আজঃ শুক্রবার ০৭-০৮-২০২৬ ইং || খ্রিষ্টাব্দ

মহাসড়ক না বালুরহাটঃ ‎মণিরামপুরে চার ঘন্টার ব্যবধানে পৃথক দূর্ঘটনায় নিহত ১,প্রাণ রক্ষা অর্ধশত যাত্রীর! ‎

  • আপডেটেড: বৃহস্পতিবার ০৬ Aug ২০২৬
  • / পঠিত : ৭৩ বার

মহাসড়ক না বালুরহাটঃ ‎মণিরামপুরে চার ঘন্টার ব্যবধানে পৃথক দূর্ঘটনায় নিহত ১,প্রাণ রক্ষা অর্ধশত যাত্রীর! ‎

এস এম তাজাম্মুল,মণিরামপুরঃ যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের মণিরামপুর সরকারি কলেজ সংলগ্ন রাস্তার উপর সারি সারি বালু ভর্তি ট্রাক দাড়িয়ে থাকায় সড়কে জায়গা সংকটের কারনে আবারো সড়ক দূর্ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার(৪ই আগষ্ট) আনুমানিক রাত ৯টায় পরিবহন দূর্ঘটনা,একই রাতে ১টার দিকে ট্রাক দূর্ঘটনা ঘঠায় মহাসড়কে অবৈধ বালির হাট নিয়ে জনমনে আতংক ও হতাশা বিরাজ করছে। যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের উপর সিরিয়ালে দাড়িয়ে থাকা বালুভর্তি ট্রাকের কারনে শুধুই এ ২টি নই,একই স্পটে গত এক বছরে ২৫-৩০টি দূর্ঘটনা ঘঠেছে। মঙ্গলবার রাতে ট্রাক দূর্ঘটনায় ঐ ট্রাকের হেলপারের মৃত্যু সহ একই দূর্ঘটনা স্পটে এ নিয়ে নিহত হয়েছে ৬ জন, আহত প্রায় অর্ধশত। তবুও বন্ধ হয়নি অবৈধ বালির হাট।

‎তথ্য মোতাবেক,মঙ্গলবার সাতক্ষীরা হতে ছেড়ে আসা ঢাকা গামী যাত্রীবাহী মামুন এন্টারপ্রাইজের প্রায় ৫০জন যাত্রী নিয়ে সরাসরি বৈদ্যতিক পিলারের সাথে সংঘর্ষ হলেও চালকের বিচক্ষণতায় কোন প্রানহানির ঘঠনা ঘঠেনি বলে জানা গেছ।

‎পরিবহন চালকের দাবী,রাস্তার পূর্বপাশ জুড়ে দাড়িয়ে থাকা সারি সারি বালু ভর্তি ট্রাকে জায়গা দখল করায় সামনে হতে আসা মটরসাইকেল ও ইন্জিনভ্যানকে সেভ করতে গিয়ে জায়গা না পেয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপাকে পড়ে পার্শ্ববর্তী বৈদ্যুতিক পিলারে গিয়ে আগাত করে। তবে রাত ৯টার পরপরই ঘটে যাওয়া এ দূর্ঘটনায় চালক সু-চতুর হওয়ায় অলৌকিক ভাবে প্রাণে রক্ষা পাই ৫২ জন পরিবহন যাত্রী। একই রাতে ঐ স্থানেই রাত আনুমানিক ১টার দিকে অর্থাৎ ৪ ঘন্টা পর যশোর দিক হতে আসা একটি মালবাহী মিনি পিকআপ সরাসরি দাড়িয়ে থাকা বালুভর্তি ট্রাকের পেছনে স্ব-জোরে আঘাত করে । দুমড়ে মুচড়ে যায় ট্রাকের সামনের অংশ। এ দূর্ঘটনায় হেলপার মারাত্মক আহত হয়ে পরক্ষনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

‎প্রত্যাক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, প্রাইয় এখানে দূর্ঘটনা ঘটে।  এর আগেও একানে মানুষ মারা গেছে। তারপরও এখানাকার বালির ট্রাকের ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা চালিয়ে যান। উক্ত স্থানে পরপর ২টি দূর্ঘঠনা ঘঠলেও মহাসড়ক হতে ট্রাক সরিয়ে না নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও ট্রাক ড্রাইভারেরা তথ্য সংগ্রহ কারীকেও হেনস্থার পায়তারা করেছিলো রাতে। ঘঠনা সে সময় মণিরামপুর থানা পুলিশের এক অফিসারের উপস্থিতিতে না এগোলেও অবৈধ বালির ব্যবসায়ীরা সন্ত্রাসী ভূমিকায় দাড়িয়ে থেকে প্রশাসনকে হেয় করে তাদের ব্যবসা ও দখলদারিত্ব চলমান রেখেছে। উপজেলা প্রশাসনকে বার বার জানানোর পরিপেক্ষিতে নির্বাহী কর্মকর্তা বালু ব্যাবসায়ীদের নিষেধ করলেও স্থানীয় শ্রমিক নেতাদের ইন্দনে মহাসড়কের উপর ট্রাক রেখে মণিরামপুরে চলমান রেখেছে অবৈধ বালির হাট।

‎দূর্ঘঠনার ঐ স্থানে একাধিক ঘটনার পরিদর্শক মণিরামপুর থানা পুলিশের এস আই উবাইদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ঐ বালির ব্যবসায়ীরা কারো কথা শোনে না,তবে যে কোন মূল্যে এই মৃত্যুর মিছিল বন্ধে মহাসড়কের উপর সারি সারি বালুর ট্রাক রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বালির হাট ও ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ আলমগীর হোসেন প্রথমে দাবী করেন,ট্রাক রাখার নির্ধারিত টার্মিনাল না থাকায় রাস্তার উপর রাখে। তিনি আরো বলেন, ট্রাক মালিকেরা নিয়মিত সরকারকে ট্যাক্স দিয়ে চলে,রাস্তায় ছাড়া কোথায় থাকবে! তথ্য আছে,সম্প্রতি টার্মিনালের সংস্কারের জন্য মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়েছিলো।

‎বিগত কয়েকবার বালুর ট্রাকের কারনে দূর্ঘঠনার পর প্রতিবারের ন্যায় গতানুগতিক মন্তব্যে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সম্রাট হোসেন। 

‎উল্লেখ্য, কুষ্টিয়ার বালি ভর্তি ট্রাক গুলো প্রতিদিন সন্ধা হতে পরদিন বালি বিক্রয় পর্যন্ত সিরিয়ালে দাড়িয়ে মহাসড়কের ৬-৮ ফিট জায়গা জুড়ে ট্রাক দাড়িয়ে বালি কেনাবেচা করে আসছে একটি প্রভাবশালী মহল। প্রকাশ্যে এ অবৈধ বালির হাটের সিন্ডিকেট সুবিধা লুটে নিলেও প্রায়ই ঘঠছে দূর্ঘটনা,একের পর এক মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হচ্ছে আকাশ-বাতাস! তবুও ঐ বালি সিন্ডিকেটের মানুষ রূপী ব্যাক্তিগুলোর কাটছে না ঘোর, ঘঠছে না তাদের মনুষ্যত্বের বিকাশ,পাচ্ছে না মানুষের প্রতি মানুষের মানবিকতার প্রকাশ। আর কত দূর্ঘটনা ঘঠলে তারা চোখের কাঠের চশমা খুলবে,আর কতো প্রান গেলে তারা পশুত্ব ভুলে মানুষ রূপে ফিরবে!

ট্যাগস :


নিউজ কমেন্ট করার জন্য প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে লগইন করুন

Copyright © 2025. All right reserved OnlinePress24
Theme Developed BY Global Seba