আজঃ বুধবার ০৪-০২-২০২৬ ইং || খ্রিষ্টাব্দ

ভূমিকম্পে ৭ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ঘোড়াশাল সাবস্টেশন বন্ধ

  • আপডেটেড: শনিবার ২২ Nov ২০২৫
  • / পঠিত : ৬৪ বার

ভূমিকম্পে ৭ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ঘোড়াশাল সাবস্টেশন বন্ধ

ভূমিকম্পের পরপরই সামিটের ৩৪১ মেগাওয়াটের বিবিয়ানা-২ কেন্দ্র, বিপিডিবির ৪০০ মেগাওয়াটের বিবিয়ানা-৩, চট্টগ্রামের এসএস পাওয়ারের ৬০০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট এবং সিরাজগঞ্জের ২২৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রের ৭৫ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া আশুগঞ্জের ২২৫ মেগাওয়াট, ৫৫ মেগাওয়াট এবং ৫০ মেগাওয়াটের আরও তিনটি ইউনিটও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ (ট্রিপ) হয়ে যায়।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) জানিয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ছাড়াও নরসিংদীর ঘোড়াশালের এআইএস গ্রিড সাবস্টেশনে আগুন লাগে। এর ফলে সাবস্টেশনটির ২৩০ কেভি, ১৩২ কেভি এবং ৩৩ কেভি লাইনগুলো বর্তমানে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটে।

বিপিডিবির জনসংযোগ পরিচালক শামীম হাসান এক বার্তায় জানান, ভূমিকম্পের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় যে বিঘ্ন ঘটেছে, তা স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আরও কিছু কেন্দ্র বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকায় বড় ধরনের লোডশেডিংয়ের সম্ভাবনা কম। তবে বন্ধ হয়ে যাওয়া কেন্দ্রগুলো পুনরায় চালু করতে কিছুটা সময় লাগবে।

এদিকে, ভূমিকম্পের কারণে রাজধানীতে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানা গেছে।

সারা দেশে অনুভূত হওয়া ভূমিকম্পে রাজধানী ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পৃথক ঘটনায় দুই শিশুসহ মোট চারজনের প্রাণহানি ঘটেছে। এ ছাড়া ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি করতে গিয়ে ঢাকা, গাজীপুর ও নরসিংদীতে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

শুক্রবার সকালে ভূমিকম্পের সময় পুরান ঢাকার কসাইটুলি এলাকার কেপি ঘোষ স্ট্রিটে একটি পাঁচতলা ভবনের রেলিং ধসে পড়ে তিনজন পথচারীর ওপর। এতে ঘটনাস্থলেই তারা গুরুতর আহত হন এবং পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের মধ্যে একজন মেডিকেল শিক্ষার্থী রাফিউল ইসলাম, ৩০ বছর বয়সী যুবক সবুজ এবং আট বছর বয়সী এক শিশু রয়েছে। শিশুটির পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

একই সময়ে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জেও ঘটে আরেক হৃদয়বিদারক ঘটনা। উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ইসলামবাগ এলাকায় ভূমিকম্পের আতঙ্কে ১০ মাস বয়সী শিশু ফাতেমাকে কোলে নিয়ে তার মা কুলসুম বেগম ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। এ সময় সড়কের পাশের একটি সীমানাপ্রাচীর তাদের ওপর ধসে পড়লে ঘটনাস্থলেই শিশু ফাতেমা মারা যায়। এই ঘটনায় শিশুটির মা এবং জেসমিন বেগম নামে এক প্রতিবেশী আহত হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি মানুষ আহত হয়েছেন নরসিংদী জেলায়, সেখানে বিভিন্ন হাসপাতালে প্রায় ৫৫ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ জন এবং গাজীপুরের তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ জন আহত অবস্থায় চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে অনুভূত হওয়া এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭। এর উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদী এলাকায়।

পুরান ঢাকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা যায়, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ভেঙে পড়া রেলিং সরানোর কাজ করছেন এবং ভেতরে কেউ আটকা পড়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। রূপগঞ্জের ঘটনায় ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মোখলেসুর রহমান জানিয়েছেন, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়েছেন এবং ভূমিকম্পের সময় প্রাচীর ধসেই হতাহতের ঘটনাটি ঘটেছে।

ট্যাগস :


নিউজ কমেন্ট করার জন্য প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে লগইন করুন

Copyright © 2025. All right reserved OnlinePress24
Theme Developed BY Global Seba