আজঃ বুধবার ০৪-০২-২০২৬ ইং || খ্রিষ্টাব্দ

ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোর আপত্তিতে প্রাথমিকের সংগীত শিক্ষক পদ বাদ

  • আপডেটেড: মঙ্গলবার ০৪ Nov ২০২৫
  • / পঠিত : ১৫৮ বার

ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোর আপত্তিতে প্রাথমিকের সংগীত শিক্ষক পদ বাদ

একইসঙ্গে বাতিল করা হয়েছে নতুন সৃষ্টি করা শরীরচর্চা শিক্ষকের পদটিও।

ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোর সমালোচনার মুখে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন সৃষ্টি করা সংগীত শিক্ষক পদ বাতিল করছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

একইসঙ্গে বাতিল করা হয়েছে নতুন সৃষ্টি করা শরীরচর্চা শিক্ষকের পদটিও।

এ দুটি পদ বাদ দেওয়ার পাশাপাশি 'সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা -২০২৫'-এ কিছু 'শব্দগত পরিবর্তন' আনা হয়েছে।এসব পরিবর্তন এনে গত অগাস্টে জারি করা বিধিমালাটি সংশোধন করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়ের অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মাসুদ আকতার খান সোমবার দুপুরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "রোববার বিধিমালাটি সংশোধনের গেজেট জারি হয়েছে। গত অগাস্টে জারি করা বিধিমালায় ৪ ক্যাটাগরির পদ থাকলেও সংশোধনে দুটি ক্যাটাগরি রাখা হয়েছে। সংগীত ও শরীর চর্চা বিষয়ের সহকারী শিক্ষকের পদটি নতুন বিধিমালায় নেই।"

সমালোচনার মুখে পদগুলো বাতিল করা হল কী-না জানতে চাইলে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি অতিরিক্ত সচিব। তিনি বলেন, "আপনারা এটি খতিয়ে দেখতে পারেন।"বিধিমালায় একটি 'শব্দগত পরিবর্তন' আনা হয়েছে জানিয়ে মাসুদ আকতার খান বলেন, "আগের বিধিমালায় মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া পদগুলোর মধ্যে ২০ শতাংশ পদ বিজ্ঞান বিষয়ের স্নাতক ডিগ্রিধারীরা ও বাকি ৮০ শতাংশ পদ অন্যান্য বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীরা নিয়োগ পাবেন বলে উল্লেখ ছিল।

“এখানে একটি শব্দগত ভুল হয়েছিল আমাদের, মনে হচ্ছিল ৮০ শতাংশ পদে বিজ্ঞান ছাড়া অন্যান্য বিষয়ের স্নাতক ডিগ্রিধারীরা নিয়োগ পাবেন। কিন্তু আসলে কোটা ছাড়া পদের ওই ৮০ শতাংশ ছিল কমন। অর্থাৎ বিজ্ঞান বা অন্যান্য বিষয়ের ডিগ্রিধারীরা নিয়োগ পাবেন।

"তাই বিধিমালার কোটার বাইরের ৮০ শতাংশ পদের ক্ষেত্রে 'অন্যান্য বিষয়ে' শব্দবন্ধকে 'বিজ্ঞানসহ অন্যান্য বিষয়ে অন্যূন' শব্দবন্ধ দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।"

গত ২৮ অগাস্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন নিয়োগ বিধিমালার প্রজ্ঞাপন জারি হয়। নতুন বিধিমালায় সংগীত ও শরীরচর্চা বিষয়ের সহকারী শিক্ষকের দুটি পদ নতুন করে সৃষ্টি করা হয়েছিল। কিন্তু এরপর থেকে ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলো সংগীত বিষয়ের সহকারী শিক্ষক পদটি সৃষ্টি নিয়ে সমালোচনা শুরু করে।

 জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম সংগীত বিষয়ের সহকারী শিক্ষকের পদ সৃষ্টির সমালোচনা করে প্রাথমিকে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান।

একই দিনে এক সেমিনারে সংগীত শিক্ষক পদ সৃষ্টির কঠোর সমালোচনা করেন জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নেতারা।

এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক স্তরে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের পদক্ষেপকে ‘ইসলামবিরোধী এজেন্ডা’ আখ্যা দিয়ে এ সংক্রান্ত বিধিমালা বাতিলের দাবি জানায় হেফাজতে ইসলাম।


নিউজ কমেন্ট করার জন্য প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে লগইন করুন

Copyright © 2025. All right reserved OnlinePress24
Theme Developed BY Global Seba