ঘরোয়া উপায়ে শুষ্ক হাতের যত্ন

ঘরোয়া উপায়ে শুষ্ক হাতের যত্ন

ঘরোয়া উপায়ে শুষ্ক হাতের যত্ন

রিয়া সরকারঃ সারাদিনের কাজে আমাদের হাতের ওপর অনেক ঝড়-ঝাপটা যায় তবুও হাতের যত্ন নিতে আমরা অনেকেই অবহেলা করে থাকি।এই হাতের সাহায্যে আমরা টাইপিং থেকে শুরু করে রান্না-বান্না, বাসন ধোওয়া সবই করে থাকি। আর সারাদিনের পর যখন হাতের দিকে নজর পরে তখন তা রুক্ষ, শুষ্ক দেখায়। তাই মুখের যত্নের সাথে সাথে হাতেরও যত্নের খুবই প্রয়োজন।

যেসব কারনে হাত রুক্ষ ও শুষ্ক দেখায়

  • রোদ থেকে সুরক্ষিত থাকে না বলে আমদের হাত রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে যায়। রোদে বেরোনোর সময় আমরা অনেকেই মুখে সানস্ক্রিন লাগালেও হাতে অনেকেই তা ব্যবহার করিনা। তার ফলে সূর্যের রশ্মি আমাদের হাতে সরাসরি পরে এবং হাতের ত্বক রুক্ষ করে দেয়। তাই আমাদের উচিত মুখের সাথে সাথে হাতের ত্বকের ও যথাযথ পরিচর্যা করা।
  • প্রতিদিন ঘরের কাজ যেমন- কাপড় কাঁচা, বাসন ধোওয়া, রান্না করা ইত্যাদি করার ফলে হাত রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে যায়।
  • অতিরিক্ত ক্ষারযুক্ত সাবান/ ডিটারজেনট ব্যবহারের ফলেও হাত রুক্ষ হয়ে যায়।

রুক্ষতা দূর করতে যা করবেন

সুন্দর ও মসৃণ হাত আমরা সবাই চাই কিন্তু অনেক কারনেই হয়তো হাতের পরিচর্যা করা হয় না। কিছু সাধারন নিয়ম মানলেই আমরা আমাদের হাত কে সুন্দর ও মসৃণ রাখতে পারি।

  • সানস্ক্রিন ব্যবহারের সময় অবশ্যই পুরো হাতে এবং আঙ্গুলে লাগাতে হবে।
  • যতটা সম্ভব ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। যেহেতু ঘর কে পরিষ্কার রাখতে হবে তাই প্রয়োজনে হাতে গ্লাভস পরে কাজ করুন।
  • রাতে ঘুমানোর আগে হাতে মইশচারাইযার ব্যবহার করুন। এতে আপনার হাত কোমল ও মসৃণ হবে।

ঘরোয়া উপায়ে যেভাবে হাতের যত্ন নেবেন

রুক্ষ ত্বক শুধু মাত্র মুখের বা শরীরেরই হয় এমনটা নয়। দৈনন্দিন কাজের মধ্যে আমাদের হাত সব থেকে বেশি ব্যবহার হয়। তাই হাতের ত্বক ও রুক্ষ ও শুষ্ক হতে পারে। সবসময় বাইরের কেনা পণ্য ব্যবহার করা যায় না তাই ঘরোয়া কিছু উপায়ে হাতের যত্ন করা যেতে পারে। চলুন জেনে নিই সেই উপায়গুলো।

নারকেল তেল

নারকেল তেল শুধু চুলের যত্নে সাহায্য করে থাকে টা নয়। এটি আমাদের ত্বকের যত্নেও একি ভাবে সাহায্য করে। ২-৩ টেবিল চামচ নারকেল তেল নিয়ে পুরো হাতে লাগিয়ে ২-৩ ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। তাছাড়া নারকেল তেল সারারাত লাগিয়েও রাক্ষতে পারেন। এতে আপনার হাতের ত্বক মসৃণ ও নরম হবে ।

আরও পড়ুন: ত্বকের যত্নে নারকেল তেল

পেট্রোলিয়াম জেলি

রাতে ঘুমানোর আগে পেট্রোলিয়াল জেলি হাতে ভালো করে মেখে নিন। পেট্রোলিয়াম জেলি রুক্ষতা কমাতে দারুন কাজ করে।

মধু

মধুর উপকারিতা সম্পর্কে যতই বলা হোক না কেন টা যেন কম। মধু আমাদের শরীরের জন্য যেমন উপকারি তেমনি ত্বকের যত্নে এর গুনাগুন অতুলনীয়। হাতের যত্নে মধু দারুন কাজ করে থাকে। ২ থেকে ৩ চামচ মধু নিয়ে হাতে ভালো করে লাগিয়ে ৩০ মিনিট রেখে দিন। তারপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন। মধু আপনার হাতের রুক্ষতা দূর করবে এবং হাতের মইশচার ফিরিয়ে আনবে। আরও পড়ুন: ত্বকের যত্নে মধুর উপকারিতা : ঘরে বসে রূপচর্চা

বাদাম তেল/ আমানড অয়েল

৩ থেকে ৪ টেবিল চামচ বাদাম তেল নিয়ে হাতে ভালো করে মেখে নিতে হবে। আমানড অয়েলে রয়েছে ফ্যটি এসিড যা আপনার ত্বকের মসৃণটা ফিরিয়ে দিতে সাহায্য করে। এশেনসিয়াল সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন।

দুধ

রুক্ষ ত্বকের জন্য খুব খুবই উপকারী। প্রথমে একটি পাত্রে দুধ হালকা গরম করে নিয়ে তাতে ২০ মিনিটের মতো হাত ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে। এভাবে প্রতিদিন করলে খুব জলদি আপনি আপনার সমস্যার সমাধান মিলবে। দুধের উপকারিতা এবং পুষ্টিগুন সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন।

প্রতিদিনের ব্যস্ত সময়ের মধ্যেও কিছুটা সময় বের করে এই ঘরোয়া উপায়গুলোর সাহায্যে আপনি আপনার হাতের যত্ন নিতে পারেন। নিজেকে সুন্দর রাখুন ও সুস্থ থাকুন।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

তুলসী পাতার উপকারিতা, পুষ্টিগুন ও ব্যবহার

তুলসী পাতা

তুলসী পাতার উপকারিতা, পুষ্টিগুন ও ব্যবহার

তুলসী একটি গুল্ম যার মাটির উপরে থাকা গাছের অংশগুলি ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। তুলসী পাতার উপকরিতা অনেক এবং এটি নানা পুষ্টিগুনে ভরপুর। প্রাচীন কাল থেকেই তুলসী গাছের পাতা ব্যবহৃত হয়ে আসছে ওষুধ তৈরিতে।

তুলসী পাতা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থানীয় একটি গাছ। চোখের রোগ থেকে শুরু করে, দাদ, পোকামাকড়ের কামড়, পেটের চিকিৎসা সব কিছুতেই তুলসী পাতার চিকিৎসার ইতিহাস রয়েছে। পাতা থেকে বীজ পর্যন্ত তুলসী শরীর, মন এবং আত্মার জন্য একটি টনিক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

বিভিন্ন অবস্থায় চিকিৎসার জন্য গাছের ভিন্ন ভিন্ন অংশের পরামর্শ দেয়া হয়, যেমন-

  • ব্রঙ্কাইটিসের জন্য তুলসী গাছের তাজা ফুল ব্যবহার করা।
  • ম্যালেরিয়ার জন্য কালো মরিচ সহ পাতা এবং বীজ ব্যবহার করা।
  • ডায়রিয়া, বমি বমি ভাবের জন্য পুরো উদ্ভিদটি ব্যবহার করা।
  • দাউদ, এক্সিমার জন্য এর তৈরি মলম বা পাতা বেটে এর পেস্ট ব্যবহার করা।
  • পেটের আলসার অথবা চোখের রোগের জন্য তুলসী পাতা থেকে তৈরি এলকোহলের নির্যাস ব্যবহার করা।
  • পোকা মাকড়ের কামড়ের জন্য এ পাতার তৈরি তেল ব্যবহার করা।

তবে অবশ্যই এগুলো ব্যবহার করার সময় আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলে নিবেন।

তুলসী পাতার পুষ্টিগুন

তুলসী পাতায় রয়েছে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, ক্যালসিয়াম, দস্তা, আয়রন, পত্রহরিৎ। তাছাড়াও এন্টিঅক্সিডেন্ট এবং এন্টিব্যক্টেরিয়াল উপাদান রয়েছে।

তুলসী পাতার উপকরিতা সমূহ

তুলসী পাতার ব্যবহারে মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ হ্রাস পায়

তুলসী গাছের সমস্ত অংশ অ্যাডাপ্টোজেন হিসেবে কাজ করে। অ্যাডোপ্টোজেন হলো প্রাকৃতিক পাদার্থ যা আপনার শরীরকে মানসিক চাপের সাথে মানিয়ে নিতে সহায়তা করে এবং মানসিক ভারসাম্যকে প্রোমট করে।

তবে বিজ্ঞান বলে তুলসীতে আপনার মনকে বিভিন্ন ধরনের স্ট্রেস সহ্য করতে সহায়তা দেয়ার ফার্মাকোলজিকাল বৈশিষ্ঠ্য রয়েছে। রাসায়নিক, শারীরিক, সংক্রামক, আবেগপ্রবন, যৌন সমস্যা, ঘুমের অভাব, বিস্মৃতি এবং অবসাদ এ ধরনের চাপ কমাতে নিয়মিত তুলসী পাতা গ্রহনের তুলোনা হয় না।

আয়ুর্বেদিক এবং ইন্ট্রিগেটিভ মেডিসিন জার্নাল অনুসারে, তুলসী পাতায় ডায়াজেপাম ও অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট বৈশিষ্ঠ্য রয়েছে। একটি সমিক্ষায় দেখা গেছে যেসব ব্যাক্তিরা প্রতিদিন ৫০০ মিলিগ্রাম তুলসী পাতার নির্যাস গ্রহণ করেন তারা কম উদ্বেগ, চাপ ও হতাশাগ্রস্থ বোধ করেন। আয়ুর্বেদরা তুলসী পাতার চা ব্যবহারের পরামর্শ ‍দিয়ে থাকেন। যেহেতু এটি কেফিন মুক্ত তাই প্রতিদিন পান করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

উদ্দীপনা এবং শরীরকে প্রাণবন্ত করতে তুলসী উপকারী

তুলসীতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে এন্টিঅক্সিডেন্ট। যা আপনার শরীরকে বিষমুক্ত করে থাকে। তুলসী পাতা আপনার শরীরকে  বিষাক্ত রাসায়নিক থেকে রক্ষা করতে পারে। তুলসী পাতা ক্যান্সারের কোষ বৃদ্ধির ক্ষমতাকে হ্রাস করে ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারে।

সংক্রামন থেকে রক্ষা এবং এর ক্ষতির চিকিৎসা হয় তুলসী পাতায়

তুলসী পাতায় থাকা এক্সট্রাক্ট ক্ষত নিরাময়ের গতি ও শক্তি বাড়ানের জন্য উপকারী। তুলসী পাতা হলো ব্যাক্টেরিয়া বিরোধী, সংক্রামন বিরোধী, এন্টিফাংগাল, তাপ প্রদাহ বিরোধী এবং বেদনানাশক। অনেকেই ক্ষত নিরাময়ের প্রাকৃতিক চিকিৎসা সরূপ তুলসী পাতা ব্যবহার করে থাকে। তুলসী পাতা ক্ষত সারানোর শক্তি, নিরাময়ের সময় এবং সংকোচনকে বাড়িয়ে তোলে।

রক্তে সুগার কমাতে তুলসী পাতা উপকারী

আপনার যদি প্রিডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিস থেকে থাকে তাহলে তুলসী গাছের সমস্ত অংশ আপনার রক্তের শর্করাকে হ্রাস করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে তুলসী পাতা ডায়াবেটিসের লক্ষণ গুলিকে রোধ করতে সহায়তা করতে পারে। যেমন- ওজন বৃদ্ধি, উচ্চ কোলেস্টরল, মূত্র নিরোধক, উচ্চ রক্তচাপ ও রক্তে ইনসুলিন।

তবে অবশ্যই আপনার ডায়েটে তুলসী পাতা যুক্ত করার আগে ডাক্তারের সাথে কথা বলে নিবেন। যদি আপনি রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রনের জন্য ইতিমধ্যে ওষুধ গ্রহন করে থাকেন তবে এটি আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা আরোও কমিয়ে দিতে পারে।

প্রদাহ এবং জয়েন্টের ব্যাথা কমাতে তুলসী পাতা উপকারী

তুলসী পাতা আরামদায়ক, উদ্বেগ এবং প্রদাহ মোকাবেলা করতে সক্ষম। এটি বাতের ব্যাথা ও ফাইব্রোমাইজালিয়াতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সহায়তা করতে পারে। কারণ এতে রয়েছে এন্টিঅক্সিডেন্ট ও এন্টিইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ঠ্য যা এডাপ্টোজেন হিসেবে কাজ করে থাকে।

পেটের সুরক্ষায় তুলসী পাতা উপকারিতা অনেক

তুলসী পাতার আলসার মোকাবেলার ক্ষমতা রয়েছে। তুলসী পাতা প্রাকৃতিক ভাবে আপনার পেটের প্রতিরক্ষা বৃদ্ধি করে। যেমন- এসিড হ্রাস করা, শ্লেষ্মা নিঃসরণ করা, শ্লেষ্মা কোষ বৃদ্ধি ও শ্লেষ্মা কোষের জীবন প্রসারিত করা।

পেপটিক আলসারের ওষুধের অনেক ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে যা কিছু মানুষের মধ্যে অস্বস্তি এনে দিতে পারে। এই রোগের চিকিৎসায় তুলসী পাতা বিকল্প হতে পারে।

তাছাড়া ঝাঁকুনি, ক্ষুধা হ্রাস, অন্ত্রের গ্যাস, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং আরো অনেক পেটের সমস্যা সমাধানের জন্য তুলসী পাতা ব্যবহার হয়ে থাকে।

ব্যবহার পদ্ধতি

পাতা, ফুল বা শুকনো পাতার গুড়া ব্যবহার করে আপনি তুলসী পাতার চা তৈরি করতে পারেন। এক কাপ ফুটন্ত জলে ২-৩ চামচ ‍তুলসী রেখে তা ৫-৬ মিনিট ফুটিয়ে চায়ের মতো করে পান করতে পারেন।

এর পাতা রান্নাতেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। অনেকেই আবার কাঁচা খেয়ে থাকেন। তুলসীর স্বাদ মশলাদার এবং তেতো। তুলসী গাছের পাতা এবং ফুল থেকে তেল নিঃসরণ করা হয়। তুলসী তেলেরও নানা ঔষুধি গুণাগুণ রয়েছে।

তথ্যসূত্র: হেলথলাইন।

প্রেস/জেএ/এনজে

আমের উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিন

আমের উপকারিতা

আমের উপকারিতা

রিয়া সরকারঃ আম আমাদের সবারই খুব প্রিয় ফল, স্বাদে অনন্য আমের উপকারিতা অনেক। পৃথিবীর অনেক জায়গাতে আম কে ফলের রাজা বলা হয়। খেতে যেমন ভালো তেমনি এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণের পুষ্টিগুণ।

গবেষণায় দেখা গেছে, আম আমাদের ইমিউনিটি সিস্টেমকে ভালো রাখার সাথে সাথে হজম শক্তি বাড়ায় এবং দৃষ্টিশক্তিকে আরও উন্নত করতে সাহায্য করে। এমনকি আম ক্যন্সারের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে।

ক্যান্সার রোধে আমের উপকারিতা

ডাক্তারের মতে, আমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ এনটিঅক্সিডেন্ট যেমন- কোরেসেটিন, ফিসেটিন, গ্যালিক এসিড, মিথাইল গ্যালেট যা আমাদের শরীরকে স্তন ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার, প্রস্টেট ক্যান্সার এবং লিউকেমিয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।

কোলেসটরল কমাতে আমের উপকারিতা

আমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ফাইবার ও পেকটিন যার ফলে রক্তে খারাপ কোলেসটরল বা লো ডেনসিটি লিপো-প্রোটিন কমিয়ে আনতে সাহায্য করে।

ত্বক পরিষ্কার রাখতে আমের উপকারিতা

আমে রয়েছে ভিটামিন সি ও ভিটামিন এ যা ত্বককে ভালো রাখতে খুবই উপকারী। আমের পুষ্টিগুণ ত্বকের মৃতকোষ দূর করে ত্বকে নতুন জেল্লা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।

দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে আমের উপকারিতা

প্রতিদিনের ডায়েটে আম থাকা খুব উপকারী, কারণ আম আমাদের দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। আমে রয়েছে প্রচুর বিটা ক্যারোটিন যা ভিটামিন এ উৎপাদন করতে সাহায্য করে। আমের এনটিঅক্সিডেনট দৃষ্টিশক্তি উন্নত করার সাথে সাথে বার্ধক্য জনিত নানান চোখের সমস্যা সমাধান করে থাকে।

হজম শক্তি ভালো রাখতে আমের উপকারিতা

আম একটি এনজাইম যুক্ত ফল যা আমাদের শরীরের অতিরিক্ত প্রোটিনের পরিমাণ কমায়। আমের আঁশের গুনাগুণ হজমে ও পরিপাকে সহায়তা করে। এছাড়াও আমে যেহেতু প্রচুর পানি এবং ফাইবার রয়েছে তাই এটি কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যার সমাধান করে থাকে।

ইমিউন সিস্টেমকে ভালো রাখতে আমের উপকারিতা

আমে ভিটামিন সি, এ এবং অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের ক্যারোটিনয়েড থাকে। ভিটামিন এ শরীরের ইমিউনিটি সিস্টেম কে ভালো রাখতে খুবই উপকারী কারণ ভিটামিন এ আমাদের যেকোনো ধরনের ইনফেকশনের হাত থেকে রক্ষা করে থাকে এবং ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর সাথে সাথে আপনার ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা ও দূর করে থাকে। এছাড়াও আমে রয়েছে ভিটামিন কে, ই, এবং ভিটামিন বি যা আপনার ইমিউন সিস্টেমকে ভালো রাখতে দারুণ উপকারী।

এছাড়া যাদের শরীরে আইরন বা ক্যালসিয়ামের ঘাটতি রয়েছে তাদের আম খাওয়া উচিত কারণ আমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আইরন ও ক্যালসিয়াম।

আরও পড়ুন: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় কাঁচা হলুদ

ডাইবেটিকস নিয়ন্ত্রণে আমের উপকারিতা

আমরা অনেকেই হয়ত ভেবে থাকি যে আম মিষ্টি তাই ডাইবেটিকস রোগীদের আম খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কিন্তু এই ধারনাটি একদমই ভুল। খেতে মিষ্টি হলেও আম ডাইবেটিকস রোগীরাও খেতে পারবেন। আমের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স গড় ৪১ থেকে ৬০ পর্যন্ত যা গড়ে ৫১ হয়। ৫৫ এর কম হলে তা ডাইবেটিকস রোগীদের জন্য নিরাপদ হিসেবে ধরা হয়। কম গ্লাইসেমিক খাবার গুলো রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অতিরিক্ত বাড়ায় না। যার ফলে শরীরে কোন প্রকার অসুবিধা তৈরি হয়না এবং ফাইবার সমৃদ্ধ বলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

আমে ক্যালরি কম কিন্তু পুষ্টিতে ভরপুর। জেনে নেওয়া যাক ১কাপ আমের (১৬৫ গ্রাম) পুষ্টিগত উপাদান।

ক্যালরি: ৯৯
প্রোটিন: ১.৪ গ্রাম
কার্বসঃ ২৪.৭ গ্রাম
ফ্যাটঃ ০.৬ গ্রাম
ডাইবেটিক ফাইবারঃ ২.৬ গ্রাম
ভিটামিন সিঃ ৬৭%
কপারঃ ২০%
ফলেটঃ ১৮%
ভিটামিন বি ৬ঃ ১১.৬%
ভিটামিন এঃ ১০%
ভিটামিন ইঃ ৯.৭%
ভিটামিন বি ৫ঃ ৬.৫%
ভিটামিন কেঃ ৬%
নিয়াসিনঃ ৭%
পটাসিয়ামঃ ৬%
রিবফ্লেবিনঃ ৫%
ম্যঙ্গানিসঃ ৪.৫%
থায়ামিনঃ ৪%
ম্যগ্নেসিয়ামঃ ৪%

তথ্যসূত্র: হেলথলাইন, আর্টিক্যালস হাউ

থানকুনি পাতার উপকারিতা সম্পর্কে জানুন

থানকুনি পাতার উপকারিতা

থানকুনি পাতার উপকারিতা

থানকুনি পাতার পুষ্টিগুনের জন্য ঐতিহ্যবাহী চীনা এবং আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় এর বেপক প্রচলন ‍ছিল। উপকারিতা কথা বিবেচনা করলে এটি অন্যতম একটি আয়ূর্বেদিক উপাদান। ইনফেকশন, পোড়া, দাগ, শরীর ছিলে যাওয়া সহ নানান জটিলতার প্রাথমিক চিকিৎসায় থানকুনি পাতার ব্যবহার হয়। থানকুনি পাতায় এমন কিছু রাসায়নিক রয়েছে যা প্রদাহ এবং শিরাগুলিতে রক্তচাপ কমায়। থানকুনি পাতা কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায় যা ক্ষত নিরাময়ে সহায়তা করে।

থানকুনি পাতা জয়েন্টের ব্যাথার উপশম করতে সাহায্য করতে পারে

থানকুনি পাতায় থাকা এন্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বাত চিকিৎসার ক্ষেত্রে কার্যকরি হতে পারে। এর ফলে যৌথ প্রদাহ, কার্টিলেজ ক্ষয় এবং হাড়ের ক্ষয় হ্রাস পায়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকার ফলে থানকুনি পাতা দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাতেও প্রভাব ফেলে।

একটানা দুই সপ্তাহ ৫০০ মিলিগ্রামের মতো পাতা নিয়ে থেতলে ব্যাথার জাগায় লাগালে পারেন।

শরীরে উৎপন্ন বিষক্রিয়ার প্রভার হ্রাস করতে পারে থানকুনি পাতা

অ্যান্টিবায়োটিকের বিষাক্ত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দমন করতে থানকুনি পাতা ব্যবহার করা যেতে পারে। তাছাড়াও যক্ষার চিকিৎসাতেও এর ব্যবহার হয়ে থাকে।

ইঁদুরের উপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, অ্যান্টিবায়োটিক দেয়ার আগে ৩০ দিনের জন্য এসব ইঁদুরকে ১০০ ‍মিলিগ্রাম করে থানকুনি পাতা দেওয়া হয়েছিলো। যার ফলে এদের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিকের বিষাক্ততা কাজ করেনি।

আরও পড়ুন: শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে লেবুর উপকারিতা

থানাকুনি পাতা স্মৃতিশক্তি বাড়াতে উপকারি ভুমিকা রাখে

২০১৬ সালে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে থানকুনি পাতায় থাকা এক্সট্রাক্ট ও ফলিক এসিডের প্রভাবে স্ট্রোক করা রোগীর মস্তিষ্কের ফাংশন আরও বেশি সক্রিয় হয়েছে। এ সমিক্ষায় রোগীদের তিনটি গ্রুপে ভাগ করে পরিক্ষা করা হয়। প্রথম গ্রুপে ১০০০ মিলিগ্রাম থানকুনি পাতা দেয়া হয়, ‍দ্বিতীয় গ্রুপে ৭৫০ মিলিগ্রাম থানকুনি পাতা দেয়া হয়, এবং তৃতীয় গ্রুপে ৩ মিলিগ্রাম করে ফলিক এসিড দেয়া হয়।

যদিও থানকুনি পাতা ও ফলিক এসিড ‍দুটোই মস্তিষ্কের সচলতা বাড়াতে সমান ভাবে উপকারী, তবে থানকুনি পাতা মেমোরির ডোমেন বাড়াতে বেশী কার্যকরি। এজন্য নিয়মিত থানকুনি পাতা খেতে পারেন ১০০০ মিলিগ্রামের মতো।

থানকুনিপাতা আলঝাইমার রোগের ‍চিকিৎসায় উপকারী

থানকুনি পাতায় মেমোরি এবং স্নায়ুর ফাংশন বাড়ানোর ক্ষমতা রয়েছে। যার ফলে এটি আলঝাইমার রোগের চিকিৎসা করার ক্ষমতা রাখে বলে ধারণা করা হয়।

২০১২ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে থানকুনি পাতা আলঝাইমার রোগের উপর ইতিবাচক প্রভার ফেলে। মস্তিষ্কের কোষ গুলিকে বিষক্রিয়ার হাত থেকে রক্ষা করে এবং একটি ফলক তৈরি করে যা আলঝাইমার হাত থেকে রক্ষা করে। তবে গবেষকদের মতে এ রোগের ‍চিকিৎসায় থানকুনি পাতার প্রভাব নিয়ে আরো গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

উদ্বেগ এবং চাপ কমাতে থানকুনি পাতার উপকারিতা

ঘুম কম হলে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়ে যায়। গবেষকদের মতে থানকুনি পাতার পুষ্টি উপাদান উদ্বেগ হ্রাস করতে সহায়তা করে।

ঘুম কম হলে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়ে যাবে, অ্যাক্সিডেটিভ ক্ষতি হবে এবং নিউরোইনফ্লেমেশন হবে। এজন্য যাদের ঘুম কম তারা নিয়মিত থানকুনি পাতা খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। যাদের ঘুম কম তারা দুই সপ্তাহ ৫০০ মিলিগ্রাম পরিমাণে থানকুনি পাতার রস খেতে পারেন।

ডিপ্রেশন দূর করতেও থানকুনি পাতার উপকারিতা

মস্তিষ্কের ক্রিয়ার উপর থানকুনি পাতার ইতিবাচক প্রভাব ডিপ্রেশন দূর করতে সহায়তা করতে পারে। ২০১৬ সালে ৩৩ জন ডিপ্রেশনের রোগীর উপর একটি গবেষনা করা হয়। তখন তাদেরকে ৬০ দিন ডিপ্রেশনের ওষুধের বদলে থানকুনি পাতা খাওয়ানো হয়। এরপর তারা নিজেরাই বলে যে তাদের মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও হতাশা অনেকাংশে কমে গেছে। ডিপ্রেশনের সময় শরীরের ওজন, তাপমাত্রা ও হার্টরেট এর তারতম্য দেখা দেয়া। থানকুনি পাতার প্রভাবে এগুলোও সাভাবিক থাকে।

রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি এবং শরীর ফোলা কমাতে সহায়তা করতে পারে থানকুনি পাতা

প্রায় দুই হাজারের মতো বিশ্বস্ত উৎস থেকে প্রাপ্ত গবেষণায় দেখা গেছে থানকুনি পাতা রক্তপ্রাত বন্ধ করা, গোড়ালি ফোলা এবং ৩ ঘন্টার বেশী লম্বা ফ্লাইটে বসে থাকার ফলে ব্যাথার প্রভাবকে কমাতে সহায়তা করে। এছাড়াও ভেরিকোজ শিরা চিকিৎসা করতে থানকুনি পাতা কার্যকর হতে পারে।

ঘুম কম বা ইনসমনিয়ায় যারা আক্রান্ত তাদের জন্য থানকুনি পাতা উপকারী

থানকুনি পাতায় উদ্বেগ, স্ট্রেস ও হতাশার চিকিৎসা সম্ভব। এজন্য অনিদ্রার চিকিৎসার জন্য এ পাতা কার্যকর হতে পারে। কারণ ঘুম কম হলেই উদ্বেগ, স্ট্রেস ও হতাশা মানুষের মধ্যে বেশি কাজ করে। ডাক্তারদের মতে অনিদ্রার সমস্যা দূর করতে থানকুনি পাতা ভেষজ প্রতিকার। অনিদ্রা বা ইনসমনিয়ায় ভূগলে ২/৩ সপ্তাহ দৈনিক তিনবার ৩০০মিলিগ্রামের মতো থানকুনি পাতা খেতে পারেন।

ত্বকের দাগকে কমাতে সহায়তা করে থানকুনি পাতা

দাগ মুক্ত সুন্দর ত্বক কার না পছন্দ? কিন্ত ব্রণ, কেটে যাওয়া সহ নানা কারণে আমাদের ত্বকে দাগের সৃষ্টি হয়। এই দাগ দূর করতে আমরা অনেক কিছুই করে থাকি, আবার অনেক সময় ক্যামিক্যাল পণ্য ব্যবহারে ত্বক আরও নষ্ট হয়। অথচ খুব সহজে থানকুনি পাতায় এর সমাধান পেতে পারেন।

ডাক্তাররা মনে করেন থানকুনি পাতায় থাকা টেরপোনয়েড উপাদান শরীরে কোলজেন উৎপাদন বাড়ায়। কোলজেন দাগ পড়ার হাত থেকে ত্বককে রক্ষা করে, শুধু তাই নয় পুরাতন দাগ দূর করতেও এই উপাদানটি অনেক বেশি কার্যকর।

ত্বকের দাগ দূর করতে আক্রান্ত স্থানে প্রতিদিন ‍দুইবার করে থানকুনি পাতার রস অথবা এর মলম ব্যবহার করতে পারেন।

রূপচর্চা বিষয়ক আরও আর্টিক্যাল পড়তে ক্লিক করুন-

ক্ষত নিরাময় করতে থানকুনি পাতা উপকারী

থানকুনিপাতা অনেক ধরনের ক্ষত নিরাময়ে প্রভাব ফেলে। ধারালো কিছু দিয়ে কাঁটলে, পরে গিয়ে কেটে গেলে অথবা পুরানো কিছুর সাথে লেগে কেটে গেলে থানকুনি পাতা নিয়ে থেতলে ক্ষতস্থানে মেখে নিন। এবপর যতদ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ক্ষত স্থানের প্রাথমিক চিকিৎসায় থানকুনি পাতা অনেক কার্যকর।

সাধারণ সতর্কতা এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

অনেকের ক্ষেত্রে থানকুনি পাতা মাথা ব্যাথা, পেট ব্যাথা এবং মাথা ঘোরানোর কারণ হতে পারে। এজন্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে অল্প করে শুরু করুন।  যদি বেশি সমস্যা হয় তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

থানকুনি পাতা ব্যবহার করবেন না, ‍যদি আপনি-

  • গর্ভবতী হয়ে থাকেন।
  • সন্তানকে বুকের দুধ পান করাচ্ছেন।
  • হেপাটাইটিস বা লিভারের অন্যান্য রোগ থেকে থাকে।
  • ১৮ বছরের নিচে হলে।
  • ত্বকে ক্যান্সারের সমস্যা থাকলে।

অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শে ব্যবহার করুন যাদি আপনার-

  • ডায়াবেটিস থাকে।
  • উচ্চ কোলেস্টোরেল থাকে।
  • ঘুম বা উদ্বেগের জন্য নিয়মিত ওষুধ খাওয়ার দরকার হয়।
  • যদি মূত্রবর্ধক ব্যবহার করে থাকেন।

যদিও সাধারন ভাবে ব্যবহারের জন্য থানকুনি পাতা নিরাপদ তবুও বেশী মাত্রায় কখনো ব্যবহার করবেন না। অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার করবেন।

তথ্যসূত্র: হেলথলাইন.কম

প্রেস/জেএ/এনজে

পুদিনা পাতার উপকারিতা ও গুনাবলি

পুদিনা পাতা

পুদিনা পাতার উপকারিতা ও গুনাবলি

জাকারিয়া: পুদিনা পাতার উপকারিতা ও গুনাবলি অনেক। প্রচীনকাল থেকে পরিচিত রন্ধন ‍উপাদানগুলোর একটি পুদিনা পাতা। তবে শুধু রান্নার উপাদান বললে ভুল হবে, পুদিনা পাতার রয়েছে অনেক উপকারী ওষুধি গুনাগুন।

ডাক্তারদের মতে পুদিনা পাতায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে এন্টিঅক্সিডেন্ট, যা সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে খুবই প্রয়োজনীয়। সহজেই সবুজ সালাদ, স্মুদি, মিষ্টি, চা, চাটনি এবং এমনকি পানির সাথে মিশেয়েও আপনি পুদিনা পাতা খেতে পারেন।

পুদিনা পাতার পুষ্টিগুন

ক্যালোরি, ফাইবার, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, ফসফরাস, পটাসিয়াম, আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ, ফলেট, প্রোটিন, এন্টিঅক্সিডেন্ট, ক্যালসিয়াম।

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা সমাধানে পুদিনা পাতার উপকারিতা

বিরক্তিকর পেট ব্যাথা এবং বদহজম কমাতে হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ পুদিনা পাতার ব্যবহার করে আসছে। গবেষকদের দেওয়া তথ্য মতে বদহজম, আইবিএস, শিশুদের পেটে ব্যাথা সহ অনেক গুলি গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল অবস্থার প্রতিকার হিসেবে পুদিনাপাতা উপকারী ভূমিকা পালন করে থাকে। এতে থাকা এন্টঅক্সিডেন্ট ক্ষতিকারক জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করে।

এলার্জির সমস্যা সমাধানে পুদিনা পাতা উপকারি

পুদিনা গাছে রয়েছে এন্টিঅক্সিডেন্ট এবং ইনফ্লেমেটোরি এজেন্ট। এই উপাদানগুলি হাঁপানির লক্ষন কমাতে সহায়তা করে থাকে। পুদিনায় থাকা এন্টি-এলার্জিনিক প্রভাব শরীরে এলার্জির ক্ষতিকারক সমস্যাগুলিকে দূর করে দেয়। তবে এলার্জির সমস্যার জন্য পুদিনা খাওয়া থেকে এর  তেল ব্যবহারের উপকারিতা বেশি।

সাধারণ ঠান্ডা-কশি সমাধানে পুদিনা পাতার উপকারিতা

পুদিনায় মেন্থল থাকে যা সুগন্ধযুক্ত ডোনজেস্ট্যান্ট। এটি কফ ও শ্লেষ্মা কমাতে সহায়তা করে থাকে। এর ফলে কফ বেরিয়ে যায়। বাচ্চাদের ঠান্ডা লেগে বুকে কফ জমলে মেন্থল যুক্ত মলম বা বাম বুকে, পিঠে ঘষে চিকিৎসা করা যায়। তবে শিশুর ঠান্ডার সমস্যা গুরুতর হয়ে গেলে বাচ্চাদের এ ধরনের চিকিৎসা না ‍দিয়ে সরাসরি ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

আরও পড়ুন: ঠাণ্ডা-কাশি নিরাময়ের প্রাকৃতিক উপায় সমূহ

ডায়েটের জন্য পুদিনা পাতা উপকারী

নরম কান্ডযুক্ত এক অনন্য ভেষজের নাম হলো পুদিনা পাতা। এগুলো রান্নার প্রক্রিয়া শেষে খাবারে যুক্ত করা ভালো। যার ফলে খাবারের স্বাদ বজায় থাকে এবং হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। যার ফলে পুদিনা পাতা ডায়েটের জন্য খুবই উপকারী।

মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে

অনেক গবেষক মনে করেন পুদিনা খাওয়া ছাড়াও এর উদ্ভিদ থেকে নেয়া প্রয়োজনীয় তেলের সুগন্ধে শ্বাস নেওয়া মস্তিষ্কের উপকার করে থাকে। কিছু শিক্ষার্থীর উপর করা গবেষণায় দেখা গেছে যে, পরীক্ষা শুরুর আগে পুদিনার তেলের ঘ্রাণ তাদের মস্তিষ্কেকে সতেজ করে তুলেছে। এছাড়াও হতাশা, উদ্বেগ এবং অবসান্নতার মাত্রা কমাতেও এই তেলের সুগন্ধি কার্যকরী ভূমিকা রয়েছে।

স্তন্যপান করানোর ব্যাথা কমাতে পুদিনা পাতা উপকারী

বুকের দুধ পান করানো মায়েদের সাধারণত ঘা এবং ফাটা স্তনবৃন্তের সমস্যা হয়। যার ফলে বাচ্চাকে দুধ পান করানোটা অনেক সময় কষ্টকর হয়ে যায়। ত্বকে পুদিনার প্রলেপ লাগালে স্তন্যদান করানোর ব্যাথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। পুদিনা পাতার প্রেলেপ বা তেল স্তনের স্তরের চারপাশে লেপে ‍দিলে ব্যাথা এবং স্তনফাটা প্রতিরোধ করা যায়।

মুখের দুরগন্ধ দূর করতে পুদিনা পাতা উপকারী

সাধারণ ভাবে পুদিনা পাতা ‍চিবিয়ে খেলে অথবা পুদিনার ফ্লেভারযুক্ত চুইংগাম খেলে মুখের দুরগন্ধ দূর হয়। ডাক্তারদের মতে পুদিনার সুগন্ধ যুক্ত চুইংগাম দুই-তিন ঘন্টা মুখের দুর গন্ধকে সরিয়ে রাখে, তবে ব্যাকটেরিয়া বা অন্যান্য ক্ষতিকারক যৌগকে কমায় না। এজন্য পুদিনা পাতা চিবিয়ে অথবা চায়ের সাথে খেতে পারেন।

সাধারণ সতর্কতা বা অপকারিতা

অন্যান্য অনেক উদ্ভিদ উপাদানের মতো পুদিনা পাতাও অনেকের শরীরে প্বার্শপ্রতিক্রিয়ার কারণ হয়ে দাড়ায়। বেশি মাত্রায় পুদিনার তেল ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। দরকার হলে ডাক্তারের পরামর্শে তেল ব্যবহার করুন।

কোন শিশু বাচ্চার মুখে পুদিনার তেল লাগাবেন না। ঝাঁকুনি ‍দিয়ে বাচ্চাদের শ্বাস কষ্ট দেখা দিতে পারে। কোন ধরনের ওষুধ পুদিনা পাতার সাথে খাওয়া যাবে কিনা তা অবশ্যই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিবেন।

অতিরিক্ত মাত্রায় পুদিনা পাতা খাওয়া, তেল ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

প্রেস/জেএ/এনজে/

তথ্যসূত্র: মেডিক্যাল নিউজ টুডে এবং হেলথলাইন

ত্বকের যত্নে নারকেল তেল

ত্বকের যত্নে নারকেল তেল

ত্বকের যত্নে নারকেল তেল

রিয়া সরকারঃ ত্বকের যত্নে নারকেল তেল যে কত উপকারী সে সম্পর্কে হয়ত আমরা জানিনা। আমরা এটা জানি যে নারকেল তেল আমাদের চুলের জন্য উপকারী কিন্তু এটি আশ্চর্যজনক ভাবে আমাদের ত্বকের যত্নে ব্যবহার হয়ে থাকে। শুষ্ক ত্বকের জন্য নারকেল তেল খুব বেশি উপকারী। এতে রয়েছে এনটি ব্যাকটেরিয়াল ও এনটি ফাঙ্গাল গুণাগুণ যা আমাদের ত্বকের জন্য খুবই ভালো। এবার জেনে নেওয়া যাক নারকেল তেল আমাদের ত্বকের কি কি উপকারে করে থাকে।

নারকেল তেল ত্বককে মইশচারাইজ করতে সাহায্য করে

ত্বকের মইশচার ধরে রাখাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শুষ্ক ত্বকের জন্য নারকেল তেল দারুণ ভাবে মইশচারাইজারের কাজ করে থাকে। কারণ এতে রয়েছে ফ্যাটি এসিড ও ভিটামিন ই যা শুষ্ক ত্বককে মইশচারাইজ করতে সাহায্য করে।

নারকেল তেল মেইকআপ রিমুভাল হিসেবে কাজ করে

আমরা যারা রোজ বাইরে যাতায়াত করি তাদের কম বেশি সবারই মেইকআপ করতে হয়। ত্বকের যত্নের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হল মেইকআপ তুলে মুখ ভালো করে পরিষ্কার রাখা। আর এই মেইকআপ তুলতে আমরা নানা ধরনের পণ্যও ব্যবহার করে থাকি। অনেকে হয়ত জানিনা যে নারকেল তেল আমাদের মেইকআপ রিমুভাল হিসেবেও কাজ করে থাকে। তুলোর মধ্যে নারকেল তেল নিয়ে আলতো হাতে মুখ পরিষ্কার করে নিতে হবে। মেইকআপ তোলার সাথে সাথে আপনার ত্বককে মসৃণ ও করে নারকেল তেল।

নারকেল তেল বার্ধক্য প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে

ত্বকে বয়সের সাথে সাথে বার্ধক্যের ছাপ পরতে শুরু করে এবং বিভিন্ন ধরনের সমস্যাও দেখা দেয়। নারকেল তেল সেসব খুব সহজেই সমাধান করে দিতে পারে। এটি ত্বকের গভীরে গিয়ে আপনার ত্বককে ভেতর থেকে মসৃণ করে এবং ত্বককে পুনর্জীবিত করে তোলে। তাহলে এখন ঘরে বসেই ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করে নিজেকে নানান সমস্যার হাত থেকে রক্ষা করতে পারবেন।

লিপবাম হিসেবে কাজ করে নারকেল তেল

ঠোঁট ফাটার সমস্যায় আমরা সবাই ভুগি। শীতকালে যেন এর হাত থেকে কেওই রক্ষা পাইনা। নারকেল তেল ব্যবহার করলে এই সমস্যার সমাধান খুব চটজলদি পেয়ে যেতে পারি। অনেকেরই হয়ত জানা নেই যে নারকেল তেল আমাদের ঠোঁট ফাটার হাত থেকে বাঁচাতে পারে। রোজ ঠোঁটে নারকেল তেল লাগালে ঠোঁটের মরা চামড়া উঠে যাবে এবং ঠোঁট মসৃণ ও সুন্দর থাকবে।

ফাঙ্গাল ইনফেকশন রোধ করে

আপনি যদি ফাঙ্গাল ইনফেকশনের সমস্যায় পরেন তাহলে বাইরে কোথাও না গিয়ে আপনার ঘরের নারকেল তেলটি ব্যবহার করুন। নারকেল তেলে রয়েছে এনটি-ফাঙ্গাল গুণাগুণ যা আপনাকে ফাঙ্গাল ইনফেকশনের হাত থেকে রক্ষা করবে।

সানসক্রিন হিসেবে কাজ করে নারকেল তেল

রোদে পুড়ে ত্বক কালো হয়ে গেছে? বিভিন্ন পণ্য ব্যবহার করেও সুফল পাচ্ছেন না? তাহলে এবার নারকেল তেল ব্যবহার করে দেখুন আপনার সমস্যার সমাধান খুঁজে পাবেন। নারকেল তেল ত্বককে ইউ ভি রেডিয়েশন থেকে বাঁচায়। তাই বাইরে বেরনের আগে মুখে নারকেল তেল লাগিয়ে বেরতে ভুলবেন না।

এছাড়াও নারকেল তেল চুলের যত্নে দারুণ উপকারী। চুল পরে যাওয়া থেকে শুরু করে, চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়া, চুলের ডগা ফেটে যাওয়া সব সমস্যার যেন একটাই সমাধান। সপ্তাহে ২ থেকে ৩ দিন নারকেল তেল একটু গরম করে চুলের গোঁড়ায় গোঁড়ায় লাগালে চুলের গোঁড়া শক্ত হয় এবং চুল পরা বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের অনেকেরই রোদে পুড়ে চুল লালচে হয়ে যায়। তাই সেই সমস্যার সমাধানও নারকেল তেল দিতে পারে। নিয়ম করে চুলে তেল লাগালে আস্তে আস্তে আপনার চুল আগের মতো সুন্দর ও ঝলমলে হয়ে যাবে।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।

অনলাইনপ্রেস২৪/আরএস/এনজে

এসেন্সিয়াল অয়েলের উপকারিতা ও ব্যবহার

এসেন্সিয়াল অয়েলের উপকারিতা

এসেন্সিয়াল অয়েলের উপকারিতা

রিয়া সরকারঃ স্পাতে না গিয়েই নিজেকে স্ট্রেসমুক্ত/ চাপমুক্ত রাখতে চান? এসেন্সিয়াল অয়েল আপনাকে ঠিক একিরকম অনুভুতি দিতে পারে ঘরে বসেই।

এসেন্সিয়াল অয়েল সাধারনত এরোমাথেরাপি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি উদ্ভিদের নির্যাস থেকে নেওয়া হয় যা ওষুধের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এটি আপনাকে মানসিক ও শারীরিক উভয় ভাবেই সতেজ রাখতে সাহায্য করবে।

কিছু এসেন্সিয়াল অয়েলে রয়েছে এনটিসেপটিক, এনটি ব্যকটেরিয়াল এবং এনটি ইনফ্লামাটরি বৈশিষ্ট্য। এটি আমাদের শরীরের সুগন্ধি হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে।

অনেক ধরনের এসেন্সিয়াল অয়েল রয়েছে। যেমন- ল্যভেনডার, ইউকেলিপটাস পিপারমেনট, স্যান্ডেলউড, রউজ, ক্যমোমাইল, ইয়াং ইয়াং, টি ট্রি, জেসমিন, লেমন, অলিভ অয়েল। বিভিন্ন ধরনের অয়েল বিভিন্ন কারনে ব্যবহার হয়ে থাকে।

স্ট্রেসমুক্ত রাখতে এসেন্সিয়াল অয়েলের উপকারিতাঃ

গবেষণায় দেখা গেছে প্রায় ৪৩ শতাংশ মানুষ কিছু না কিছু ব্যাবহার করে থাকেন নিজেদের স্ট্রেসমুক্ত রাখতে তার মধ্যে এসেন্সিয়াল অয়েল অন্যতম। এর সুগন্ধি আমাদের উদ্বেগ/ চাপ কমাতে সাহায্য করে।


পিপারমিনট এসেন্সিয়াল অয়েলের উপকারিতা  

নানান কারনে আমাদের মাথা ব্যথা হয়ে থাকে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, পিপারমিনট ও ল্যাভেনডার একসাথে মাথায় মালিশ করলে মাথা ব্যথা কমে যায়। এমনকি মাইগ্রেনের ব্যথাও কমে যায়।

ল্যাভেনডার এসেন্সিয়াল অয়েলের উপকারিতা

ল্যাভেনডার এসেন্সিয়াল অয়েল ঘুমের জন্য দারুন কাজ করে। ঘুমানোর সময় আমাদের অনেকেরই মাথায় নানান ধরনের চিন্তা থাকে, অনেক কিছু নিয়ে দুশ্চিন্তা করি আর সেই কারনে আমাদের ঘুম আসতে দেরি হয়। আবার অনেক সময় সারারাত ঘুমাতে পারিনা। এরকম সমস্যাতে ল্যাভেনডার এসেন্সিয়াল অয়েল বা ক্যমোমাইল অয়েল একটু মাথায় লাগিয়ে নিলে কিছুক্ষনের মধ্যেই আপনার ঘুম চলে আসবে। এছাড়াও ল্যাভেনডার অয়েল খুশকি দূর করে ও চুল পরা কমাতে সাহায্য করে।

অলিভ অয়েল

অলিভ অয়েল রুক্ষ ত্বকের জন্য দারুন উপকারি। এতে রয়েছে ভিটামিন এ এবং ই যা আমাদের ত্বকের জন্য খুবই উপকারি। শীতকালে আমাদের সবার ত্বকই রুক্ষ হয়ে যায় এবং নানা সমস্যা দেখা দেয়। অলিভে অয়েল সেই সব সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে থাকে। অলিভে অয়েল চুলের জন্যও খুব উপকারি, এটি চুলে  কনডিশনার হিসেবে কাজ করে থাকে। এছাড়াও অলিভে অয়েল মেইকআপ তোলার জন্যও খুব ভালো।

ইউক্যালিপটাস

এই এসেন্সিয়াল অয়েল শ্বাসযন্ত্রের ইনফেকশন কমানোর সাথে সাথে শরীরের ব্যথা, কেটে যাওয়া বা পুড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা সমাধান করে থাকে। এছাড়াও এটি বিভিন্ন কফ সিরাপের মধ্যে ব্যবহার হয়ে থাকে। ইউক্যালিপটাস আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যকে সুস্থ রাখে এবং নানা ওষুধের মধ্যেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

সিনামেন


সিনামেন অয়েল ম্যাঙ্গানিজ, আইরন এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ। এটি মস্তিস্কের কার্যকারিতা উন্নত করে, রক্তকে বিশুদ্ধ করে এবং হৃদরোগ ও ডায়েবেটিক্সের হাত থেকেও আমাদের মুক্তি পেতে সাহায্য করে। শীতকালে রাতে ঘুমানোর আগে শরীরে লাগিয়ে নিলে আমাদের কফ ও শ্বাস কষ্টের সমস্যা কমে যাবে।

টি ট্রি অয়েল

টি ট্রি অয়েল ত্বকের জন্য খুবই উপকারি। ব্রণের সমস্যা দূর করতে এর ভূমিকা অতুলনীয়। প্রতিদিনের মইশচারাইজারের সাথে ১ থেকে ২ ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে লাগিয়ে নিলে ব্রণের সমস্যা দূর হবে। এছাড়াও ফেইসওয়াশের সাথে টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে রোজ মুখ ধুয়ে নিলেও এই সমস্যা দূর হবে।

এসেন্সিয়াল অয়েল এরোমাথেরাপি ছাড়াও আমাদের নানা ভাবে উপকারে আসে। অনেকেই এসেন্সিয়াল অয়েল রুম ফ্রেশনার হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। অনেকে বলে থাকেন এটি ঘরে ব্যবহারের ফলে মশার আনাগনাও কমে যায়।

** তবে অনেক সময় এসেন্সিয়াল অয়েলের গন্ধ নিলে বাচ্চাদের এবং গর্ভবতী মহিলাদের সমস্যা হতে পারে, সেই দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।

তথ্যসূত্র: টইহেলথলাইন

অনলাইনপ্রেস২৪/এরএস/এনজে

আদার উপকারিতা, পুষ্টিগুন এবং ব্যবহার

আদার উপকারিতা

আদার উপকারিতা, পুষ্টিগুন এবং ব্যবহার

আদা প্রাচীন কাল থেকেই রান্নার মসলা ও বিভিন্ন ওষুধি কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আদার উপকারিতা ও এর পুষ্টিগুন অনেক। পৃথিবীতে স্বাস্থ্যকর যতগুলো মসলা আছে আদা তার মধ্যে অন্যতম একটি।

তবে আমাদের অনেকের মধ্যে সঠিক ধারণাই নেই সহজলভ্য এই রসনা উপাদানের ভেষজ গুণাগুণের ব্যাপারে। তাই আসুন জেনে নেই আদার উপকারিতা, পুষ্টিগুন এবং ব্যবহার সর্ম্পকে।

প্রতি ১০০ গ্রাম আদায় বিদ্যমান পুষ্টি উপাদান

  • এনার্জি- ৮০ক্যালোরি
  • কার্বোহাইড্রেড- ১৭গ্রাম
  • ফ্যাট- ০.৭৫গ্রাম
  • পটাসিয়াম- ৪১৫মিলিগ্রাম
  • ফসফরাস- ৩৪মিলিগ্রাম

সাধারণ ঠান্ডা-সর্দি-কাশি থেকে মুক্তি পেতে আদা উপকারী

আদা সাধারণ ঠান্ডা-সর্দি-কাশির চিকিৎসার প্রাকৃতিক উপাদান। তাজা আদা স্বাসযন্ত্রকে সুরক্ষা প্রদান করে থাকে। এ অবস্থায় প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে শুধু আদা বা হালকা গরম পানির সাথে আদা মিশিয়ে খেলে সর্দি-কাশি ভালো হয়ে যাবে।

ব্যাথা নিরাময়ে আদা উপকারী

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিদিন ২ গ্রাম কাঁচা আদা অথবা গরম পানির সাথে আদা মিশেয়ে খেলে শরিরের ব্যাথা কমে যায়। যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন তাদের পেশিতে হালকা ব্যাথা অনুভব হয়। তাই তারা নিয়মিত এভাবে আদা খেতে পারেন।

মহিলাদের পিরিওডের আগে বা পিরিওডের সময় ব্যাথা হয়। কুসুম গরম জলে আদা মিশিয়ে খেলে এজাতীয় ব্যাথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

শারীরের জ্বালা-যন্ত্রনা কমাতে আদার উপকারিতা

নিয়মিত আদা চিবিয়ে খেলে আরর্থারাইটস জনিত জ্বালা-যন্ত্রনা থেকে মু্ক্তি পাওয়া যায়। খাদ্য গবেষকদের মতে আদাতে থাকা ফাইটোকেমিক্যাল শারীরিক প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। এজন্য শুধু মসলা হিসেবে নয়, কাঁচা আদা খাওয়ারো অভ্যাস করা জরুরি।

বমিভাব দূর করতে উপকারী

আদা বমি বমি ভাব দূর করতে সহায়তা করতে পারে। কেমোথেরাপি করা শিশুদের উপর একটি গবেষনায় দেখা যায়, আদার রস অধিকাংশ শিশুর বমি ভাব দূর করতে সক্ষম হয়েছে।  ১৫০০ মিলিগ্রামের আদার ডোজ বমি ভাবকে দূর করতে সক্ষম। যাদের অল্পতেই বমি হয়ে থাকে তারা নিয়মিত আদা খেতে পারেন।

ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করে

আদা প্রোটিন বা অন্যান্য পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে না। তবে আদা এন্টিঅক্সিডেন্টের একটি দুর্দান্ত উৎস। এজন্য আদা রাসায়নিক বিক্রিয়ার চাপ কমাতে পারে।

ফ্রি রেডিক্যাল এক ধরনের বিষাক্ত পদার্থ, যার মাত্রা শরীরে বেড়ে গেলে রাসায়নিক বিক্রিয়ার চাপ হয়। যা ক্যান্সার সহ নানা ধরনের রোগের কারণ হয়ে থাকে। এন্টিঅক্সিডেন্ট ফ্রি রেডিক্যাল সমূকে ধ্বংস করতে পারে। এজন্য আদা কলোরেক্টাল ক্যান্সার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।

কোলেস্টোরেল হ্রাস করে

বেশি মাত্রার লাইপোপ্রোটিন (খারাপ কোলেস্টোরেল) হৃদরোগের ঝুঁকির সাথে যুক্ত। আমরা নিয়মিত যে খাবার খাই সেগুলো দেহে এলডিএল (খারাপ কোলেস্টোরেল) এর মাত্রা বৃদ্ধি করে। আদা এই ক্ষতিকর কোলেস্টোরেলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

ইনফেকশনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদার উপকারিতা

তাজা আদাতে জৈবিক পদার্থ আছে, যা সংক্রামণ হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। আদা বা আদার রস ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিকে বাধা দিতে পারে।

জিঙ্গিভাইটিস এবং পিরিয়ডোন্টাইটিস এমন ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে আদা খুবি কার্যকর। আরএসভি জাতীয় ভাইরাস যা শ্বাসতন্ত্রের সংক্রামিত রোগের কারণ হয়। তাজা আদা এ ধরনের ভাইরাসের বিরুদ্ধে উপকারি ভূমিকা রাখে।

আদা খাওয়ার পদ্ধতি

  • ১. গরম পানির সাথে আদা থেতলিয়ে মিশিয়ে খেতে পারেন।
  • ২. আদা পরিষ্কার করে ছুলে লেবুর রসের সাথে মিশিয়ে হজম হওয়ার জন্য খেতে পারেন।
  • ৩. আদা থেতলানো বা আদার রস চায়ের সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন। দুধ  বা রঙ যেকোনও চায়ের সাথেই আদা খাওয়া যায়।
  • ৪. আদা ঘন করে জাল ‍দিয়ে আদার সিরাপ করে খেতে পারেন।
  • ৫. এছাড়া আদার আচার তৈরি করে খাবারের সাথে নিয়মিত আদা খেতে পারেন।
  • ৬. অনেকেই ঘুম থেকে উঠার পর দুর্বলতা অনুভব করেন। এজন্য ঘুম থেকে উঠে অল্প আদা খেতে পারেন। নিয়মিত খাওয়ার পর এ দুর্বলতা ভাব কেটে যাবে।

অনলাইনপ্রেস/জেএ/এনজে

তথ্যসূত্র: হেলথলাইনমেডিক্যাল নিউজ টুডে

অনন্য এক ভেষজ কাঁচা হলুদের উপকারিতা

কাঁচা হলুদের উপকারিতা

কাঁচা হলুদের উপকারিতা

রিয়া সরকারঃ কাঁচা হলুদের উপকারিতা নিয়ে যত বলা হবে ততোই কম। বহু প্রাচীনকাল থেকেই কাঁচা হলুদ রান্নার সাথে সাথে ওষুধি হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে।

কাঁচা হলুদ আমাদের শরীরের নানান সমস্যা সমাধান করে থাকে। রান্না থেকে শুরু করে রূপচর্চায়  কাঁচা হলুদের ব্যবহার দেখা যায়। এতে রয়েছে এনটি-ফাঙ্গাল, এনটি- ব্যকটেরিয়াল, এনটি-অক্সিডেনট, এনটি-ইনফ্লামেটোরি, এনটি-কারসিনোজেনিক গুনাগুন।

জেনে নেওয়া যাক তাহলে কাঁচা হলুদের উপকারিতা সম্পর্কে।

কাঁচা হলুদ হজম শক্তি বৃদ্ধি করে

রান্নায় হলুদ ব্যবহার হয়ে থাকে সাধারণত এর রঙের জন্য, তাছাড়াও আরেকটি কারণ হলো হলুদ আমাদের হজমে সাহায্য করে। এর মধ্যে রয়েছে এনটি-অক্সিডেনট এবং এনটি- ইনফ্লামাটরি যা আমাদের হজম শক্তি বৃদ্ধি করে। এটি আয়ু্র্ভেদিক ওষুধ হিসেবেও ব্যবহার হয়ে থাকে।

কাঁচা হলুদ পেটের সমস্যা দূর করে

অনেক সময়ই আমরা পেটের সমস্যায় ভুগি। অনেক কারণ থেকেই তা হয়ে থাকে। কখনো কখনো হজম না হলেও পেটে ব্যাথা হতে পারে। কাঁচা হলুদ সেই সব সমস্যা নিরাময় করতে দারুন কাজ করে। পেটের সমস্যা দূর করতে কাঁচা হলুদ খুবই উপকারী।

হাড়ের ব্যথা দূর করে

বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাড়ের নানান ধরনের সমস্যা শুরু হতে থাকে। এনটি-ইনফ্লামাটরি হাড়ের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। কাঁচা হলুদ খাওয়ার ফলে আমাদের হাড়ের অনেক সমস্যা যেমন- আরথ্রাইটিস, ওসট্রিও-আরথ্রাইটিস এর মতো নানা জটিলতা নিরাময় হয়।

ত্বকের যত্নে কাঁচা হলুদের ব্যবহার

অনেক আগে থেকেই কাঁচা হলুদ ত্বকের সমস্যা সমাধানের জন্য ব্যবহার হয়ে আসছে। হলুদে রয়েছে এনটি- অক্সিডেনট যা আমাদের ত্বককে বিভিন্ন সমস্যার হাত থেকে রক্ষা করে। রোদে পুড়ে আমাদের ত্বকে কালচে ভাব হয়ে যায়, কাঁচা হলুদ ব্যবহার করলে সেই সমস্যা কমে যাবে। ত্বককে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে কাঁচা হলুদ। এমনকি কাঁচা হলুদ ব্যবহার করে ব্রণের সমস্যাও দূর করা যায়। তাহলে এখন থেকে ব্রণের সমস্যা হলে বাইরের পণ্য না কিনে আপনার রান্না ঘরেই সমাধান খুঁজে নেয়ার চেষ্টা করুন।

ডায়াবেটিকস কমাতে সাহায্য করে

যারা ডায়াবেটিস এর সমস্যায় ভুগে থাকেন তারা অনেকেই ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি কিছু ঘরোয়া সমাধানও খুঁজে থাকেন এর জন্য। তাদের জন্য কাঁচা হলুদ খুবই উপকারি। কাঁচা হলুদ ইনসুলিন লেভেল কে কন্ট্রোলে রাখে। তাই ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি যদি প্রতিদিন কাঁচা হলুদ খাওয়া যায় তাহলে কিন্তু সমস্যা অনেকাংশেই কমে যাবে। ডায়েবেটিসকে সব রোগের জনক বলা হয়। তাই এই রোগকে কন্ট্রোলে রাখা খুবই জরুরি। কিছু কিছু নিয়ম মেনে চললেই আমাদের ডায়েবেটিকস কন্ট্রোলে থাকবে।

লিভার ভালো রাখে

কাঁচা হলুদে রয়েছে এনটি-অক্সিডেনট যা আপনার লিভারকে যেকোনো খারাপ কিছু থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে। তাই যাদের কাঁচা হলুদ খাওয়ার অভ্যাস নেই তারা চট জলদি এই অভ্যাস গড়ে তুলুন।

এছাড়াও কাঁচা হলুদ প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সার, প্রসটেট ক্যান্সারের মতো কঠিন রোগের হাত থেকেও আমাদের বাঁচিয়ে থাকে।

কাঁচা হলুদের অপকারিতা

কাঁচা হলুদের আবার অনেক সাইড এফেক্ট ও রয়েছে। যেগুলো জেনে নেওয়া খুবই জরুরি। গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত হলুদ খাওয়ার ফলে আবার পেটের অনেক সমস্যা হয়ে থাকে। তাই অবশ্যই পরিমান মতো খেতে হবে।

কাঁচা হলুদ আমাদের রক্তের কোলেসটরাল কমায় এবং রক্ত পাতলা করে। তাই যারা রক্ত পাতলার ওষুধ খেয়ে থাকেন তারা অবশ্যই খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন।

তথ্যসুত্র: মেডিক্যাল নিউজ টুডেএনডিটিভি

অনলাইনপ্রেস/আরএস/এনজে

আশ্চর্য এক প্রাকৃতিক ওষুধ রসুনের উপকারিতা ও পুষ্টিগুন

রসুনের উপকারিতা

রসুনের উপকারিতা ও পুষ্টিগুন

জাকারিয়াঃ রান্নায় স্বাদ বাড়ানোর জন্য রসুন ব্যবহার হয়। তবে রসুনের রয়েছে অনেক উপকারিতা ও পুষ্টিগুন। এর পুষ্টিগুনের জন্য প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন রোগের পথ্য হিসেবে রসুনের ব্যাপক ব্যবহার ছিলো।

পশ্চিমা ওষুধের জনক প্রাচীন গ্রীক ‍চিকিৎসক হিপোক্রেটিস, তিনি  বেশিরভাগ চিকিৎসার জন্য রসুনের কথা বলেছেন। এতে বোঝা যায় প্রাচীনকাল থেকেই মানুষের চিকিৎসার জন্য রসুন ব্যবহার হয়ে আসছে। রান্না করা কিংবা কাঁচা সবসময়ই রসুনের পুষ্টিগুন অটুট থাকে। এতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে প্রাকৃতিক এন্টিবায়োটিক রয়েছে।

রসুনের পুষ্টিগুন

রসুনে প্রচুর ক্যালসিয়াম, আমিষ ও অল্প পরিমানে ভিটামিন-সি রয়েছে। এছাড়াও আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ফসফরাস, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, দস্তা, সেলেনিয়াম, ফোলেট, ভিটামিন-বি৬, প্রোটিন এবং চিনি রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে।

হৃদপিন্ডের যত্নে রসুনের উপকারিতা

খাবারের সাথে নিয়মিত রসুন খেলে উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টোরেল হ্রাস পায়। রসুনের ‍নির্যাস হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও কার্ডিয়াক ইভেন্টগুলোর জন্য ভালো।

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যাদের উচ্চ কোলেস্টোরেল রয়েছে, রসুন তাদের মোট কোলেস্টোরেল ও এলডিএল কমাতে সহায়তা করে। এজন্য কাঁচা  অথবা রান্না করা খাবারের সাথে নিয়মিত রসুন খান।

সাধারণ সর্দি-কাশি নিরাময়ে রসুন উপকারী

রসুনের প্রফিল্যাক্টিকের কারনে মানুষের সর্দি-কাশির প্রবনতা হ্রাস পায়। সাধারণ সর্দি-কাশি হলে আদার সাথে কাঁচা রসুন খেলে উপকার পাওয়া যায়।

অনেক চিকিৎসকের মতে কাঁচা রসুনের সর্বাধিক উপকারিতা, আবার অনেকে বলেন কাঁচা বা রান্না উভয় ক্ষেত্রেই এর গুণ সমান। একটি গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত রসুন খেলে ঠান্ডা-কাশি হওয়ার চান্স ৩% পর্যন্ত কমে যায়।

ব্লাড প্রেসারের জন্য উপকারী

রসুন শরীরের রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। নিয়মিত রসুন খেলে আপনার রক্তচাপ ১০% পর্যন্ত কমে আসতে পারে। রসুন রক্তের এন্টিঅক্সিডেন্টকে শক্তিশালি করে। তাই ব্লাডপ্রেসারের রোগীরা নিয়মিত রসুন খেয়ে নিজের ব্লাডপ্রেসারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন।

কোলেস্টোরেল নিয়ন্ত্রনে সহায়ক রসুন

রসুন আপনার কোলেস্টোরেলকে কমিয়ে হৃদরোগের মতো দুরারোগ্য ব্যাধির ঝুঁকি হ্রাস করতে পারে। একদল গবেষক গবেষণায় দেখেছেন, ‍নিয়মিত রসুন খেলে পাঁচ মাসের মধ্যে রক্তে খারাপ কোলেস্টোরেল কমে যায়।

অন্য আর সব প্রাকৃতিক ওষুধের মতো কিছুটা সময় বেশি নিলেও এর কার্যকারিতা ‍দীর্ঘস্থায়ী। এজন্য কোলেস্টোরেল নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে আজীবন রসুন খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

হাড়কে মজবুত করে তুলতে রসুন উপকারী

রসুন মহিলাদের মধ্যে এসট্রোজেন বাড়িয়ে তোলে যা হাড়ের ক্ষয় রোধে সহায়ক। নিয়মিত রসুন খেলে অস্টিও আর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি কমে যায়। মেয়েদের পিরিয়ড যখন একেবারেই শেষ হয়ে যাবে অর্থাৎ মেনপোজ এর সময় রসুন হাড়ের জন্য খুবই উপকারী। এজন্য নিয়মিত রসুন খাবার তালিকায় রাখতে হবে। রান্না খাওয়ার পাশাপাশি কাঁচা রসুনো খেতে হবে।

মস্তিষ্কের জন্য উপকারী

বয়স বাড়ার সাথে সাথে ফ্রির‌্যাডিক্যাল ক্ষয়জনিত সমস্যা দেখা দেয় যা দূর করতে সাহায্য করে রসুন। রসুনে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে এন্টিঅক্সিডেন্ট। যা মস্তিষ্ককে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে, ফলে বয়স গেলেও মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বজায় তাকে।

নিয়মিত রসুন খেলে মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিক থাকে। যার ফলে ডিমেনশিয়া ও আলঝাইমার মতো মস্তিষ্কের ব্যাধির ঝুঁকি কমে যায়।

ত্বকের যত্ন নিতে রসুনের উপকারিতা

ত্বকের যত্ন নিতে রসুন উপকারী ভূমিকা পালন করে। রসুনে একাধারে রয়েছে এন্টিঅক্সিডেন্ট, এন্টিফাঙ্গাল এবং এন্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান। মুখে ব্রণ হয় ব্যাকটেরিয়ার জন্য। এজন্য যদি ব্রণ হয় তাহলে ব্রণে কাঁচা রসুন ঘষুন।

রসুনের এন্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে সুরক্ষা প্রদান করে থাকে। রসুন ত্বকের এন্টিএজিং এর কাজ করে থাকে। তবে যদি সেনসেটিভ ত্বক হয়ে থাকে তবে ত্বকে রসুন বেশি ব্যবহার করবেন না।

খেলোয়ড়দের জন্য রসুন উপকারী

রসুন কর্মক্ষমতা বাড়ানো এবং ক্লান্তি দূর করার জন্য প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবহার হয়ে আসছে। গ্রীসের অলিম্পিক ক্রীড়াবিদরা তাদের খেলার সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য রসুন ব্যবহার করতো। এখন বর্তমান সময়ের ক্রীড়াবিদরাও ব্যয়ামের ক্লান্তি দূর করতে রসুন খেয়ে থাকেন। এজন্য নিজেকে ফিট রাখতে নিয়মিত রসুন খান।

ক্যান্সার রোধে উপকারী ভূমিকা রাখে

নিয়মিত রসুন খেলে ফুসফুসের ক্যান্সার, ব্রেইন ক্যান্সার ও প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে যায়। যারা ধুমপান করেন তাদের ফুসফুসে ক্যান্সার হওয়ার চান্স অনেকা। চিনা গবেষকদের মতে যারা ‍নিয়মিত কাঁচা রসুন খায় তাদের ফুসফুসের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি চল্লিশ শতাংশ কমে আসে। রসুনে থাকা আর্গানো সালফার ব্রেইন টিউমারের কোষ ধ্বংসে সাহায্য করে।

যৌনশক্তি বৃদ্ধিতে রসুনের উপকারিতা

সাধারনত পুরুষদের মধ্যে অনেক ধরনের যৌন সমস্যা থেকে থাকে। অনেকের ক্ষেত্রে যা খুবই বড় আকারের সমস্যা হয়ে দাড়ায়। প্রতিদিন ২/৩ কোয়া কাঁচা রসুন খেলে যৌন সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। রসুনা থাকা এলিসিন নামক উপাদান পুরুষের যৌনশক্তি বৃদ্ধিতে জাদুকরি ভূমিকা পালন করে।

দ্রুত বীর্য পতন রোধ ও পাতলা বীর্য ঘন করতে রসুনের তুলোনা হয় না। তাই নিজের যৌন সমস্যা দূর করতে নিয়মিত রসুন খেতে পারেন।

তথ্যসূত্র: হেলথলাইনমেডিক্যাল নিউজ টুডে

অনলাইনপ্রেস/জেএ/এনজে