আজঃ বুধবার ০৪-০২-২০২৬ ইং || খ্রিষ্টাব্দ

গণভোট ও নির্বাচন একসঙ্গে: ৬০০ কোটি টাকা বাড়তি ব্যয়ে ইসির মহাযজ্ঞ

  • আপডেটেড: বৃহস্পতিবার ২৭ Nov ২০২৫
  • / পঠিত : ৬২ বার

গণভোট ও নির্বাচন একসঙ্গে: ৬০০ কোটি টাকা বাড়তি ব্যয়ে ইসির মহাযজ্ঞ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যেই গণভোট আয়োজনের নতুন দায়িত্ব পেয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই দিনে দুটি ভোট গ্রহণের এই বিশাল কর্মযজ্ঞকে দেশের নির্বাচনী ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে সংস্থাটি। এই আয়োজনে বাড়তি প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ঘোষণার পর গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভা বিভাগ থেকে ইসিকে চিঠি দেওয়া হয়। এরপর ‘গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫’ চূড়ান্ত অনুমোদন ও গেজেট আকারে প্রকাশিত হওয়ায় বিষয়টি আইনি ভিত্তি পায়। এর ফলে জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট আয়োজনের সকল সংশয় দূর হয়েছে।

গণভোট আয়োজনের এই সিদ্ধান্তে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা দেখা গেছে। বিশেষ করে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা পূর্ণোদ্যমে প্রস্তুতি শুরু করেছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, এমন পরিস্থিতি নির্বাচন কমিশন আগে কখনো মোকাবিলা করেনি। তবে আইন অনুযায়ী একই দিনে দুটি ভোট সম্পন্ন করা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই।

দুটি ভোটের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ব্যালট পেপার নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ জানান, সংসদ নির্বাচনের জন্য সাদা-কালো ব্যালট পেপার ছাপানোর প্রস্তুতি থাকলেও গণভোটের জন্য রঙিন ব্যালট ব্যবহার করা হবে। ভোটাররা যেন বিভ্রান্ত না হন, সেজন্য সবুজ বা গোলাপি রঙের ব্যালট ছাপানোর কথা ভাবা হচ্ছে। গণভোটের ব্যালটে জুলাই সনদ ও সাংবিধানিক সংস্কার বিষয়ে একটিমাত্র প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোটের ব্যবস্থা থাকবে।

এই আয়োজনে ব্যয়ের বিষয়টিও পর্যালোচনায় রেখেছে ইসি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রাথমিকভাবে প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব করা হয়েছিল। এখন গণভোটের জন্য অতিরিক্ত ২০ শতাংশ বা প্রায় ৬০০ কোটি টাকা বেশি প্রয়োজন হবে। তবে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদের মতে, দুটি ভোট একসঙ্গে হওয়ায় বড় অংকের অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে, যা পৃথকভাবে আয়োজন করলে সম্ভব হতো না।

ভোটগ্রহণের বাস্তব অভিজ্ঞতা নিতে একটি ‘মক ভোটিং’ বা পরীক্ষামূলক ভোটের আয়োজন করেছে ইসি। রাজধানীর শেরেবাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে এই মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। এর মাধ্যমে একজন ভোটারের দুটি ভোট দিতে কেমন সময় লাগছে এবং অন্যান্য সমস্যাগুলো সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবেন নির্বাচন কমিশনাররা। এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভোটকেন্দ্র ও কক্ষের সংখ্যা চূড়ান্ত করা হবে।

ইসি গত ১৮ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। এই ভোটারদের জন্য সারাদেশে ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র এবং ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭৩৯টি ভোটকক্ষ চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী এই সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে।

গণভোট বিষয়টি দেশের অধিকাংশ মানুষের কাছে নতুন হওয়ায় ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা করেছে ইসি। সরকারের পাশাপাশি কমিশনও এ বিষয়ে প্রচার চালাবে। সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, এই প্রচারণা হবে জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণার অতিরিক্ত। সব মিলিয়ে সুষ্ঠুভাবে দুটি ভোট সম্পন্ন করতে কমিশন প্রস্তুত বলে জানিয়েছে ইসি সচিবালয়।

ট্যাগস :


নিউজ কমেন্ট করার জন্য প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে লগইন করুন

Copyright © 2025. All right reserved OnlinePress24
Theme Developed BY Global Seba