আজঃ বুধবার ০৪-০২-২০২৬ ইং || খ্রিষ্টাব্দ

সুদান থেকে দেশে ফিরল ৬ শান্তিরক্ষীর মরদেহ

  • আপডেটেড: রবিবার ২১ Dec ২০২৫
  • / পঠিত : ৮৮ বার

সুদান থেকে দেশে ফিরল ৬ শান্তিরক্ষীর মরদেহ

জাতিসংঘের পতাকাতলে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সুদানে প্রাণ হারানো ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর মরদেহ অবশেষে মাতৃভূমিতে পৌঁছেছে। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাদের বহনকারী বিমানটি অবতরণ করে। দেশের মাটিতে বীর সন্তানদের মরদেহ পৌঁছানোর পর সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ মরদেহবাহী ফ্লাইট অবতরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ১৩ ডিসেম্বর সুদানের আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের একটি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। সেই বর্বরোচিত হামলায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই ছয় সদস্য।

সন্ত্রাসী হামলায় জীবন উৎসর্গ করা এই শান্তিরক্ষীদের বাড়ি বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায়। নিহতদের তালিকায় রয়েছেন গাইবান্ধার বাসিন্দা লন্ড্রি কর্মচারী মো. সবুজ মিয়া, রাজবাড়ীর সৈনিক শামীম রেজা ও নাটোরের কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা। এ ছাড়াও রয়েছেন কিশোরগঞ্জের মেস ওয়েটার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং কুড়িগ্রামের দুই সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম ও শান্ত মন্ডল।

উক্ত হামলায় আহত হয়েছিলেন আরও নয়জন, যাদের মধ্যে তিনজন নারী সদস্যও রয়েছেন। আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবির আগা খান ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চিকিৎসাধীন সবাই বর্তমানে শঙ্কামুক্ত এবং তাদের মধ্যে কয়েকজন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশিদের এই আত্মত্যাগ ও পেশাদারিত্বের বিষয়টি আবারও বিশ্ববাসীর সামনে উঠে এসেছে।

হামলায় আহতদের তালিকায় রয়েছেন ঢাকার কর্পোরাল আফরোজা পারভিন ইতি, কুষ্টিয়ার বাসিন্দা লেফটেন্যান্ট কর্নেল খোন্দকার খালেকুজ্জামান এবং দিনাজপুরের সার্জেন্ট মো. মোস্তাকিম হোসেন। এ ছাড়াও চিকিৎসাধীন আছেন রংপুরের সৈনিক উম্মে হানি আক্তার, নোয়াখালীর সৈনিক মো. মানাজির আহসান, মানিকগঞ্জের সৈনিক চুমকি আক্তার, কুড়িগ্রামের সৈনিক মো. মেজবাউল কবির এবং বরগুনার ল্যান্স কর্পোরাল মহিবুল ইসলাম।

মূলত একটি সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সুদানের আবেই এলাকায় অবস্থিত কাদুগলি লজিস্টিকস বেস লক্ষ্য করে এই ড্রোন হামলা চালিয়েছিল। এটি ছিল জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতাধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ১৯৪৮ সালে শান্তিরক্ষা কার্যক্রম শুরুর পর থেকে বাংলাদেশ অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে আসছে।


নিউজ কমেন্ট করার জন্য প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে লগইন করুন

Copyright © 2025. All right reserved OnlinePress24
Theme Developed BY Global Seba