ইসরায়েলি সেনাদের মধ্যে নাটকীয়ভাবে বেড়েছে ‘মানসিক রোগী’
- আপডেটেড: মঙ্গলবার ০৯ Dec ২০২৫
- / পঠিত : ১১৫ বার

গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পুনর্বাসন বিভাগে মানসিক রোগীর সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রোববার মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই সংবাদ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড। এই পরিস্থিতিতে দেশটির মানসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে।
মন্ত্রণালয়ের পুনর্বাসন বিভাগের উপ-প্রধান তামার শিমোনি আর্মি রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় মানসিক চিকিৎসার নথিভুক্ত ঘটনা ছিল প্রায় ৬২ হাজার, যা এখন বেড়ে ৮৫ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। তিনি এই বৃদ্ধিকে ‘অভূতপূর্ব’ বলে অভিহিত করেন।
শিমোনি আরও জানান, ইসরায়েলি সেনাদের এক-তৃতীয়াংশ ৭ অক্টোবরের ঘটনা-সম্পর্কিত মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। বর্তমানে একজন চিকিৎসকের ওপর ৭৫০ জনেরও বেশি রোগীর চাপ রয়েছে এবং কিছু এলাকায় এই সংখ্যা আরও বেশি। এর ফলে সবাইকে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
এর আগে গত নভেম্বরে ইসরায়েলি সংবাদপত্র ইয়েদিওথ আহরনোথ এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে জানিয়েছিল, দেশটিতে ব্যাপক হারে মানসিক সমস্যা ছড়িয়ে পড়ছে। এতে মাদকাসক্তির প্রবণতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রায় ২০ লাখ মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়, যার মধ্যে সেনাদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।ইসরায়েলি গণমাধ্যমে সামরিক বাহিনীতে আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধির খবরও প্রকাশিত হয়েছে। অক্টোবরে প্রকাশিত ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ মাসে সেনাবাহিনীতে ২৭৯টি আত্মহত্যার চেষ্টা করা হয়, যার মধ্যে ৩৬ জন মারা গেছেন।
এদিকে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এ ছাড়া আহত হয়েছে আরও এক লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ। এই দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের মানসিক অভিঘাত শুধু গাজার অধিবাসীদেরই নয়, ইসরায়েলি সেনাদেরও গ্রাস করছে, যা দেশটির সামগ্রিক মানসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে বড় ধরনের চাপের মুখে ফেলেছে।

নিউজ কমেন্ট করার জন্য প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে লগইন করুন




















