নেতৃত্বের জন্য নিজেকে যোগ্য মনে করা অযোগ্যতারই প্রমাণ!
- আপডেটেড: মঙ্গলবার ০২ Dec ২০২৫
- / পঠিত : ২১৬ বার

নেতৃত্বের জন্য নিজেকে যোগ্য মনে করা অযোগ্যতারই প্রমাণ!
নেতৃত্ব দেয়া এতো হালকা নয়, এটি দায়িত্বের বোঝা। নেতৃত্ব কোনো গর্বের মুকুট নয়, এটি আত্মত্যাগের বিনিময়ে কাঁধে তুলে নেওয়া ভারী এক আমানত। তাই যে ব্যক্তি নিজেই দৃঢ় কণ্ঠে বলে: "আমি নেতৃত্বের যোগ্য'' তার এই উচ্চারণই বহু সময়ে তার অযোগ্যতার প্রথম প্রমাণ হয়ে দাঁড়ায়।
আর প্রকৃত নেতা পদ চায় না; পদই তাকে খুঁজে ফেরে। প্রকৃত নেতা আলোয় দাঁড়াতে চায় না; সে আলো জ্বেলে দেয় অন্যদের পথ দেখাতে।
প্রকৃত নেতা নিজের যোগ্যতা ঘোষণা করে না; মানব সেবা ও নিজ কর্ম তার যোগ্যতা ঘোষণা করে দেয়।
নেতৃত্ব একটি আমানত। আর আমানত গ্রহণ করার সবচেয়ে বড় শর্ত হলো; দায়িত্বের ভয়ে কাঁপা হৃদয়, আত্মজিজ্ঞাসায় নতশির মন,
এবং 'আমি কি সত্যিই পারব?' এই দ্বিধায় কম্পমান আত্মা।
যে হৃদয়ে এই দ্বিধা নেই, যে হৃদয়ে আত্মসমালোচনার ব্যথা নেই, যে নিজের সীমা বোঝে না, সে কীভাবে অন্যের বোঝা বহন করবে?
যারা নিজেরাই নিজেদের শ্রেষ্ঠ মনে করে,
তারা সাধারণত শ্রোতা হতে জানে না।
অথচ মহান নেতা আগে শ্রোতা—পরে বক্তা।
যে নিজেকে নিখুঁত ভাবে, সে শোধরানোর প্রয়োজন দেখে না। আর যে শোধরায় না, সে বিকশিত হয় না। এবং যে বিকশিত হয় না, সে নেতৃত্বের ভার বহন করতে পারে না।
ইতিহাস আমাদের শেখায়; সবচেয়ে সফল নেতারা ছিলেন সবচেয়ে বিনয়ী।
তারা সামনে আসেননি দাবি নিয়ে, এসেছিলেন মানুষের ডাকে, মানুষের প্রয়োজনে।
যুগের তাগিদে, সময়ের চাহিদায়।
নিজেকে তাঁরা বলতেন; 'আমি অযোগ্য'
আর সেই অযোগ্যতার স্বীকারোক্তিই তাদের করে তুলেছিল প্রকৃত যোগ্য।
কারণ বিনয় মানুষকে শেখায়; কী জানে না তা বুঝতে। আর অজানা বোঝাই মানুষকে শেখায় শিখতে, আর শিখতে শেখাই; নেতৃত্বের আসল যোগ্যতা।
নেতৃত্ব মানে নিজেকে বড় ভাবা নয়, নেতৃত্ব মানে নিজেকে ছোট করে মানুষের জন্য বড় হয়ে দাঁড়ানো।
নেতৃত্ব মানে সামনে বসা নয়, নেতৃত্ব মানে সবার আগে দাঁড়িয়ে ঝড়ের মুখে ঢাল হওয়া।
নেতৃত্ব মানে নিজের নাম উঁচু করা নয়,
নেতৃত্ব মানে অন্যের নাম উজ্জ্বল করা।
তাই মনে রাখবেন!
যে বলে 'আমি যোগ্য নেতা' সে হয়তো ক্ষমতার জন্য তৃষ্ণার্ত। আর যে বলে 'আমি পারব তো?' সেই হৃদয়েই জন্ম নিতে পারে প্রকৃত নেতা।
কারণ সত্যিকারের নেতৃত্ব জন্ম নেয় আত্মগর্বে নয়,
জন্ম নেয় আত্মবোধে, দায়িত্ববোধে এবং নিঃশর্ত সেবার সংকল্পে।
নিজেকে যোগ্য ভাবা নয়; নিজেকে দায়বদ্ধ ভাবাই নেতৃত্বের প্রথম যোগ্যতা। আর সেই যোগ্যতার চাবি ও পরিচায়ক নিজেকে অযোগ্য ভাবা। নিজেকে সর্বদা শোধরানোর মানসিকতা। আর সে সুস্থ মানসিকতা জন্ম নেয়; দিল-মন দিয়ে পরিপূর্ণ শোন, বলো কম, করো বেশী। কথায় নয়, কাজে ও বাস্তবতায় বাস্তবায়নে!

নিউজ কমেন্ট করার জন্য প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে লগইন করুন





















