আদার উপকারিতা, পুষ্টিগুন এবং ব্যবহার

আদার উপকারিতা, পুষ্টিগুন এবং ব্যবহার

আদা প্রাচীন কাল থেকেই রান্নার মসলা ও বিভিন্ন ওষুধি কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আদার উপকারিতা ও এর পুষ্টিগুন অনেক। পৃথিবীতে স্বাস্থ্যকর যতগুলো মসলা আছে আদা তার মধ্যে অন্যতম একটি।

তবে আমাদের অনেকের মধ্যে সঠিক ধারণাই নেই সহজলভ্য এই রসনা উপাদানের ভেষজ গুণাগুণের ব্যাপারে। তাই আসুন জেনে নেই আদার উপকারিতা, পুষ্টিগুন এবং ব্যবহার সর্ম্পকে।

প্রতি ১০০ গ্রাম আদায় বিদ্যমান পুষ্টি উপাদান

  • এনার্জি- ৮০ক্যালোরি
  • কার্বোহাইড্রেড- ১৭গ্রাম
  • ফ্যাট- ০.৭৫গ্রাম
  • পটাসিয়াম- ৪১৫মিলিগ্রাম
  • ফসফরাস- ৩৪মিলিগ্রাম

সাধারণ ঠান্ডা-সর্দি-কাশি থেকে মুক্তি পেতে আদা উপকারী

আদা সাধারণ ঠান্ডা-সর্দি-কাশির চিকিৎসার প্রাকৃতিক উপাদান। তাজা আদা স্বাসযন্ত্রকে সুরক্ষা প্রদান করে থাকে। এ অবস্থায় প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে শুধু আদা বা হালকা গরম পানির সাথে আদা মিশিয়ে খেলে সর্দি-কাশি ভালো হয়ে যাবে।

ব্যাথা নিরাময়ে আদা উপকারী

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিদিন ২ গ্রাম কাঁচা আদা অথবা গরম পানির সাথে আদা মিশেয়ে খেলে শরিরের ব্যাথা কমে যায়। যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন তাদের পেশিতে হালকা ব্যাথা অনুভব হয়। তাই তারা নিয়মিত এভাবে আদা খেতে পারেন।

মহিলাদের পিরিওডের আগে বা পিরিওডের সময় ব্যাথা হয়। কুসুম গরম জলে আদা মিশিয়ে খেলে এজাতীয় ব্যাথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

শারীরের জ্বালা-যন্ত্রনা কমাতে আদার উপকারিতা

নিয়মিত আদা চিবিয়ে খেলে আরর্থারাইটস জনিত জ্বালা-যন্ত্রনা থেকে মু্ক্তি পাওয়া যায়। খাদ্য গবেষকদের মতে আদাতে থাকা ফাইটোকেমিক্যাল শারীরিক প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। এজন্য শুধু মসলা হিসেবে নয়, কাঁচা আদা খাওয়ারো অভ্যাস করা জরুরি।

বমিভাব দূর করতে উপকারী

আদা বমি বমি ভাব দূর করতে সহায়তা করতে পারে। কেমোথেরাপি করা শিশুদের উপর একটি গবেষনায় দেখা যায়, আদার রস অধিকাংশ শিশুর বমি ভাব দূর করতে সক্ষম হয়েছে।  ১৫০০ মিলিগ্রামের আদার ডোজ বমি ভাবকে দূর করতে সক্ষম। যাদের অল্পতেই বমি হয়ে থাকে তারা নিয়মিত আদা খেতে পারেন।

ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করে

আদা প্রোটিন বা অন্যান্য পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে না। তবে আদা এন্টিঅক্সিডেন্টের একটি দুর্দান্ত উৎস। এজন্য আদা রাসায়নিক বিক্রিয়ার চাপ কমাতে পারে।

ফ্রি রেডিক্যাল এক ধরনের বিষাক্ত পদার্থ, যার মাত্রা শরীরে বেড়ে গেলে রাসায়নিক বিক্রিয়ার চাপ হয়। যা ক্যান্সার সহ নানা ধরনের রোগের কারণ হয়ে থাকে। এন্টিঅক্সিডেন্ট ফ্রি রেডিক্যাল সমূকে ধ্বংস করতে পারে। এজন্য আদা কলোরেক্টাল ক্যান্সার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।

কোলেস্টোরেল হ্রাস করে

বেশি মাত্রার লাইপোপ্রোটিন (খারাপ কোলেস্টোরেল) হৃদরোগের ঝুঁকির সাথে যুক্ত। আমরা নিয়মিত যে খাবার খাই সেগুলো দেহে এলডিএল (খারাপ কোলেস্টোরেল) এর মাত্রা বৃদ্ধি করে। আদা এই ক্ষতিকর কোলেস্টোরেলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

ইনফেকশনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদার উপকারিতা

তাজা আদাতে জৈবিক পদার্থ আছে, যা সংক্রামণ হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। আদা বা আদার রস ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিকে বাধা দিতে পারে।

জিঙ্গিভাইটিস এবং পিরিয়ডোন্টাইটিস এমন ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে আদা খুবি কার্যকর। আরএসভি জাতীয় ভাইরাস যা শ্বাসতন্ত্রের সংক্রামিত রোগের কারণ হয়। তাজা আদা এ ধরনের ভাইরাসের বিরুদ্ধে উপকারি ভূমিকা রাখে।

আদা খাওয়ার পদ্ধতি

  • ১. গরম পানির সাথে আদা থেতলিয়ে মিশিয়ে খেতে পারেন।
  • ২. আদা পরিষ্কার করে ছুলে লেবুর রসের সাথে মিশিয়ে হজম হওয়ার জন্য খেতে পারেন।
  • ৩. আদা থেতলানো বা আদার রস চায়ের সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন। দুধ  বা রঙ যেকোনও চায়ের সাথেই আদা খাওয়া যায়।
  • ৪. আদা ঘন করে জাল ‍দিয়ে আদার সিরাপ করে খেতে পারেন।
  • ৫. এছাড়া আদার আচার তৈরি করে খাবারের সাথে নিয়মিত আদা খেতে পারেন।
  • ৬. অনেকেই ঘুম থেকে উঠার পর দুর্বলতা অনুভব করেন। এজন্য ঘুম থেকে উঠে অল্প আদা খেতে পারেন। নিয়মিত খাওয়ার পর এ দুর্বলতা ভাব কেটে যাবে।

অনলাইনপ্রেস/জেএ/এনজে

তথ্যসূত্র: হেলথলাইনমেডিক্যাল নিউজ টুডে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *