আজঃ বুধবার ০৪-০২-২০২৬ ইং || খ্রিষ্টাব্দ

নির্বাচনকালে নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত হচ্ছে পুলিশ

  • আপডেটেড: সোমবার ০৬ Oct ২০২৫
  • / পঠিত : ৭৪ বার

নির্বাচনকালে নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত হচ্ছে পুলিশ

 ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘রাতের ভোটের’ জন্য পুলিশকেই বেশি প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সেই কলঙ্ক মুছতে চায় পুলিশ। বিষয়টি মাথায় রেখেই আগামী নির্বাচনে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য দেড় লাখ পুলিশকে প্রশিক্ষিত করা হচ্ছে। আজ রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে চতুর্থ ধাপের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ। সারা দেশে ১৩০টি ভেন্যুতে কনস্টেবল থেকে ইন্সপেক্টর পর্যন্ত মাঠ পুলিশের সদস্যরা এই প্রশিক্ষণ নেবেন। ২ হাজার ২২০ জন মাস্টার ট্রেইনার তাদের প্রশিক্ষণ দেবেন।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র বলেছে, কয়েকটি লক্ষ্য সামনে রেখে পুলিশ সদর দপ্তর ইতিপূর্বে তিন ধাপের প্রশিক্ষণে ইন্সপেক্টর থেকে অতিরিক্ত ডিআইজি পর্যন্ত পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে তৈরি করেছে। লক্ষ্যগুলো হলো- নির্বাচনে চাপ, শক্তি বা হস্তক্ষেপমুক্ত আইনানুগ দায়িত্ব পালন; পুলিশকে ফ্রন্ট ফোর্স হিসেবে তুলে ধরে নির্বাচনকালে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখা; নির্বাচনকালে পুলিশের পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা; গুজব ও অপপ্রচারসহ সম্ভাব্য সংকট

মোকাবিলায় গোয়েন্দা তৎপরতাসহ সার্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিতকরণে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি। মাঠ পুলিশকে প্রশিক্ষণকালে মাস্টার ট্রেইনারগণ এই লক্ষ্যগুলো তুলে ধরবেন। নির্বাচনসংক্রান্ত যত আইন ও বিধি রয়েছে, সেসব বিষয়েও মাঠ পুলিশকে প্রশিক্ষিত করা হবে। গত ৭ সেপ্টেম্বর পুলিশের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়, যার সেøাগান ছিল ‘থাকবে পুলিশ জনপদে, ভোট দিবেন নিরাপদে’।

নির্বাচনী প্রশিক্ষণের সমন্বয়ক পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজি (এইচআর) আবু নাছের মোহাম্মদ খালেদ গতকাল আমাদের সময়কে বলেন, নির্বাচনে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনে মাঠ পুলিশের দেড় লাখ সদস্যকে আইন, বিধি বিধান, অস্ত্র ব্যবহার, বডিঅর্ন ক্যামেরাসহ আরও নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ জন্য মাস্টার ট্রেইনার তৈরি করা হয়েছে। তাঁরা এখন মাঠ পুলিশকে প্রশিক্ষিত করবেন। আমরা আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। তিনি জানান, এর আগে কখনও এত বড় পরিসরে পুলিশের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ হয়নি। এর মাধ্যমে মাঠ পুলিশের সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা হবে। আগামী ১৫ জানুয়ারি সব ধরনের প্রশিক্ষণ শেষে একটি সুন্দর ভোট অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তায় প্রস্তুত হচ্ছে পুলিশ।

জানা গেছে, ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতার অপব্যবহার, অপরাধমূলক অসদাচরণ, জাল-জালিয়াতি, দিনের ভোট রাতে করা এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে চরম বিতর্কিত হয়ে পড়ে পুলিশ বাহিনী। আগামী জাতীয় নির্বাচনে সেই কলঙ্ক মোচনের বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আজ থেকে শুরু হওয়া মাঠ পুলিশের প্রশিক্ষণে এ বিষয়টি বারবার স্মরণ করিয়ে দেবেন মাস্টার ট্রেইনাররা। নির্বাচনকালে কোনো দল বা গোষ্ঠীর হয়ে পুলিশ সদস্যরা যেন কাজ না করেন, এ জন্য দায়িত্ব পালনকালে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে। একই সঙ্গে পক্ষাবলম্বন করলে কী পরিণতি হতে পারে, এ বিষয়টিও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাঠ পুলিশকে নির্বাচনের পূর্ব, নির্বাচনকালীন এবং নির্বাচন-পরবর্তী তিন ধরনের নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তিন দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে প্রথম দিন নীতিগত জ্ঞান ও আইনি কাঠামো, দ্বিতীয় দিন বাস্তব প্রস্তুতি ও ব্যবহারিক অনুশীলন এবং তৃতীয় দিন অস্ত্র ও বডিঅর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

প্রশিক্ষণ মডিউল বিভিন্ন সেশনে ভাগ করা হয়েছে। শুরুতেই একটি ডকুফিল্ম প্রদর্শন ও মুক্ত আলোচনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এরপর নির্বাচনী আইন, আচরণবিধি ও ভোটার অধিকার, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ও আইন অনুযায়ী পুলিশের দায়িত্ব, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও প্রয়োগ; আন্তঃসংস্থা বা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় সাধনের কর্মপন্থা; সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় ও স্থানীয় গণ্যমান্য নেতাদের সম্পৃক্ত করতে পুলিশের ভূমিকার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। নির্বাচনপূর্ব দায়িত্ব হিসেবে পুলিশ মোতায়েনকালে বিবেচ্য বিষয়সমূহ ও করণীয়; ভোটকেন্দ্রে ফোর্স মোতায়েন পরিকল্পনা এবং নির্বাচনী সহিংসতা মোকাবিলার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

নির্বাচনকালীন সময়ে কীভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে, তার দিক নির্দেশনাও থাকবে প্রশিক্ষণে। এর মধ্যে নির্বাচনী সামগ্রী, ভোটার, ভোটকেন্দ্র ও বুথের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আইনানুগ দায়িত্ব; ভোটের দিন মোবাইল, স্ট্রাইকিং এবং রির্জাভ ফোর্সের কর্মবণ্টন, পারস্পরিক যোগাযোগ ও সমন্বয় প্রক্রিয়া এবং দেশি ও বিদেশি নির্বাচনী পর্যবেক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিরাপত্তা বিধানে পুলিশের করণীয় বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ ছাড়া নির্বাচন সামগ্রী রিটার্নিং কর্মকর্তার/সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিরাপদে পৌঁছে দিতে পুলিশের ভূমিকা, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত দুর্গম এলাকায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে করণীয় ও বর্জনীয়, মিডিয়া ব্যবস্থাপনা, মিথ্যা তথ্য, অপপ্রচার ও গুজব নিরসনে বা প্রতিরোধে পুলিশের ভূমিকা এবং আচরণবিধি লঙ্ঘন সংক্রান্ত ঘটনা রিপোর্টিং পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ বিষয়ে থাকবে প্রশ্নোত্তর পর্ব। অর্থাৎ, প্রশিক্ষণার্থীরা কোনো কিছু না বুঝলে মাস্টার ট্রেইনারদের কাছে জানতে চাইবেন প্রশ্নোত্তর পর্বে।

নির্বাচন পরবর্তী দায়িত্ব সম্পর্কেও মাঠ পুলিশকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিশেষ করে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা প্রতিরোধে পুলিশের ভূমিকা, জরুরি উদ্ধার এবং চিকিৎসা সহায়তা সেবা প্রদানে করণীয় সম্পর্কে ধারণা নেবেন মাঠ পুলিশের সদস্যরা। এ বিষয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বও থাকবে।

এ ছাড়া মক ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনার ডকুমেন্টারি প্রদর্শন, ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের প্রকৃত চিত্র, পুলিশের দায়িত্বের পরিধি, অপ্রত্যাশিত ঘটনায় করণীয় এবং রিপোর্টিং চ্যানেল ইত্যাদি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণের তৃতীয় দিন বডিঅর্ন ক্যামেরা এবং অস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেবেন মাস্টার ট্রেইনাররা। বিশেষ করে কোন প্রেক্ষিতে অস্ত্র ব্যবহার করতে হবে, কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করতে হবে এবং বডিঅর্ন ক্যামেরার ব্যবহার হাতে-কলমে শেখানো হবে। প্রশিক্ষণকালে বডিঅর্ন ক্যামেরা রাখা হবে প্রতিটি প্রশিক্ষণ ভেন্যুতে।


নিউজ কমেন্ট করার জন্য প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে লগইন করুন

Copyright © 2025. All right reserved OnlinePress24
Theme Developed BY Global Seba