভালোবাসে। তবে টক দই এর পুষ্টিগুণ বা উপকারিতা সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানিনা।

টক দইয়ে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এবং মিনারেল যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। এছাড়াও টক দইয়ের রয়েছে নানা ধরনের অজানা উপকারিতা।

হজম শক্তি বৃদ্ধিতে টক দই উপকারী

কখনো কখনো আমাদের খাওয়া বেশি হয়ে যায়, খাওয়ার পর অসস্তি হতে থাকে। আবার কোন অনুষ্ঠানে আমরা অনেক বেশি খেয়ে ফেলি যার ফলে আমাদের হজম ঠিক করে হয়না এবং নানান সমস্যা হতে থাকে। যেমন পেট ব্যথা, বুকে চাপ ধরে থাকা ইত্যাদি। এইসব সমস্যা সমাধান করা যায় টক দই খেলে। খাওয়ার পর একটু টক দই খেলে এই সব সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে।

ব্লাড প্রেসার কন্ট্রোল করে টক দই

যাদের ব্লাড প্রেসার আছে তাদের অনেক নিয়ম মেনে চলতে হয়। নানান ধরনের ওষুধও খেতে হয় প্রেসার কন্ট্রোলে রাখতে। কিন্তু আমরা হয়ত অনেকেই জানিনা টক দইয়ে রয়েছে মিনারেলস যা কোলেসটোরাল করায় এবং ব্লাড প্রেসারকে কন্ট্রোলে রাখে।

হাড়ের শক্তি বাড়ায়

আমরা অনেকেই অনেক ছোট থেকে খুব পরিশ্রমের কাজ করে থাকি এবং সেই তুলনায় পর্যাপ্ত খাওয়াও হয়না। যার ফলে বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাড়ের শক্তি কমতে থাকে এবং শুরু হয় নানান সমস্যা। কোমরে ব্যথা, হাঁটুতে ব্যথা, এগুলো যেন লেগেই থাকে। যদি আমরা প্রতিদিন টক দই খেতে পারি তাহলে এইসব সমস্যা থেকে রেহাই পেতে পারি। দইয়ের মধ্যে রয়েছে ক্যালসিয়াম যা আমাদের হাড়ের শক্তি বৃদ্ধি করে।

দুশ্চিন্তা কমাতে সাহায্য করে

কাজের চাপেই হোক অথবা ব্যক্তিগত জীবনেই হোক আমরা প্রত্যেকেই কিছু না কিছু নিয়ে দুশ্চিন্তা করি। আজকাল এর যেন কোন কমতি নেই। মানুষের জীবন যত বেশি যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছে দুশ্চিন্তা যেন ততোই বাড়ছে। আমরা ভেবে পাইনা কি করলে আমরা চিন্তা মুক্ত থাকতে পারব। কিন্তু আমরা জানিনা নিজেকে চিন্তা মুক্ত রাখার ওষুধ আমাদের ঘরেই রয়েছে। টক দই আমাদের দেহের কর্টিসল উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে রাখে যা আমাদের শরীরের স্ট্রেস হরমোন দূর করে এবং সুস্থ রাখে।

ত্বকের জন্য টক দইয়ের উপকারিতা

টক দই আমাদের ত্বকের নানা সমস্যার দূর করে থাকে। টক দইয়ে রয়েছে জিঙ্ক এবং ভিটামিন ই যা আমাদের ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। যেকোনো ধরনের ইনফেকশন দূর করতে টক দই দারুণ ভাবে কাজ করে। রুক্ষ ত্বকের জন্য টক দই খুবই উপকারী। টক দই রোদে পোরা দাগ দূর করে এবং ত্বককে মসৃণ করে।

ওজন কমাতে টক দইয়ের উপকারিতা

শুরুতেই বলেছিলাম টক দইয়ের উপকারিতা সম্পর্কে আমরা অনেকেই অনেক কিছু জানিনা, তেমনি একটি তথ্য হল টক দই আমাদের ওজন কমাতে সাহায্য করে। আমরা ওজন কমাতে কত কিছু করে থাকি, অনেকে আবার খাওয়া বন্ধ করে দেন ওজন বাড়ার ভয়ে। প্রতিদিন টক দই খেলে আপনার ওজন ধীরে ধীরে কমে যাবে। এমনকি আপনি যদি কোন ডায়েট ফলো করতে থাকেন তার সাথেও টক দই খাওয়া যেতে পারে।

বাচ্চারা অনেক সময়ই দুধ খেতে চায়না যার ফলে পুষ্টির ঘাটতি দেখা দেয়। দুধের পরিবর্তে বাচ্চাদের টক দই খাওয়াতে পারি। তাতে পুষ্টির অভাব দূর হবে আর স্বাদও বদলাবে।

এছাড়াও টক দই আমাদের ইমিউনিটি বাড়াতে সাহায্য করে। যারা টক দইয়ের উপকারিতা সম্পর্কে জানতেন না এবং খাওয়া থেকে বিরত থাকতেন আজ থেকে টক দই খেতে শুরু করুন এবং শরীরের নানা সমস্যা দূর করুন।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

অনলাইনপ্রেস/আরএস/এনজে

ডিমের খাওয়ার উপকারিতা ও পুষ্টিগুন

ডিমের খাওয়ার উপকারিতা

ডিমের খাওয়ার উপকারিতা ও পুষ্টিগুন

আমরা সবাই ডিম খাই, কারন ভালো লাগে। কিন্তু ডিম খাওয়ার উপকারিতা বা এর পুষ্টিগুন কি তা সম্পর্কে আমাদের সঠিক ধারণা নেই। যাদের ওজন বেশি বা যারা হার্টের রোগী তারা অনেকেই ডিম খান না। কারন তারা ভাবেন যে ‍ডিম খেলে ওজন অতিরিক্ত বেড়ে যাবে, হার্ট অ্যাটাক হবে ইত্যাদি। তবে যে সকল ডায়াবেটিস রোগীদের হার্টের সমস্যা আছে তাদের নিয়মিত ডিম না খাওয়াই ভালো।

ডিমের পুষ্টিগুন

প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, পটাসিয়াম, ‍জিংক, কোলেস্টোরেল, সেলেনিয়াম, ফলেট, এনার্জি, ফ্যাট, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি, ভিটামিন-কে এবং ভিটামিন-ই।

ডিম মস্তিষ্কের জন্য উপকারী

রেগুলার ডিম খেলে স্মৃতিশক্তি বেড়ে যায়, মস্তিষ্ক সতেজ থাকে কারণ ‍ডিমে কোলিন থাকে প্রচুর। কোলিন ভিটামিন-বি পরিবারের অংশ আর ডিমে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন-বি থাকে। কিছু গবেষণা প্রমাণ করেছে যে, ডিম থেকে প্রাপ্ত কোলিন হৃদরোগ, স্মৃতিশক্তি হ্রাস ও ফ্যাটি লিভারের মত রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা রাখে।

চোখের যত্নে ডিমের উপকারিতা অনেক

বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের দৃষ্টিশক্তি কমতে থাকে। ডিমে থাকা পুষ্টি উপাদান চোখের দৃষ্টি অবক্ষয় জনিত সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। ডিমে থাকা ভিটামিন-এ এবং ওমেগা-৩ চোখের রেটিনাকে ক্ষতির হাত থেকে সুরক্ষা করে।

ডিমে প্রচুর এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা অন্যান্য চোখের রোগ ও জীবাণু থেকে চোখকে রক্ষা করে থাকে। গবেষকদের মতে উদ্ভিদে থাকা এন্টিঅক্সিডেন্ট খেকে ডিমের এন্টিঅক্সিডেন্ট মানুষের শরীরে বেশি প্রভাব ফেলে।

ওজন কমাতে ডিম উপাকারী

যারা অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভূগেন তারা ওজন কমাতে অনেক ধরনের পন্থা অবলম্বন করে থাকেন। বিভিন্ন ধরনের প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট নিয়ে থাকেন। যার কারণে শরীরে নানা ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়। ডিম প্রোটিনের প্রাকিৃতিক উৎস। নিয়মিত ডিম খেয়ে শরীরে ওজনের ভারসাম্য ঠিক রাখা যায় এবং এতে করে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় না।

ওমেগা-৩ এর উৎকৃষ্ট উৎস হচ্ছে ডিম

ওমেগা-৩ হচ্ছে আমাদের দেহের অতি প্রয়োজনীয় একটি চর্বির। যা মানুষের কোষ ঝিল্লিকে কাজ করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তৈলাক্ত মাছ ওমেগা-৩ এর প্রধান উৎস আর ডিমের মধ্যেও ঐ একই ধরনের ওমেগা-৩ পাওয়া যায়। হৃদপিন্ড, মস্তিষ্ক ও চোখের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ওমেগা-৩ খুবি গুরুত্বপূর্ণ।

ডিম কোলিনের অন্যতম সেরা উৎস

কোলিন পুষ্টি উপাদান সম্পর্কে আমাদের বেশির ভাগ মানুষের ধারনা নেই, কোলিন আমাদের স্বাস্থের জন্য অনেক উপকারী। কোষের স্বাভাবিক ক্রিয়াকালাপের জন্য কোলিন খুবি প্রয়োজন। গর্ভাবস্থায় শিশুর মস্তিষ্কের  বিকাশের জন্য কোলিন অতি প্রয়োজনীয় । যেহেতু ডিমে কোলিন থাকে তাই গর্ভাবস্থায় মায়েরা প্রতিদিন ডিম খেতে পারেন।

ভালো কোলেস্টোরেলের (এইচডিএল) মাত্রা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখে

ডিম উচ্চ ঘনত্বের লাইপোপ্রোটিন (এইচডিএল) বা ভালো কোলেস্টোরেলের মাত্রা বাড়াতে সহায়তা করে। এইচডিএল হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করতে সাহায্য করে। এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টোরেল কমাতে ডিম সহায়ক। তাই যারা ভাবেন যে ডিম খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়বে তাদের ধারনা ভূল। এজন্য সবাই নিয়মিত ডিম খেতে পারেন। তবে যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের জন্য ডিম হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

পেশি গঠনে ডিমের ভূমিকা অনেক

ডিম হলো প্রোটিনের দুর্দান্ত উৎস আর প্রোটিন শরীরের টিস্যু গঠনে ভূমিকা রাখে এবং শক্তি বজায় রাখতে সহায়তা করে। এজন্য হাড়কে শক্তিশালী ও মজবুত রাখতে নিয়মিত ডিম খেতে পারেন।

তথ্যসূত্র: অস্ট্রেলিয়ানএগস.কম এবং লিটলথিংকস.কম

অনলাইনপ্রেন/জেএ/এনজে

গ্রিন টি এর উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিন

গ্রিন টি এর উপকারিতা

গ্রিন টি এর উপকারিতা

রিয়া সরকারঃ গ্রিন টি’তে রয়েছে জানা অজানা হাজারো গুণের সমাহার, যা আমাদের জন্য খুবই স্বাস্থ্যকর। গুনাগুণ না জানার ফলে আমরা অনেকেই গ্রিন টি খাই না। অথচ দুধ চা বা রঙ চা এর তুলনায় গ্রিন টি এর উপকারিতা অনেক বেশি। চায়না এবং ইন্ডিয়াতে দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন টি ঔষধি হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে।

তাহলে জেনে নেওয়া যাক গ্রিন টির স্বাস্থ্যগত উপকারিতা।

ক্যন্সার নিরাময়ে গ্রিন টি

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউশন অফ ক্যন্সার এর মতে, গ্রিন টি ক্যন্সার নিরাময় করতে সাহায্য করে। চায়ের পলিফেনল গুলো আমাদের শরীরে টিউমারের বৃদ্ধি হ্রাস করে থাকে এবং ইউ ভি বি বিকিরনের ফলে যে ক্ষতি হয় তা থেকে রক্ষা করে।

হার্ট ভালো রাখতে গ্রিন টি

আমরা সকলেই নিজের শরীরকে ভালো রাখতে চাই। তবে আমাদের দেশে কম বেশি অনেকেই হার্ট এর সমস্যায় ভোগেন। অনেক ওষুধ খাওয়ার পরেও তা নিয়ন্ত্রনে থাকে না। যদি আমরা নিয়ম করে রোজ গ্রিন টি খেতে পারি তাহলে কিছুটা হলেও উপকার পাওয়া যাবে।

কোলেসটরেল কমাতে গ্রিন টি

বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে আমাদের শরীরে নানা ধরনের রোগের বাসা বাঁধতে শুরু করে। তবে কিছু কিছু ছোট ছোট জিনিস মেনে চললেই শরীরকে ভালো রাখা যায়। যেমন গ্রিন টি আমাদের শরীরের খারাপ কলেসটরাল দূর করতে সাহায্য করে। তাই রোজ নিয়ম করে গ্রিন টি খাওয়ার অভ্যাস করে ফেলুন।

গ্রিন টি স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়

গবেষণায় দেখা গেছে গ্রিন টি এবং কফি আমাদের স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। আমাদের দেশে প্রচুর মানুষ স্ট্রোকের কারণে মারা যায়। তাই যদি সাধারণ কিছু অভ্যাসের ফলে এর থেকে উপকার পাওয়া যায় তাহলে নিশ্চয়ই আমরা প্রত্যেকেই তা মেনে চলব।

ওজন কমাতে গ্রিন টি

ওজন যত তাড়াতাড়ি বাড়ে ততো তাড়াতাড়ি কিন্তু কমে না। আমরা অনেকেই এর জন্য প্রচুর কিছু করে থাকি। অনেক ডায়েট ফলো করে থাকি। তবুও ফল মেলে না। কিন্তু অনেকেই হয়ত জানিনা গ্রিন টি আমাদের ওজন কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন গ্রিন টি খেলে খুব দ্রুত আপনার ওজন কমতে শুরু করবে।

ত্বকের সমস্যা কমাতেও গ্রিন টির ব্যবহার

গ্রিন টি আমাদের ত্বকের নানা ধরনের সমস্যা সমাধান করে থাকে। রুক্ষ ত্বকের জন্য গ্রিন টি খুবই উপকারী। এছাড়াও এটি ত্বকের লালচে ভাব দূর করে। গ্রিন টি খুশকি দূর করতেও অসাধারণ কাজ করে থাকে।

স্মৃতিশক্তি বাড়াতে গ্রিন টি

প্রতিনিয়ত আমাদের কাজের চাপ বেড়েই চলেছে যার ফলে আমরা অনেকেই অনেক সময় অনেক কিছু ভুলে যাই। কাজের চাপে অনেক কিছু মনে রাখতে পারিনা। গ্রিন টি সেই সমস্যার সমাধান করে দিতে সাহায্য করে। গ্রিন টি খেলে কাজের চাপের মাঝেও আপনার মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ততা ফিরে আসবে এবং ধীরে ধীরে আপনার স্মৃতিশক্তিও বৃদ্ধি পাবে।

ঘুম ও গ্রিন টি

রাতে ঘুম হচ্ছে না? দুশ্চিন্তা, মাথা ব্যথা? সব কিছুর সমাধান একসাথে পেয়ে যাবেন। নানা নানা কারণে আমাদের অনেকেরই রাতে ঘুম হয়না। যদি এই সমস্যাতে আপনিও ভুগে থাকেন তাহলে রাতে খাওয়ার পর এক কাপ গ্রিন টি খেয়ে ফেলুন। দেখবেন কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনি স্বপ্নের রাজ্যে চলে যাবেন। গ্রিন টি আমাদের নার্ভ সিস্টেম কে সচল করে।

যেগুলো করা থেকে বিরত থাকবেন

* খালি পেটে গ্রিন টি খাওয়া যাবে না। খালি পেটে চা, কফি খেলে অ্যাসিডিটির সমস্যা হতে পারে।

* ভারি খাবারের পরিবর্তে গ্রিন টি খাবেন না।

নিজেকে সুন্দর ও সুস্থ রাখতে গ্রিন টি খুবই উপকারী। গ্রিন টি আপনাকে শুধু সুস্থই রাখে না বরং আপনার ত্বককেও সুন্দর রাখতে সাহায্য করে থাকে। তাই প্রতিদিন গ্রিন টি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন এবং সুস্থ ও সুন্দর থাকুন।

তথ্যসূত্র: টাইমসনাওনিউজ.কম।

অনলাইনপ্রেস/আরএস/এনজে

লেবুর উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানেন কি?

লেবুর উপকারিতা

লেবুর উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ

লেবু পছন্দ করে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। লেবুর উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না। রান্না করে বা রান্না ছাড়া সব ভাবেই লেবু খাওয়া যায়।

গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে যখন শরীর ক্লান্ত হয়ে যায় তখন এক গ্লাস লেবুর সরবত শরীরের সকল ক্লান্তিকে নিমিষেই দূর করে দেয়। খাবারের স্বাদ বাড়াতে লেবুর তুলনা হয় না।

শুধুই কি স্বাদের জন্যে লেবু খাই আমরা? যদি এ প্রশ্ন করি তাহলে বেশির ভাগ মানুষের উওর হবে ‘হ্যাঁ’। আমাদের মধ্যে লেবুর উপকারিতা সম্পর্কে তেমন বিশেষ কোন ধারনা নেই বললেই চলে। তাই আসুন জেনে নেই লেবুর উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে।

মাঝারি সাইজের একটি লেবু থেকে চল্লিশ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ভিটামিন-সি পাওয়া যায়, যা একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের দৈনিক ভিটামিন-সি এর চাহিদা পূরণ করতে পারে।

ভিটামিন-সি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয়। শরীরে কাটা বা ক্ষতস্থান তাড়াতাড়ি শুকাতে সাহায্য করে ভিটামিন-সি।

লেবুতে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড ক্যালসিয়ামের হওয়া হওয়া আটকে শরীরকে পাথুরি রোগ হতে সুরক্ষা প্রদান করে। এছাড়া লেবুর খোসার ভেতরে থাকা ফ্ল্যাভানয়েড শরীরের শিরা গুলিকে শক্তিশালী করে যার ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায়।

ওজন কমাতে লেবুর উপকারিতা

লেবু বা লেবুর রস খেলে ওজন কমে। লেবু শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমতে দেয় না। এছাড়া লেবুতে থাকা প্যাকটিন নামক ফাইবার ঘন ঘন ক্ষুধার ভাবকে কমিয়ে দেয়। কিন্তু এতে আপনার শরীরে অন্য কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়না। ক্ষুধা ভাব কমে যাওয়ায় আপনি অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকবেন। যার ফলে আপনার ওজন বৃদ্ধি পাবে না। এজন্য খাবারের সাথে কিংবা সরবত করে নিয়মিত লেবু খান।

স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়

ইসকোমিক সাধারণ ধরনের একটা স্ট্রোক। যখন রক্ত জমাট বেধে মস্তিস্কে রক্ত চলাচলে বাধা দেয় তখন এই স্ট্রোক হয়। লেবুতে থাকা ফ্ল্যাভানয়েড গুলি ইসকোমিক স্ট্রোকের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।

লেবু ক্যান্সার ও হৃদরোগের হাত থেকে রক্ষা করে

একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে নিয়মিত ফ্ল্যাভানয়েড যুক্ত খাবার খেলে ক্যান্সার ও কার্ডিওভাসক্যুলার রোগের ঝুঁকি কমে যায়। এজন্য নিয়মিত লেবু অথবা লেবুর সরবত খেতে পারেন।

রক্ত চাপ বা ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে লেবুর উপকারিতা

লেবুর উপকারিতা গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হলো নিয়মিত লেবু খেলে ব্লাডপ্রেসার নিয়ন্ত্রণে থাকে। জাপানে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে যেসকল মহিলারা নিয়মিত হাটে ও লেবুর সরবত খায়। তাদের ব্লাডপ্রেসার ঠিক থাকে অন্য মহিলাদের তুলনায়।

হাঁপানি সমস্যায় লেবুর ব্যবহার

যারা হাঁপানির সমস্যায় ভুগেন তাদের জন্য লেবু খুবই উপকারী। লেবুতে রয়েছে ভিটামিন-সি যা স্বাসকষ্ট কমিয়ে আনতে সাহায্য করে। নিয়মিত ভিটামিন-সি যুক্ত খাবার খেলে সর্দি কাশি কমে যায়।

রক্ত স্বল্পতা দূর করতে লেবুর উপকারিতা

রক্ত স্বল্পতার প্রধান কারণ আয়রনের ঘাটতি। ভিটামিন-সি যুক্ত খাবার আয়রনের ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে। এজন্য যে সব খাবারে আয়রন আছে তা বেশি বেশি খাবেন। যেমন- গরুর লিভার, পালং শাক, শুকনো মটর, ছোলা ও  মাংস। লেবুতে থাকা ভিটামিন-সি এসব আয়রন যুক্ত  খাবারকে আরও সমৃদ্ধশালী করে তোলে।

শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে লেবু

লেবু আপনার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে। যেসব খাবারে অতিমাত্রায় ভিটামিন-সি ও এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকে সেগুলো শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে তোলে। লেবু ভিটামিন-সি তে ভরপুর। সাধারণ সর্দি-কাশি-জ্বরের জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে এসব পুষ্টি উপাদান।

রূপচর্চায় লেবুর উপকারিতা

রূপচর্চা করতেও লেবুর উপকারিতা অনেক। মুখে লেবুর রস মাখলে তৈলাক্ত ভাব দুর হয়। ওলিভওয়েলের সাথে লেবুর রস মিশিয়ে নখে লাগালে নখ শক্ত হয়। লেবুর রস মাখলে মুখে ব্ল্যাক হেডস দুর হয়ে যায়। এছাড়া চুলে লেবুর রস মাখলে খুশকি চলে যায় এবং চুল পরা কমে।

হজম ক্ষমতা বাড়ায়

পেট বা খাদ্য যন্ত্রের পরিচর্যাতেও লেবুর উপকারিতা আছে। নিয়মিত লেবুর শরবত খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়। লিভারের ইনফেকশন হয় না। এটি বদহজম হওয়া, বুক জ্বালা করা ও গ্যাস্টিকের সমস্যাকে দুর করে। পেটকে কৃমির আক্রমণ হতে রক্ষা করে।

লেবুর খোসা খাওয়ার উপকারিতা

লেবু এমন একটা খাদ্য উপাদান যার খোসা খেলে পাবেন অনেক উপকার। লেবুর খোসার থাকা ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য জনিত সমস্যা দূর করে। লেবুর খোসা মুখে ঘষে মুখের কালো দাগ, বলি রেখা সরানো যায়। ডায়াবেটিস রোগীরা লেবুর খোসা খেতে পারেন কারণ এটা রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে।

লেবু এমন একটি খাদ্য উপাদান যার উপকারিতা বরে শেষ করা যাবে না। লেবু নিজে একা যেমন পুষ্টি গুনে ভরপুর তেমনি অন্য খাবারের সাথে মিশে তার পুষ্টিগুণকেও বাড়িয়ে দেয়। এজন্য লেবুর উপকারিতা পেতে নিয়মিত লেবু বা লেবুর সরবত খান।

 

তথ্যসূত্র: মেডিক্যাল নিউজ টুডে।

অনলাইনপ্রেস/জেএ/এনজে

সুস্থ থাকুন সেল্ফ কোয়ারিনটিনে, কোভিড-১৯

সুস্থ থাকার উপায়

সুস্থ থাকুন সেল্ফ কোয়ারিনটিনে

 

রিয়া সরকারঃ পুরো পৃথিবী এখন করোনা ভাইরাস এর মহামারি নিয়ে আতঙ্কিত। আমাদের প্রত্যেকেরই এখন একি চিন্তা কবে পৃথিবী এই মহামারির থাবা থেকে মুক্ত হবে, কবে আমরা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারব। এই সময়ে আমরা অনেকেই কি করবো কি করবো না তা নিয়ে চিন্তিত। কোনটা সঠিক তথ্য আর কোনটা সঠিক নয় সে নিয়েও অনেক মতবিরোধ। অনেকেই অবসাদগ্রস্ত হয়ে পরছেন। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে এই কঠিন পরিস্থিতিতে এখন নিজেকে সুস্থ রাখাই হচ্ছে আমাদের প্রধান কাজ।

নিজেদের মনকে ভালো রাখার দায়িত্ব আমাদের নিজেদের। আর মন ভালো থাকলে শরীর ও থাকবে ফুরফুরে। তাহলে জেনে নিই কিভাবে আমরা সুস্থ ও সুন্দর থাকতে পারব।

সুস্থ থাকতে শরীরচর্চা

শরীরচর্চা বা এক্সারসাইজ রোজ নিয়ম করে করতে হবে। প্রতিদিন আধ ঘণ্টা এক্সারসাইজ আপনার শরীরকে ভালো রাখবে। আমরা অনেকেই হয়ত বাইরে হাঁটতে যেতাম যেটা এখন সম্ভব হচ্ছে না। বাড়ির ছাদে বা ঘরের মধ্যেই আমরা কিছুক্ষণ হাঁটতে পারি আর সাথে কিছু সাধারণ ব্যায়াম। বিভিন্ন ডাক্তারেরা জানাচ্ছেন নিঃশ্বাসের ব্যায়াম এখন আমাদের প্রত্যেকের জন্য খুবই উপকারী।

মেডিটেশন

মেডিটেশন করা আমাদের প্রত্যেকের জন্যই উপকারী। এর ফলে আমাদের টেনশন দূর হয়, মাথা ঠাণ্ডা থাকে এবং ঘুম ভালো হয়। রোজ নিয়ম করে মেডিটেশন করতে পারলে মন ও শরীর দুই ভালো থাকবে। নিয়মিত মেডিটেশন করে সুস্থ থাকুন সেল্ফ কোয়ারিনটিনে।

সুস্থ থাকার জন্য খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন

আমরা অনেকেই অনেক সময়ই নিয়ম মেনে খাওয়া দাওয়া করিনা। সময় মতো খাওয়া টা খুবই প্রয়োজনীয়। এই সময়ে আমাদের বলা হচ্ছে গরম পানি খেতে, আদা চা, কালোজিরা এসব খেতে। আর অবশই এমন খাবার খেতে হবে যা আমাদের ফুসফুসের জন্য ভালো।

কারণ করোনা ভাইরাস সবার আগে আমাদের ফুসফুসের ক্ষতি করছে। পানি খেতে হবে প্রচুর পরিমাণে। চিনিযুক্ত খাবার যতটা সম্বব কম খেতে হবে। চেষ্টা করতে হবে রোজ দিনের খাবারের তালিকায় যেন সবুজ শাক সবজি, ফল থাকে। এলকোহল একেবারে বন্ধ করতে হবে। আর অবশ্যই গরম পানি দিয়ে গারগিল করতে হবে বার বার।

সুস্থ থাকতে ঘুম খুব প্রয়োজনীয়

এই সময়ে আমাদের প্রত্যেকের দরকার পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম। ঘরে বসে থাকতে থাকতে আমরা দুশ্চিন্তায় ডুবে থাকছি। চিন্তার ফলে আমাদের রাতে ঠিক করে ঘুম হচ্ছেনা এবং দিনের পর দিন শরীর খারাপ হয়ে যাচ্ছে, দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। আর এই সময়ে আমাদের বিশ্রাম করাটা খুবই প্রয়োজনীয়। তাই মনে রাখতে হবে ঘুমের সাথে আড়ি হলে চলবে না।

কোয়ারিনটিনে রূপচর্চা

এটাই সঠিক সময় ত্বকের যত্ন নেওয়ার। কমবেশি আমাদের সবাইকেই কাজের জন্য বাইরে যেতে হয় আর নয়তো ঘরের কাজের জন্য নিজেকে সময় দেওয়া হয়না। তাই এখন এই সময়টিকে কাজে লাগিয়ে আমরা নিজেদের কে আরেকটু সুন্দর রাখতে পারি। মুখ সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে। ফেইসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে অবশ্যই মইশচারাইজার লাগাতে হবে।

এই সময়ে নানা ধরনের তাজা ফলমূল পাওয়া যায়, সেগুলো খাওয়ার সাথে সাথে আমরা মুখেও লাগাতে পারি। তরমুজ খুব ভালো ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে। ত্বক মসৃণ রাখতে মধু ব্যবহার করা যেতে পারে। বেসন, মধুর সাথে একটু লেবুর রস মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে রেখে কিছুক্ষণ পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিলে উপকার পাওয়া যাবে। তবে যদি কারো এলারজির সমস্যা থাকে তাহলে লেবু ব্যবহার না করাই ভালো। ঘরোয়া উপকরণ দিয়েই আমরা ত্বকের যত্ন করতে পারি এই কোয়ারিনটিনের সময়ে।

সব থেকে জরুরি বিষয় হল এই সময় আমাদের প্রত্যেকের বার বার সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে। হাত থেকেই মূলত ভাইরাসটি আমাদের শরীরে প্রবেশ করে। তাই বার বার করে হাত ধুতে হবে।

* ভুয়ো খবরে কান না দিয়ে বিশ্বাসযোগ্য জায়গা থেকে তথ্য সংগ্রহ করুন, সেল্ফ সুস্থ থাকুন সেল্ফ কোয়ারিনটিনে।

তথ্যসূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাজাকার্তা পোস্ট

অনলাইনপ্রেস/আরএস/ এনজে

গাজরের উপকারিতা ও পুষ্টিগুন সম্পর্কে জানেন কি?

গাজরের উপকারিতা

গাজরের উপকারিতা ও পুষ্টিগুন

জাকারিয়া: আমাদের পছন্দের যে সকল খাবার রয়েছে গাজর তার মধ্যে অন্যতম। গাজরের  উপকারিতা ও পুষ্টিগুন বলে শেষ করা যাবে না। পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক গাজর চীনে উৎপাদিৎ হয়।

বিভিন্ন ধরনের খাদ্য তৈরিতে গাজরের ব্যবহার হয়। গাজর কাঁচা, রান্না করে বা সালাদে সব ভাবেই খাওয়া যায়। তবে মানুষের মাঝে সালাদে গাজর খাওয়াই বেশি পছন্দনীয়। ‍পৃথিবীতে উৎপাদিৎ বেশির ভাগ গাজর কমলা রঙের হয় তবে বেগুনি, হলুদ, লাল ও সাদা রঙের গাজরও পাওয়া যায়।

গাজরের পুষ্টিগুন

গাজরের উপকারিতা ও পুষ্টিগুন অনেক, কারণ এতে রয়েছে ক্যালোরি, কার্বোহাইড্রেড, ফাইবার, প্রোটিন, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-কে, ভিটামিন-সি, ম্যাঙ্গনিজ, ফসফরাস, সোডিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, বিটাক্যারোটিন ও আয়রন।

চোখের জন্য গাজর উপকারী

চোখের ডাক্তাররা চোখের যত্নের জন্য প্রচুর পরিমানে ভিটামিন-এ খেতে বলেন। গাজরে আছে বিটাক্যারোটিন যা চোখের জন্য খুবই উপকারি। লাল-কমলা শাকসবজি, ফলমুলে বিটাক্যারোটিন বেশি থাকে। শরিরে ভিটামিন-এ কম থাকলে চোখের ফটোসির‌্যাপ্টস খারাপ হয় যা রাতকানা রোগের কারন। তাই পর্যাপ্ত পরিমানে ভিটামিন-এ এর জন্য নিয়মিত গাজর খেতে অভ্যাস করুন।

গাজর ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কমায়

এন্টিঅক্সিডেন্ট জাতীয় খাবারে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কমে। শরীরে ফ্রিরেডিক্যাল উৎপন্ন হয়ে শরিরের কোষকে নষ্ট করে দেয়। আর এন্টিঅক্সিডেন্ট এ সকল ফ্রিরেডিক্যাল তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করে।

গাজরে রয়েছে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি যা একত্রিত হয়ে এন্টিঅক্সিডেন্ট তৈরি করে। তাছাড়া গাজরে থাকা বিটাক্যারোটিন ক্যান্সার হওয়ার হাত থেকে শরীরকে সুরক্ষা দেয়।

মহিলাদের পেট, কোলন, প্রোস্টেস ও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতেও গাজরের ভুমিকা অনেক। অনেক গবেষকদের মতে গাজর খেলে মুখের ক্যান্সার হওয়ার প্রবনতা হ্রাস পায়।

ডায়াবেটিস রোগিদের জন্য গাজর খুবই উপকারি

ডায়াবেটিস রোগের কোন ওষুধ না থাকায় এই রোগকে পরিমিত খাবার ও ব্যয়ামের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রনে রাখতে হয়। গবেষকরা মনে করেন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের শরীরে ভিটামিন-এ কম থাকে।

গাজর ভিটামিন-এ এর প্রাকৃতিক উৎস। তাই যাদের ডায়াবেটিস আছে তারা নিয়মিত খাদ্য তালিকায় গাজরকে স্থান দিতে পারেন। তাছাড়া গাজরে থাকা ফাইবার ডায়াবেটিস রোগীদের গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি করে থাকে।

দাতের যত্নে গাজরের উপকারিতা অনেক

এমন অনেক খাবার আছে যেগুলোকে বলা হয় প্রাকৃতিক টুথব্রাশ, গাজর তাদের মধ্যে অন্যতম। খাবারের পরে কুলকুচি করলেও তা থেকে উৎপন্ন ফলিক মুখে থেকে যায়, যা দাতের ক্ষয়ের কারণ। খাবার গ্রহনের পরে গাজর ‍চিবিয়ে খেলে তা থেকে উৎপাদিত হওয়া লালা এ সকল ফলিক কে দাতের ক্ষয় করা থেকে বিরত রাখে।

ত্বকের যত্নে গাজরের উপকারিতা

গাজর ক্যারিনোয়েড সমৃদ্ধ। আর গবেষকরা বলে থাকেন ক্যারিনোয়েড যুক্ত খাবার ত্বকের যত্ন নিতে বিশেষ ভাবে কাজ করে। গাজরে আছে পর্যাপ্ত পরিমানে এন্টিঅক্সিডেন্ট ও পটাসিয়াম যা ত্বককে সুস্থ ও মসৃণ রাখতে সাহায্য করে। ত্বকে দাগ পরা, ত্বক শুষ্ক হওয়া এসকল রোগ থেকে মুক্তি পেতে নিয়মিত গাজর খেতে পারেন।

চুলের যত্নে গাজরের উপকারিতা

গাজরের উপকারিতা গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো চুলের ‍যত্নে এর অবদান। গাজর আপনার চুলের প্রয়োজনীয় ভিটামিন সমূহ সাপ্লাই দেয়। যা আপনার চুলকে ঘন, শক্ত ও মসৃণ করে তোলে।

গাজর হলো ভিটামিন-এ, ক্যারোটিনোয়েড, পটাসিয়াম এবং এন্টিঅক্সিডেন্ট তৈরির প্রাকৃতিক উৎস। আর এসব উপাদান চুলের যত্ন নিতে সাহায্য করে।

হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়

যাদের খাবার তালিকায় প্রতিদিন বিটাক্যারোটিন থাকে তাদের হৃদরোগ হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। বিটাক্যারোটিন শরীরের ক্ষতিকারক ক্যালোরিকে সরিয়ে দেয়। সেজন্য বিটাক্যারোটিনে সমৃদ্ধ গাজর খেলে আপনার হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যাবে।

এছাড়াও গাজর আমাদের স্বাস্থ্যের অনেক ভাবেই উপকার করে থাকে। যেমন হাড়কে মজবুত করতে, ওজন কমাতে, ‍লিভারকে সুস্থ রাখতে, বাতের ব্যাথা কমাতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এটি আমাদের সহায়তা কর। তাই আপনার খাবারের তালিকায় গাজর রাখুন এবং প্রতিদিন অন্তত্য একটি হলেও গাজর খান।

তথ্যসূত্র: স্টাইলক্রেজওয়েবএমডি

অনলাইপ্রেস/জেএ/এনজে

টমেটোর উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানুন

টমেটোর উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ

টমেটোর উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ

জাকারিয়া: কাচা বা পাকা কিংবা তরকারিতে রান্না করে খেলে যেকোনো ভাবেই টমেটোর উপকারিতা মেলে। তাছাড়া ফাস্টফুড বা তেলে ভাজা খাবারে টমেটোর সস এক ভিন্ন ধরনের স্বাদ এনে দেয়।

টমেটো খুবি সুস্বাদু ও পুষ্টিসমৃদ্ধ শীতকালীন সবজি। কিন্তু সারাবছরই এ সবজি পাওয়া যায়। টমেটো দিয়ে তৈরি করা যায় অনেক ধরনের খাবার। খাদ্য হিসেবে বা অন্য খাবারের স্বাদ বাড়াতে টমেটোর তুলনা হয় না। আমাদের সকলেরে এই প্রিয় সবজির উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে আমাদের ধারনা নেই বললেই চলে।

তাই আজ আপনাদেরকে জানাবো টমেটোর উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে।

টমেটোর পুষ্টিগুণ

টমেটো পটাসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন-কে, ভিটামিন-ই, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-বি৬, ভিটামিন-এ, বিটা ক্যারোটিন, লাইকোপেন, ফলিক অ্যাসিড ও শর্করার সমৃদ্ধ উৎস।

টমেটো ক্যান্সার প্রতিরোধক

টমেটো ভিটামিন-সি ও এন্টিঅক্সিডেন্টের একটি দুর্দান্ত উৎস। এই উপাদানগুলি ফ্রি-রেডিক্যাল তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করে আর ফ্রি-রেডিক্যাল ক্যান্সার হওয়ার কারণ। টমেটোতে থাকা বিটা ক্যারোটিন ও লাইকোপেন কোলন ক্যান্সার এবং প্রোস্টেট ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করে।

টমেটো চুলের যত্নে উপকারী

প্রাকৃতিক দূষণের ফলে আমাদের চোখ, চুল ও ত্বকে নানা ধরনের খারাপ প্রভাব পরে। টমেটোতে থাকা ভিটামিন-এ চুলকে বাহ্যিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।

টমেটো হার্টের জন্য উপকারী

টমেটোতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-বি ও পটাসিয়াম যা শরীরের কোলেস্টোরেলের মাত্রা কমিয়ে দেয় এবং রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণ করে। তাই আপনার নিয়মিত ডায়েটে টমেটোকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।

টমেটো চোখের জন্য উপকারী

স্মার্টফোন, কম্পিউটার, ট্যাব এগুলো আমাদের নিত্য ব্যবহার করার জিনিস। অনেকক্ষণ এসকল ডিভাইসের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে আমাদের চোখে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।
টমেটোতে থাকা লুটেইন ও জেক্সানথিন আমাদের চোখকে এসকল ক্ষতিকারক আলো থেকে সুরক্ষা প্রদান করে থাকে। চোখের ক্লান্তি দুর করতে এগুলো উপকারী।

ফুসফুসের জন্য টমেটো উপকারী

এম্ফিজিমা ধীরে ধীরে ফুসফুসের বায়ুথলীর ক্ষতি করে। টমেটো এম্ফিজিমা প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যারা হাঁপানি রোগে ভোগেন তাদের জন্য টমেটো খুবি উপকারী।

এম্ফিজিমার প্রধান কারণ তামাক আর ক্ষতিকারক ধোয়া। টমেটোতে থাকা এন্টিঅক্সিডেন্ট এসকল ক্ষতিকারক জিনিসের বিরুদ্ধে লড়াই করে ফুসফুসকে ভালো রাখতে সাহায্য করে।

টমেটো দাঁতের জন্য উপকারী

টমেটোতে থাকা লাইকোপেন মাড়িকে শক্তিশালী করে তোলে। গবেষকদের মতে টমেটোতে থাকা লাইকোপেন যেহেতু ফ্রি-রেডিক্যাল তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করে তাই মুখের ক্যান্সার হওয়া থেকেও টমেটো সুরক্ষা তৈরি করে। তবে অতিরিক্ত কাচা টমেটো দাঁতের এনামেলকে ক্ষতি করে।

টমেটো ত্বকের যত্ন নিতে সহায্য করে

টমেটো খেয়ে কিংবা রূপচর্চা করে, দুইভাবে ত্বকের যত্ন নিতে পারেন। টমেটোতে থাকা লাইকোপেন সূর্যের অতি ক্ষতিকারক বেগুনিরাশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষা দেয়। টমেটোতে থাকা পটাসিয়াম, ভিটামিন-বি এবং ই ত্বকের মসৃণতাকে রক্ষা করে ও কোষের ক্ষতি হতে দেয় না

তাছাড়া টমেটো শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, খাবার হজম করতে সাহায্য করে। ডাক্তাররা মহিলাদের প্রেগন্যান্ট অবস্থায় ফলিক অ্যাসিড যুক্ত খাবার খেতে বলেন। আর টমেটো ফলিক অ্যাসিডের প্রাকৃতিক উৎস। এসকল উপকারিতার জন্য টমেটোকে রাখতে পরেন আপনার প্রতিদিনের খাবার তালিকায়।
তথ্যসূত্র: হেলথ.কম
অনলাইনপ্রেস/জেএ/এনজে

কাচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতা সমূহ

কাচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতা

কাচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতা

জাকারিয়া: কাচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতা বলতে গেলে শুরুতে বলতে হয় এর পুষ্টি গুণাগুণ নিয়ে। তার আগে বলে রাখি আমরা জানি প্রোটিনের দুইটি উৎস ১. মাংস ২. উদ্ভিদ। আর উদ্ভিদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো প্রোটিন যোগায় কাচা ছোলা।

কাচা ছোলা মাংসের অভাবকে পূরণ করে, কিন্তু মাংস খেলে যে ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখো যায় কাচা ছোলায় তা হয় না। উচ্চ মাত্রার প্রোটিন যুক্ত খাবার ছোলা যা কাচা, সিদ্ধ ও তরকারিতে রান্না করে খাওয়া যায়।

কাচা ছোলায় থাকে ক্যালোরি, ফাইবার, প্রোটিন, ফ্ল্যাট, আয়রন, ফসফরাস, কপার, ম্যাগনেসিয়াম, কার্বস। এছাড়াও আরো অনেক ধরনের ভিটামিন।

কাচা ছোলা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়

অস্ট্রেলিয়ান একদল গবেষকরা প্রমাণ করেছেন যে কাচা ছোলা খেলে খাবারে টোটাল কোলেস্টরেল এবং খারাপ কোলেস্টরেল কমে যায়। ছোলায় দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় ফাইবার আছে যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। এতে থাকা আঁশ, পটাসিয়াম, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-বি৬ হৃদযন্ত্রকে ভালো রাখে।

কাচা ছোলা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে

আমেরিকান মেডিকেল এসোসিয়েশনে প্রকাশিত একটি গবেষণা বলে যে ফলিক অ্যাসিড হাইপারটেনশন কমিয়ে আনে। যেহেতু ছোলায় প্রচুর পরিমাণে ফলিক অ্যাসিড আছে তাই ছোলা খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

কাচা ছোলা রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে

কাচা ছোলার উপকারিতা অনেক। নিয়মিত ছোলা খেলে পায়ের অর্টারিতে রক্ত চলাচল বেড়ে যায়। এতে থাকা আইসোফ্লোরন স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অর্টারিতে রক্ত চলাচল ও কর্ম ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

কাচা ছোলা ক্যান্সার রোধে সাহায্য করে

কোরিয়ান গবেষকরা প্রমাণ করেছেন যে বেশি পরিমাণে ফলিক অ্যাসিড খাবারের সাথে গ্রহণ করলে নারীদের কোলন ক্যান্সার ও রেক্টাল ক্যান্সারের ঝুকি কমে। এছাড়া ফলিক অ্যাসিড রক্তে এলার্জির মাত্রা কমিয়ে দেয়। আর তাই নিয়মিত  ছোলা খান এবং সুস্থ থাকুন।

কাচা ছোলা কোলেস্টোরেল কমায়

শরীরে অপ্রয়োজনীয় কোলেস্টোরেল কমিয়ে দেয়। ছোলায় থাকা ফ্যাট পলি-আনস্যাচুরেটেড জাতীয় ফ্যাট যা শরীরের জন্য ক্ষতিকারক নয়।

কোষ্ঠকাঠিন্য দুর করে

ছোলায় আছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার যা কোষ্ঠকাঠিন্যর মত রোগের জন্য বেশ ভালো। ফাইবার হজম হতে সময় নেয় যার ফলে খাবার খাদ্যনালী অতিক্রম করতে থাকে। তাই মলত্যাগের পরিমাণ বাড়ে এবং মল নরম থাকে।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ছোলার উপকারিতা

ডায়াবেটিস রোগীদের প্রোটিন খাবার যেমন মাংস খুব হিসেব করে খেতে হয়। কিন্তু তারা যদি নিয়মিত ছোলা খায় তাহলে তাদের প্রোটিনের চাহিদা পূরণ হবে কোন ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই। ১০০ গ্রাম ছোলায় থাকে ১৭ গ্রাম আমিষ, ৬৪ গ্রাম শর্করা ও ৫ গ্রাম ফ্যাট। ছোলার আমিষ ও শর্করাতে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম, তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ছোলা ভালো।

ছোলা ক্ষুধা নিয়ন্ত্রকের কাজ করে

ছোলায় থাকা প্রোটিন ও ফাইবার আপনার ক্ষুধাকে নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে থাকে। এই পুষ্টি উপাদান গুলো হজম শক্তি কে ধীরে ধীরে কাজ করায়। যার জন্য পরিমিত ছোলা খেলে খুর তাড়াতাড়ি ক্ষুধা লাগা কমে যায় এবং এতে করে আপনার কোন ধরনের পুষ্টির ঘাটতি হবে না।

ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে

ছোলার পুষ্টি উপাদানে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যা আপনার ওজন নিয়ন্ত্রকের কাজ করে। ছোলায় ক্যালোরির ঘনত্ব কম, এজন্য নিয়মিত ছোলা খেলে আপনার শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি জমা হবে না। এবং আপনার শরীরের অন্য সকল ভিটামিন এর জোগান দেবে।

যারা জিম করেন তারা বিভিন্ন ধরনের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করে থাকেন। যার ফলে অনেকের শরীরে পার্শ্বপতিক্রিয়া দেখা দেয়। কাচা ছোলা প্রাকৃতিক সাপ্লিমেন্ট যা আপনার শারীরের প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করবে কোন পার্শ্বপতিক্রিয়া ছাড়াই। তাছাড়া কাচা ছোলায় যৌনশক্তি বৃদ্ধি পায়। এর প্রোটিন মানুষকে শক্তিশালী করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।

অনলাইনপ্রেস/জেএ/এনজে

দুধের উপকারিতা এবং পুষ্টিগুন

দুধের উপকারিতা

জাকারিয়া: দুধের উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ সম্পর্কে আমাদের মধ্যে সঠিক ধারণা নেই বললে ভুল হবে না। এজন্য অনেকের কাছেই দুধ খুবি পছন্দের আবার এমন অনেক মানুষ আছে যারা দুধ খেতে চায় না, বিশেষ করে বাচ্চারা।

আবার অনেকের মধ্যে ধারণা আছে যে দুধ খেলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে, ওজন বেড়ে যায় তাড়াতাড়ি। এই ধারণাগুলোর অধিকাংশই ভুল। যে কোন খাবারই অতিরিক্ত মাত্রায় খাওয়া ভালো নয়। ঠিক তেমনি ভাবে দুধও আপনাকে পরিমাণ মত নিয়মিত খেতে হবে।

দুধের পুষ্টিগুণ

ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন- এ, ভিটামিন- ডি, ফসফরাস-বি ১২, রাইবোফ্লভিন, নিয়াসিন এবং প্রোটিন। তাছাড়া দুধের মধ্যে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট এবং ফ্যাটের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রয়েছে।

আসুন জেনে নেই দুধের উপকারিতা সম্পর্কে।

হাড়কে মজবুত করতে সহায়তা করে

দুধে থাকে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম যা হাড়কে মজবুত করার অন্যতম সেরা উৎস। দুধ হাড়ের প্রয়োজনীয় ভিটামিন- ডি, ক্যালসিয়াম, প্রোটিন যোগান দেয়।

এমন অনেক শাক-সবজি, ফল-মূল আছে যাতে এই পুষ্টি উপাদান গুলো থাকে তবে দুধের তুলনায় সেগুলো খুবই অল্প। পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম আপনার হাড়কে শক্তিশালী রাখে এবং হাড়ের ক্ষয়, সহজে হাড় ভাঙা কমাতে পারে।

ত্বকের যত্ন নিতে দুধ উপকারী

বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের মুখে একটা ছাপ পরতে শুরু করে। অনেকেই বয়সের ছাপ নিয়ে ভুগেন দুশ্চিন্তায়, বিশেষত মহিলারা। দুধে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন যা ত্বকের সৌন্দর্যকে ধরে রাখে।

পুষ্টিবিদদের মতে দুধে থাকে রেটিনল যা এন্টি এজিং ও এন্টি অক্সিডেন্ট। এছাড়া দুধে থাকা ভিটামিন- ডি এন্টি এজিং যা ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে সুরক্ষা দান করে।

পেশি গঠনে ভূমিকা রাখে

শারীরিক ব্যায়াম বা খেলাধুলা করার পর পেশিগুলোতে একধরনের ক্লান্তি দেখা দেয়। অনুশীলন করার পরে এক গ্লাস দুধ আপনার পেশি গুলোকে পুনরায় চাঙা করে তুলবে।

মাংস পেশির বৃদ্ধিতে দুধের ভূমিকা দুর্দান্ত। দুধে থাকা প্রোটিনের ফলে এমনটা হয়। গরম দুধ শরীরের ব্যথাকে কমিয়ে পেশি গুলোকে তরান্বিত করে।

ওজন কমাতে দুধ

অনেকে মনে করেন দুধ খেলে ওজন বেড়ে যায় তাড়াতাড়ি। ব্যাপারটা আসলে এমন না। অতিরিক্ত যে কোন খাবারই হতে পারে আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ। তাই দুধ পরিমাণ মত খেতে হবে নিয়মিত।

পরিমিত দুধ খেলে ওজন বাড়ে না উল্টো সহনশীল থাকে। অন্যসব খাবার খেয়ে ওজন কমানোর চাইতে প্রতিদিন এক গ্লাস দুধ আপনার জন্য বেশি উপকারী। কারণ, দুধ আপনার অন্যসব খাবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করবে এবং এতে করে ওজন বাড়ার মত ক্ষতি হবে না।

মানসিক চাপ কমায়

ভিটামিন এবং খনিজ মানুষের স্ট্রেস বা মানুষিক চাপ কমায়। দুধের পুষ্টিগুণের মধ্যে এদুটি অন্যতম। সারাদিনের কাজের প্রেশার দিন শেষে মানুষকে মানসিক ভাবে ক্লান্ত করে দেয়। এক গ্লাস গরম দুধ মানসিক চাপকে কমিয়ে দিতে পারে এবং স্নায়ুকে শান্ত রাখতে সহায়তা করে।

ডিহাইড্রেশন এবং কোষ্ঠকাঠিন্য রোধে দুধ উপকারী

যাদের ডিহাইড্রেশনের সমস্যা আছে তারা নিয়মিত দুধ খেতে পারেন। দুধের পুষ্টি উপাদান শরীরকে রি-হাইড্রেট করে তোলে।

যারা কোষ্ঠকাঠিন্যতায় ভুগছেন তাদের জন্য দুধ মহা ঔষধ। রোজ রাতে গরম দুধ খেয়ে ঘুমাতে গেলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমে যাবে।

দাঁতের জন্য উপকারী

দুধে থাকা ক্যালসিয়াম দাঁতকে মজবুত করে। দাঁত পরা কমাতে ও দাঁতের ক্ষয়রোধে দুধের তুলনা নেই।

পেটের সমস্যার জন্য উপকারী

দুধ পাকস্থলিকে ঠান্ডা রাখে এবং খাবার হজমে সহায়তা করে। মেয়েদের পিরিয়ডের সময় পেট ব্যথা হয়। গরম দুধ খেলে এ ধরনের ব্যথা কমে যাবে।

দুধের উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ বলে শেষ করা যাবে না। তাছাড়া দুধ খেলে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে। এটি দৃষ্টি শক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে।

দুধ নিয়ে হয়েছে হাজার হাজার গবেষণা এবং এসব গবেষণা প্রমাণ করে যে দুধে রয়েছে অনেক রোগের প্রতিকার। কিছু গবেষক মনে করেন দুধ খেলে ক্যান্সারের ঝুঁকিও কমে যায়, তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণার অবকাম রয়েছে।

আরও পড়ুন:  কালোজিরার উপকারিতা ও ব্যবহার

তথ্যসূত্র: হেলথলাইন এবং লাইফহ্যাক

অনলাইনপ্রেস/জেএ/এনজে