চুল পড়া বন্ধ করার উপায়, ঘরোয়া সমাধান

চুল পড়া বন্ধ করার কার্যকর ৬টি প্রাকৃতিক উপায়

রিয়া সরকার: সৌন্দর্যের মূলমন্ত্র হল চুলকে ভালো রাখা। চুলের কারণেই তাদের সৌন্দর্যের পরিপূর্ণতা পায়। এ কারণেই চুল পড়া সৌন্দর্য হানির অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত।

তাই আমরা সবাই নিজেদের চুলকে ভালো রাখার যথাসাধ্য চেষ্টা করি। বাজার থেকে কেনা ক্যমিকেল মিশ্রিত পণ্য ব্যবহারের ফলে অনেকের চুলের ক্ষতি হয় এবং চুল পড়ার সমস্যা শুরু হয়।

তাই কিভাবে ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুল পড়া বন্ধ করার উপায় সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

যেসব কারণে চুল পড়ে থাকে

বিভিন্ন জনের বিভিন্ন কারণে চুল পরে থাকে। অনেকের অপুষ্টির কারণে চুল পরে থাকে। যেমন শরীরে ভিটামিন ডি এর অভাব থাকলে চুল পরে। অনেকের আবার হরমনাল কারণ জনিত সমস্যা- থাইরয়েড, পিসিওএস এসবের কারণে চুল পরে।

কাজের চাপের কারণে আজকাল মানুষের চিন্তা বা স্ট্রেস বেড়েছে আর এই স্ট্রেস এর কারণে শারীরিক নানা সমস্যার সাথে সাথে চুল পড়ার হার ও অনেক বেশি বেড়েছে। এছাড়াও জেনেটিক বা জিনগত কারণেও চুল পরে থাকে।

এলোভেরা দিয়ে যেভাবে চুল পড়া বন্ধের উপায়

এলোভেরা যেমন আমাদের ত্বকের জন্য ভালো তেমনি চুলের জন্যও অসাধারণ কাজ করে। এলোভেরা চুলের ত্বককে নরম এবং মসৃণ করে এমনকি ত্বককে পরিষ্কার করে।

এলোভেরার জেল বের করে তা মাথার ত্বকে ঘষে নিতে হবে। ঘণ্টা খানেক রাখার পর শ্যাম্পু করে নিতে হবে। এভাবে ব্যবহারের ফলে সুফল পাওয়া যাবে।

পেয়াজের রস

পেয়াজের গুণাগুণ সম্পর্কে আমরা সবাই একটু আধটু জানি। রান্নায় পেয়াজ যেমন স্বাদ বাড়ায় তেমনি পেয়াজ আমাদের চুল পড়া বন্ধ করতে অতুলনীয় ভূমিকা রাখে। বহু প্রাচীনকাল থেকেই পেয়াজ চুল পড়া রোধ করতে ব্যবহার হয়ে আসছে। পেয়াজের রস চুলের ঘনত্বও বাড়াতে সাহায্যে করে। পেয়াজের এনটি ব্যকটেরিয়াল গুনাগুণ আমাদের ত্বকের নানা ধরনের ইনফেকশন কমায়।

পেঁয়াজ ঘষে নিয়ে রস আলাদা করে চুলের গোঁড়ায় গোঁড়ায় লাগিয়ে নিতে হবে। ১৫মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে নিতে হবে।

চুল পড়া রোধে ডিমের উপকারিতা

প্রচুর পরিমাণের প্রোটিন থাকার কারণে ডিম আমাদের চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। একটা ডিমের সাথে ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিতে হবে।

এই প্যাকটি শ্যাম্পু করার পর চুলে লাগিয়ে ১০মিনিট রেখে দিতে হবে। তারপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে কন্ডিশনার করে নিতে হবে। রুক্ষ চুলের জন্য এই প্যাকটি খুবই উপকারী।

যষ্টিমধু যেভাবে চুল পড়া রোধ করে

যষ্টিমধু চুলের গোঁড়ার ছিদ্রগুলোকে খুলে দেয় এবং চুল পড়া বন্ধ করে। মাথার ত্বকের চুলকানি, যেকোনো ঘা ইত্যাদি দূর করে যষ্টিমধু। এর থেকে ভালো ফল পেতে সপ্তাহে ১দিন করে ব্যবহার করতে হবে।

নিমপাতা

নিমপাতা আমাদের নানা ধরনের সমস্যা দূর করে থাকে। নিমপাতা খেলে আমাদের পেটের সমস্যা দূর হয়, এমনকি এটি ডাইবেটিকস কন্ট্রোলে রাখতে সাহায্য করে। তেমনি নিমপাতা আমাদের খুশকি দূর করে। খুশকির কারণে আমাদের চুল পরে যায়। তাই খুশকি নিরাময় করা খুব জরুরি।

নিমপাতা পিষে নিয়ে চুলের গোঁড়ায় গোঁড়ায় লাগিয়ে নিতে হবে। ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে নিতে হবে। সপ্তাহে ২ দিন করে ব্যাবহার করলেই ফল পাওয়া যাবে। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে নিমপাতা ত্বককে রুক্ষ করে দেয় তাই রুক্ষ চুলের জন্য সাথে মধু মিশিয়ে নিতে হবে।

চুল পড়া রোধে নারকেল তেলের উপকারিতা

প্রাচীনকাল থেকেই নারকেল তেল চুলের জন্য ব্যবহার হয়ে আসছে। চুলের গোঁড়া শক্ত করতে এবং চুলকে কালো করতে এর ভূমিকা অতুলনীয়। নারকেল তেল একটু গরম করে আঙ্গুল দিয়ে হালকা হাতে চুলের গোঁড়ায় লাগাতে হবে। তাতে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়।

যাদের চুলে খুশকির সমস্যা আছে তারা তেল লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে নিতে হবে। এছাড়া যাদের চুল রুক্ষ তারা সারারাত চুলে তেল লাগিয়ে রেখে পরদিন সকালে শ্যাম্পু করে নিতে পারেন। তেল আপনার চুলকে মসৃণও করে।

চুলের সমস্যা হোক বা ত্বকের, খেয়াল রাখতে হবে আমরা প্রতিদিন যথেষ্ট পরিমাণের পুষ্টিকর খাবার খাচ্ছি কিনা। রোজ ৭ থেকে ৮ গ্লাস পানি অবশ্যই খেতে হবে।

জেনে নিন খুশকি দূর করার উপায়

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।

অনলাইনপ্রেস/আরএস/এনজে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *