প্রেসিডেন্টের ভিসা বাতিল: যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে কলম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পাল্টা প্রতিবাদ
- আপডেটেড: মঙ্গলবার ৩০ Sep ২০২৫
- / পঠিত : ১১৮ বার

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর মার্কিন ভিসা বাতিলের প্রতিবাদে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোজা ভিলাভিসেনসিও স্বেচ্ছায় তার নিজের ভিসা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। এটিকে তিনি কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের প্রতি একাত্মতা প্রকাশের একটি পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর পেত্রোর ভিসা বাতিলের ঘোষণা দেওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ‘উত্তেজনাপূর্ণ’ হয়ে উঠেছে বলে স্বীকার করেন ভিলাভিসেনসিও। তিনি বলেন, ‘কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের ভিসা বাতিলের মতো অগ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তের মুখে এটি একটি মর্যাদাপূর্ণ পদক্ষেপ। আমাদের সার্বভৌমত্ব নতজানু হয় না। কলম্বিয়াকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে।’
নিউইয়র্কে ফিলিস্তিনপন্থী এক বিক্ষোভ সমাবেশের সময় ‘উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের’ জন্য পেত্রোর ভিসা বাতিল করা হয়েছে বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তারা লেখে, ‘আজ কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট পেত্রোগুস্তাভো নিউইয়র্কের রাস্তায় দাঁড়িয়ে মার্কিন সৈন্যদের আদেশ অমান্য এবং সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।’
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে থাকাকালীন পেত্রো একদল বিক্ষোভকারীকে উদ্দেশ্য করে মার্কিন সৈন্যদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘ট্রাম্পের আদেশ অমান্য করুন!’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সব সৈন্যকে অনুরোধ করছি, মানবতার দিকে বন্দুক তাক করবেন না। ট্রাম্পের আদেশ অমান্য করুন! মানবতার আদেশ মেনে চলুন!’
বোগোটায় ফিরে পেত্রো তার ভিসা বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের জন্য আমার আর ভিসা নেই। আমি এ নিয়ে চিন্তিত নই।’ তিনি আরও জানান, ইউরোপীয় নাগরিক হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য তার ভিসার প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, ‘আমি মুক্ত এবং পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের মুক্ত থাকা উচিত।’
এই ভিসা বাতিলের ঘটনা দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার সর্বশেষ দৃষ্টান্ত। কলম্বিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরমান্দো বেনেদেত্তি এক্সে পেত্রোর পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, পেত্রোর পরিবর্তে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভিসা বাতিল করা উচিত ছিল। তিনি লিখেছেন, ‘যেহেতু সাম্রাজ্য তাকে রক্ষা করে, তাই তারা এমন একজন প্রেসিডেন্টের ওপর প্রতিশোধ নিচ্ছে যিনি তার মুখের ওপর সত্যি কথা বলার মতো যথেষ্ট সক্ষম।’
এই কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পেছনে সাম্প্রতিক আরও কিছু ঘটনা রয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে কলম্বিয়া বহিষ্কৃত অভিবাসীদের বহনকারী দুটি মার্কিন সামরিক বিমানকে তাদের ভূখণ্ডে অবতরণ করতে বাধা দেয়। এর জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কলম্বিয়ার কর্মকর্তাদের ভিসা বাতিল করে এবং কলম্বিয়ার পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দেয়। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র মাদকবিরোধী লড়াইয়ে কলম্বিয়াকে মিত্র দেশের তালিকা থেকে বাদ দেয়।

নিউজ কমেন্ট করার জন্য প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে লগইন করুন




















