খেজুরের উপকারিতা, জেনে নিন খেজুর কেন খাবেন

খেজুরের উপকারিতা

জাকারিয়া : খেজুর পছন্দ করেন না এমন মানুষ মনে হয় খুঁজে পাওয়া যাবে না। খেজুরের উপকারিতা অনেক, আবার এটি খেতেও সুস্বাদু।

খেজুর খেতে খুব মিষ্টি ও চিনির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
তবে চিনিতে যে পরিমাণ শর্করা আছে খেজুরে তার একদম নেই। খেজুর ফ্রুকটোজের উৎস।
খেজুরে রয়েছে ভিটামিন– এ, ভিটামিন– ই, ভিটামিন– কে, আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ, কপার, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, প্রোটিন, ফাইবার, র্কাবস, ক্যালোরি, ক্যালসিয়াম, অ্যামিনো এসিড, কোলিন, ফসফরাস, সোডিয়াম, দস্তা এবং পানি সহ আরও অনেক পুষ্টি উপাদান।

আসুন জেনে নেই নিয়মিত খেজুর খেলে কি কি উপকার পেতে পারেন বা খেজুরের উপকারিতা সম্পর্কে

খেজুর রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে
নিয়মিত খেজুর খেলে শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে থাকে।
৪/৫ টি খেজুরের মধ্যে ৮০ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম থাকে। যা রক্তনালী গুলোকে পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে।

মস্তিষ্ক সতেজ রাখে

মস্তিষ্ককে সতেজ রাখতে খেজুর উপকারী ভূমিকা পালন করে।
প্রতিটি খেজুরে থাকে ২ গ্রাম কোলিন ও ভিটামিন- বি, যা মস্তিষ্কের বুস্টারের জন্য ভালো।
কোলিন মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত জরুরি, বিশেষত বাচ্চা এবং বয়স্কদের জন্য।

খেজুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে

তাজা বা শুকনা যে কোন অবস্থাতেই খেজুরে থাকে প্রচুর পরিমাণে এন্টিঅক্সিডেন্ট। যার কারণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
একটি খাদ্য পরীক্ষাগারের গবেষণায় দেখা গেছে যে মদিনার খেজুরে অন্যান্য যায়গার খেজুরের তুলনায় এন্টিঅক্সিডেন্ট বেশি।
এন্টিঅক্সিডেন্ট চুল ও ত্বকের যত্নে উপকারী।

খেজুর ডায়াবেটিস ও চর্বি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে

অনেকেই ভাবেন খেজুর খেলে ডায়াবেটিস বেড়ে যায়, যা একটি ভুল ধারণা।
ডায়াবেটিস নিয়ে গবেষণা করেন এমন গবেষকদের মতে, খেজুরে ক্ষতিকারক চিনির প্রভাব নেই।
খেজুরের উপকারিতার শেষ নেই, এটি ব্লাড সুগার বা ফ্যাট নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সহায়তা করে।

হাড়ের ক্ষয়রোধ করে

বয়স বাড়তে থাকলে হাড়ের ক্ষয় সহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।
খেজুরে থাকা কপার,ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন- কে, সিলিনিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজ হাড়কে মজবুত করতে সাহায্য করে।
তাই হাড়ের দুর্বলতা দুর করতে নিয়মিত খেজুর খেতে পারেন।

দেহের ওজন বৃদ্ধিতে সহায়ক

অনেকেই নিজের কম ওজনের কারণে দুশ্চিন্তায় ভোগেন।
অতিরিক্ত মোটা হওয়া যেমন ভালো না তেমনি শুকনা, দুর্বল শরীরও কারো কাম্য নয়।
খেজুরে আছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরি, যা ওজর বৃদ্ধিতে কাজ করে।
এজন্য ওজর বাড়াতে খেজুর আপনার ডায়েটে সংযোজন করতে পারেন।

দৃষ্টি শক্তি ভালো রাখে

চোখের যত্নে খেজুরের ভূমিকা অনন্য। এতে থাকা ভিটামিন – এ, জিয়াযেন্থিন সহ আরও অনেক কার্যকারী উপাদান রেটিনাকে সুস্থ রাখে।
প্রতিদিন খেজুর খেলে দৃষ্টি শক্তি ভালো থাকে। ভিটামিন- এ রাতকানা রোগের জন্য উপকারী।

চুল পড়া কমায়

চুলের যত্নের জন্য খেজুর খুবি উপকারী। আয়রনে সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে খেজুর মাথার চুলের গোঁড়ায় রক্ত চলাচল ঠিক রাখে এবং চুল গজাতে সাহায্য করে।
তাই চুল পরা কমাতে নিয়মিত খেজুর খেতে পারেন।

খেজুর খেলে ত্বক ভাল থাকে

খেজুরে থাকা ভিটামিন- সি এবং ভিটামিন ডি ত্বকের নমনীয়তা বজায় রাখে।
ত্বককে নানা ধরনের সমস্যা মোকাবেলায় সহায়তা করে। খেজুরে ফাইটোহরমনস রয়েছে যা ত্বকে বয়সের ছাপ পরতে বাধা দান করে।

গর্ভবতী মহিলাদের জন্য উপকারী

খেজুর খেলে মহিলাদের ক্যালোরির ঘাটতি পূরণ হয়। সাধারণ অবস্থা থেকে গর্ভবতী মহিলাদের প্রায় ৩০০% ক্যালোরি বেশি প্রয়োজন হয়।
এ অবস্থায় মহিলারা বেশি ক্যালোরি যুক্ত খাবার পছন্দ করেন। এক্ষেত্রে খেজুর কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে এবং এতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নেই।
খেজুর মেয়েদের জরায়ুর পেশিকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।

খেজুর পুরুষের যৌনশক্তি বৃদ্ধি করে

গবেষকদের মতে খেজুরে থাকা অ্যামিনো এসিড পুরুষের যৌন শক্তি বৃদ্ধি করে।

এছাড়াও বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে খেজুর খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয় এবং রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক থাকে।
এতে থাকা উচ্চমাত্রার পটাসিয়াম ডায়রিয়া উপশমেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

এসকল উপকারিতার জন্য আপনার প্রতিদিনের ডায়েটে খুব সহজেই খেজুর যুক্ত করতে পারেন।

তথ্যসূত্র: স্টাইলজকেয়ার এবং হেলথলাইন

অনলাইনপ্রেস/জেএ/এনজে

শসার উপকারিতা- জেনে নিন শসার পুষ্টিগুণ

শসার উপকারিতা

শসা খেলে পেতে পারেন যে সকল উপকার

জাকারিয়া: শসা এক প্রকারের ফল। লতানো উদ্ভিদে জন্মানো ফলটি লম্বাটে আকৃতির এবং প্রায় ৮-১২ ইঞ্চি লম্বা হয়ে থাকে।

এর বাইরের রঙ সবুজ। তবে পাকলে হলুদ হয়। ভেতরে সাদাটে সবুজ রঙের হয় এবং মধ্যভাগে বিচি থাকে।

এটি কাচা খাওয়া হয়, তরকারিতে খাওয়া বা সালাদ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।

এর উৎপত্তি ভারতবর্ষে হলেও বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় সব জায়গাতেই জন্মে। এটি সাধারণত গরমের সময় বেশি পাওয়া যায়।

খোসা সহ প্রতি ১০০ গ্রাম কাচা শসায় ক্যালরির পরিমাণ ২০ কিলো ক্যালরি। বাংলাদেশে শসা প্রধানত সালাদ হিসেবে খাওয়া হয়।

খোসা সহ প্রতি ১০০ গ্রাম কাচা শসার পুষ্টিমান হলো

শর্করা – ৩.৬ গ্রাম, ফাইবার – .৫ গ্রাম

স্নেহ পদার্থ – .১১ গ্রাম

প্রোটিন – .৬৫ গ্রাম

ভিটামিন সি – ২.৮ মিলিগ্রাম

ভিটামিন কে – ১৬মিলিগ্রাম

ক্যালসিয়াম – ১৫ মিলিগ্রাম

লোহা – .২৮ মিলিগ্রাম

ম্যাগনেসিয়াম – ১৩ মিলিগ্রাম

ম্যাঙ্গানিজ – .০৭৯ মিলিগ্রাম

ফসফরাস – ২৪ মিলিগ্রাম

পটাসিয়াম – ৪৭ মিলিগ্রাম

সোডিয়াম – ২মিলিগ্রাম

দস্তা – .২ মিলিগ্রাম

পানি – ৯৫.২৩

ফ্লুরাইড – ১.৩ মিলিগ্রাম

আসুন শসার উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিই

  • ব্লাডপ্রেসার নিয়ন্ত্রণে সহায়ক উচ্চ রক্ত চাপের ফলে স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

শসাতে পটাসিয়ামের পরিমাণ বেশি হওয়াতে রক্তচাপ কমিয়ে দিতে পারে।

তবে শুধু শসা খেলেই যে আপনার স্ট্রোক হবেনা তা কিন্তু নয়, এর সাথে সাথে ধূমপান করা, কলেস্টেরল যুক্ত খাবার খাওয়ার মত বদ অভ্যাস গুলো ত্যাগ করতে হবে।

  • শসায় থাকা ক্যালোরিগুলো মূলত ফাইবার থেকে আসে। ফাইবার পাকস্থলীর হজম শক্তিকে বাড়িয়ে তোলে।
  • শসায় থাকা খনিজ উপাদান তকের যত্ন নিতে এবং ব্রণ কমাতে সহায়তা করে।
  • শসাতে পানির পরিমাণ অনেক, যে কারণে শসা খেলে দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকে ।
  • ডাক্তাররা বলেন যে কোষ্ঠকাঠিন্য হয়ে গেলে তা চিকিৎসা করে সারিয়ে তোলা খুবই কঠিন।

এ জন্য যাতে কোষ্ঠকাঠিন্য না হয় সেদিকে যত্নবান হওয়াই ভালো।

কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে বাঁচার  জন্য শসা অনেক উপকারী।

  • ১০০ গ্রাম শসায় ৯৫% পানি থাকে, যা আপনার শরীরের ভেতরে পানির অভাব দূর করে।
  • এমন কোন নির্দিষ্ট খাবার নেই যা ওজন কমাতে সহায়তা করে মানুষকে।

তবে গবেষণায় দেখা যায় শসায় ক্যালোরির পরিমাণ কম। এতে এমন কিছু পুষ্টি গুন আছে যা ওজন কমাতে সাহায্য করে। তাই আপনার ডায়েট লিস্টে শসা রাখতে পারেন।

  • শসায় থাকা সিলিকা নামক উপাদান শরীর থেকে ক্ষতিকারক বিষাক্ত উপাদান বের করে দিতে সহায়তা করে।
  • নিয়মিত শসা খেলে এতে থাকা ক্যালসিয়াম হাড়কে মজবুত করে। কাজেই হাড়কে মজবুত রাখতে আপনার ডায়েট লিস্টে শসা রাখতে পারেন।
  • শসায় থাকে ভিটামিন – সি এবং কে ও প্রচুর মিনারেল যা শরীরকে ঠাণ্ডা রাখতে সহায়তা করে।
  • শসায় থাকা খনিজ আপনার শরীরের খনিজের চাহিদা পূরণ করে থাকে।

 

তথ্যসূত্র: উইমেনস হেলথ ম্যাগাজিনহেলথলাইন

অনলাইনপ্রেস/জেএ/এনজে

কালোজিরার উপকারিতা ও ব্যবহার

কালোজিরার উপকারিতা

জাকারিয়া: কালোজিরার উপকারিতা ও ব্যবহার নিয়ে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। এটি সবার অত্যন্ত পরিচিত একটি ভেষজ উপাদান।

প্রত্যেকের বাড়ির রান্না ঘরে মসলা রাখার সারিতে এটি থাকবেই। কিন্তু কালোজিরার উপকারিতা সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানিনা।

কিন্তু কালোজিরা কি শুধুই একটি মসলা মাত্র, নাকি এতে আছে অনেক রোগ নিরাময়ের গুনাগুণ?

কালোজিরা ব্যবহারের ইতিহাস :

কালোজিরার উপকারিতা প্রাচীনকাল থেকেই স্বীকৃত, তাই এটি ব্যবহারের ইতিহাসও অনেক পুরনো।

কালোজিরার বীজ তিন হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রতিরোধ এবং বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

প্রত্নতাত্ত্বকি সমীক্ষায় জানা যায় যে, তুতানখামুন সমাধিসৌধ সহ প্রাচীন মিশির থেকে বেশ কয়েকটি জায়গায় কালোজিরা বীজের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিলো।

পারসিয়ান চিকিৎসক ও দার্শনিক ইবনে সিনা কালোজিরা বীজ সম্পর্কে ক্যানন অফ মেডেসিন গ্রন্থে আলোচনা করেছিলেন।

বইটি মানব চিকিৎসার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত।

১৭ তম শতাব্দী পর্যন্ত এশিয়া ও ইউরোপ জুড়ে প্রাথমিক চিকিৎসার সহায়ক হিসেবে বইটি হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে।

এতে তিনি বলেছিলেন যে, কালোজিরা বীজের প্রতিরোধ মূলক এবং পুনরুদ্ধার যোগ্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে, কারণ এটি শরীরে শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

আসুন জেনে নেই কালোজিরা ব্যবহারের উপকারিতা সমূহ

হাঁপানি ও কাশির চিকিৎসা

কালোজিরার একটি আশ্চর্যজনক ঔষধি যা কাশি এবং হাঁপানির চিকিৎসা করতে সহায়তা করে।

মানুষ কালোজিরা ব্যবহার করে সহজেই ব্রঙ্কাইটিস থেকে মুক্তি পায়। কালোজিরায় রয়েছে অ্যান্টি- ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য।

এছাড়া এটি দেহে পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন সরবরাহ করে যা ব্রোঙ্কিয়াল টিউব গুলির তাপ হ্রাস করতে সহায়ক।

ব্রঙ্কাইটসি এবং হাঁপানির মতো বড় সমস্যাগুলি কালোজিরা বীজের তেল দ্বারা উপশম করা যায়।

জ্বর এবং ফ্লু হ্রাস করে

জ্বর এবং ফ্লুর প্রভাবে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমে যায়।

কালোজিরা বা এর তেল আমাদের জ্বর বা অন্যান্য যে কোনও সংক্রামণ জনিত রোগ থেকে দ্রুত মুক্তি দিতে পারে।

এক কাপ গরম জলে কালোজিরার তেল এবং মধু মিশিয়ে খেলে সাধারণ সর্দি এবং জ্বরের প্রতিকার হিসেবে কাজ করে।

তাই নিয়মিত এটি গ্রহণ করলে আপনার প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং জ্বর ও অন্যান্য সংক্রামণ থেকে মুক্তি পেতে সহায়তা করবে।

পেটের সমস্যা দূর করে ও হজম ক্ষমতা বাড়ায়

কালোজিরা বমি বমি ভাব ও পেট খারাপ থেকে মুক্তি দেয় এবং  হজমে সহায়তা করে।

তাই হজম সমস্যাগুলির জন্য কালোজিরা খুবই উপকারী। এটি পাকস্থলীকে সতেজ রাখে তাই নিয়মিত কালোজিরা খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য হয় না।

এটি একেবারে নিখুঁত ঘরোয়া উপায় যা আমাদের হজম সম্পর্কিত সমস্যাগুলিকে ভারসাম্যপূর্ণ করে।

পেটের সমস্যা দূর করতে কালোজিরার উপকারিতা অনস্বীকার্য।

ত্বকের চিকিৎসায় কালোজিরার উপকারিতা

কালোজিরায় আছে  অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন এবং অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে যা স্বাস্থ্যকর ত্বকরে জন্য প্রয়োজনীয়।

অ্যান্টিঅক্সিডেট আমাদের ত্বককে অকালে বয়সের ছাপ থেকে রক্ষা করে ।

এর তেল শুষ্কতা দূর করে এবং ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে। অন্যদিকে, কালোজিরা বীজরে তেল ব্রণ কমাতে সহায়তা কর।

এটি ত্বকের রোগ  প্রতিরোধের জন্য জনপ্রিয়।

এতে থাকা  অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি আমাদের ত্বক পরিষ্কার করতে সহায়তা করে।

নিয়মিত কালোজিরা তেল ব্যবহার করলে এটি আপনার ত্বককে নরম করে তুলব।

কালোজিরা ত্বকের ক্যান্সারের জন্য কার্যকর চিকিৎসা বলে অনুমান করা হয়।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখে

o   কালোজিরা রক্তে শর্করার (ব্লাড সুগার) মাত্রা হ্রাস করতে সহায়তা করে।

o   প্রতিদিন ২-৩ গ্রাম সেবন করলে উপকার পাওয়া যায়।

o   ইনসুলিনের প্রভাব প্রতিহত করার ক্ষমতা রাখে।

o   পাকস্থলীতে বিটা কোষের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে।

কোলন ক্যান্সারের চিকিৎসা করে:

o   কালোজিরা বীজে ক্যান্সার বিরোধী কার্যকারিতা রয়েছে।

o   এটি কোলন ক্যান্সার কোষগুলি বৃদ্ধি রোধ করে।

স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসা করতে সহায়তা করে

  • থাইমোকুইনন কালোজিরার একটি নির্যাস যা স্তনের ক্যান্সার এবং টিউমার বৃদ্ধি কমাতে লড়াই করে।

হার্ট অ্যাটাকের ক্ষয়ক্ষতি গুলি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে

o   কালোজিরার বীজের মধ্যে হৃদপিণ্ডের ক্ষতি কমানোর মতো প্রতিরক্ষামূলক বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

o   কালোজিরা হৃদপিণ্ডকে সচল ও সুস্থ রাখতে সহায়তা কর।

মস্তিষ্কে ক্ষয় কমায়

  • সীসাজনতি বিষক্রিয়ায় মস্তিষ্কের ক্ষয় হয়, কালোজিরার বীজ গ্রহণরে ফলে এই ক্ষয় রোধ করা সম্ভব।

 অন্যান্য উপকারিতা

  • কালোজিরার বীজ চোখ ওঠা রোগ, ফোড়া, কৃমি, দাঁত ব্যথা, মাথা ব্যথা, অনুনাসিক চাপ, কাশি,ব্রঙ্কাইটিস রোগের চিকিৎসা করতেও সহায়তা কর।
  • কোলোস্টেরল এবং রক্তচাপ কমাতেও সহায়তা করে।
  • কালোজিরা মহিলাদের মাসিক শুরু করতে সাহায্য করে।
  • দুগ্ধ দানকারী মায়েদের দুধের প্রবাহ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
  • কালো বীজের তেলের মলম চুলকানি দূর করে।

আশা করি উপরোক্ত কালোজিরার উপকারিতা সংক্রান্ত তথ্যগুলি আপনাকে প্রতিদিনের জীবনে সহায়তা করবে।

কালোজিরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রোগের কার্যকর চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং এটি দ্রুত কাজ করে।

এটি ঘরোয়া প্রতিকারের জন্য বিখ্যাত।

তথ্যসূত্র: stylesatlife , healthline ।

অনলাইনপ্রেস/জেএ/এনজে

খুশকি দূর করার উপায়, প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে সমাধান

খুশকি দূর করার উপায়

খুশকি দূর করার উপায়

রিয়া সরকার: খুশকি দূর করার উপায় জেনে রাখা আমাদের জন্য জরুরি। কারণ আমরা সবাই কম বেশি খুশকি সমস্যায় ভুগি।

এই খুশকির কারণে বাইরে অনেককেই লজ্জায় পরতে হয় এবং তারা নানা উপায় খুঁজতে থাকেন তা দূর করার।

নানা ধরনের পণ্য ব্যবহার করার পরও তারা খুশকি নিরাময় করতে পারেন না।

তাই আজ জেনে নেওয়া যাক প্রাকৃতিক কিছু উপাদানের মাধ্যমে খুসকি দূর করার উপায় সম্পর্কে।

খুশকি দূর করতে নারকেল তেলের ব্যবহার

যুগ যুগ ধরেই আমরা নারকেল তেলের গুনাগুণ সম্বন্ধে জেনে আসছি। এটি হতে পারে খুশকি দূর করার সহজতম উপায়।

খুশকি দূর করতে নারকেল তেল অতুলনীয় কাজ করে।

নারকেল তেল একটু গরম করে চুলের গোরায় লাগালে তা যেমন খুশকি দূর করতে সাহায্য করে তেমনি রুক্ষ ত্বককে মইশচারাইজ করে।

অলিভওয়েল ও লেবু দিয়ে খুশকি দূর করার উপায়

অলিভওয়েল গরম করে চুলে লাগিয়ে তা হালকা হাতে ঘষতে হবে।

তারপর গরম জলে একটি টাওয়াল ভিজিয়ে নিয়ে চুলে জড়িয়ে রাখতে হবে ৫ মিনিট।

এভাবে ৩-৪ বার চুলে গরম টাওয়াল জড়িয়ে রাখতে হবে ৫মিনিট করে।

এই পদ্ধতিটির সাহায্যে চুলের গোরায় খুব জলদি তেল মিশে যায়।

সারারাত চুলে তেল লাগিয়ে রাখতে হবে এবং পরদিন সকালে লেবুর রস আধ ঘণ্টা লাগিয়ে রাখতে হবে।

এর ফলে আমাদের চুল যেমন ঝরঝরে হবে তেমনি খুশকি দূর হবে। এটি  কার্যকর খুশকি দূর করার উপায় সমূহের অন্যতম।

এই মিশ্রণটি সপ্তাহে ১ থেকে ২ বার ব্যবহার করা যেতে পারে।

শ্যাম্পু ও ভিনেগার ব্যবহারর মধ্য দিয়ে খুশকি দূর করার উপায়

সপ্তাহে অবশ্যই কমপক্ষে ৩বার শ্যাম্পু করতে হবে।

অল্প শ্যাম্পু ব্যবহার করে চুল ভালো করে পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।

শ্যাম্পুর আধ ঘণ্টা আগে ২ টেবিল চামচ ভিনেগার চুলে ভালো করে লাগিয়ে নিতে হবে।

শ্যম্পু কারার পরেও ২ টেবিল চামচ ভিনেগার ১ মগ পানির সাথে মিশিয়ে তা দিয়ে চুল ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে।

এটি আমাদের চুলে কন্ডিশনারের কাজ করে।

গোলাপ জলের সাহায্যে খুশকি দূর করার উপায়

এছাড়াও ৫০ এমএল গোলাপ জলের সাথে ৫ ফোঁটা রজমেরি ইসেন্সিয়াল অয়েল মিশিয়ে একটি বোতলে ভরে রেখে দিতে পারেন। এই মিশ্রণটি শ্যাম্পু করার পর তুলোর সাহায্যে চুলে লাগিয়ে নিতে পারেন। ইসেন্সিয়াল অয়েল কখনই খালি চুলে লাগানো উচিত নয়।

মেথির উপকারিতা

খুশকি দূর করতে মেথির ভূমিকা দারুণ।

সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রেখে পরদিন পানি ছেঁকে নিয়ে ভালো করে পিষে নিয়ে চুলে লাগিয়ে রাখতে হবে ৪০-৪৫ মিনিট।

তারপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ভালো করে শ্যাম্পু করে নিতে হবে।

খুশকি দূর করার সাথে সাথে মেথি আমাদের চুলকে মসৃণ করে।

মেথি একটি বহুল ব্যবহৃত খুশকি দূর করার উপায়।

নিমপাতা

খুসকির কারণে আমাদের মাথা চুলকায়।

অনেক সময় চুলকানোর ফলে মাথায় ঘা ও হয়ে যায়।

নিমপাতা ব্যবহারে তা দূর করা সম্ভব। ৪ থেকে ৫ কাপ পানির মধ্যে কয়েকটা নিমপাতা সারারাত ভিজিয়ে রাখতে হবে।

পরদিন সকালে সেই পানি ছেঁকে নিয়ে সেটা দিয়ে চুল ধুয়ে নিতে হবে।

তাছাড়া নিমপাতা পিষে নিয়ে চুলের গোরায় গোরায় লাগালেও উপকার পাওয়া যায়।

এটি গ্রাম-গঞ্জে খুশকি দূর করার উপায় হিসেবে বহুল প্রচলিত।

খুশকি দূর করতে মেহেদি

মেহেদি চুলের জন্য খুবই উপকারী। শুধু খুশকি দূর করে না মেহেদি আমদের চুলের গোঁড়া শক্ত করে।

ঘরে বসেই আমরা মেহেদি দিয়ে প্যাক বানিয়ে নিতে পারি।

মেহেদি পাতাকে গুড়ো করে তার সাথে ৪চা চামচ লেবু, ৪চা চামচ কফি, ২টো ডিম এবং ২চা চামচ মেথি গুড়োর সাথে পরিমাণ মতো চায়ের লিকার মিশিয়ে নিতে হবে।

এই মিশ্রণটি চুলে লাগিয়ে ১ঘণ্টা পর্যন্ত মাথায় রাখে ধুয়ে নিতে হবে।

এটি শুধু খুসকিই দূর করে না আমাদের চুলকে সুন্দর,মসৃণ ও চকচকে করে তোলে।

এছাড়াও খুশকি দূর করতে যা করনীয়

খুসকির সমস্যা যদি মারাত্মক হয় তাহলে অবশ্যই রোজ চিরুনি, চুলের ব্রাশ, বালিশের ওয়ার, গামছা/ টাওয়াল সাবান দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।

খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন

আমাদের প্রতিদিনের ডায়েট চার্টে কিছু পরিবর্তনের মধ্যে দিয়েও এই খুশকির সমস্যা সমাধান করা যেতে পারে।

ফলের জুস, সবুজ শাক সবজি এবং দিনে ৬ থেকে ৮ গ্লাস পানি পান হবে।

কিন্তু অবশ্যই যেকোনো ডায়েট মেনে চলার আগে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নেওয়া ভালো।

তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়ান টাইমস

অনলাইনপ্রেস/আরএস/এনজে

ধনিয়া পাতার স্বাস্থ্য উপকারিতা সমূহ

ধনে পাতা

ধনিয়া পাতা বাঙালিদের কাছে সুপরিচিত রসনা উপাদান। এই ধনিয়া পাতার স্বাস্থ্য উপকারিতা অনেক, আবার খাবারের স্বাদ বাড়াতেও এর জুড়ি নেই।

আমরা মূলত ‍সালাদের সাথে মিশিয়ে অথবা ভর্তা করে এটি খেয়ে থাকি। আবার অনেকে ধনিয়া পাতার চাটনি খুবই পছন্দ করেন।

এছাড়াও তরকারিসহ নানা খাদ্যে এটি ব্যবহৃত হয়। ম্যাক্সিকানরাও সালাদে ধনিয়া পাতা খায়।

আমাদের কাছে ধনিয়া পাতা শুধুই মুখরোচক একটা খাবারের উপাদান, এর গুণাবলি সম্পর্কে আমাদের ধারণা শূন্য বললে ভুল হবে না।

দেখতে ছোট আকারের সবুজ পাতার এ উদ্ভিদের রয়েছে অনেক ভেষজ গুন। ধনিয়া পাতার ডালপালা সরু এবং সংখ্যায় অনেক।

সাদা ফুল থেকে দানা আকৃতির বীজ হয় যা কাচা অবস্থায় সবুজ থাকে।

এর বীজ আমাদের দেশে খাবারের মসলা হিসেবে ব্যবহৃত  হয়।

ধনিয়া পাতা বা ধনে পাতার বৈজ্ঞানিক নাম Carolus Linraeus । এটি একটি একবর্ষি সপুষ্পক উদ্ভিদ। দক্ষিণ এশিয়া এবং উওর আফ্রিকার স্থানীয় উদ্ভিদ।

ধনিয়া পাতার বীজ থেকে উৎপন্ন  তেল ওষুধ, সুগন্ধি ও মদের উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

আসুন জেনে নিই ধনিয়া পাতার বিবিধ স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে

ধনিয়া পাতায় মিনারেল, ফাইবার, আয়রন, ক্লোরিন, প্রোটিন, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাংগানিজ, ফসফরাস, জিংক, ১১ জাতের এসেনশিয়াল ওয়েল, ৬ ধরনের অ্যাসিড, ভিটামিন এ, ভিটামিন  সি, ভিটামিন  কে প্রভৃতি খাদ্য উপাদান রয়েছে।

ধনিয়া পাতা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়

জার্নাল অফ এথনোফার্মাকোলজির গবেষণা মতে, ধনিয়া ইতিবাচক ভাবে রক্তচাপকে হ্রাস করতে সহায়তা করে।

এটি পেরিফেরিয়াল এবং কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের নিউরোট্রান্সমিটারে ক্যালসিয়াম আয়রন এবং অ্যাসিটাইলকোলিনের মিথস্ক্রিয়াকে বাড়িয়ে রক্তনালীকে শিথিল করে।

এর ফলে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোক সহ বেশ কয়েকটি কার্ডিওভাসকুলার রোগ হওয়ার  সম্ভাবনা হ্রাস পায়।

হাড়ের ক্ষয়রোধে সহায়তা করে

ধনে পাতা ক্যালসিয়ামের সমৃদ্ধ, তাই এটি হাড়কে সুরক্ষিত রাখে। যাদের হাড়ে সমস্যা আছে এমন লোকদের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী।

ধনিয়াতে বিদ্যমান ক্যালসিয়াম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান হাড়ের বৃদ্ধি এবং সুস্থতার জন্য সহায়ক।

পাশাপাশি এটি আপনাকে অস্টিওপরোসিস থেকে রক্ষা পেতে সহায়তা করবে।

আপনার খাদ্য তালিকায় রোজ অল্প পরিমাণে ধনিয়া থাকলে তা আপনার হাড় সুস্থ এবং শক্তিশালী রাখতে সহায়তা করবে।

ধনে পাতা হজমের সমস্যা দূর করে

ধনিয়াতে থাকা অ্যাসেনশিয়াল ওয়েল পেটে এনজাইম এবং হজম রসগুলির সঠিক নিঃসরণে সহায়তা করে।

যার করেনে  এটি হজম প্রক্রিয়া এবং পেরিস্টালটিক গতিকে বাড়িয়ে তুলে।

ধনিয়াতে সুস্বাদু সুবাস ছাড়াও এর কিছু উদ্দীপকও গুণ রয়েছে। এর খনিজগুলি আমাদের নিউরোট্রান্সমিটারগুলি উদ্দীপিত করতে সহায়তা করে।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, নিয়মিত ধনিয়া পাতা খেলে বদহজম (ডিসপেস্পিয়া) হ্রাস হয়।

বয়স্কদের তুলনায় ছোট বাচ্চাদের পেটের ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই তাদের খাদ্য তালিকায় অল্প পরিমাণে ধনিয়াপাতা এই সমস্যার সমাধান করতে পারে।

ধনে পাতা চোখের জন্য উপকারী

ধনিয়াতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং খনিজ সমূহ চোখের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে।

এছাড়া এটি চোখের উপর থেকে চাপ কমাতেও উপকারী।

ধনে পাতায় বিটা ক্যারোটিন রয়েছে, যা চোখের উপর প্রভাব ফেলে এমন রোগকে বাধা দেয়। বিটা ক্যারোটিন বার্ধক্যজনিত রোগীদের মধ্যে দৃষ্টি ক্ষয়ের প্রভাবকেও হ্রাস করতে পারে।

ধনে  পাতা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে

ফুড কেমিস্ট্রি জার্নালে প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে, এন্ডোক্রাইন গ্রন্থিতে ধনিয়ার উদ্দীপক প্রভাবের কারণে ইনসুলিনের নিঃসরণ বৃদ্ধি পায়। যা পরবর্তীকালে রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে তোলে।

এটি চিনির ভারসাম্য এবং শোষণকে নিয়ন্ত্রণ করে, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে। যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন তাদের জন্য ধনে পাতা অত্যন্ত উপকারী।

এটি রক্তের শর্করার মাত্রা বিপজ্জনক ভাবে বেড়ে যাওয়া নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে।

কোলেস্টোরেলের স্তর হ্রাস করে

ধনিয়া বীজের মধ্যে লিনোলিক অ্যাসিড, ওলেকি অ্যাসিড, প্যালমেটিক অ্যাসিড, স্টেরিক অ্যাসিড এবং অ্যাসকরবিক অ্যাসিড (ভিটামিন সি) এর মতো উপকারী অ্যাসিড রয়েছে।

এই যৌগগুলি রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস করতে খুব কার্যকর।

এনভায়রনমেন্টাল বায়োলজি জার্নাল অনুসারে, এগুলি ধমনী এবং শিরাগুলির অভ্যন্তরের দেয়াল বরাবর ক্ষতিকর LDL কোলেস্টেরল জমার মাত্রা হ্রাস করে।

ক্ষতিকর কোলেস্টেরল থেকে হার্ট অ্যাটাক, এথেরোস্ক্লেরোসিস এবং স্ট্রোকের মতো গুরুতর হৃদরোগের কারণ হতে পারে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এটি উপকারী বা HDL কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে সহায়তা করে। এটি আমাদের বিভিন্ন স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমায় এবং সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়ক।

ধনে পাতা ডায়রিয়ার প্রতিষেধক

ধনিয়াতে বর্নোল এবং লিনলুলের মতো উপাদান রয়েছে যা হজমে সহায়তা করে। এছাড়াও যকৃতের কার্যকারিতা বজায় রাখতে এবং অন্ত্রের সুস্থতা বিধানে সহায়তা করে।

এথনোবোটানিক্যাল লিফলেটস-এ প্রকাশিত একটি সমীক্ষা বলছে, এটি মাইক্রোবায়ল এবং ছত্রাকের ক্রিয়াজনিত ডায়রিয়া উপশম করতেও সহায়ক।

কারণ এতে বিদ্যমান সিএনওল, বর্নোল, লিমোনিন, আলফা-পিনেন এবং বিটা-ফিল্যান্ড্রেনের মতো উপাদানগুলি প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটিরিয়াল (ব্যাকটেরিয়া নাশক) হিসেবে কাজ করে।

ধনিয়া বমি বমি ভাব, পাকস্থলীর ব্যাধি প্রতিরোধের জন্য জনপ্রিয়। এই স্বাস্থ্য সুবিধাগুলির পাশাপাশি তাজা ধনিয়া পাতা আপনার পাকস্থলীকে ভারী খাবারের জন্য প্রস্তুত করে তোলে।

সালমোনেলা থেকে সুরক্ষা

সালমোনেলা পৃথিবীতে খাদ্যজনিত অসুস্থতার অন্যতম কারণ। তাই এর থেকে নিজেকে রক্ষা করার যে কোনও প্রাকৃতিক উপায় খুব গুরুত্বপূর্ণ।

ধনিয়াতে প্রচুর পরিমাণে উচ্চ মাত্রার ডোডেনসাল থাকে। এটি এমন একটি প্রাকৃতিক যৌগ যা সালমোনেলা ভিত্তিক অসুস্থতার চিকিৎসার জন্য শক্তিশালী প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক।

বার্কলে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিচালিত এক গবেষণা থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

ত্বকের যত্নে ধনিয়ার ব্যবহার

ধনিয়ার জীবাণুনাশক, ডিটক্সাইফাইং, অ্যান্টিসেপটিক এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এগুলি একজিমা, শুষ্কতা এবং ছত্রাকের সংক্রমণের মতো ত্বকের ব্যাধি নিরাময় করার জন্য আদর্শ।

এছাড়াও ধনিয়া পাতার আরও অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। বিভিন্ন গবেষণার মধ্য দিয়ে সময়ের সাথে সেগুলি জানা যাবে।

ধনিয়া পাতার অপকারিতা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা ক্ষতিকর দিক সমূহ

ধনিয়া পাতার ক্ষতিকর দিক খুবই কম। অন্য আর কয়কটি খাবারের মতো এতেও কারও কারও ত্বকে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া হতে পারে।

কেউ কেউ অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত ধনিয়া সেবন তাদের ত্বককে সূর্যের আলোতে আরও সংবেদনশীল করে তোলে।

দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে সানবার্নস। তবে এটি খুবই বিরল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

আরও বিস্তর গবেষণা না হওয়া পর্যন্ত গর্ভবতী মহিলাদের ধনিয়া সেবন করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

যে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে ডাক্তার বা বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করুন।

কোন কিছুই অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়, তাই পরিমিত পরিমাণে ধনিয়া গ্রহণ করুন।

তথ্যসূত্র: ওয়েবএমডি, উইকিপিডিয়া, টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং অর্গানিক ফ্যাক্টস

অনলাইনপ্রেস/জেএ/এনজে

কাপড়ের মাস্ক বানানোর নিয়ম জানুন, সুরক্ষিত থাকুন

মাস্ক

কাপড়ের মাস্ক বানান ঘরে বসে, বেঁচে থাকুন কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ থেকে

রিয়া সরকার: করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর থেকে বিশ্বজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র মাস্ক সংকট, কাপড়ের মাস্ক হতে পারে সমাধান। তাই বাজার থেকে সার্জিক্যাল মাস্ক বা এন ৯৫ মাস সংগ্রহ করা এখন সহজ নয়।

কিন্তু আপনি চাইলে ঘরে বসে নিজেই বানিয়ে নিতে পারেন কাপড়ের মাস্ক। বিভিন্ন গবেষণা বলছে কাপড়ের তৈরি মাস্ক ৬০ শতাংশ ভাইরাস ফিল্টার করতে সক্ষম।

  • ৬০০ এর দ্বিগুণ সুতোর বালিশের ওয়ার অথবা ফ্ল্যানেল পায়জামা ব্যবহার করে আপনি এমন একটি কাপড়ের মাস্ক তৈরি করতে পারেন। এটি ৬০ শতাংশ পর্যন্ত জীবাণু বা ভাইরাস ফিল্টার (পরিস্রাবণ) করতে সক্ষম।
  • এছাড়াও এইচপিএ ফিল্টার, ভ্যাকুমক্লিনার ব্যাগ এবং কুইলারের সুতো বিপদজনক কণাকে ফিল্টার করতে সাহায্য করে।
  • তবে যেগুলো বাড়ির বায়ু চলাচলে বাঁধা দেয় এমন ফাইবার ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। ভাইরাসের কণাগুলোকে ফিল্টার করা সত্ত্বেও এগুলি আপনার ফুসফুসকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

এই মাসের শুরুর দিকে আমেরিকার রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রগুলো (সিডিসি) আমেরিকানদের কোভিড-১৯ এর “বিস্তার কমানোর জন্য” জনসমাগম হয় এমন স্থানে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সার্জেন ডা জেনারেল অ্যাডামস টুইটারে একটি ভিডিওর মাধ্যমে জানিয়েছেন কিভাবে আপনার নিজের মাস্ককে উন্নত করা যায়।

তবে ডিআইওয়াই এর সুরক্ষার ক্ষেত্রে অবশই সতর্ক থাকতে হবে। আপনার বাড়িতে বানানো মাস্কটি আপনাকে কতটা সংক্রমিত হওয়া থেকে রক্ষা করবে তা আপনার তৈরিকৃত মাস্কের উপকরণের ওপর নির্ভর করবে।

সিডিসি জানিয়েছে, বাড়িতে তৈরি করা কাপড়ের মাস্ক বা স্বল্প ব্যয়ে তৈরিকৃত মাস্কগুলো অতিরিক্ত সেচ্ছাসেবীর জন্যও ব্যবহার করা যেতে পারে। সিডিসি আরও জানিয়েছেন যে, ভাইরাসের বিস্তার কমানোর জন্য কমপক্ষে ৬ ফুট সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষকে ডাব্লিউএইচও থেকে মাস্ক না পরার নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল । কারণ তারা মনে করেছিলেন সাধারণ মানুষের তুলনায় স্বাস্থ্য কর্মীদের মাস্ক বেশি প্রয়োজন এবং বাজারে মাস্ক স্বল্পতা ছিল।

তবে সিডিসি এখন ঘরে তৈরি মাস্ক এর ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কেক স্কুল অফ মেডিসিনের মেডিকেল শিক্ষার ক্লিনিকাল অধ্যাপক ড. বেনজামিন লাব্রোট বলেছেন, প্রথমদিকে মাস্ক সংকটের কারণে সাধারণ জনগণকে মাস্ক ব্যবহার না করার মতো ভুল নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু মাস্ক ব্যবহার ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ।

বাড়িতে তৈরি মাস্কগুলোর জন্য সেরা উপকরণ

লাব্রটের মতে, একটি সারজিক্যাল মাস্ক কেবলমাত্র ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ ভাইরাস কণা ফিল্টার করতে পারে যা এইসব মাস্কের জন্য স্বাভাবিক। তিনি আরও বলেন ৬০০ এর দ্বিগুণ পিলোকাসে (বালিশের ওয়ার) বা ফ্যানেল পায়জামা ব্যবহার করে আপনি একটি মাস্ক তৈরি করতে পারেন যা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কণাকে ফিল্টার করবে।

খুব সহজে আলোক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে আপনি মাস্কের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে নিতে পারে। যদি ফ্যব্রিকের মধ্য দিয়ে যত কম আলো পরিবাহিত হবে মাস্কটি আপনাকে তত বেশি সুরক্ষা দিবে। যত ঘন হবে ততই আপনি সুরক্ষিত হবেন।

সাধারণ সুতোর কাপড়ের চেয়ে কুইলটারের কাপড় বেশি উপযোগী

সুতির গেঞ্জি বা পায়জামা ছাড়াও আরও কিছু বিকল্প রয়েছে যা ভালো ফিল্টারের কাজ করে। লাব্রট বলেছেন, কিছু ডিআইওয়াই মাস্ক আছে যা আনুমানিক এন ৯৫ মাস্ক এর মত, কিন্তু তা একই সুরক্ষা দিতে পারছে কিনা সেদিকে লক্ষ্য রাখা জরুরি।

এইচইপিএ ফিল্টার, ভাকুয়াম ক্লিনার ব্যাগ প্রভৃতি ফিল্টার হিসেবে দুর্দান্ত কাজ করেছে। কুইলটারের সুতো ৪০ শতাংশ ফিলটারে সক্ষম, যা সাধারণ মাস্কের তুলনায় ভালো কাজ করে।

লাব্রট আরও জানান, যখন আপনি ঘন ফ্যাব্রিকের মাস্ক ব্যবহার করতে শুরু করবেন তখন আপনি কিছু সমস্যার সম্মুখীন হবেন। এর ফলে শ্বাস প্রশ্বাসে বাঁধা সৃষ্টি হতে পারে। আপনি যদি এমন কিছু ব্যবহার করে থাকেন যা তুলোর তৈরি নয় তাহলে আপনাকে অবশই সাবধান হতে হবে।

তথ্যসূত্র: হেলথলাইন

অনলাইনপ্রেস/আরএস/এনজে

ঠাণ্ডা ও সর্দি জ্বরের প্রাকৃতিক নিরাময়

ঠাণ্ডা ও সর্দি জ্বর

ঠাণ্ডা ও সর্দি জ্বরের ঘরোয়া সমাধান

জাকারিয়া: দ্রুত বদলাচ্ছে আবহাওয়া। মৌসুম বদলের এই সময়ে অনেকেই বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগে থাকেন এর মধ্যে জ্বর, ঠাণ্ডা, সর্দি-কাশি অন্যতম। আমাদের কাছে এই সমস্যাটি ঠাণ্ডা ও সর্দি জ্বর নামে পরিচিত।

এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আমরা সাধারণত নানা ওষুধের উপর নির্ভর করে থাকি। তবে আমেরিকার বিখ্যাত মায়ো ক্লিনিকের দেয়া তথ্য মতে, সাধারণ ঠাণ্ডা এবং সর্দি জ্বরের কোন চিকিৎসা নেই। এটি এমনিতেই সেরে যায়।

ঠাণ্ডা জ্বর ও সর্দি হয়ে থাকে ভাইরাসের ইনফেকশনের কারণে তাই অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারেও কোন সুফল পাওয়া যাবে না, কারণ অ্যান্টিবায়োটিক শুধুমাত্র ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে আপনি শুধুমাত্র উপসর্গগুলি কম করার জন্য ওষুধ খেতে পারেন। যেমন জ্বর বা মাথা ব্যথা কমাতে প্যারাসিটামল ব্যবহার করা যেতে পারে।

তবে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা ভেবে অনেকেই অ্যালোপ্যাথি ব্যবহার করতে চান না, তারা বেছে নেন প্রাকৃতিক সমাধান। ওষুধ আবিষ্কার হওয়ার আগে থেকে মানুষ বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপায় ব্যবহার করে জ্বর, ঠাণ্ডা, সর্দি-কাশি সহ অনেক রোগ নিরাময় করে আসছেন।

আসুন জেনে নিই প্রাকৃতিক উপায়ে জ্বর, ঠাণ্ডা, সর্দি-কাশি নিরাময়ের কিছু ভেষজ সমাধান সম্পর্কে

ঠাণ্ডা সারাতে মধুর ব্যবহার

ঠাণ্ডা, সর্দি-কাশির সমস্যা সমাধানের জন্য মধু খুবই উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে কফ নিরাময়েও এটি বেশ কার্যকর। উষ্ণ গরম পানিতে মধু মিশিয়ে নিয়মিত খেতে পারেন। তাছাড়া প্রতিদিন এক চামচ করে মধু খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন।

এছাড়া পবিত্র কোরআন মাজিদেও মধুর উপকারিতার কথা বলা আছে। মধুতে মানুষের জন্য রয়েছে রোগের প্রতিকার- সূরা আন-নাহাল।

হলুদ-দুধ ঠাণ্ডা ও সর্দি জ্বরের প্রথাগত চিকিৎসা

গরম দুধে কাঁচা হলুদ জাল করে খেতে পারেন। দীর্ঘদিন ধরে বাংলার থেকে গ্রামে গঞ্জে ঠাণ্ডা ও সর্দি জ্বর সারাতে এই দাওয়াই ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

হলুদকে বলা হয় প্রাকৃতিক অ্যান্টি ভাইরাল উপাদান। এটি আপনাকে ঠাণ্ডা থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে সহায়তা করবে। রাতে ঘুমানোর আগে হলুদ দুধ পান করুন।

তুলসি পাতা ঠাণ্ডা জ্বরে অত্যন্ত কার্যকর

প্রাচীনকাল থেকে বিভিন্ন রোগের ওষুধ হিসেবে তুলসী পাতার ব্যবহার হয়ে আসছে। তুলসী পাতা প্রচুর অক্সিজেন উৎপন্ন করে যা জ্বরের ও কাশির জন্য অনেক উপকারী।

এক চা চামচ আদার রসের সাথে তুলসী পাতার রস ও মধু মিশিয়ে খেলে দীর্ঘস্থায়ী কাশির উপশম হয়।

সর্দি-কাশি নিরাময়ে আদার উপকারিতা

ঠাণ্ডা বা সর্দি-কাশির প্রতিষেধক হিসেবে আদার কার্যকারিতা অনেক। আদা চিবিয়ে খেলে বা আদা দিয়ে ফোটানো গরম পানি পান করলে তাৎক্ষণিক গলা খুসখুস ও গলা ব্যথা নিরাময় হয়। এটি আপনাকে সর্দি-কাশি থেকে পরিত্রাণ পেতেও সহায়তা করবে।

আদাতে বিদ্যমান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।

আদা চা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। এটি একদিকে যেমন সুস্বাদু তেমনি ঔষধি গুণেও ভরপুর।

ঠাণ্ডার উপশমে লং বা লবঙ্গ

লং জ্বর, ঠাণ্ডা, সর্দি-কাশির ওষুধ হিসেবে বহু বছর ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। লং চিবিয়ে অথবা লং এর রস খেলে কফ, সর্দি, কাশি, গলা ফুলা আর শ্বাসকষ্টে সুফল পাওয়া যায়।

আপনি চাইলে লাল চায়ে লবঙ্গ মেশাতে পারেন।

থানকুনি পাতা

২ চামচ থানকুনি পাতার রসের সঙ্গে অল্প চিনি মিশিয়ে খেলে কাশি থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। একটানা এক সপ্তাহ খেলে কাশির কোন চিহ্নই থাকবে না।

ঋতু পরিবর্তনের সময় যে জ্বর হয় তা সারানোর জন্য থানকুনি পাতা বিকল্প নেই। ১ চামচ থানকুনি ও ১ চামচ শিউলি পাতার রস সকালে খালি পেটে খেলে অল্প সময়েই জ্বর সেরে যায়। শারীরিক দুর্বলতা থেকেও মুক্তি মেলে।

টক দই

এটি একটি পুষ্টিকর খাবার, এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল ও আমিষ। টক দই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এজন্য জ্বর, ঠাণ্ডা, সর্দি-কাশি থেকে বাঁচতে নিয়মিত টক দই খাওয়া উচিৎ।

এছাড়া জ্বরের সময় প্রচুর পরিমাণে পানি, ফল এবং ফলের রস খাবেন।

গরম পানির ভাপ

কোন বড় গামলায় গরম পানি নিয়ে তাতে নিশ্বাস নিন। এটি সর্দি গলিয়ে বের করে দিতে সহায়তা করবে। তাছাড়া এটি শুকনো কফ গলাতেও সহায়তা করে।

লবণ পানিতে কুলকুচি

হালকা উষ্ণ পানিতে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে সেই পানি দিয়ে কুলকুচি করুন। এটি আপনার গলা ব্যথা ও খুসখুস করা উপশম করবে।

প্রেস/জেএ/এনজে

তথ্যসূত্র: মায়ো ক্লিনিক, টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং হেলথ লাইন