আজঃ বুধবার ০৪-০২-২০২৬ ইং || খ্রিষ্টাব্দ

চলতি মাসে একক প্রার্থী ঘোষণা বিএনপির

  • আপডেটেড: বুধবার ২২ Oct ২০২৫
  • / পঠিত : ৯৭ বার

চলতি মাসে একক প্রার্থী ঘোষণা বিএনপির

 ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চলতি মাসেই আসনভিত্তিক একক প্রার্থী ঘোষণা করতে পারে বিএনপি। দলের সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মী ও ভোটারদের মাঝে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। গত সোমবার রাতে রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এতে যুক্তরাজ্য থেকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সূত্রমতে, নির্বাচনকে সামনে রেখে আমলাতন্ত্রকে জামায়াতীকরণ করা হচ্ছে বলে তথ্য রয়েছে বিএনপির কাছে। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগে বিশেষ করে প্রিসাইডিং অফিসার ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ইসলামীসহ বিভিন্ন ব্যাংক, কৃষি কর্মকর্তা ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান থেকে যাঁদের বাছাই করা হচ্ছে তাঁদের বড় অংশই জামায়াতপন্থি। এ নিয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে বিএনপি। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল কমিশনে যাবে।

এদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নির্বাচনের মাঠে না থাকায় এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী আলোচনায় রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে জামায়াতের প্রার্থীরা মাঠে নেমেছেন। তবে প্রতিটি আসনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী প্রচারণায় রয়েছেন। দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ে প্রার্থিতা ঘোষণা করতে হাইকমান্ডকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দলের তৃণমূল পর্যায় থেকেও এমন পরামর্শ এসেছে।

তবে আগে থেকেই প্রার্থী বাছাইয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের তত্ত্বাবধানে পাঁচটি জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদেরও মতামত নিয়েছেন তিনি। দেড়শ আসনে তেমন জটিলতা পাওয়া যায়নি। এসব আসনে প্রার্থিতা মোটামুটি চূড়ান্ত। অন্য জরিপ থেকে ১৮০টি আসনে ধানের শীষের প্রার্থীর বিজয়ী হতে কোনো সমস্যা দেখছে না দলটি।

তবে একাধিক প্রার্থী এবং গ্রুপিং থাকায় শতাধিক আসনকে ‘জটিলতাপূর্ণ’ বিবেচনা করে সংকট নিরসনে সাংগঠনিক উদ্যোগ নেয় বিএনপি। এর অংশ হিসেবে এসব আসনের প্রার্থীদের কেন্দ্রে ডেকে দল থেকে মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে তারেক রহমানের ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশনার কথা জানিয়ে দেওয়া হয়।

স্থায়ী কমিটির বৈঠক সূত্রে জানা যায়, এসব বিষয় মাথায় রেখে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে চায় বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একক প্রার্থী চূড়ান্ত করাসহ সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। বিভিন্ন আসনে দলের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেতও দেওয়া হচ্ছে।

দলের গুরুত্বপূর্ণ এক নেতা বলেন, কোনো কোনো আসনে একাধিক প্রার্থী রয়েছে। তার মধ্যে যে কোনো একজনকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। এতে করে সেখানে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। কারণ অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের উপস্থিতিতে এই সংকেত না দেওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

সূত্রমতে, এ বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এ অবস্থায় বৈঠকে মনোনয়ন বোর্ড গঠন করে অর্থাৎ দলের স্থায়ী কমিটি ও সংশ্লিষ্ট জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ডেকে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রস্তাব করেন একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। এ সময় আরেক নেতা বলেন, এতে করে সংকট কমবে না বরং বাড়বে। ওই নেতা প্রস্তাব করেন, যেহেতু ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রার্থী চূড়ান্ত করার কাজ করছেন, সেহেতু এটা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

স্থায়ী কমিটির একজন নেতা বলেন, ‘আমরা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে পরামর্শ দিয়েছি, তিনি যেন প্রার্থী চূড়ান্ত করার কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করেন। চলতি মাসের ৩০ অক্টোবরের মধ্যেই তিনি যেন ৩শ আসনে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেন। আরও বিলম্ব হলে তৃণমূলে বিভক্তি বাড়বে। সেক্ষেত্রে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে ভার্চুয়ালি সংবাদ সম্মেলন করে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করতে পারেন। এখন যদি মনোনয়ন বোর্ড গঠন করা হয়, তাহলে প্রার্থীরা এলাকা থেকে উঠে এসে স্থায়ী কমিটির নেতাদের বাসা-অফিসে ধরনা দেবেন। তখন মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগও তোলা সহজ হবে। এখন যা হচ্ছে, তাতে করে কোনো বিতর্ক তোলা সম্ভব হবে না। আবার একক প্রার্থী ঘোষণা করা হলে নিজেদের মধ্যকার কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ হবে।’

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নির্বাচন সামনে রেখে চলতি অক্টোবর মাসের মধ্যেই ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার প্যানেল প্রস্তুত করতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়। আলোচনায় উঠে আসে, সারাদেশে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার যে প্যানেল প্রস্তুত করা হচ্ছে, সেটির অধিকাংশ কর্মকর্তা ছাত্রজীবনে ছাত্রশিবিরে যুক্ত ছিলেন, বর্তমানে জামায়াতপন্থি। এমন হলে নির্বাচনে তাঁরা একটা বিশেষ দলকে বিজয়ী করতে ভূমিকা রাখতে পারেন। এতে করে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তাই সতর্কভাবে দল-মত নির্বিশেষে নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের দিয়ে যাতে এই তালিকা প্রণয়ন করা হয়, সে ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তাই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, এ লক্ষ্যে তাঁরা বুধবার (আজ) প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাবেন। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করাসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা চায় বিএনপি।

এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে অনুষ্ঠেয় বিএনপির প্রতিনিধি দলের বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়েও আলোচনা হয়। বিএনপি নেতারা মনে করছেন, কিছু কিছু উপদেষ্টার বক্তব্য, তৎপরতা ও কার্যক্রমে সরকারের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল-পদায়ন নিয়ে কিছু উপদেষ্টা পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন, বিশেষ একটি দলের পক্ষে কাজ করছেন। এসব ঘটনায় বিএনপি উদ্বিগ্ন। এই উদ্বেগের কথা জানাতে এবং সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে সরকারের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরতে গতকাল সন্ধ্যায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অন্তবর্তী সরকারকে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার কথাও আমরা বলেছি। সরকারের মধ্যে যদি কোনো দলীয় লোক থেকে থাকেন, তাঁকে অপসারণ করার জন্য আমরা দাবি জানিয়ে এসেছিÑ এটাই ছিল মূল কথা।’

ট্যাগস :


নিউজ কমেন্ট করার জন্য প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে লগইন করুন

Copyright © 2025. All right reserved OnlinePress24
Theme Developed BY Global Seba