আজঃ বুধবার ০৪-০২-২০২৬ ইং || খ্রিষ্টাব্দ

জুলাই অভ্যুত্থান নস্যাৎয়ের ষড়যন্ত্র রুখতে রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ

  • আপডেটেড: রবিবার ১৪ Dec ২০২৫
  • / পঠিত : ৫৭ বার

জুলাই অভ্যুত্থান নস্যাৎয়ের ষড়যন্ত্র রুখতে রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকে জুলাই অভ্যুত্থান ভণ্ডুল করার সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা। তারা বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানকে নস্যাৎ করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে সব রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ থাকবে।শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই অবস্থান তুলে ধরেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর শীর্ষ নেতারা।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ওসমান হাদির ওপর হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি পূর্বপরিকল্পিত এবং গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।

তার ভাষ্য, এই হামলার পেছনে শক্তিশালী একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে, যাদের মূল লক্ষ্য আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা।

তিনি বলেন, হামলাটি প্রতীকী হলেও এর মাধ্যমে একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আতঙ্কিত ও অস্থিতিশীল করা। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ষড়যন্ত্রকারীরা তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করেছে এবং প্রশিক্ষিত শুটার ব্যবহার করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ওসমান হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদে ইনকিলাব মঞ্চের উদ্যোগে সর্বদলীয় প্রতিবাদ সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই এই সভা অনুষ্ঠিত হবে।

এ সময় রাজনৈতিক নেতারা জানান, ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক ঐক্যে যেন কোনো ফাটল না ধরে, সে জন্য দলগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় আরও বাড়ানো জরুরি।

বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান আরও কঠোর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তারা মনে করেন, অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ভেঙে না দিলে নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ঝুঁকির মুখে পড়বে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি পরস্পরের বিরুদ্ধে দোষারোপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেকোনো মূল্যে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় স্বার্থ ও জুলাই অভ্যুত্থানের প্রশ্নে সবাইকে এক কাতারে দাঁড়াতে হবে।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক দোষারোপ বিরোধীদের সুযোগ করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থে জাতিকে বিভক্ত করার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই একটি সংগঠিত মহল এই অভ্যুত্থানকে খাটো করার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করছে।

তিনি দাবি করেন, মিডিয়া, প্রশাসন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে ভিন্ন ন্যারেটিভ তৈরি করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে স্বাভাবিক রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে, যা ভবিষ্যতে যে কোনো সরকারের জন্য হুমকি হয়ে উঠবে।

এনসিপির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ না থাকলে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাই কার্যকর হবে না।
তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক স্বার্থে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, শুধু সরকার নয়, সমগ্র জাতিকেই এই সংকট মোকাবিলায় শক্ত থাকতে হবে। রাজনৈতিক বক্তব্য থাকবে, তবে শত্রুতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার ওপর জোর দেন তিনি।

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভাজন বাড়ার সুযোগেই আওয়ামী লীগ আবার শক্তিশালী হয়েছে। তিনি দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, দলীয় স্বার্থের পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থকেও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে।


নিউজ কমেন্ট করার জন্য প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে লগইন করুন

Copyright © 2025. All right reserved OnlinePress24
Theme Developed BY Global Seba