তুলসী পাতার উপকারিতা, পুষ্টিগুন ও ব্যবহার

তুলসী পাতার উপকারিতা, পুষ্টিগুন ও ব্যবহার

তুলসী একটি গুল্ম যার মাটির উপরে থাকা গাছের অংশগুলি ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। তুলসী পাতার উপকরিতা অনেক এবং এটি নানা পুষ্টিগুনে ভরপুর। প্রাচীন কাল থেকেই তুলসী গাছের পাতা ব্যবহৃত হয়ে আসছে ওষুধ তৈরিতে।

তুলসী পাতা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থানীয় একটি গাছ। চোখের রোগ থেকে শুরু করে, দাদ, পোকামাকড়ের কামড়, পেটের চিকিৎসা সব কিছুতেই তুলসী পাতার চিকিৎসার ইতিহাস রয়েছে। পাতা থেকে বীজ পর্যন্ত তুলসী শরীর, মন এবং আত্মার জন্য একটি টনিক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

বিভিন্ন অবস্থায় চিকিৎসার জন্য গাছের ভিন্ন ভিন্ন অংশের পরামর্শ দেয়া হয়, যেমন-

  • ব্রঙ্কাইটিসের জন্য তুলসী গাছের তাজা ফুল ব্যবহার করা।
  • ম্যালেরিয়ার জন্য কালো মরিচ সহ পাতা এবং বীজ ব্যবহার করা।
  • ডায়রিয়া, বমি বমি ভাবের জন্য পুরো উদ্ভিদটি ব্যবহার করা।
  • দাউদ, এক্সিমার জন্য এর তৈরি মলম বা পাতা বেটে এর পেস্ট ব্যবহার করা।
  • পেটের আলসার অথবা চোখের রোগের জন্য তুলসী পাতা থেকে তৈরি এলকোহলের নির্যাস ব্যবহার করা।
  • পোকা মাকড়ের কামড়ের জন্য এ পাতার তৈরি তেল ব্যবহার করা।

তবে অবশ্যই এগুলো ব্যবহার করার সময় আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলে নিবেন।

তুলসী পাতার পুষ্টিগুন

তুলসী পাতায় রয়েছে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, ক্যালসিয়াম, দস্তা, আয়রন, পত্রহরিৎ। তাছাড়াও এন্টিঅক্সিডেন্ট এবং এন্টিব্যক্টেরিয়াল উপাদান রয়েছে।

তুলসী পাতার উপকরিতা সমূহ

তুলসী পাতার ব্যবহারে মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ হ্রাস পায়

তুলসী গাছের সমস্ত অংশ অ্যাডাপ্টোজেন হিসেবে কাজ করে। অ্যাডোপ্টোজেন হলো প্রাকৃতিক পাদার্থ যা আপনার শরীরকে মানসিক চাপের সাথে মানিয়ে নিতে সহায়তা করে এবং মানসিক ভারসাম্যকে প্রোমট করে।

তবে বিজ্ঞান বলে তুলসীতে আপনার মনকে বিভিন্ন ধরনের স্ট্রেস সহ্য করতে সহায়তা দেয়ার ফার্মাকোলজিকাল বৈশিষ্ঠ্য রয়েছে। রাসায়নিক, শারীরিক, সংক্রামক, আবেগপ্রবন, যৌন সমস্যা, ঘুমের অভাব, বিস্মৃতি এবং অবসাদ এ ধরনের চাপ কমাতে নিয়মিত তুলসী পাতা গ্রহনের তুলোনা হয় না।

আয়ুর্বেদিক এবং ইন্ট্রিগেটিভ মেডিসিন জার্নাল অনুসারে, তুলসী পাতায় ডায়াজেপাম ও অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট বৈশিষ্ঠ্য রয়েছে। একটি সমিক্ষায় দেখা গেছে যেসব ব্যাক্তিরা প্রতিদিন ৫০০ মিলিগ্রাম তুলসী পাতার নির্যাস গ্রহণ করেন তারা কম উদ্বেগ, চাপ ও হতাশাগ্রস্থ বোধ করেন। আয়ুর্বেদরা তুলসী পাতার চা ব্যবহারের পরামর্শ ‍দিয়ে থাকেন। যেহেতু এটি কেফিন মুক্ত তাই প্রতিদিন পান করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

উদ্দীপনা এবং শরীরকে প্রাণবন্ত করতে তুলসী উপকারী

তুলসীতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে এন্টিঅক্সিডেন্ট। যা আপনার শরীরকে বিষমুক্ত করে থাকে। তুলসী পাতা আপনার শরীরকে  বিষাক্ত রাসায়নিক থেকে রক্ষা করতে পারে। তুলসী পাতা ক্যান্সারের কোষ বৃদ্ধির ক্ষমতাকে হ্রাস করে ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারে।

সংক্রামন থেকে রক্ষা এবং এর ক্ষতির চিকিৎসা হয় তুলসী পাতায়

তুলসী পাতায় থাকা এক্সট্রাক্ট ক্ষত নিরাময়ের গতি ও শক্তি বাড়ানের জন্য উপকারী। তুলসী পাতা হলো ব্যাক্টেরিয়া বিরোধী, সংক্রামন বিরোধী, এন্টিফাংগাল, তাপ প্রদাহ বিরোধী এবং বেদনানাশক। অনেকেই ক্ষত নিরাময়ের প্রাকৃতিক চিকিৎসা সরূপ তুলসী পাতা ব্যবহার করে থাকে। তুলসী পাতা ক্ষত সারানোর শক্তি, নিরাময়ের সময় এবং সংকোচনকে বাড়িয়ে তোলে।

রক্তে সুগার কমাতে তুলসী পাতা উপকারী

আপনার যদি প্রিডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিস থেকে থাকে তাহলে তুলসী গাছের সমস্ত অংশ আপনার রক্তের শর্করাকে হ্রাস করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে তুলসী পাতা ডায়াবেটিসের লক্ষণ গুলিকে রোধ করতে সহায়তা করতে পারে। যেমন- ওজন বৃদ্ধি, উচ্চ কোলেস্টরল, মূত্র নিরোধক, উচ্চ রক্তচাপ ও রক্তে ইনসুলিন।

তবে অবশ্যই আপনার ডায়েটে তুলসী পাতা যুক্ত করার আগে ডাক্তারের সাথে কথা বলে নিবেন। যদি আপনি রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রনের জন্য ইতিমধ্যে ওষুধ গ্রহন করে থাকেন তবে এটি আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা আরোও কমিয়ে দিতে পারে।

প্রদাহ এবং জয়েন্টের ব্যাথা কমাতে তুলসী পাতা উপকারী

তুলসী পাতা আরামদায়ক, উদ্বেগ এবং প্রদাহ মোকাবেলা করতে সক্ষম। এটি বাতের ব্যাথা ও ফাইব্রোমাইজালিয়াতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সহায়তা করতে পারে। কারণ এতে রয়েছে এন্টিঅক্সিডেন্ট ও এন্টিইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ঠ্য যা এডাপ্টোজেন হিসেবে কাজ করে থাকে।

পেটের সুরক্ষায় তুলসী পাতা উপকারিতা অনেক

তুলসী পাতার আলসার মোকাবেলার ক্ষমতা রয়েছে। তুলসী পাতা প্রাকৃতিক ভাবে আপনার পেটের প্রতিরক্ষা বৃদ্ধি করে। যেমন- এসিড হ্রাস করা, শ্লেষ্মা নিঃসরণ করা, শ্লেষ্মা কোষ বৃদ্ধি ও শ্লেষ্মা কোষের জীবন প্রসারিত করা।

পেপটিক আলসারের ওষুধের অনেক ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে যা কিছু মানুষের মধ্যে অস্বস্তি এনে দিতে পারে। এই রোগের চিকিৎসায় তুলসী পাতা বিকল্প হতে পারে।

তাছাড়া ঝাঁকুনি, ক্ষুধা হ্রাস, অন্ত্রের গ্যাস, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং আরো অনেক পেটের সমস্যা সমাধানের জন্য তুলসী পাতা ব্যবহার হয়ে থাকে।

ব্যবহার পদ্ধতি

পাতা, ফুল বা শুকনো পাতার গুড়া ব্যবহার করে আপনি তুলসী পাতার চা তৈরি করতে পারেন। এক কাপ ফুটন্ত জলে ২-৩ চামচ ‍তুলসী রেখে তা ৫-৬ মিনিট ফুটিয়ে চায়ের মতো করে পান করতে পারেন।

এর পাতা রান্নাতেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। অনেকেই আবার কাঁচা খেয়ে থাকেন। তুলসীর স্বাদ মশলাদার এবং তেতো। তুলসী গাছের পাতা এবং ফুল থেকে তেল নিঃসরণ করা হয়। তুলসী তেলেরও নানা ঔষুধি গুণাগুণ রয়েছে।

তথ্যসূত্র: হেলথলাইন।

প্রেস/জেএ/এনজে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *