মার্কিন সামরিক বাহিনীতে ব্যাপক রদবদলের ঘোষণা!
- আপডেটেড: বুধবার ০১ Oct ২০২৫
- / পঠিত : ১৩৮ বার

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সংস্কৃতি, নেতৃত্ব এবং শারীরিক যোগ্যতার মানে ব্যাপক রদবদলের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সমরমন্ত্রী পিট হেগসেথ। এই সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনে আরও শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার ভার্জিনিয়ার মেরিন কোর বেস কোয়ান্টিকোতে আট শতাধিক জেনারেল ও অ্যাডমিরালদের এক নজিরবিহীন সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
হেগসেথ বলেন, ‘আমরা বিচক্ষণতা বজায় রেখে দ্রুততার সঙ্গে কাজ করছি এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে আরও পরিবর্তন আসছে।’ তিনি তার যুক্তিতে বলেন, সামরিক বাহিনীর একটি প্রজন্মের জেনারেল ও অ্যাডমিরালদের শেখানো হয়েছিল যে ‘আমাদের বৈচিত্র্যই আমাদের শক্তি’—এই ভ্রান্ত বিশ্বাসকে অন্ধভাবে অনুসরণ করতে হবে। তার মতে, যারা এই সংস্কৃতি তৈরি করেছেন বা এর থেকে উপকৃত হয়েছেন, তাদের দিয়ে এই সংস্কৃতি পরিবর্তন করা প্রায় অসম্ভব।
সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বের কড়া সমালোচনা করে হেগসেথ জানান, তারা যুদ্ধ প্রস্তুতির চেয়ে জলবায়ু ও বৈচিত্র্যের মতো বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এখন থেকে আর কোনো জলবায়ু পরিবর্তন পূজা নয়, আর কোনো বিভাজন বা লিঙ্গ বিভ্রান্তি নয়, এগুলোর দিন শেষ। এখন নেতৃত্বের পথ পরিষ্কার করা হবে।’
সামরিক বাহিনীতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তারা সামরিক বাহিনীকে ভুল বিষয়ে মনোযোগ দিতে বাধ্য করেছে এবং জাতি, লিঙ্গ কোটা এবং তথাকথিত ঐতিহাসিক ‘প্রথম’ অর্জনের ভিত্তিতে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।’ হেগসেথ আরও বলেন, ‘যদি আজকের আমার বক্তব্য শুনে আপনার হৃদয় ভারী হয়ে আসে, তাহলে আপনার পদত্যাগ করা উচিত।’
ভাষণে সামরিক বাহিনীকে পুনর্গঠনের জন্য বেশ কিছু নতুন নির্দেশনা ঘোষণা করেন হেগসেথ। তিনি বলেন, যুদ্ধের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে পুরুষদের সর্বোচ্চ মানে ফিরিয়ে আনা হবে, কারণ এই ক্ষেত্রগুলো জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত। যুদ্ধাস্ত্র ইউনিটের জন্য নতুন মাঠ পরীক্ষা চালু করা হবে, যা যেকোনো সময়, যেকোনো পরিবেশে এবং পূর্ণ যুদ্ধ সরঞ্জামসহ সম্পাদন করতে হবে।
শারীরিক যোগ্যতার পরীক্ষাতেও পরিবর্তন আনা হবে। যুদ্ধ সৈন্যদের লিঙ্গ-নিরপেক্ষ ও বয়স-ভিত্তিক মূল্যায়নে ৭০ শতাংশের বেশি নম্বর পেতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন কমান্ডে স্থূলকায় জেনারেল ও অ্যাডমিরালদের উপস্থিতি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলেও ঘোষণা করা হয়। সেনা সদস্যদের বছরে দুবার শারীরিক প্রশিক্ষণ এবং উচ্চতা-ওজন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। সাজসজ্জার মান কঠোর করা হবে এবং দাড়ি ও লম্বা চুল রাখা নিষিদ্ধ হবে।
হেগসেথ জানান, সমস্ত ইউনিট ও প্রতিষ্ঠানের মান পুনর্মূল্যায়ন করা হবে, যাতে কমান্ডাররা শৃঙ্খলার স্বার্থে নেতৃত্বের অপব্যবহার, উৎপীড়ন ও হয়রানির মতো বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেন। এছাড়া, ব্যক্তিগত নথি সংরক্ষণ পদ্ধতিও পরিবর্তন করা হবে, যাতে ছোটখাটো অপরাধ পদোন্নতিতে স্থায়ী বাধা সৃষ্টি না করে। বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণের সময় কমিয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণে সময় বাড়ানো হবে।
‘আমরা নারী সেনাদের অবদানকে অত্যন্ত মূল্য দেই’—এ কথা উল্লেখ করে হেগসেথ বলেন, ‘যেকোনো লড়াইয়ের ভূমিকায় উচ্চতর, লিঙ্গ-নিরপেক্ষ শারীরিক মান বজায় রাখতে হবে।’

নিউজ কমেন্ট করার জন্য প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে লগইন করুন



















