ঘরোয়া উপায়ে শুষ্ক হাতের যত্ন

ঘরোয়া উপায়ে শুষ্ক হাতের যত্ন

ঘরোয়া উপায়ে শুষ্ক হাতের যত্ন

রিয়া সরকারঃ সারাদিনের কাজে আমাদের হাতের ওপর অনেক ঝড়-ঝাপটা যায় তবুও হাতের যত্ন নিতে আমরা অনেকেই অবহেলা করে থাকি।এই হাতের সাহায্যে আমরা টাইপিং থেকে শুরু করে রান্না-বান্না, বাসন ধোওয়া সবই করে থাকি। আর সারাদিনের পর যখন হাতের দিকে নজর পরে তখন তা রুক্ষ, শুষ্ক দেখায়। তাই মুখের যত্নের সাথে সাথে হাতেরও যত্নের খুবই প্রয়োজন।

যেসব কারনে হাত রুক্ষ ও শুষ্ক দেখায়

  • রোদ থেকে সুরক্ষিত থাকে না বলে আমদের হাত রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে যায়। রোদে বেরোনোর সময় আমরা অনেকেই মুখে সানস্ক্রিন লাগালেও হাতে অনেকেই তা ব্যবহার করিনা। তার ফলে সূর্যের রশ্মি আমাদের হাতে সরাসরি পরে এবং হাতের ত্বক রুক্ষ করে দেয়। তাই আমাদের উচিত মুখের সাথে সাথে হাতের ত্বকের ও যথাযথ পরিচর্যা করা।
  • প্রতিদিন ঘরের কাজ যেমন- কাপড় কাঁচা, বাসন ধোওয়া, রান্না করা ইত্যাদি করার ফলে হাত রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে যায়।
  • অতিরিক্ত ক্ষারযুক্ত সাবান/ ডিটারজেনট ব্যবহারের ফলেও হাত রুক্ষ হয়ে যায়।

রুক্ষতা দূর করতে যা করবেন

সুন্দর ও মসৃণ হাত আমরা সবাই চাই কিন্তু অনেক কারনেই হয়তো হাতের পরিচর্যা করা হয় না। কিছু সাধারন নিয়ম মানলেই আমরা আমাদের হাত কে সুন্দর ও মসৃণ রাখতে পারি।

  • সানস্ক্রিন ব্যবহারের সময় অবশ্যই পুরো হাতে এবং আঙ্গুলে লাগাতে হবে।
  • যতটা সম্ভব ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। যেহেতু ঘর কে পরিষ্কার রাখতে হবে তাই প্রয়োজনে হাতে গ্লাভস পরে কাজ করুন।
  • রাতে ঘুমানোর আগে হাতে মইশচারাইযার ব্যবহার করুন। এতে আপনার হাত কোমল ও মসৃণ হবে।

ঘরোয়া উপায়ে যেভাবে হাতের যত্ন নেবেন

রুক্ষ ত্বক শুধু মাত্র মুখের বা শরীরেরই হয় এমনটা নয়। দৈনন্দিন কাজের মধ্যে আমাদের হাত সব থেকে বেশি ব্যবহার হয়। তাই হাতের ত্বক ও রুক্ষ ও শুষ্ক হতে পারে। সবসময় বাইরের কেনা পণ্য ব্যবহার করা যায় না তাই ঘরোয়া কিছু উপায়ে হাতের যত্ন করা যেতে পারে। চলুন জেনে নিই সেই উপায়গুলো।

নারকেল তেল

নারকেল তেল শুধু চুলের যত্নে সাহায্য করে থাকে টা নয়। এটি আমাদের ত্বকের যত্নেও একি ভাবে সাহায্য করে। ২-৩ টেবিল চামচ নারকেল তেল নিয়ে পুরো হাতে লাগিয়ে ২-৩ ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। তাছাড়া নারকেল তেল সারারাত লাগিয়েও রাক্ষতে পারেন। এতে আপনার হাতের ত্বক মসৃণ ও নরম হবে ।

আরও পড়ুন: ত্বকের যত্নে নারকেল তেল

পেট্রোলিয়াম জেলি

রাতে ঘুমানোর আগে পেট্রোলিয়াল জেলি হাতে ভালো করে মেখে নিন। পেট্রোলিয়াম জেলি রুক্ষতা কমাতে দারুন কাজ করে।

মধু

মধুর উপকারিতা সম্পর্কে যতই বলা হোক না কেন টা যেন কম। মধু আমাদের শরীরের জন্য যেমন উপকারি তেমনি ত্বকের যত্নে এর গুনাগুন অতুলনীয়। হাতের যত্নে মধু দারুন কাজ করে থাকে। ২ থেকে ৩ চামচ মধু নিয়ে হাতে ভালো করে লাগিয়ে ৩০ মিনিট রেখে দিন। তারপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন। মধু আপনার হাতের রুক্ষতা দূর করবে এবং হাতের মইশচার ফিরিয়ে আনবে। আরও পড়ুন: ত্বকের যত্নে মধুর উপকারিতা : ঘরে বসে রূপচর্চা

বাদাম তেল/ আমানড অয়েল

৩ থেকে ৪ টেবিল চামচ বাদাম তেল নিয়ে হাতে ভালো করে মেখে নিতে হবে। আমানড অয়েলে রয়েছে ফ্যটি এসিড যা আপনার ত্বকের মসৃণটা ফিরিয়ে দিতে সাহায্য করে। এশেনসিয়াল সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন।

দুধ

রুক্ষ ত্বকের জন্য খুব খুবই উপকারী। প্রথমে একটি পাত্রে দুধ হালকা গরম করে নিয়ে তাতে ২০ মিনিটের মতো হাত ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে। এভাবে প্রতিদিন করলে খুব জলদি আপনি আপনার সমস্যার সমাধান মিলবে। দুধের উপকারিতা এবং পুষ্টিগুন সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন।

প্রতিদিনের ব্যস্ত সময়ের মধ্যেও কিছুটা সময় বের করে এই ঘরোয়া উপায়গুলোর সাহায্যে আপনি আপনার হাতের যত্ন নিতে পারেন। নিজেকে সুন্দর রাখুন ও সুস্থ থাকুন।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

ঘরোয়া উপায়ে চোখের নিচের কালো দাগ/ ডার্ক সার্কেল দূর করুন

চোখের নিচের কালো দাগ

ঘরোয়া উপায়ে চোখের নিচের কালো দাগ/ ডার্ক সার্কেল দূর করুন

রিয়া সরকারঃ উজ্জ্বল ফর্সা ত্বক পাওয়াটা প্রত্যেকের চাহিদা হলেও তা পাওয়াটা সহজ নয়। তার ওপর যদি চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে যায় তাহলে সেটা দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়ায়। 

চোখের নিচের কালো দাগ ছেলে মেয়ে প্রত্যেকেরই হতে পারে। এর কারনে আপনার মুখের সৌন্দর্য নষ্ট হয় এবং আপনার ত্বককে নিস্তেজ ও ক্লান্ত দেখায়। দুর্ভাগ্যক্রমে হলেও এটা সত্যি যে চোখের নিচের কালো দাগ দূর করা খুব কষ্টসাধ্য ও সময় সাপেক্ষ। এর কারনে আপনাকে অনেক সময়ই আপনার বয়সের তুলনায় বয়স্ক দেখায়।

যেসব কারনে চোখের নিচে কালো দাগ হয়ে থাকেঃ

যেকোনো বয়সেই চোখের নিচে কালো দাগ বা ডার্ক সার্কেল পরতে পারে। এটি মুলত নিজেদের অসতর্কতার কারনে হয়ে থাকে। চোখের নিচে কালো দাগ হওয়ার কারন গুলো জানা খুবই প্রয়োজনীয়। এসব কারন জানা থাকলে আপনি প্রথম থেকেই তা প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

প্রথম ও প্রধান কারন হল ঘুম কম হওয়া অথবা অতিরিক্ত ঘুম, যার ফলে  আপনার চোখের নিচের অংশ অনেকাংশে ফ্যাঁকাসে ও নিস্তেজ দেখায়।

এছাড়াও বলা হয়ে থাকে বয়স বাড়ার সাথে সাথে  চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে যায়। আরেকটি কারন হল, চোখে অতিরিক্ত চাপ পরা। যেকোনো কারনেই যেমন- অনেক সময় ধরে মোবাইল ব্যাবহার করা, বা কম্পিউটারের দিকে অনেক্ষন তাকিয়ে থাকলে আপনার চোখে অতিরিক্ত চাপ পরে এবং ধীরে ধীরে চোখের নিচে কালো দাগ পরতে শুরু করে। এছাড়াও, ডিহাইড্রেশন, সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি বা জন্মগত কারনেও হয়ে থাকে।

ঘরোয়া উপায়ে যেভাবে কালো দাগ দূর করবেনঃ

সময় সাপেক্ষ হলেও ঘরোয়া কিছু সাধারণ উপায়ে আপনি এই সমস্যার হাত থেকে রক্ষা পেতে পারেন।

ঠাণ্ডা সেক

চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতে ঠাণ্ডা সেক খুবই উপকারি। ১ টুকরো বরফ নিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে রাখুন ১০ মিনিট পর্যন্ত, দিনে ২ বার। এভাবে ব্যবহার করতে থাকলে আস্তে আস্তে কালো দাগ চলে যাবে এবং চোখে ফোলা ভাবও দূর করবে।

শশা

শশায় রয়েছে ভিটামিন সি যা ত্বকের উজ্জলতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়াও শশা চোখের নিচের কালো দাগ দূর করে থাকে। ১টি শশাকে গোল গোল করে টুকরো করে ঠাণ্ডা অবস্থায় চোখের ওপর ধরে রাখুব ১০ মিনিট। তারপর কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। এছাড়াও শসার রসের সাথে লেবুর রস মিশিয়ে চোখের নিচে লাগিয়ে নিতে পারেন। এভাবে দিনে ২বার লাগিয়ে নিলে খুব তারাতারি চোখের নিচের কালো দাগ দূর হবে।

টমেটো

টমেটো তে রয়েছে ভিটামিন সি এবং লাইকোপেন। লাইকোপেন ত্বকের কালচেভাব দূর করার সাথে সাথে ত্বকের কোষ গুলোকে ভালো রাখতে সাহায্য করে।

যেভাবে ব্যবহার করবেন

লেবুর রসের সাথে টমেটোর রস মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে নিতে হবে। ১০মিনিট পর কুসুম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। এভাবে দিনে ২বার করে ব্যবহার করলে ত্বকের কালচে ভাব আস্তে আস্তে কমে যাবে।

আলু

আলু খেতে যেমন সবাই খুব ভালোবাসে তেমনি আলু ত্বকের জন্য খুবই উপকারি। আলু ত্বকের নানান সমস্যা সমাধান করে থাকে। আলুর মধ্যেও ভিটামিন সি রয়েছে যা আপনার ত্বককে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে এবং ত্বকে রোদে পোরার দাগ, ব্রণের দাগ বা যেকোনো রকমের দাগ দূর করতে সাহায্য করে।
যেভাবে ব্যবহার করবেনঃ ১টি আলুকে গ্রেট করে রস বের করে নিতে হবে। তারপর আলুর রস আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে রাখতে হবে। ১০মিনিট পর কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। এটি রোজ লাগান যেতে পারে, যতদিন পর্যন্ত না আপনার কালো দাগ দূর হয়।

নারকেল তেল এবং ভিটামিন ই

চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতে নারকেল তেল এবং ভিটামিন ই তেল খুবই উপকারি। এই তেল আপনার বলিরেখা দূর করতেও সাহায্য করে। কালো দাগ দূর করতে আপনাকে দুটো তেল একসাথে মিশিয়ে লাগাতে হবে। রাতে ঘুমানোর আগে আপনার চোখের নিচে লাগিয়ে সারারাত রেখে দিন। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। রোজ ব্যবহার করলে এর ফল খুব দ্রুত পাওয়া যাবে।

এগুলো হল খুব সাধারণ ঘরোয়া কিছু উপায় যা ব্যবহার করে আপনি আপনার চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতে পারবেন। এছাড়াও পর্যাপ্ত ঘুম ও ব্যায়াম খুবই জরুরি। আর অবশ্যই রোদে বেরোনোর আগে সানগ্লাস পরতে হবে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি।

প্রেস/আরএস/এনজে

তুলসী পাতার উপকারিতা, পুষ্টিগুন ও ব্যবহার

তুলসী পাতা

তুলসী পাতার উপকারিতা, পুষ্টিগুন ও ব্যবহার

তুলসী একটি গুল্ম যার মাটির উপরে থাকা গাছের অংশগুলি ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। তুলসী পাতার উপকরিতা অনেক এবং এটি নানা পুষ্টিগুনে ভরপুর। প্রাচীন কাল থেকেই তুলসী গাছের পাতা ব্যবহৃত হয়ে আসছে ওষুধ তৈরিতে।

তুলসী পাতা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থানীয় একটি গাছ। চোখের রোগ থেকে শুরু করে, দাদ, পোকামাকড়ের কামড়, পেটের চিকিৎসা সব কিছুতেই তুলসী পাতার চিকিৎসার ইতিহাস রয়েছে। পাতা থেকে বীজ পর্যন্ত তুলসী শরীর, মন এবং আত্মার জন্য একটি টনিক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

বিভিন্ন অবস্থায় চিকিৎসার জন্য গাছের ভিন্ন ভিন্ন অংশের পরামর্শ দেয়া হয়, যেমন-

  • ব্রঙ্কাইটিসের জন্য তুলসী গাছের তাজা ফুল ব্যবহার করা।
  • ম্যালেরিয়ার জন্য কালো মরিচ সহ পাতা এবং বীজ ব্যবহার করা।
  • ডায়রিয়া, বমি বমি ভাবের জন্য পুরো উদ্ভিদটি ব্যবহার করা।
  • দাউদ, এক্সিমার জন্য এর তৈরি মলম বা পাতা বেটে এর পেস্ট ব্যবহার করা।
  • পেটের আলসার অথবা চোখের রোগের জন্য তুলসী পাতা থেকে তৈরি এলকোহলের নির্যাস ব্যবহার করা।
  • পোকা মাকড়ের কামড়ের জন্য এ পাতার তৈরি তেল ব্যবহার করা।

তবে অবশ্যই এগুলো ব্যবহার করার সময় আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলে নিবেন।

তুলসী পাতার পুষ্টিগুন

তুলসী পাতায় রয়েছে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, ক্যালসিয়াম, দস্তা, আয়রন, পত্রহরিৎ। তাছাড়াও এন্টিঅক্সিডেন্ট এবং এন্টিব্যক্টেরিয়াল উপাদান রয়েছে।

তুলসী পাতার উপকরিতা সমূহ

তুলসী পাতার ব্যবহারে মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ হ্রাস পায়

তুলসী গাছের সমস্ত অংশ অ্যাডাপ্টোজেন হিসেবে কাজ করে। অ্যাডোপ্টোজেন হলো প্রাকৃতিক পাদার্থ যা আপনার শরীরকে মানসিক চাপের সাথে মানিয়ে নিতে সহায়তা করে এবং মানসিক ভারসাম্যকে প্রোমট করে।

তবে বিজ্ঞান বলে তুলসীতে আপনার মনকে বিভিন্ন ধরনের স্ট্রেস সহ্য করতে সহায়তা দেয়ার ফার্মাকোলজিকাল বৈশিষ্ঠ্য রয়েছে। রাসায়নিক, শারীরিক, সংক্রামক, আবেগপ্রবন, যৌন সমস্যা, ঘুমের অভাব, বিস্মৃতি এবং অবসাদ এ ধরনের চাপ কমাতে নিয়মিত তুলসী পাতা গ্রহনের তুলোনা হয় না।

আয়ুর্বেদিক এবং ইন্ট্রিগেটিভ মেডিসিন জার্নাল অনুসারে, তুলসী পাতায় ডায়াজেপাম ও অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট বৈশিষ্ঠ্য রয়েছে। একটি সমিক্ষায় দেখা গেছে যেসব ব্যাক্তিরা প্রতিদিন ৫০০ মিলিগ্রাম তুলসী পাতার নির্যাস গ্রহণ করেন তারা কম উদ্বেগ, চাপ ও হতাশাগ্রস্থ বোধ করেন। আয়ুর্বেদরা তুলসী পাতার চা ব্যবহারের পরামর্শ ‍দিয়ে থাকেন। যেহেতু এটি কেফিন মুক্ত তাই প্রতিদিন পান করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

উদ্দীপনা এবং শরীরকে প্রাণবন্ত করতে তুলসী উপকারী

তুলসীতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে এন্টিঅক্সিডেন্ট। যা আপনার শরীরকে বিষমুক্ত করে থাকে। তুলসী পাতা আপনার শরীরকে  বিষাক্ত রাসায়নিক থেকে রক্ষা করতে পারে। তুলসী পাতা ক্যান্সারের কোষ বৃদ্ধির ক্ষমতাকে হ্রাস করে ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারে।

সংক্রামন থেকে রক্ষা এবং এর ক্ষতির চিকিৎসা হয় তুলসী পাতায়

তুলসী পাতায় থাকা এক্সট্রাক্ট ক্ষত নিরাময়ের গতি ও শক্তি বাড়ানের জন্য উপকারী। তুলসী পাতা হলো ব্যাক্টেরিয়া বিরোধী, সংক্রামন বিরোধী, এন্টিফাংগাল, তাপ প্রদাহ বিরোধী এবং বেদনানাশক। অনেকেই ক্ষত নিরাময়ের প্রাকৃতিক চিকিৎসা সরূপ তুলসী পাতা ব্যবহার করে থাকে। তুলসী পাতা ক্ষত সারানোর শক্তি, নিরাময়ের সময় এবং সংকোচনকে বাড়িয়ে তোলে।

রক্তে সুগার কমাতে তুলসী পাতা উপকারী

আপনার যদি প্রিডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিস থেকে থাকে তাহলে তুলসী গাছের সমস্ত অংশ আপনার রক্তের শর্করাকে হ্রাস করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে তুলসী পাতা ডায়াবেটিসের লক্ষণ গুলিকে রোধ করতে সহায়তা করতে পারে। যেমন- ওজন বৃদ্ধি, উচ্চ কোলেস্টরল, মূত্র নিরোধক, উচ্চ রক্তচাপ ও রক্তে ইনসুলিন।

তবে অবশ্যই আপনার ডায়েটে তুলসী পাতা যুক্ত করার আগে ডাক্তারের সাথে কথা বলে নিবেন। যদি আপনি রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রনের জন্য ইতিমধ্যে ওষুধ গ্রহন করে থাকেন তবে এটি আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা আরোও কমিয়ে দিতে পারে।

প্রদাহ এবং জয়েন্টের ব্যাথা কমাতে তুলসী পাতা উপকারী

তুলসী পাতা আরামদায়ক, উদ্বেগ এবং প্রদাহ মোকাবেলা করতে সক্ষম। এটি বাতের ব্যাথা ও ফাইব্রোমাইজালিয়াতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সহায়তা করতে পারে। কারণ এতে রয়েছে এন্টিঅক্সিডেন্ট ও এন্টিইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ঠ্য যা এডাপ্টোজেন হিসেবে কাজ করে থাকে।

পেটের সুরক্ষায় তুলসী পাতা উপকারিতা অনেক

তুলসী পাতার আলসার মোকাবেলার ক্ষমতা রয়েছে। তুলসী পাতা প্রাকৃতিক ভাবে আপনার পেটের প্রতিরক্ষা বৃদ্ধি করে। যেমন- এসিড হ্রাস করা, শ্লেষ্মা নিঃসরণ করা, শ্লেষ্মা কোষ বৃদ্ধি ও শ্লেষ্মা কোষের জীবন প্রসারিত করা।

পেপটিক আলসারের ওষুধের অনেক ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে যা কিছু মানুষের মধ্যে অস্বস্তি এনে দিতে পারে। এই রোগের চিকিৎসায় তুলসী পাতা বিকল্প হতে পারে।

তাছাড়া ঝাঁকুনি, ক্ষুধা হ্রাস, অন্ত্রের গ্যাস, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং আরো অনেক পেটের সমস্যা সমাধানের জন্য তুলসী পাতা ব্যবহার হয়ে থাকে।

ব্যবহার পদ্ধতি

পাতা, ফুল বা শুকনো পাতার গুড়া ব্যবহার করে আপনি তুলসী পাতার চা তৈরি করতে পারেন। এক কাপ ফুটন্ত জলে ২-৩ চামচ ‍তুলসী রেখে তা ৫-৬ মিনিট ফুটিয়ে চায়ের মতো করে পান করতে পারেন।

এর পাতা রান্নাতেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। অনেকেই আবার কাঁচা খেয়ে থাকেন। তুলসীর স্বাদ মশলাদার এবং তেতো। তুলসী গাছের পাতা এবং ফুল থেকে তেল নিঃসরণ করা হয়। তুলসী তেলেরও নানা ঔষুধি গুণাগুণ রয়েছে।

তথ্যসূত্র: হেলথলাইন।

প্রেস/জেএ/এনজে

আমের উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিন

আমের উপকারিতা

আমের উপকারিতা

রিয়া সরকারঃ আম আমাদের সবারই খুব প্রিয় ফল, স্বাদে অনন্য আমের উপকারিতা অনেক। পৃথিবীর অনেক জায়গাতে আম কে ফলের রাজা বলা হয়। খেতে যেমন ভালো তেমনি এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণের পুষ্টিগুণ।

গবেষণায় দেখা গেছে, আম আমাদের ইমিউনিটি সিস্টেমকে ভালো রাখার সাথে সাথে হজম শক্তি বাড়ায় এবং দৃষ্টিশক্তিকে আরও উন্নত করতে সাহায্য করে। এমনকি আম ক্যন্সারের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে।

ক্যান্সার রোধে আমের উপকারিতা

ডাক্তারের মতে, আমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ এনটিঅক্সিডেন্ট যেমন- কোরেসেটিন, ফিসেটিন, গ্যালিক এসিড, মিথাইল গ্যালেট যা আমাদের শরীরকে স্তন ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার, প্রস্টেট ক্যান্সার এবং লিউকেমিয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।

কোলেসটরল কমাতে আমের উপকারিতা

আমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ফাইবার ও পেকটিন যার ফলে রক্তে খারাপ কোলেসটরল বা লো ডেনসিটি লিপো-প্রোটিন কমিয়ে আনতে সাহায্য করে।

ত্বক পরিষ্কার রাখতে আমের উপকারিতা

আমে রয়েছে ভিটামিন সি ও ভিটামিন এ যা ত্বককে ভালো রাখতে খুবই উপকারী। আমের পুষ্টিগুণ ত্বকের মৃতকোষ দূর করে ত্বকে নতুন জেল্লা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।

দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে আমের উপকারিতা

প্রতিদিনের ডায়েটে আম থাকা খুব উপকারী, কারণ আম আমাদের দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। আমে রয়েছে প্রচুর বিটা ক্যারোটিন যা ভিটামিন এ উৎপাদন করতে সাহায্য করে। আমের এনটিঅক্সিডেনট দৃষ্টিশক্তি উন্নত করার সাথে সাথে বার্ধক্য জনিত নানান চোখের সমস্যা সমাধান করে থাকে।

হজম শক্তি ভালো রাখতে আমের উপকারিতা

আম একটি এনজাইম যুক্ত ফল যা আমাদের শরীরের অতিরিক্ত প্রোটিনের পরিমাণ কমায়। আমের আঁশের গুনাগুণ হজমে ও পরিপাকে সহায়তা করে। এছাড়াও আমে যেহেতু প্রচুর পানি এবং ফাইবার রয়েছে তাই এটি কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যার সমাধান করে থাকে।

ইমিউন সিস্টেমকে ভালো রাখতে আমের উপকারিতা

আমে ভিটামিন সি, এ এবং অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের ক্যারোটিনয়েড থাকে। ভিটামিন এ শরীরের ইমিউনিটি সিস্টেম কে ভালো রাখতে খুবই উপকারী কারণ ভিটামিন এ আমাদের যেকোনো ধরনের ইনফেকশনের হাত থেকে রক্ষা করে থাকে এবং ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর সাথে সাথে আপনার ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা ও দূর করে থাকে। এছাড়াও আমে রয়েছে ভিটামিন কে, ই, এবং ভিটামিন বি যা আপনার ইমিউন সিস্টেমকে ভালো রাখতে দারুণ উপকারী।

এছাড়া যাদের শরীরে আইরন বা ক্যালসিয়ামের ঘাটতি রয়েছে তাদের আম খাওয়া উচিত কারণ আমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আইরন ও ক্যালসিয়াম।

আরও পড়ুন: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় কাঁচা হলুদ

ডাইবেটিকস নিয়ন্ত্রণে আমের উপকারিতা

আমরা অনেকেই হয়ত ভেবে থাকি যে আম মিষ্টি তাই ডাইবেটিকস রোগীদের আম খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কিন্তু এই ধারনাটি একদমই ভুল। খেতে মিষ্টি হলেও আম ডাইবেটিকস রোগীরাও খেতে পারবেন। আমের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স গড় ৪১ থেকে ৬০ পর্যন্ত যা গড়ে ৫১ হয়। ৫৫ এর কম হলে তা ডাইবেটিকস রোগীদের জন্য নিরাপদ হিসেবে ধরা হয়। কম গ্লাইসেমিক খাবার গুলো রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অতিরিক্ত বাড়ায় না। যার ফলে শরীরে কোন প্রকার অসুবিধা তৈরি হয়না এবং ফাইবার সমৃদ্ধ বলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

আমে ক্যালরি কম কিন্তু পুষ্টিতে ভরপুর। জেনে নেওয়া যাক ১কাপ আমের (১৬৫ গ্রাম) পুষ্টিগত উপাদান।

ক্যালরি: ৯৯
প্রোটিন: ১.৪ গ্রাম
কার্বসঃ ২৪.৭ গ্রাম
ফ্যাটঃ ০.৬ গ্রাম
ডাইবেটিক ফাইবারঃ ২.৬ গ্রাম
ভিটামিন সিঃ ৬৭%
কপারঃ ২০%
ফলেটঃ ১৮%
ভিটামিন বি ৬ঃ ১১.৬%
ভিটামিন এঃ ১০%
ভিটামিন ইঃ ৯.৭%
ভিটামিন বি ৫ঃ ৬.৫%
ভিটামিন কেঃ ৬%
নিয়াসিনঃ ৭%
পটাসিয়ামঃ ৬%
রিবফ্লেবিনঃ ৫%
ম্যঙ্গানিসঃ ৪.৫%
থায়ামিনঃ ৪%
ম্যগ্নেসিয়ামঃ ৪%

তথ্যসূত্র: হেলথলাইন, আর্টিক্যালস হাউ

থানকুনি পাতার উপকারিতা সম্পর্কে জানুন

থানকুনি পাতার উপকারিতা

থানকুনি পাতার উপকারিতা

থানকুনি পাতার পুষ্টিগুনের জন্য ঐতিহ্যবাহী চীনা এবং আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় এর বেপক প্রচলন ‍ছিল। উপকারিতা কথা বিবেচনা করলে এটি অন্যতম একটি আয়ূর্বেদিক উপাদান। ইনফেকশন, পোড়া, দাগ, শরীর ছিলে যাওয়া সহ নানান জটিলতার প্রাথমিক চিকিৎসায় থানকুনি পাতার ব্যবহার হয়। থানকুনি পাতায় এমন কিছু রাসায়নিক রয়েছে যা প্রদাহ এবং শিরাগুলিতে রক্তচাপ কমায়। থানকুনি পাতা কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায় যা ক্ষত নিরাময়ে সহায়তা করে।

থানকুনি পাতা জয়েন্টের ব্যাথার উপশম করতে সাহায্য করতে পারে

থানকুনি পাতায় থাকা এন্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বাত চিকিৎসার ক্ষেত্রে কার্যকরি হতে পারে। এর ফলে যৌথ প্রদাহ, কার্টিলেজ ক্ষয় এবং হাড়ের ক্ষয় হ্রাস পায়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকার ফলে থানকুনি পাতা দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাতেও প্রভাব ফেলে।

একটানা দুই সপ্তাহ ৫০০ মিলিগ্রামের মতো পাতা নিয়ে থেতলে ব্যাথার জাগায় লাগালে পারেন।

শরীরে উৎপন্ন বিষক্রিয়ার প্রভার হ্রাস করতে পারে থানকুনি পাতা

অ্যান্টিবায়োটিকের বিষাক্ত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দমন করতে থানকুনি পাতা ব্যবহার করা যেতে পারে। তাছাড়াও যক্ষার চিকিৎসাতেও এর ব্যবহার হয়ে থাকে।

ইঁদুরের উপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, অ্যান্টিবায়োটিক দেয়ার আগে ৩০ দিনের জন্য এসব ইঁদুরকে ১০০ ‍মিলিগ্রাম করে থানকুনি পাতা দেওয়া হয়েছিলো। যার ফলে এদের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিকের বিষাক্ততা কাজ করেনি।

আরও পড়ুন: শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে লেবুর উপকারিতা

থানাকুনি পাতা স্মৃতিশক্তি বাড়াতে উপকারি ভুমিকা রাখে

২০১৬ সালে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে থানকুনি পাতায় থাকা এক্সট্রাক্ট ও ফলিক এসিডের প্রভাবে স্ট্রোক করা রোগীর মস্তিষ্কের ফাংশন আরও বেশি সক্রিয় হয়েছে। এ সমিক্ষায় রোগীদের তিনটি গ্রুপে ভাগ করে পরিক্ষা করা হয়। প্রথম গ্রুপে ১০০০ মিলিগ্রাম থানকুনি পাতা দেয়া হয়, ‍দ্বিতীয় গ্রুপে ৭৫০ মিলিগ্রাম থানকুনি পাতা দেয়া হয়, এবং তৃতীয় গ্রুপে ৩ মিলিগ্রাম করে ফলিক এসিড দেয়া হয়।

যদিও থানকুনি পাতা ও ফলিক এসিড ‍দুটোই মস্তিষ্কের সচলতা বাড়াতে সমান ভাবে উপকারী, তবে থানকুনি পাতা মেমোরির ডোমেন বাড়াতে বেশী কার্যকরি। এজন্য নিয়মিত থানকুনি পাতা খেতে পারেন ১০০০ মিলিগ্রামের মতো।

থানকুনিপাতা আলঝাইমার রোগের ‍চিকিৎসায় উপকারী

থানকুনি পাতায় মেমোরি এবং স্নায়ুর ফাংশন বাড়ানোর ক্ষমতা রয়েছে। যার ফলে এটি আলঝাইমার রোগের চিকিৎসা করার ক্ষমতা রাখে বলে ধারণা করা হয়।

২০১২ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে থানকুনি পাতা আলঝাইমার রোগের উপর ইতিবাচক প্রভার ফেলে। মস্তিষ্কের কোষ গুলিকে বিষক্রিয়ার হাত থেকে রক্ষা করে এবং একটি ফলক তৈরি করে যা আলঝাইমার হাত থেকে রক্ষা করে। তবে গবেষকদের মতে এ রোগের ‍চিকিৎসায় থানকুনি পাতার প্রভাব নিয়ে আরো গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

উদ্বেগ এবং চাপ কমাতে থানকুনি পাতার উপকারিতা

ঘুম কম হলে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়ে যায়। গবেষকদের মতে থানকুনি পাতার পুষ্টি উপাদান উদ্বেগ হ্রাস করতে সহায়তা করে।

ঘুম কম হলে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়ে যাবে, অ্যাক্সিডেটিভ ক্ষতি হবে এবং নিউরোইনফ্লেমেশন হবে। এজন্য যাদের ঘুম কম তারা নিয়মিত থানকুনি পাতা খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। যাদের ঘুম কম তারা দুই সপ্তাহ ৫০০ মিলিগ্রাম পরিমাণে থানকুনি পাতার রস খেতে পারেন।

ডিপ্রেশন দূর করতেও থানকুনি পাতার উপকারিতা

মস্তিষ্কের ক্রিয়ার উপর থানকুনি পাতার ইতিবাচক প্রভাব ডিপ্রেশন দূর করতে সহায়তা করতে পারে। ২০১৬ সালে ৩৩ জন ডিপ্রেশনের রোগীর উপর একটি গবেষনা করা হয়। তখন তাদেরকে ৬০ দিন ডিপ্রেশনের ওষুধের বদলে থানকুনি পাতা খাওয়ানো হয়। এরপর তারা নিজেরাই বলে যে তাদের মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও হতাশা অনেকাংশে কমে গেছে। ডিপ্রেশনের সময় শরীরের ওজন, তাপমাত্রা ও হার্টরেট এর তারতম্য দেখা দেয়া। থানকুনি পাতার প্রভাবে এগুলোও সাভাবিক থাকে।

রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি এবং শরীর ফোলা কমাতে সহায়তা করতে পারে থানকুনি পাতা

প্রায় দুই হাজারের মতো বিশ্বস্ত উৎস থেকে প্রাপ্ত গবেষণায় দেখা গেছে থানকুনি পাতা রক্তপ্রাত বন্ধ করা, গোড়ালি ফোলা এবং ৩ ঘন্টার বেশী লম্বা ফ্লাইটে বসে থাকার ফলে ব্যাথার প্রভাবকে কমাতে সহায়তা করে। এছাড়াও ভেরিকোজ শিরা চিকিৎসা করতে থানকুনি পাতা কার্যকর হতে পারে।

ঘুম কম বা ইনসমনিয়ায় যারা আক্রান্ত তাদের জন্য থানকুনি পাতা উপকারী

থানকুনি পাতায় উদ্বেগ, স্ট্রেস ও হতাশার চিকিৎসা সম্ভব। এজন্য অনিদ্রার চিকিৎসার জন্য এ পাতা কার্যকর হতে পারে। কারণ ঘুম কম হলেই উদ্বেগ, স্ট্রেস ও হতাশা মানুষের মধ্যে বেশি কাজ করে। ডাক্তারদের মতে অনিদ্রার সমস্যা দূর করতে থানকুনি পাতা ভেষজ প্রতিকার। অনিদ্রা বা ইনসমনিয়ায় ভূগলে ২/৩ সপ্তাহ দৈনিক তিনবার ৩০০মিলিগ্রামের মতো থানকুনি পাতা খেতে পারেন।

ত্বকের দাগকে কমাতে সহায়তা করে থানকুনি পাতা

দাগ মুক্ত সুন্দর ত্বক কার না পছন্দ? কিন্ত ব্রণ, কেটে যাওয়া সহ নানা কারণে আমাদের ত্বকে দাগের সৃষ্টি হয়। এই দাগ দূর করতে আমরা অনেক কিছুই করে থাকি, আবার অনেক সময় ক্যামিক্যাল পণ্য ব্যবহারে ত্বক আরও নষ্ট হয়। অথচ খুব সহজে থানকুনি পাতায় এর সমাধান পেতে পারেন।

ডাক্তাররা মনে করেন থানকুনি পাতায় থাকা টেরপোনয়েড উপাদান শরীরে কোলজেন উৎপাদন বাড়ায়। কোলজেন দাগ পড়ার হাত থেকে ত্বককে রক্ষা করে, শুধু তাই নয় পুরাতন দাগ দূর করতেও এই উপাদানটি অনেক বেশি কার্যকর।

ত্বকের দাগ দূর করতে আক্রান্ত স্থানে প্রতিদিন ‍দুইবার করে থানকুনি পাতার রস অথবা এর মলম ব্যবহার করতে পারেন।

রূপচর্চা বিষয়ক আরও আর্টিক্যাল পড়তে ক্লিক করুন-

ক্ষত নিরাময় করতে থানকুনি পাতা উপকারী

থানকুনিপাতা অনেক ধরনের ক্ষত নিরাময়ে প্রভাব ফেলে। ধারালো কিছু দিয়ে কাঁটলে, পরে গিয়ে কেটে গেলে অথবা পুরানো কিছুর সাথে লেগে কেটে গেলে থানকুনি পাতা নিয়ে থেতলে ক্ষতস্থানে মেখে নিন। এবপর যতদ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ক্ষত স্থানের প্রাথমিক চিকিৎসায় থানকুনি পাতা অনেক কার্যকর।

সাধারণ সতর্কতা এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

অনেকের ক্ষেত্রে থানকুনি পাতা মাথা ব্যাথা, পেট ব্যাথা এবং মাথা ঘোরানোর কারণ হতে পারে। এজন্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে অল্প করে শুরু করুন।  যদি বেশি সমস্যা হয় তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

থানকুনি পাতা ব্যবহার করবেন না, ‍যদি আপনি-

  • গর্ভবতী হয়ে থাকেন।
  • সন্তানকে বুকের দুধ পান করাচ্ছেন।
  • হেপাটাইটিস বা লিভারের অন্যান্য রোগ থেকে থাকে।
  • ১৮ বছরের নিচে হলে।
  • ত্বকে ক্যান্সারের সমস্যা থাকলে।

অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শে ব্যবহার করুন যাদি আপনার-

  • ডায়াবেটিস থাকে।
  • উচ্চ কোলেস্টোরেল থাকে।
  • ঘুম বা উদ্বেগের জন্য নিয়মিত ওষুধ খাওয়ার দরকার হয়।
  • যদি মূত্রবর্ধক ব্যবহার করে থাকেন।

যদিও সাধারন ভাবে ব্যবহারের জন্য থানকুনি পাতা নিরাপদ তবুও বেশী মাত্রায় কখনো ব্যবহার করবেন না। অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার করবেন।

তথ্যসূত্র: হেলথলাইন.কম

প্রেস/জেএ/এনজে

পুদিনা পাতার উপকারিতা ও গুনাবলি

পুদিনা পাতা

পুদিনা পাতার উপকারিতা ও গুনাবলি

জাকারিয়া: পুদিনা পাতার উপকারিতা ও গুনাবলি অনেক। প্রচীনকাল থেকে পরিচিত রন্ধন ‍উপাদানগুলোর একটি পুদিনা পাতা। তবে শুধু রান্নার উপাদান বললে ভুল হবে, পুদিনা পাতার রয়েছে অনেক উপকারী ওষুধি গুনাগুন।

ডাক্তারদের মতে পুদিনা পাতায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে এন্টিঅক্সিডেন্ট, যা সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে খুবই প্রয়োজনীয়। সহজেই সবুজ সালাদ, স্মুদি, মিষ্টি, চা, চাটনি এবং এমনকি পানির সাথে মিশেয়েও আপনি পুদিনা পাতা খেতে পারেন।

পুদিনা পাতার পুষ্টিগুন

ক্যালোরি, ফাইবার, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, ফসফরাস, পটাসিয়াম, আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ, ফলেট, প্রোটিন, এন্টিঅক্সিডেন্ট, ক্যালসিয়াম।

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা সমাধানে পুদিনা পাতার উপকারিতা

বিরক্তিকর পেট ব্যাথা এবং বদহজম কমাতে হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ পুদিনা পাতার ব্যবহার করে আসছে। গবেষকদের দেওয়া তথ্য মতে বদহজম, আইবিএস, শিশুদের পেটে ব্যাথা সহ অনেক গুলি গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল অবস্থার প্রতিকার হিসেবে পুদিনাপাতা উপকারী ভূমিকা পালন করে থাকে। এতে থাকা এন্টঅক্সিডেন্ট ক্ষতিকারক জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করে।

এলার্জির সমস্যা সমাধানে পুদিনা পাতা উপকারি

পুদিনা গাছে রয়েছে এন্টিঅক্সিডেন্ট এবং ইনফ্লেমেটোরি এজেন্ট। এই উপাদানগুলি হাঁপানির লক্ষন কমাতে সহায়তা করে থাকে। পুদিনায় থাকা এন্টি-এলার্জিনিক প্রভাব শরীরে এলার্জির ক্ষতিকারক সমস্যাগুলিকে দূর করে দেয়। তবে এলার্জির সমস্যার জন্য পুদিনা খাওয়া থেকে এর  তেল ব্যবহারের উপকারিতা বেশি।

সাধারণ ঠান্ডা-কশি সমাধানে পুদিনা পাতার উপকারিতা

পুদিনায় মেন্থল থাকে যা সুগন্ধযুক্ত ডোনজেস্ট্যান্ট। এটি কফ ও শ্লেষ্মা কমাতে সহায়তা করে থাকে। এর ফলে কফ বেরিয়ে যায়। বাচ্চাদের ঠান্ডা লেগে বুকে কফ জমলে মেন্থল যুক্ত মলম বা বাম বুকে, পিঠে ঘষে চিকিৎসা করা যায়। তবে শিশুর ঠান্ডার সমস্যা গুরুতর হয়ে গেলে বাচ্চাদের এ ধরনের চিকিৎসা না ‍দিয়ে সরাসরি ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

আরও পড়ুন: ঠাণ্ডা-কাশি নিরাময়ের প্রাকৃতিক উপায় সমূহ

ডায়েটের জন্য পুদিনা পাতা উপকারী

নরম কান্ডযুক্ত এক অনন্য ভেষজের নাম হলো পুদিনা পাতা। এগুলো রান্নার প্রক্রিয়া শেষে খাবারে যুক্ত করা ভালো। যার ফলে খাবারের স্বাদ বজায় থাকে এবং হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। যার ফলে পুদিনা পাতা ডায়েটের জন্য খুবই উপকারী।

মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে

অনেক গবেষক মনে করেন পুদিনা খাওয়া ছাড়াও এর উদ্ভিদ থেকে নেয়া প্রয়োজনীয় তেলের সুগন্ধে শ্বাস নেওয়া মস্তিষ্কের উপকার করে থাকে। কিছু শিক্ষার্থীর উপর করা গবেষণায় দেখা গেছে যে, পরীক্ষা শুরুর আগে পুদিনার তেলের ঘ্রাণ তাদের মস্তিষ্কেকে সতেজ করে তুলেছে। এছাড়াও হতাশা, উদ্বেগ এবং অবসান্নতার মাত্রা কমাতেও এই তেলের সুগন্ধি কার্যকরী ভূমিকা রয়েছে।

স্তন্যপান করানোর ব্যাথা কমাতে পুদিনা পাতা উপকারী

বুকের দুধ পান করানো মায়েদের সাধারণত ঘা এবং ফাটা স্তনবৃন্তের সমস্যা হয়। যার ফলে বাচ্চাকে দুধ পান করানোটা অনেক সময় কষ্টকর হয়ে যায়। ত্বকে পুদিনার প্রলেপ লাগালে স্তন্যদান করানোর ব্যাথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। পুদিনা পাতার প্রেলেপ বা তেল স্তনের স্তরের চারপাশে লেপে ‍দিলে ব্যাথা এবং স্তনফাটা প্রতিরোধ করা যায়।

মুখের দুরগন্ধ দূর করতে পুদিনা পাতা উপকারী

সাধারণ ভাবে পুদিনা পাতা ‍চিবিয়ে খেলে অথবা পুদিনার ফ্লেভারযুক্ত চুইংগাম খেলে মুখের দুরগন্ধ দূর হয়। ডাক্তারদের মতে পুদিনার সুগন্ধ যুক্ত চুইংগাম দুই-তিন ঘন্টা মুখের দুর গন্ধকে সরিয়ে রাখে, তবে ব্যাকটেরিয়া বা অন্যান্য ক্ষতিকারক যৌগকে কমায় না। এজন্য পুদিনা পাতা চিবিয়ে অথবা চায়ের সাথে খেতে পারেন।

সাধারণ সতর্কতা বা অপকারিতা

অন্যান্য অনেক উদ্ভিদ উপাদানের মতো পুদিনা পাতাও অনেকের শরীরে প্বার্শপ্রতিক্রিয়ার কারণ হয়ে দাড়ায়। বেশি মাত্রায় পুদিনার তেল ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। দরকার হলে ডাক্তারের পরামর্শে তেল ব্যবহার করুন।

কোন শিশু বাচ্চার মুখে পুদিনার তেল লাগাবেন না। ঝাঁকুনি ‍দিয়ে বাচ্চাদের শ্বাস কষ্ট দেখা দিতে পারে। কোন ধরনের ওষুধ পুদিনা পাতার সাথে খাওয়া যাবে কিনা তা অবশ্যই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিবেন।

অতিরিক্ত মাত্রায় পুদিনা পাতা খাওয়া, তেল ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

প্রেস/জেএ/এনজে/

তথ্যসূত্র: মেডিক্যাল নিউজ টুডে এবং হেলথলাইন

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার ঘরোয়া উপায়

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার ঘরোয়া উপায়

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার ঘরোয়া উপায়

রিয়া সরকারঃ আমাদের দেশে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা ঘরে ঘরেই দেখা যায়। এমনকি আজকাল বয়সের তোয়াক্কা না করেই সব বয়সের মানুষকেই যেন আকড়ে ধরছে এই সমস্যা।

এই সমস্যার সমাধান পাওয়া খুব একটা সহজ না হলেও এর থেকে দূরে থাকার কিছু উপায় রয়েছে যা আমাদের সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে।

প্রতিদিনের রুটিনে কিছু পরিবর্তনই আমাদের সুস্থতার কারণ হতে পারে। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক কিভাবে আমরা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি।

প্রতিদিন ব্যায়াম করলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে

এটা বলা যেতে পারে যে, ব্যায়াম সব রোগের সমাধান। ব্যায়াম বা প্রতিদিন হাঁটার মাধ্যমে আপনি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন। ব্যায়াম করলে হার্ট এর রক্ত সঞ্চালন ভালো হয় যার ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন ও সুস্থ থাকুন।

আরও পড়ুন- শরীরচর্চার উপকারিতা

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে

উচ্চ রক্তচাপের মুল কারণ হল শরীরের অতিরিক্ত ওজন। আপনার শরীরের ওজন যত বাড়বে ততোই আপনি নানা শারীরিক সমস্যার আক্রান্ত হবেন। তাই অবশ্যই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। যতটা সম্ভব চর্বি যুক্ত খাবার থেকে দূরে থাকুন। ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকলে শুধু উচ্চ রক্তচাপ না আপনার শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা কমে যাবে।

চিন্তা মুক্ত থাকতে হবে

এখনকার ব্যস্ত জীবনে প্রতিদিনের কাজের চাপের মাঝে নিজেকে চিন্তা মুক্ত রাখাটা সত্যিই কঠিন। প্রতিদিনই যেন কোন নতুন প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হই আমরা। এর মাঝেও খুঁজে নিতে হবে নিজেকে ভালো রাখার উপায়।

অতিরিক্ত চিন্তা বা দুশ্চিন্তা আপনার উচ্চ রক্তচাপের কারণ হতে পারে। দুশ্চিন্তার হাত থেকে নিজেকে মুক্ত করতে যোগ ব্যায়াম, নিশ্বাসের ব্যায়াম বা ধ্যান করা যেতে পারে। এতে আপনার মন হালকা হবে, ঘুম ভালো হবে, যা আপনার রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখবে।

ওজন কমাতে ও চিন্তামুক্ত থাকতে সহায়তা করে টক দই

ধূমপান বর্জন করে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন

“ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক”- আজকাল এটা যেন শুধু সিনেমার শুরুতে অথবা সিগারেটের প্যাকেটের গায়ের লেখা। ধূমপান আপনাকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর পথে নিয়ে যায়। সবটা জেনেও যেন আমরা মানতে রাজিনা।

তবে সুস্থ থাকতে হলে ধূমপান বর্জন করতে হবে। সিগারেটের একেকটা টান আপনার শরীরের রক্তচাপ বাড়ায়। এতে থাকা ক্যামিক্যল আপনার রক্তনালীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে অবশ্যই ধূমপান বর্জন করতে হবে।

খাবারে সোডিয়ামের পরিমাণ কম রাখতে হবে

লবণ আমাদের খাবারের স্বাদ বাড়াতে সাহায্য করে। লবণ ছাড়া খাবার মানে স্বাদহীন খাবার। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে লবণ খাওয়া উচ্চ রক্তচাপের কারণ হতে পারে। ডাক্তাররা বলে থাকেন, ব্লাড প্রেসার কমে গেলে স্যালাইন খাওয়াতে কারণ স্যালাইনে রয়েছে পরিমাণ মতো লবণ ও চিনি, যা আপনার ব্লাড প্রেসার বাড়াতে সাহায্য করে। তাই যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে তাদের অবশ্যই খাবারে লবণ পরিমাণ কম থাকতে হবে।

অ্যালকোহল খাওয়া কমাতে হবে

মদ বা অ্যালকোহল রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, ১৬% উচ্চ রক্তচাপের কারণ হল মদ বা অ্যালকোহল পান করা। অ্যালকোহল শুধু রক্তচাপের কারণ নয়, এটি ডিপ্রেশনের মতো ভয়াবহ রোগেরও কারণ হতে পারে।

চা-কফি খাওয়া কমিয়ে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন

সকালে ঘুম থেকে উঠে চা বা কফি খায়না এরকম খুব কম মানুষই হয়ত আছে। প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় চা বা কফি আমাদের সবারই থাকে। তবে আমরা হয়ত অনেকেই জানিনা এই চা বা কফি আমাদের উচ্চ রক্তচাপের কারণ হতে পারে।

ক্যাফেইন আমাদের শরীরকে খুব ঝটপট চাঙ্গা করে দেয়। তাই কখন যদি আমাদের ব্লাড প্রেসার কমে যায় বা কোন কারণে দুর্বল বোধ করি, তখন কফি খেলে শরীরের দুর্বল ভাব খুব তাড়াতাড়ি কেটে যায় এবং শরীরকে চাঙ্গা করে দেয়।

এছাড়াও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় ম্যাগনেসিয়াম যুক্ত খাবার রাখতে হবে। যেমন- সবুজ শাক-সবজি, মিষ্টি আলু, টমেটো, কলা ইত্যাদি। তবে যাদের কিডনিতে সমস্যা আছে তাদের ম্যাগনেসিয়াম বেশি খাওয়া ক্ষতিকর হতে পারে। তাই অবশ্যই যেকোনো নতুন ডায়েট শুরু করার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

তথ্যসূত্র: মেডিক্যাল নিউজ টুডে

অনলাইনপ্র্রেস/আরএস/এনজ

ত্বকের যত্নে নারকেল তেল

ত্বকের যত্নে নারকেল তেল

ত্বকের যত্নে নারকেল তেল

রিয়া সরকারঃ ত্বকের যত্নে নারকেল তেল যে কত উপকারী সে সম্পর্কে হয়ত আমরা জানিনা। আমরা এটা জানি যে নারকেল তেল আমাদের চুলের জন্য উপকারী কিন্তু এটি আশ্চর্যজনক ভাবে আমাদের ত্বকের যত্নে ব্যবহার হয়ে থাকে। শুষ্ক ত্বকের জন্য নারকেল তেল খুব বেশি উপকারী। এতে রয়েছে এনটি ব্যাকটেরিয়াল ও এনটি ফাঙ্গাল গুণাগুণ যা আমাদের ত্বকের জন্য খুবই ভালো। এবার জেনে নেওয়া যাক নারকেল তেল আমাদের ত্বকের কি কি উপকারে করে থাকে।

নারকেল তেল ত্বককে মইশচারাইজ করতে সাহায্য করে

ত্বকের মইশচার ধরে রাখাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শুষ্ক ত্বকের জন্য নারকেল তেল দারুণ ভাবে মইশচারাইজারের কাজ করে থাকে। কারণ এতে রয়েছে ফ্যাটি এসিড ও ভিটামিন ই যা শুষ্ক ত্বককে মইশচারাইজ করতে সাহায্য করে।

নারকেল তেল মেইকআপ রিমুভাল হিসেবে কাজ করে

আমরা যারা রোজ বাইরে যাতায়াত করি তাদের কম বেশি সবারই মেইকআপ করতে হয়। ত্বকের যত্নের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হল মেইকআপ তুলে মুখ ভালো করে পরিষ্কার রাখা। আর এই মেইকআপ তুলতে আমরা নানা ধরনের পণ্যও ব্যবহার করে থাকি। অনেকে হয়ত জানিনা যে নারকেল তেল আমাদের মেইকআপ রিমুভাল হিসেবেও কাজ করে থাকে। তুলোর মধ্যে নারকেল তেল নিয়ে আলতো হাতে মুখ পরিষ্কার করে নিতে হবে। মেইকআপ তোলার সাথে সাথে আপনার ত্বককে মসৃণ ও করে নারকেল তেল।

নারকেল তেল বার্ধক্য প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে

ত্বকে বয়সের সাথে সাথে বার্ধক্যের ছাপ পরতে শুরু করে এবং বিভিন্ন ধরনের সমস্যাও দেখা দেয়। নারকেল তেল সেসব খুব সহজেই সমাধান করে দিতে পারে। এটি ত্বকের গভীরে গিয়ে আপনার ত্বককে ভেতর থেকে মসৃণ করে এবং ত্বককে পুনর্জীবিত করে তোলে। তাহলে এখন ঘরে বসেই ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করে নিজেকে নানান সমস্যার হাত থেকে রক্ষা করতে পারবেন।

লিপবাম হিসেবে কাজ করে নারকেল তেল

ঠোঁট ফাটার সমস্যায় আমরা সবাই ভুগি। শীতকালে যেন এর হাত থেকে কেওই রক্ষা পাইনা। নারকেল তেল ব্যবহার করলে এই সমস্যার সমাধান খুব চটজলদি পেয়ে যেতে পারি। অনেকেরই হয়ত জানা নেই যে নারকেল তেল আমাদের ঠোঁট ফাটার হাত থেকে বাঁচাতে পারে। রোজ ঠোঁটে নারকেল তেল লাগালে ঠোঁটের মরা চামড়া উঠে যাবে এবং ঠোঁট মসৃণ ও সুন্দর থাকবে।

ফাঙ্গাল ইনফেকশন রোধ করে

আপনি যদি ফাঙ্গাল ইনফেকশনের সমস্যায় পরেন তাহলে বাইরে কোথাও না গিয়ে আপনার ঘরের নারকেল তেলটি ব্যবহার করুন। নারকেল তেলে রয়েছে এনটি-ফাঙ্গাল গুণাগুণ যা আপনাকে ফাঙ্গাল ইনফেকশনের হাত থেকে রক্ষা করবে।

সানসক্রিন হিসেবে কাজ করে নারকেল তেল

রোদে পুড়ে ত্বক কালো হয়ে গেছে? বিভিন্ন পণ্য ব্যবহার করেও সুফল পাচ্ছেন না? তাহলে এবার নারকেল তেল ব্যবহার করে দেখুন আপনার সমস্যার সমাধান খুঁজে পাবেন। নারকেল তেল ত্বককে ইউ ভি রেডিয়েশন থেকে বাঁচায়। তাই বাইরে বেরনের আগে মুখে নারকেল তেল লাগিয়ে বেরতে ভুলবেন না।

এছাড়াও নারকেল তেল চুলের যত্নে দারুণ উপকারী। চুল পরে যাওয়া থেকে শুরু করে, চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়া, চুলের ডগা ফেটে যাওয়া সব সমস্যার যেন একটাই সমাধান। সপ্তাহে ২ থেকে ৩ দিন নারকেল তেল একটু গরম করে চুলের গোঁড়ায় গোঁড়ায় লাগালে চুলের গোঁড়া শক্ত হয় এবং চুল পরা বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের অনেকেরই রোদে পুড়ে চুল লালচে হয়ে যায়। তাই সেই সমস্যার সমাধানও নারকেল তেল দিতে পারে। নিয়ম করে চুলে তেল লাগালে আস্তে আস্তে আপনার চুল আগের মতো সুন্দর ও ঝলমলে হয়ে যাবে।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।

অনলাইনপ্রেস২৪/আরএস/এনজে

শরীরচর্চার যত স্বাস্থ্য উপকারিতা

শরীরচর্চার উপকারিতা

শরীরচর্চার উপকারিতা

রিয়া সরকারঃ শরীরচর্চাকে সব রোগের সমাধান বলা যেতে পারে। শুধু শারীরিক সমস্যা নয় মানসিক ভাবেও নিজেকে সুন্দর ও সুস্থ রাখতে শরীরচর্চা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

অনেকে ভাবেন শুধু জিমে গিয়েই তা সম্ভব, কিন্তু তা একেবারেই  সত্যি নয়। ঘরে বসেও আপনি শরীরচর্চা করতে পারেন বিভিন্ন ভাবে। যেমন সাতার কাঁটা, হাঁটা, দৌড়ানো, নাচ এগুলো সবই শরীরচর্চার একেকটা ধরন।

তাহলে জেনে নিই শরীরচর্চা করে আমরা কিভাবে সুস্থ থাকতে পারি।

শরীরচর্চা আপনাকে প্রাণোচ্ছল রাখে

শরীরচর্চা করে আপনি নিজেকে ডিপ্রেশন থেকে মুক্ত রাখতে পারেন এবং নানা ধরনের দুচিন্তা থেকে বিরত রাখতে পারেন। ৩০-৪৫ মিনিট শরীরচর্চা করলে আপনার শরীর ভালো থাকার সাথে সাথে মানসিক ভাবেও আপনি ভালো থাকবেন। এর ফলে বয়স বাড়ার সাথে সাথে সৃষ্ট ডাইমেনসিয়া জনিত রোগের হাত থেকেও আপনি নিজেকে সুস্থ রাখতে পারবেন। তাই এর অভ্যাস গড়ে তোলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

শরীরচর্চা আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করে

গবেষণায় দেখা গেছে, আলস্য হচ্ছে ওজন বাড়ার প্রথম ও প্রধান কারণ। আমরা অনেকেই শরীরচর্চা নিয়ে খুব উদাসীন। আজ করবো কাল করবো করে আর হয়ত করে ওঠা হয়না।

শরীরচর্চার ফলে আপনি খুব দ্রুত আপনার বাড়তি ওজন কমাতে পারেন। ওজন কমানোর জন্য যেমন ডায়েটও দরকার, তেমনি নিয়ম করে শরীরচর্চাও প্রয়োজন। ওজন বৃদ্ধি পেলে যেমন নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয় তেমনি মানসিক সমস্যাও শুরু হতে থাকে। নিয়ম করে শরীরচর্চা করলে এসব থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে পারবেন।

হাড়ের সুরক্ষায় শরীরচর্চার প্রয়োজনীয়তা

হাড়ের শক্তি বৃদ্ধিতে শরীরচর্চার প্রয়োজনীয়তা অতুলনীয়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাড়ের শক্তি কমতে থাকে এবং নানা ধরনের সমস্যা শুরু হতে থাকে। তাই প্রতিদিন শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তুললে এই সমস্যা সমাধান করা যেতে পারে। এমনকি অষ্টিওপ্ররোসিসের মতো সমস্যাও সমাধান করা যেতে পারে।

আমাদের ব্যস্ত জীবনযাত্রার মধ্যেও কিছুটা সময় বের করে নিজের শরীরের যত্ন নেওয়া খুবই প্রয়োজন।

হার্ট ভালো রাখতে শরীরচর্চা

আমাদের দেশে প্রচুর মানুষ হার্টের সমস্যায় ভোগেন। এর কারণ হতে পারে অসচেতন জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস ইত্যাদি। তবে শুধু ৩০-৪০মিনিট শরীরচর্চার ফলে এই সমস্যার সমাধান হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা সবসময় বলে থাকেন হার্টের রোগ যাদের আছে তাদের রোজ শরীরচর্চা করতে হবে। এটিকে আপনার প্রতিদিনের রুটিনের মধ্যে অবশ্যই রাখতে হবে। তাহলেই আপনি সুস্থ থাকতে পারবেন।

শরীরচর্চায় ত্বকের যত্ন

শরীরচর্চা বা ব্যায়াম শুধু আপনার শরীরকেই ভালো রাখে না আপনার ত্বককেও ভালো রাখতে সাহায্য করে। আমরা হয়ত অনেকেই জানিনা যে শরীরের ভেতরের নানা জটিলতার কারণে আমাদের ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়।

যেমন অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার ফলে মুখে ব্রণের সমস্যা হতে পারে। আর শরীরচর্চার ফলে আমরা আমাদের প্রতিদিনের অতিরিক্ত দুশ্চিন্তাকে কমাতে পারি। ফলে আমাদের ত্বকেরও সমস্যা সমাধান হবে। এছাড়াও, শরীরচর্চার ফলে আমাদের রক্তসঞ্চালন ভালো হয় এবং এর থেকে বার্ধক্য জনিত ত্বকের সমস্যা অনেকাংশে কমে যায়।

ঘুমাতে সাহায্য করে

শরীরচর্চা আপনাকে সারাদিনের ব্যস্ততার পর ভালো করে ঘুমাতে সাহায্য করবে। এছাড়াও যাদের রাতে ঘুম হয়না তাদের জন্যও দারুণভাবে কাজ করে। ব্যায়াম করার ফলে আমাদের শরীর ক্লান্ত হয় যার ফলে খুব তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পরতে পারি। আর ঘুম ভালো হলে আপনার শরীরের বিভিন্ন সমস্যাও দূর হবে। তাই যারা এখনও শরীরচর্চা নিয়ে উদাসীন তারা এই অভ্যাস গড়ে তুলুন।

শরীরচর্চার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে যতই বলা হোক না কেন তা কম বলা হবে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমরা নানা ধরনের মানসিক এবং শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকি এবং বুঝতে পারিনা যে কি করলে এই সমস্যা গুলোর সমাধান মিলবে। যদি প্রতিদিন নিয়ম করে আমরা শরীরচর্চা করতে পারি তাহলে এইসব সমস্যা থেকে খুব সহজেই বেরিয়ে আসতে পারব। তাই যেকোনো বয়সের মানুষেরই শরীরচর্চা করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

 

তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন

অনলাইনপ্রেস২৪/আরএস/এনজে

এসেন্সিয়াল অয়েলের উপকারিতা ও ব্যবহার

এসেন্সিয়াল অয়েলের উপকারিতা

এসেন্সিয়াল অয়েলের উপকারিতা

রিয়া সরকারঃ স্পাতে না গিয়েই নিজেকে স্ট্রেসমুক্ত/ চাপমুক্ত রাখতে চান? এসেন্সিয়াল অয়েল আপনাকে ঠিক একিরকম অনুভুতি দিতে পারে ঘরে বসেই।

এসেন্সিয়াল অয়েল সাধারনত এরোমাথেরাপি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি উদ্ভিদের নির্যাস থেকে নেওয়া হয় যা ওষুধের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এটি আপনাকে মানসিক ও শারীরিক উভয় ভাবেই সতেজ রাখতে সাহায্য করবে।

কিছু এসেন্সিয়াল অয়েলে রয়েছে এনটিসেপটিক, এনটি ব্যকটেরিয়াল এবং এনটি ইনফ্লামাটরি বৈশিষ্ট্য। এটি আমাদের শরীরের সুগন্ধি হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে।

অনেক ধরনের এসেন্সিয়াল অয়েল রয়েছে। যেমন- ল্যভেনডার, ইউকেলিপটাস পিপারমেনট, স্যান্ডেলউড, রউজ, ক্যমোমাইল, ইয়াং ইয়াং, টি ট্রি, জেসমিন, লেমন, অলিভ অয়েল। বিভিন্ন ধরনের অয়েল বিভিন্ন কারনে ব্যবহার হয়ে থাকে।

স্ট্রেসমুক্ত রাখতে এসেন্সিয়াল অয়েলের উপকারিতাঃ

গবেষণায় দেখা গেছে প্রায় ৪৩ শতাংশ মানুষ কিছু না কিছু ব্যাবহার করে থাকেন নিজেদের স্ট্রেসমুক্ত রাখতে তার মধ্যে এসেন্সিয়াল অয়েল অন্যতম। এর সুগন্ধি আমাদের উদ্বেগ/ চাপ কমাতে সাহায্য করে।


পিপারমিনট এসেন্সিয়াল অয়েলের উপকারিতা  

নানান কারনে আমাদের মাথা ব্যথা হয়ে থাকে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, পিপারমিনট ও ল্যাভেনডার একসাথে মাথায় মালিশ করলে মাথা ব্যথা কমে যায়। এমনকি মাইগ্রেনের ব্যথাও কমে যায়।

ল্যাভেনডার এসেন্সিয়াল অয়েলের উপকারিতা

ল্যাভেনডার এসেন্সিয়াল অয়েল ঘুমের জন্য দারুন কাজ করে। ঘুমানোর সময় আমাদের অনেকেরই মাথায় নানান ধরনের চিন্তা থাকে, অনেক কিছু নিয়ে দুশ্চিন্তা করি আর সেই কারনে আমাদের ঘুম আসতে দেরি হয়। আবার অনেক সময় সারারাত ঘুমাতে পারিনা। এরকম সমস্যাতে ল্যাভেনডার এসেন্সিয়াল অয়েল বা ক্যমোমাইল অয়েল একটু মাথায় লাগিয়ে নিলে কিছুক্ষনের মধ্যেই আপনার ঘুম চলে আসবে। এছাড়াও ল্যাভেনডার অয়েল খুশকি দূর করে ও চুল পরা কমাতে সাহায্য করে।

অলিভ অয়েল

অলিভ অয়েল রুক্ষ ত্বকের জন্য দারুন উপকারি। এতে রয়েছে ভিটামিন এ এবং ই যা আমাদের ত্বকের জন্য খুবই উপকারি। শীতকালে আমাদের সবার ত্বকই রুক্ষ হয়ে যায় এবং নানা সমস্যা দেখা দেয়। অলিভে অয়েল সেই সব সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে থাকে। অলিভে অয়েল চুলের জন্যও খুব উপকারি, এটি চুলে  কনডিশনার হিসেবে কাজ করে থাকে। এছাড়াও অলিভে অয়েল মেইকআপ তোলার জন্যও খুব ভালো।

ইউক্যালিপটাস

এই এসেন্সিয়াল অয়েল শ্বাসযন্ত্রের ইনফেকশন কমানোর সাথে সাথে শরীরের ব্যথা, কেটে যাওয়া বা পুড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা সমাধান করে থাকে। এছাড়াও এটি বিভিন্ন কফ সিরাপের মধ্যে ব্যবহার হয়ে থাকে। ইউক্যালিপটাস আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যকে সুস্থ রাখে এবং নানা ওষুধের মধ্যেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

সিনামেন


সিনামেন অয়েল ম্যাঙ্গানিজ, আইরন এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ। এটি মস্তিস্কের কার্যকারিতা উন্নত করে, রক্তকে বিশুদ্ধ করে এবং হৃদরোগ ও ডায়েবেটিক্সের হাত থেকেও আমাদের মুক্তি পেতে সাহায্য করে। শীতকালে রাতে ঘুমানোর আগে শরীরে লাগিয়ে নিলে আমাদের কফ ও শ্বাস কষ্টের সমস্যা কমে যাবে।

টি ট্রি অয়েল

টি ট্রি অয়েল ত্বকের জন্য খুবই উপকারি। ব্রণের সমস্যা দূর করতে এর ভূমিকা অতুলনীয়। প্রতিদিনের মইশচারাইজারের সাথে ১ থেকে ২ ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে লাগিয়ে নিলে ব্রণের সমস্যা দূর হবে। এছাড়াও ফেইসওয়াশের সাথে টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে রোজ মুখ ধুয়ে নিলেও এই সমস্যা দূর হবে।

এসেন্সিয়াল অয়েল এরোমাথেরাপি ছাড়াও আমাদের নানা ভাবে উপকারে আসে। অনেকেই এসেন্সিয়াল অয়েল রুম ফ্রেশনার হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। অনেকে বলে থাকেন এটি ঘরে ব্যবহারের ফলে মশার আনাগনাও কমে যায়।

** তবে অনেক সময় এসেন্সিয়াল অয়েলের গন্ধ নিলে বাচ্চাদের এবং গর্ভবতী মহিলাদের সমস্যা হতে পারে, সেই দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।

তথ্যসূত্র: টইহেলথলাইন

অনলাইনপ্রেস২৪/এরএস/এনজে