রমজান মাসে প্রস্তুতি, জেনে নিন আপনার করণীয় সম্পর্কে

রমজান

জাকারিয়া: রমজান মাস সকল মুসলমান মানুষের জন্য বরকতময় একটা মাস। পবিত্র কোরআনে অনেকবার এ মাসের ফজিলত এর কথা বলা হয়েছে।

মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন – ইয়া আইয়্যুহাল্লাজিনা আমানু কুতিবা আলাইকুম আস-সিয়াম কামা কুতিবা আলাল্লাদিনা মিন কাবলিকুম না আন্নাকুম তাত্বাকুন।

অর্থ : হে পৃথিবীর মুসলিম নর-নারি তোমাদের প্রতি রমজান মাসের সিয়াম ফরয করা হয়েছে , যেমন ভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের প্রতি ফরয করা হয়েছিল যাতে করে তোমরা পরহেজগার হতে পার।

এই আয়াত দ্বারা বুঝা যায় রমজান মাস কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং রমজান মাসে সিয়াম পালন করতে আমরা বাধ্য।

হযরত আবু হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূল (সা) বলেছেন, যখন রমজান মাস আসে তখন জান্নাতের সকল দরজা গুলো খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের সব দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়।ও ইবলিশ শয়তানের পায়ে বেরি (শিকল) দেয়া হয়।

রমজান মাসেই মহান আল্লাহ কোরআন মাজিদ অবতির্ন করেন এবং আমাদের জন্য রহমত হিসেবে লাইলাতুল ক্বদর দান করেন। লাইলাতুল ক্বদরের ফজিলত বুঝানোর জন্য মহান আল্লাহ কোরআন মাজিদে  একটি সূরা (সুরাহ  ক্বদর)নাজিল করেন।

হযরত আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্নিত-এ রাতের গুরুর্ত্ব বুঝাতে গিয়ে হযরত মুহাম্মদ (সা) বলেন, মানুষ যদি ইমান সহকারে নেকির আসায় রমজান মাসে লায়লাতূল ক্বদরের মুল্যায়ন করে রাত জাগে তাহলে তার পূর্বের সকল পাপকে মহান আল্লাহ ক্ষমা করেন।

কোরআন মাজিদের আয়াত এবং হযরত মুহাম্মদ (সা) এর কথা থেকে বুঝা যায় যে রমজান মাস প্রতিটা মুসলমানের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত নিয়ে আসে।

কিন্তু আমরা এই মাসকে উদ্দেশ্য করে যতটানা আমল করার চিন্তা করি তার থেকে বেশি খাওয়া-দাওয়, কেনা-কাটা, আমদ-ফুর্তি করেই পার করে দেই। আমাদের উচিৎ রমজান মাসে বেশি বেশি আমল করা এবং কিভাবে আমল করবো তা আগে থেকেই ঠিক করে নেয়া।

আসুন জেনে নিই রমজান মাসে করণীয় সম্পর্কে

১. নিজের সকল পাপের ক্ষমা ও এর পরিবর্তে পূন্যের আশা করুণ।

২. নিয়ত করুন যে সব গুলো রোজা রাখবেন এবং এজন্য মহান আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করুন।

৩. পরিবারের যাদের উপর রোজা ফরজ হয়েছে তাদেরকে রোজা পালনে উৎসাহিত করুণ।

৪. দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন এরং অন্যদেরকেউ পরতে উৎসাহিত করবেন।

৫. সবগুলো তারাবির নামাজ যেন পরতে পারেন এজন্য মহান আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করুণ।

৬. রোজা অবস্থায় সকল ধরণের পাপাচার ( যেমন মিথ্যা বলা, জিনা করা,গিবত করা, ঘুষ-সুদ নেয়া, গান-বাজনা করা) থেকে  বিরত থাকুন ।

৭. প্রতিবেশির খোজ খবর রাখুন এবং তাদের যদি কোন প্রয়োজন হয় তাহলে সাহায্য করুণ।

৮.সামর্থ্য থাকলে অসহায় মানুষের জন্য সেহরী ও ইফতারের ব্যবস্থা করে দিন।

৯. পরিবারের বয়স্ক ও শিশুদের প্রতি বিশেষ যত্নবান হোন।

১০. বেশি বেশি কোরআন মাজিদ পরুন না পারলে রমজানেই শেখার নিয়ত করুণ।

১১. রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতে লাইলাতুল ক্বদর খোঁজ করুন।এবং প্রতিটা বিজোড় রাতে বেশী বেশী নফল নামাজ ও কোরআন মাজিদ পাঠ করুন।

১২. লোক দেখানো আমল (রিয়া) থেকে নিজেকে হেফাজত করুণ।

১৩. নিজের সম্পদের সঠিক হিসাব করুণ এবং যাকাত প্রদান করুণ।

১৪. সবসময় আল্লাহকে স্মরন করবেন, ভয় করবেন এবং বেশী বেশী ক্ষমা প্রার্থনা করুণ।

১৫. পরিবারের সবাইকে নিয়ে একসাথে সাহরি ও ইফতার করুন।

রমজান মাস শুরুর পূর্বেই আমরা এ সকল প্রস্ততি নিতে পারি ও এই কাজগুলো যেন সঠিকভাবে পালন করতে পারি তার জন্য মহান আল্লাহর নিকটে বেশী বেশী সাহায্য প্রার্থনা করবো।

তথ্যসূত্র : কোরআন মাজিদ ও সহিহ হাদিস

অনলাইনপ্রেস২৪.কম