আজঃ শনিবার ০৪-০৭-২০২৬ ইং || খ্রিষ্টাব্দ

জুলাই অভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নয়, গণতন্ত্রকামী মানুষের অর্জন: প্রধানমন্ত্রী

  • আপডেটেড: শনিবার ০৪ জুলাই ২০২৬
  • / পঠিত : ২ বার

জুলাই অভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নয়, গণতন্ত্রকামী মানুষের অর্জন: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক অর্জন কোনো একক ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নয়, বরং এটি দেশের গণতন্ত্রকামী ও শান্তিকামী সাধারণ মানুষের সম্মিলিত বিজয়। জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদদের আত্মত্যাগকে সরকার সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করবে এবং এই অর্জনকে বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। শনিবার (৪ জুলাই) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র) আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলনে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঐতিহাসিক ‘৩৬ জুলাই’ অর্থাৎ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ ও ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ যৌথভাবে এই স্মরণসভার আয়োজন করে।

বিচারের নামে যেন অবিচার না হয়
জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “যারা জুলাই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত, আইন অনুযায়ী তাদের বিচার নিশ্চিত করা হবে। তবে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে যেন বিচারের নামে কারও প্রতি কোনো অবিচার না হয়। সময় নিয়ে হলেও প্রকৃত হত্যাকারীদের সঠিক বিচার নিশ্চিত করা হবে।” তিনি আরও বলেন, “জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করে আমি দেশ এগিয়ে নিতে চাই না। আমাদের মূল লক্ষ্য দেশ ও দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন করা। আর কোনো অপশক্তি যেন এই অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।”

প্রতিহিংসা বর্জনের আহ্বান
বিগত ১৭ বছরের জুলুম-নির্যাতনের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান এক আবেগঘন স্মৃতিচারণা করেন। তিনি বলেন, “বিগত ১৭ বছর আমার ওপর, আমার পরিবারের ওপর এবং দেশের মানুষের ওপর যে ভয়াবহ অবিচার করা হয়েছে—আল্লাহ আমাকে এখন তার প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছেন। কিন্তু আমি প্রতিহিংসায় বিশ্বাসী নই। যদি আজ আমার মাকে (বেগম খালেদা জিয়া) জিজ্ঞেস করতাম— মা, আপনার ওপর যে অন্যায়-জুলুম হয়েছে, সেগুলোর প্রতিশোধ কি নেব? মা বলতেন, প্রতিহিংসা নয়, তোমার দায়িত্ব সবাইকে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আমার ছাত্রদলের ও দলের অনেক সহকর্মীকে আমি হারিয়েছি, যারা আমার সাথে দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখত। তাদের অভাব আমি প্রতিটি মুহূর্তে অনুভব করি।” শহীদ জননীর স্মৃতিচারণ ও অশ্রুসিক্ত প্রধানমন্ত্রী

অনুষ্ঠানে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যখন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো শহীদদের পরিবারের সদস্যরা মঞ্চে এসে স্মৃতিচারণ শুরু করেন। একজন শহীদ জননী তার সন্তানকে হারানোর লড়াকু দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লে মিলনায়তনের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। এ সময় দর্শক সারিতে বসা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেকে সামলাতে পারেননি। শহীদ জননীর সেই আকুতি শুনে প্রধানমন্ত্রীর দুই চোখ অশ্রুতে টলমল করতে দেখা যায় এবং তিনি জনসমক্ষেই অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্য ছাড়াও মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন। সভার শুরুতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। শহীদদের রক্তে ভেজা এই ইতিহাসকে আগামীর বাংলাদেশের অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্য শেষ করেন।



নিউজ কমেন্ট করার জন্য প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে লগইন করুন

Copyright © 2025. All right reserved OnlinePress24
Theme Developed BY Global Seba