থানকুনি পাতার উপকারিতা সম্পর্কে জানুন

থানকুনি পাতার উপকারিতা

থানকুনি পাতার পুষ্টিগুনের জন্য ঐতিহ্যবাহী চীনা এবং আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় এর বেপক প্রচলন ‍ছিল। উপকারিতা কথা বিবেচনা করলে এটি অন্যতম একটি আয়ূর্বেদিক উপাদান। ইনফেকশন, পোড়া, দাগ, শরীর ছিলে যাওয়া সহ নানান জটিলতার প্রাথমিক চিকিৎসায় থানকুনি পাতার ব্যবহার হয়। থানকুনি পাতায় এমন কিছু রাসায়নিক রয়েছে যা প্রদাহ এবং শিরাগুলিতে রক্তচাপ কমায়। থানকুনি পাতা কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায় যা ক্ষত নিরাময়ে সহায়তা করে।

থানকুনি পাতা জয়েন্টের ব্যাথার উপশম করতে সাহায্য করতে পারে

থানকুনি পাতায় থাকা এন্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বাত চিকিৎসার ক্ষেত্রে কার্যকরি হতে পারে। এর ফলে যৌথ প্রদাহ, কার্টিলেজ ক্ষয় এবং হাড়ের ক্ষয় হ্রাস পায়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকার ফলে থানকুনি পাতা দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাতেও প্রভাব ফেলে।

একটানা দুই সপ্তাহ ৫০০ মিলিগ্রামের মতো পাতা নিয়ে থেতলে ব্যাথার জাগায় লাগালে পারেন।

শরীরে উৎপন্ন বিষক্রিয়ার প্রভার হ্রাস করতে পারে থানকুনি পাতা

অ্যান্টিবায়োটিকের বিষাক্ত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দমন করতে থানকুনি পাতা ব্যবহার করা যেতে পারে। তাছাড়াও যক্ষার চিকিৎসাতেও এর ব্যবহার হয়ে থাকে।

ইঁদুরের উপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, অ্যান্টিবায়োটিক দেয়ার আগে ৩০ দিনের জন্য এসব ইঁদুরকে ১০০ ‍মিলিগ্রাম করে থানকুনি পাতা দেওয়া হয়েছিলো। যার ফলে এদের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিকের বিষাক্ততা কাজ করেনি।

আরও পড়ুন: শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে লেবুর উপকারিতা

থানাকুনি পাতা স্মৃতিশক্তি বাড়াতে উপকারি ভুমিকা রাখে

২০১৬ সালে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে থানকুনি পাতায় থাকা এক্সট্রাক্ট ও ফলিক এসিডের প্রভাবে স্ট্রোক করা রোগীর মস্তিষ্কের ফাংশন আরও বেশি সক্রিয় হয়েছে। এ সমিক্ষায় রোগীদের তিনটি গ্রুপে ভাগ করে পরিক্ষা করা হয়। প্রথম গ্রুপে ১০০০ মিলিগ্রাম থানকুনি পাতা দেয়া হয়, ‍দ্বিতীয় গ্রুপে ৭৫০ মিলিগ্রাম থানকুনি পাতা দেয়া হয়, এবং তৃতীয় গ্রুপে ৩ মিলিগ্রাম করে ফলিক এসিড দেয়া হয়।

যদিও থানকুনি পাতা ও ফলিক এসিড ‍দুটোই মস্তিষ্কের সচলতা বাড়াতে সমান ভাবে উপকারী, তবে থানকুনি পাতা মেমোরির ডোমেন বাড়াতে বেশী কার্যকরি। এজন্য নিয়মিত থানকুনি পাতা খেতে পারেন ১০০০ মিলিগ্রামের মতো।

থানকুনিপাতা আলঝাইমার রোগের ‍চিকিৎসায় উপকারী

থানকুনি পাতায় মেমোরি এবং স্নায়ুর ফাংশন বাড়ানোর ক্ষমতা রয়েছে। যার ফলে এটি আলঝাইমার রোগের চিকিৎসা করার ক্ষমতা রাখে বলে ধারণা করা হয়।

২০১২ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে থানকুনি পাতা আলঝাইমার রোগের উপর ইতিবাচক প্রভার ফেলে। মস্তিষ্কের কোষ গুলিকে বিষক্রিয়ার হাত থেকে রক্ষা করে এবং একটি ফলক তৈরি করে যা আলঝাইমার হাত থেকে রক্ষা করে। তবে গবেষকদের মতে এ রোগের ‍চিকিৎসায় থানকুনি পাতার প্রভাব নিয়ে আরো গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

উদ্বেগ এবং চাপ কমাতে থানকুনি পাতার উপকারিতা

ঘুম কম হলে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়ে যায়। গবেষকদের মতে থানকুনি পাতার পুষ্টি উপাদান উদ্বেগ হ্রাস করতে সহায়তা করে।

ঘুম কম হলে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়ে যাবে, অ্যাক্সিডেটিভ ক্ষতি হবে এবং নিউরোইনফ্লেমেশন হবে। এজন্য যাদের ঘুম কম তারা নিয়মিত থানকুনি পাতা খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। যাদের ঘুম কম তারা দুই সপ্তাহ ৫০০ মিলিগ্রাম পরিমাণে থানকুনি পাতার রস খেতে পারেন।

ডিপ্রেশন দূর করতেও থানকুনি পাতার উপকারিতা

মস্তিষ্কের ক্রিয়ার উপর থানকুনি পাতার ইতিবাচক প্রভাব ডিপ্রেশন দূর করতে সহায়তা করতে পারে। ২০১৬ সালে ৩৩ জন ডিপ্রেশনের রোগীর উপর একটি গবেষনা করা হয়। তখন তাদেরকে ৬০ দিন ডিপ্রেশনের ওষুধের বদলে থানকুনি পাতা খাওয়ানো হয়। এরপর তারা নিজেরাই বলে যে তাদের মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও হতাশা অনেকাংশে কমে গেছে। ডিপ্রেশনের সময় শরীরের ওজন, তাপমাত্রা ও হার্টরেট এর তারতম্য দেখা দেয়া। থানকুনি পাতার প্রভাবে এগুলোও সাভাবিক থাকে।

রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি এবং শরীর ফোলা কমাতে সহায়তা করতে পারে থানকুনি পাতা

প্রায় দুই হাজারের মতো বিশ্বস্ত উৎস থেকে প্রাপ্ত গবেষণায় দেখা গেছে থানকুনি পাতা রক্তপ্রাত বন্ধ করা, গোড়ালি ফোলা এবং ৩ ঘন্টার বেশী লম্বা ফ্লাইটে বসে থাকার ফলে ব্যাথার প্রভাবকে কমাতে সহায়তা করে। এছাড়াও ভেরিকোজ শিরা চিকিৎসা করতে থানকুনি পাতা কার্যকর হতে পারে।

ঘুম কম বা ইনসমনিয়ায় যারা আক্রান্ত তাদের জন্য থানকুনি পাতা উপকারী

থানকুনি পাতায় উদ্বেগ, স্ট্রেস ও হতাশার চিকিৎসা সম্ভব। এজন্য অনিদ্রার চিকিৎসার জন্য এ পাতা কার্যকর হতে পারে। কারণ ঘুম কম হলেই উদ্বেগ, স্ট্রেস ও হতাশা মানুষের মধ্যে বেশি কাজ করে। ডাক্তারদের মতে অনিদ্রার সমস্যা দূর করতে থানকুনি পাতা ভেষজ প্রতিকার। অনিদ্রা বা ইনসমনিয়ায় ভূগলে ২/৩ সপ্তাহ দৈনিক তিনবার ৩০০মিলিগ্রামের মতো থানকুনি পাতা খেতে পারেন।

ত্বকের দাগকে কমাতে সহায়তা করে থানকুনি পাতা

দাগ মুক্ত সুন্দর ত্বক কার না পছন্দ? কিন্ত ব্রণ, কেটে যাওয়া সহ নানা কারণে আমাদের ত্বকে দাগের সৃষ্টি হয়। এই দাগ দূর করতে আমরা অনেক কিছুই করে থাকি, আবার অনেক সময় ক্যামিক্যাল পণ্য ব্যবহারে ত্বক আরও নষ্ট হয়। অথচ খুব সহজে থানকুনি পাতায় এর সমাধান পেতে পারেন।

ডাক্তাররা মনে করেন থানকুনি পাতায় থাকা টেরপোনয়েড উপাদান শরীরে কোলজেন উৎপাদন বাড়ায়। কোলজেন দাগ পড়ার হাত থেকে ত্বককে রক্ষা করে, শুধু তাই নয় পুরাতন দাগ দূর করতেও এই উপাদানটি অনেক বেশি কার্যকর।

ত্বকের দাগ দূর করতে আক্রান্ত স্থানে প্রতিদিন ‍দুইবার করে থানকুনি পাতার রস অথবা এর মলম ব্যবহার করতে পারেন।

রূপচর্চা বিষয়ক আরও আর্টিক্যাল পড়তে ক্লিক করুন-

ক্ষত নিরাময় করতে থানকুনি পাতা উপকারী

থানকুনিপাতা অনেক ধরনের ক্ষত নিরাময়ে প্রভাব ফেলে। ধারালো কিছু দিয়ে কাঁটলে, পরে গিয়ে কেটে গেলে অথবা পুরানো কিছুর সাথে লেগে কেটে গেলে থানকুনি পাতা নিয়ে থেতলে ক্ষতস্থানে মেখে নিন। এবপর যতদ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ক্ষত স্থানের প্রাথমিক চিকিৎসায় থানকুনি পাতা অনেক কার্যকর।

সাধারণ সতর্কতা এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

অনেকের ক্ষেত্রে থানকুনি পাতা মাথা ব্যাথা, পেট ব্যাথা এবং মাথা ঘোরানোর কারণ হতে পারে। এজন্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে অল্প করে শুরু করুন।  যদি বেশি সমস্যা হয় তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

থানকুনি পাতা ব্যবহার করবেন না, ‍যদি আপনি-

  • গর্ভবতী হয়ে থাকেন।
  • সন্তানকে বুকের দুধ পান করাচ্ছেন।
  • হেপাটাইটিস বা লিভারের অন্যান্য রোগ থেকে থাকে।
  • ১৮ বছরের নিচে হলে।
  • ত্বকে ক্যান্সারের সমস্যা থাকলে।

অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শে ব্যবহার করুন যাদি আপনার-

  • ডায়াবেটিস থাকে।
  • উচ্চ কোলেস্টোরেল থাকে।
  • ঘুম বা উদ্বেগের জন্য নিয়মিত ওষুধ খাওয়ার দরকার হয়।
  • যদি মূত্রবর্ধক ব্যবহার করে থাকেন।

যদিও সাধারন ভাবে ব্যবহারের জন্য থানকুনি পাতা নিরাপদ তবুও বেশী মাত্রায় কখনো ব্যবহার করবেন না। অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার করবেন।

তথ্যসূত্র: হেলথলাইন.কম

প্রেস/জেএ/এনজে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *