অনলাইন ইনকাম করার কার্যকর উপায় এবং সীমাবদ্ধতা

অনলাইন ইনকাম

নাবিল জাহাঙ্গীর: অনলাইন ইনকাম বা আয় করার উপায় সমূহ দিন দিন খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। যারা এ বিষয়ে সচেতন তারা ঘরে বসে বাড়তি উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে অনলাইনে ঝুঁকে পড়ছেন। আবার অনেকে ৯-৫টা অফিসের ঝামেলা এড়িয়ে নিজেই নিজের বস হয়ে উঠছেন।

বিভিন্ন কারণে অনলাইন ইনকাম পদ্ধতি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। তবে এই সুযোগে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী নানাভাবে একদল অনলাইন মুখী কর্মশক্তিকে প্রতারিত করে চলেছে। তাই অনলাইন ইনকাম সম্পর্কে আমাদের সঠিক জ্ঞান থাকা জরুরি।

আসুন জেনে নিই অনলাইন ইনকাম বা আয়ের কার্যকর কিছু পদ্ধতি এবং সেসবের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে

ফ্রিল্যান্সিং

ফ্রিল্যান্সিং হলো স্বাধীন ভাবে কাজ করা। এটি বিশ্বজুড়ে সব থেকে জনপ্রিয় এবং বেশ কার্যকর একটি অনলাইন ইনকাম পদ্ধতি। এর জন্য আপনার কিছু স্কিল বা দক্ষতার প্রয়োজন হবে, যেমন: গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, কন্টেন্ট রাইটিং, অনুবাদ প্রভৃতি।

বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম ফ্রিল্যান্সার, ফিভার, ইল্যান্সার প্রভৃতিতে আপনি একাউন্ট খুলে আপনার দক্ষতা অনুযায়ী কাজের জন্য বিড করতে পারবেন।

এছাড়াও আপনার দক্ষতা সমূহ প্রোফাইলে তালিকাবদ্ধ করে রাখতে পারবেন। কোন ক্রেতা তার প্রয়োজন অনুযায়ী আপনার সাথে যোগাযোগ করবে বা আপনি ক্রেতার পোস্টে বিড করার মধ্য দিয়ে কাজ পাবেন।

সীমাবদ্ধতা: এটি খুব জনপ্রিয় মাধ্যম হলেও প্রথম দিকে এভাবে কাজ পাওয়া বেশ শক্ত, তাছাড়া প্রিমিয়াম একাউন্ট না থাকলের ফ্রি একাউন্ট দিয়ে কাজ পাওয়ার সম্ভাবনাও খুব কম। তাই দীর্ঘদিন লেগে থাকতে হবে।

অনলাইন ইনকাম পদ্ধতি হিসেবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং একটি কার্যকর অনলাইন ইনকামের উপায়। এজন্য আপনাকে মূলত বিভিন্ন কোম্পানির অ্যাফিলিয়েট বা সহযোগী হিসেবে কাজ করতে হবে এবং তাদের প্রোডাক্টের বিক্রি বাড়াতে হবে।

কোন কোম্পানিতে অ্যাফিলিয়েট অ্যাকাউন্ট খুললে আপনাকে তাদের বিভিন্ন প্রোডাক্টের লিঙ্ক দেয়া হবে। আপনি আপনার ওয়েবসাইটে সেসব প্রোডাক্টের বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারেন, বা ইমেইলের মাধ্যমে সেসব প্রোডাক্টের প্রচারণা চালাতে পারেন।

কেউ আপনার লিঙ্কে ক্লিক করে প্রোডাক্ট ক্রয় করলে আপনাকে কমিশন দেয়া হবে। বিভিন্ন কোম্পানি বিভিন্ন প্রোডাক্টে বিভিন্ন রকম কমিশন দেয়, ১% থেকে শুরু করে ২৫% পর্যন্ত কমিশন পেতে পারেন।
সীমাবদ্ধতা: এজন্য আপনার একটি জনপ্রিয় ব্লগ, ওয়েবসাইট বা ইউটিউব চ্যানেল প্রয়োজন। নাহলে ইমেইল লিস্ট কিনে প্রচারণা চালাতে হবে, কিন্তু বর্তমানে অনেকেই এসব ইমেইলে ক্লিক করতে চায় না। তাই প্রথম দিকে বিক্রি করা কঠিন হবে।

ব্লগিং বা নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরি করে অনলাইনে আয়

অনলাইনে আয় করার সব থেকে নির্ভরযোগ্য উপায়ের একটি হলো ব্লগিং বা নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরি করে আয় করা। এজন্য আপনাকে অনলাইনে একটি ব্লগ বা ওয়েব সাইট তৈরি করতে হবে।
অতঃপর এক বা একাধিক বিষয়ে ব্লগিং করে বা কন্টেন্ট আপলোড করার মাধ্যমে ভিজিটর বা পাঠকের সংখ্যা বাড়াতে হবে। আপনার যখন পর্যাপ্ত ভিজিটর থাকবে তখন আপনি বিজ্ঞাপন প্রদানের মধ্য দিয়ে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

ব্লগ বা ওয়েব সাইটে বিজ্ঞাপন প্রদানের মধ্য দিয়ে অনলাইন ইনকাম করার অন্যতম জনপ্রিয় একটি এড নেটওয়ার্ক হলো গুগল এডসেন্স। আপনি এডসেন্সে অ্যাকাউন্ট খুলে সেখান থেকে পাওয়া বিজ্ঞাপনের লিঙ্কগুলো ওয়েবসাইটে সংযোজন করলে মোট ভিউ বা ক্লিকের উপর ভিত্তি করে টাকা পাবেন।

এছাড়াও ব্লগ বা ওয়েবসাইটে অ্যাফিলিয়েট লিঙ্ক যোগ করা যায় কিংবা স্থানীয় কোন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন যুক্ত করে টাকা আয় করা যেতে পারে।

মেকিং সেন্স অফ সেন্স ওয়েবসাইটের নির্মাতা মিশেল শ্রোয়েডার গার্ডনার তার ব্লগ থেকে বিজ্ঞাপন ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং মিলিয়ে প্রতি মাসে ১ লক্ষ ডালারের বেশি আয় করেন।

সীমাবদ্ধতা: ওয়েবসাইট জনপ্রিয় করে তোলা যথেষ্ট কষ্টসাধ্য ব্যাপার। এজন্য আপনাকে নিয়মিত ইউনিক কন্টেন্ট আপলোড করতে হবে এবং প্রচারণা চালাতে হবে। কপি-পেস্ট করা কন্টেন্ট থাকলে গুগল এডসেন্স একাউন্ট পাবেন না, কিংবা পেয়ে গেলে সেটা বাতিল হয়ে যেতে পারে।

ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করে অনলাইনে আয়

বর্তমানে আমাদের সমাজে অনলাইনে আয় করার সব থেকে জনপ্রিয় উপায় হলো ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করা। তবে শুধু চ্যানেল তৈরি করলেই হবে না, আপনাকে নিয়মিত কন্টেন্ট আপলোড করতে হবে এবং ভিউ বাড়াতে হবে।

নির্দিষ্ট সংখ্যক ভিউ ও সাবস্ক্রাইবার হওয়ার পরে ইউটিউব থেকে আপনার ভিডিওতে এড বা বিজ্ঞাপন যুক্ত করার অনুমতি দেয়া হবে। আপনি গুগল এডসেন্স একাউন্ট থেকে আপনার ভিডিওতে বিজ্ঞাপন যুক্ত করতে পারবেন এবং ভিউ ও ক্লিকের উপর ভিত্তি করে টাকা পাবেন।

এছাড়াও আপনি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের জন্য ইউটিউব চ্যানেলে প্রোডাক্টের রিভিউ ও প্রচারণা চালাতে পারেন এবং ডেসক্রিপশন বক্সে লিঙ্ক যুক্ত করতে পারবেন।

ড্যানটিডিএম নামে একজন গেমার তার নিজের চ্যানেল থেকে ১৬.৫ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আয় করেছেন।

সীমাবদ্ধতা: জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করতে হলে প্রচুর পরিশ্রম প্রয়োজন এবং বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রচারণার প্রয়োজন হতে পারে।

সার্ভে ও রিভিউ করার মাধ্যমে অনলাইন ইনকাম

অনেক ওয়েবসাইট ও কোম্পানি সার্ভে ও প্রোডাক্ট বা ওয়েবসাইট রিভিউ করার বিনিময়ে অর্থ প্রদান করে থাকে। এসব ক্ষেত্রে ইনকাম বেশ ভাল।

সীমাবদ্ধতা: বেশির ভাগ সময় এসব ক্ষেত্রে ইউরোপ বা আমেরিকার বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার দেয়া হয়।
টিপস: অনেকে পেইড ভিপিএন ইউজ করে এসব সার্ভেতে অংশগ্রহণ করে থাকেন।

অনলাইন কোর্স

আপনি চাইলে অনলাইনে যোগা, মার্কেটিং, ভাষা শেখানো, ওয়েব ডিজাইন, গ্রাফিক ডিজাইন প্রভৃতি কোর্স পরিচালনা করতে পারেন। কোর্স ফি হিসেবে আপনি আয় করতে পারবেন।

সীমাবদ্ধতা: কোর্সটি জনপ্রিয় করে তুলতে পরিশ্রম করতে হবে এবং শেখানোর আগে নিজেকে ভাল ভাবে জানতে হবে। উপস্থাপনের ক্ষেত্রেও দক্ষতার প্রয়োজন আছে।

অনলাইনে আয় করার সহজ উপায়

অনলাইন ইনকাম বা আয়ের সহজ কোন উপায় নেই। সহজ উপায়ের নামে আপনি প্রতারিত হতে পারেন বা প্রতারণায় অংশগ্রহণ করতে পারেন।

তবে সহজ উপায় হিসেবে ক্যাপচা সলভিংয়ের কথা বলা যায়, কিন্তু সারাদিন এটি করেও আপনি ১ ডলার আয় করতে পারবেন না। সহজ উপায় না খুঁজে পরিশ্রমের রাস্তা নির্বাচন করুন।
অন্য যেকোনও ক্যারিয়ারের মতই এটি একটি চ্যালেঞ্জিং ক্যারিয়ার।

অনলাইনপ্রেস২৪.কম