আজঃ বুধবার ০৪-০২-২০২৬ ইং || খ্রিষ্টাব্দ

বিক্রম মিশ্রি: হাসিনার ভারতে অবস্থান আইনি বিষয়, দ্বিপাক্ষিক আলোচনা প্রয়োজন

  • আপডেটেড: সোমবার ০৬ Oct ২০২৫
  • / পঠিত : ৭৮ বার

বিক্রম মিশ্রি: হাসিনার ভারতে অবস্থান আইনি বিষয়, দ্বিপাক্ষিক আলোচনা প্রয়োজন

 ভারতে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থান একটি ‘বিচারিক ও আইনি বিষয়’ যা সমাধানের জন্য দুই দেশের সরকারের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পৃক্ততা ও পরামর্শের প্রয়োজন, বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি।

সোমবার (৬ অক্টোবর) নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সংবাদদাতাদের সংগঠন ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিক্রম মিশ্রি বলেন, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। এটি একটি বিচারিক ও আইনি প্রক্রিয়া, যা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। আমরা বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি আরও বলেন, এর বাইরে এই মুহূর্তে আরও কিছু বলা গঠনমূলক হবে না।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার বিষয়ক যৌথ সচিব বি. শ্যাম, ডিক্যাব সভাপতি একেএম মঈনুদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুজ্জামান মামুন।

এক প্রশ্নের জবাবে মিশ্রি বলেন, ভারতের কোনো পক্ষপাত নেই। আমরা কোনো একটি দল বা গোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করছি না, কিংবা অন্যদের উপেক্ষা করছি না। আমরা চাই বাংলাদেশের জনগণের ম্যান্ডেট যত দ্রুত সম্ভব প্রকাশ পাক, যাতে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার গঠিত হয়।

শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে কিনা এমন প্রশ্নে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আমরা শুধু চাই দ্রুত নির্বাচন হোক, যাতে জনগণ তাদের ইচ্ছা প্রকাশ করতে পারে। আমরা যে সরকার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হবে, তার সঙ্গেই কাজ করব।

বাংলাদেশে অবাধ, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন দেখতে চায় ভারত উল্লেখ করে মিশ্রি বলেন, ফলাফলের পর গঠিত গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে আমরা কাজ করতে প্রস্তুত।

এদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন সম্প্রতি জানিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে ভারতের কাছে পাঠানো অনুরোধের এখনো কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। তবে এখনও কোনো ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

তৌহিদ হোসেন জানান, শেখ হাসিনার বিচার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। তিনি দেশে ফেরেন বা না ফেরেন, বিচার থেমে থাকবে না।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্রনেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের মুখে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন।

বাংলাদেশ সরকার গত বছরের ডিসেম্বরে ভারতের কাছে একটি ‘নোট ভার্বাল’ পাঠায়, যাতে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ অনুরোধের পাশাপাশি প্রমাণাদি ও আইনি নথিপত্রও যুক্ত করা হয়।

বিক্রম মিশ্রি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক দীর্ঘদিনের ও গভীর। এর মধ্যে কিছু জটিলতা থাকা স্বাভাবিক। আমরা বিশ্বাস করি, পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমেই সব ইস্যুর সমাধান সম্ভব।

এক ঘণ্টাব্যাপী এই আলোচনায় সীমান্ত, জলবণ্টন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, এবং শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, সব ইস্যু নিয়েই আলোচনা হয়। বর্তমানে ২৩ সদস্যের ডিক্যাব প্রতিনিধি দল ভারত সরকারের আমন্ত্রণে দিল্লি সফর করছে।

Markazul Uloom Al Islamiah


নিউজ কমেন্ট করার জন্য প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে লগইন করুন

Copyright © 2025. All right reserved OnlinePress24
Theme Developed BY Global Seba