পুদিনা পাতার উপকারিতা ও গুনাবলি

পুদিনা পাতার উপকারিতা ও গুনাবলি

জাকারিয়া: পুদিনা পাতার উপকারিতা ও গুনাবলি অনেক। প্রচীনকাল থেকে পরিচিত রন্ধন ‍উপাদানগুলোর একটি পুদিনা পাতা। তবে শুধু রান্নার উপাদান বললে ভুল হবে, পুদিনা পাতার রয়েছে অনেক উপকারী ওষুধি গুনাগুন।

ডাক্তারদের মতে পুদিনা পাতায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে এন্টিঅক্সিডেন্ট, যা সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে খুবই প্রয়োজনীয়। সহজেই সবুজ সালাদ, স্মুদি, মিষ্টি, চা, চাটনি এবং এমনকি পানির সাথে মিশেয়েও আপনি পুদিনা পাতা খেতে পারেন।

পুদিনা পাতার পুষ্টিগুন

ক্যালোরি, ফাইবার, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, ফসফরাস, পটাসিয়াম, আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ, ফলেট, প্রোটিন, এন্টিঅক্সিডেন্ট, ক্যালসিয়াম।

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা সমাধানে পুদিনা পাতার উপকারিতা

বিরক্তিকর পেট ব্যাথা এবং বদহজম কমাতে হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ পুদিনা পাতার ব্যবহার করে আসছে। গবেষকদের দেওয়া তথ্য মতে বদহজম, আইবিএস, শিশুদের পেটে ব্যাথা সহ অনেক গুলি গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল অবস্থার প্রতিকার হিসেবে পুদিনাপাতা উপকারী ভূমিকা পালন করে থাকে। এতে থাকা এন্টঅক্সিডেন্ট ক্ষতিকারক জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করে।

এলার্জির সমস্যা সমাধানে পুদিনা পাতা উপকারি

পুদিনা গাছে রয়েছে এন্টিঅক্সিডেন্ট এবং ইনফ্লেমেটোরি এজেন্ট। এই উপাদানগুলি হাঁপানির লক্ষন কমাতে সহায়তা করে থাকে। পুদিনায় থাকা এন্টি-এলার্জিনিক প্রভাব শরীরে এলার্জির ক্ষতিকারক সমস্যাগুলিকে দূর করে দেয়। তবে এলার্জির সমস্যার জন্য পুদিনা খাওয়া থেকে এর  তেল ব্যবহারের উপকারিতা বেশি।

সাধারণ ঠান্ডা-কশি সমাধানে পুদিনা পাতার উপকারিতা

পুদিনায় মেন্থল থাকে যা সুগন্ধযুক্ত ডোনজেস্ট্যান্ট। এটি কফ ও শ্লেষ্মা কমাতে সহায়তা করে থাকে। এর ফলে কফ বেরিয়ে যায়। বাচ্চাদের ঠান্ডা লেগে বুকে কফ জমলে মেন্থল যুক্ত মলম বা বাম বুকে, পিঠে ঘষে চিকিৎসা করা যায়। তবে শিশুর ঠান্ডার সমস্যা গুরুতর হয়ে গেলে বাচ্চাদের এ ধরনের চিকিৎসা না ‍দিয়ে সরাসরি ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

আরও পড়ুন: ঠাণ্ডা-কাশি নিরাময়ের প্রাকৃতিক উপায় সমূহ

ডায়েটের জন্য পুদিনা পাতা উপকারী

নরম কান্ডযুক্ত এক অনন্য ভেষজের নাম হলো পুদিনা পাতা। এগুলো রান্নার প্রক্রিয়া শেষে খাবারে যুক্ত করা ভালো। যার ফলে খাবারের স্বাদ বজায় থাকে এবং হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। যার ফলে পুদিনা পাতা ডায়েটের জন্য খুবই উপকারী।

মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে

অনেক গবেষক মনে করেন পুদিনা খাওয়া ছাড়াও এর উদ্ভিদ থেকে নেয়া প্রয়োজনীয় তেলের সুগন্ধে শ্বাস নেওয়া মস্তিষ্কের উপকার করে থাকে। কিছু শিক্ষার্থীর উপর করা গবেষণায় দেখা গেছে যে, পরীক্ষা শুরুর আগে পুদিনার তেলের ঘ্রাণ তাদের মস্তিষ্কেকে সতেজ করে তুলেছে। এছাড়াও হতাশা, উদ্বেগ এবং অবসান্নতার মাত্রা কমাতেও এই তেলের সুগন্ধি কার্যকরী ভূমিকা রয়েছে।

স্তন্যপান করানোর ব্যাথা কমাতে পুদিনা পাতা উপকারী

বুকের দুধ পান করানো মায়েদের সাধারণত ঘা এবং ফাটা স্তনবৃন্তের সমস্যা হয়। যার ফলে বাচ্চাকে দুধ পান করানোটা অনেক সময় কষ্টকর হয়ে যায়। ত্বকে পুদিনার প্রলেপ লাগালে স্তন্যদান করানোর ব্যাথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। পুদিনা পাতার প্রেলেপ বা তেল স্তনের স্তরের চারপাশে লেপে ‍দিলে ব্যাথা এবং স্তনফাটা প্রতিরোধ করা যায়।

মুখের দুরগন্ধ দূর করতে পুদিনা পাতা উপকারী

সাধারণ ভাবে পুদিনা পাতা ‍চিবিয়ে খেলে অথবা পুদিনার ফ্লেভারযুক্ত চুইংগাম খেলে মুখের দুরগন্ধ দূর হয়। ডাক্তারদের মতে পুদিনার সুগন্ধ যুক্ত চুইংগাম দুই-তিন ঘন্টা মুখের দুর গন্ধকে সরিয়ে রাখে, তবে ব্যাকটেরিয়া বা অন্যান্য ক্ষতিকারক যৌগকে কমায় না। এজন্য পুদিনা পাতা চিবিয়ে অথবা চায়ের সাথে খেতে পারেন।

সাধারণ সতর্কতা বা অপকারিতা

অন্যান্য অনেক উদ্ভিদ উপাদানের মতো পুদিনা পাতাও অনেকের শরীরে প্বার্শপ্রতিক্রিয়ার কারণ হয়ে দাড়ায়। বেশি মাত্রায় পুদিনার তেল ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। দরকার হলে ডাক্তারের পরামর্শে তেল ব্যবহার করুন।

কোন শিশু বাচ্চার মুখে পুদিনার তেল লাগাবেন না। ঝাঁকুনি ‍দিয়ে বাচ্চাদের শ্বাস কষ্ট দেখা দিতে পারে। কোন ধরনের ওষুধ পুদিনা পাতার সাথে খাওয়া যাবে কিনা তা অবশ্যই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিবেন।

অতিরিক্ত মাত্রায় পুদিনা পাতা খাওয়া, তেল ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

প্রেস/জেএ/এনজে/

তথ্যসূত্র: মেডিক্যাল নিউজ টুডে এবং হেলথলাইন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *