আজঃ বুধবার ০৪-০২-২০২৬ ইং || খ্রিষ্টাব্দ

লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচন স্থগিত চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ

  • আপডেটেড: সোমবার ১৫ Dec ২০২৫
  • / পঠিত : ৪৬ বার

লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচন স্থগিত চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ

লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ এখনো উদ্ধার না হওয়ায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন নিয়ে গুরুতর নিরাপত্তা শঙ্কার কথা তুলে ধরে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাছে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে অস্ত্র উদ্ধারের আগ পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংক্রান্ত পরবর্তী সব কার্যক্রম স্থগিত রাখার দাবি জানানো হয়েছে।

রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান জনস্বার্থে রেজিস্ট্রি ডাক ও ইমেইলের মাধ্যমে এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। নোটিশে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং র‍্যাবের মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।

লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ফ্যাসিবাদের পতন ঘটলেও দেশ এখনো গভীর নিরাপত্তা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ওই সময় দেশের বিভিন্ন থানা ও নিরাপত্তা স্থাপনা থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হয়, যার একটি বড় অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। এসব অস্ত্র অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের হাতে থাকায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ভোটার ও প্রার্থীদের জীবনের নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন কমিশন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদের ওপর গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় নির্বাচনি মাঠ কার্যত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর উদাহরণ হিসেবে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা তুলে ধরা হয়।

আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান নোটিশে দাবি করেন, এই ধরনের পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করলে তা সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা নাগরিকের জীবনের অধিকার লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।

তিনি বলেন, গণভোট একটি জাতীয় ঐকমত্যের বিষয় হওয়ায় সেখানে সহিংস প্রতিযোগিতার আশঙ্কা কম, কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হওয়ায় অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতিতে তা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

এ কারণে নোটিশে প্রস্তাব করা হয়, নির্ধারিত ১২ ফেব্রুয়ারি জুলাই সনদের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হলেও, লুট হওয়া সব অস্ত্র উদ্ধার ও সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত রাখা হোক।

নোটিশে সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট দায়ের করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

এর আগে একই বিষয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংক্রান্ত কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে করা একটি রিট আবেদন হাইকোর্ট খারিজ করেন। গত ৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ কংগ্রেসের পক্ষে দলটির মহাসচিব আইনজীবী মো. ইয়ারুল ইসলাম আবেদনটি দায়ের করলে বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি রাজিউদ্দিন আহমেদের বেঞ্চ তা উত্থাপনযোগ্য নয় বলে খারিজ করে দেন।


নিউজ কমেন্ট করার জন্য প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে লগইন করুন

Copyright © 2025. All right reserved OnlinePress24
Theme Developed BY Global Seba