সৌদির হস্তক্ষেপেই’ বেঁচে গিয়েছিলেন পাকিস্তানের পরমাণু বোমার জনক!
- আপডেটেড: শনিবার ২৫ Oct ২০২৫
- / পঠিত : ২৫৪ বার

মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র সাবেক কর্মকর্তা জন কিরিয়াকু দাবি করেছেন, সৌদি আরবের সরাসরি হস্তক্ষেপের কারণেই যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের পারমাণবিক কর্মসূচির জনক আবদুল কাদির খানকে (এ কিউ খান) হত্যা করা থেকে বিরত ছিল। হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুসারে, সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন। তার মতে, সৌদিদের নিজস্ব পারমাণবিক আকাঙ্ক্ষাই হয়তো এর পেছনে মূল কারণ ছিল।
পাকিস্তানের পারমাণবিক বোমার জনক হিসেবে পরিচিত খান তার দেশকে বিশ্বের প্রথম ‘ইসলামিক পারমাণবিক শক্তি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিরিয়াকু মন্তব্য করেন, ‘এ কিউ খানের প্রতি সৌদিদের এই সুরক্ষা সম্ভবত তাদের নিজস্ব পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গেই সম্পর্কিত ছিল।’
সাবেক এই সিআইএ কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র এ কিউ খানের অবস্থান এবং তার দৈনন্দিন কার্যকলাপ সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত ছিল। কিন্তু সৌদি সরকারের চাপের কারণেই অভিযান বন্ধ করার নির্দেশ আসে। তিনি বলেন, ‘আমার এক সহকর্মী এ কিউ খানকে নিয়ে কাজ করছিলেন। আমরা যদি ইসরায়েলি পন্থা নিতাম, তবে তাকে সহজেই হত্যা করা যেত। তাকে খুঁজে পাওয়া বেশ সহজ ছিল। আমরা জানতাম তিনি কোথায় থাকতেন, কীভাবে তার দিন কাটত।’
সৌদিদের সমর্থনের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু তার পেছনে ছিল সৌদি সরকারের সমর্থন। তারা আমাদের কাছে এসে বলেছিল, “দয়া করে তাকে একা ছেড়ে দিন। আমরা এ কিউ খানকে পছন্দ করি। তার সঙ্গে কাজ করছি। আমরা পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ। তারা ফয়সালাবাদের নামকরণ করেছে বাদশাহ ফয়সালের নামে। তাই এ কিউ খানকে ছেড়ে দিন।”’
কিরিয়াকু আরও জানান, পরে মার্কিন সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্ক কমিটিতে কাজ করার সময় তিনি জানতে পারেন, সিআইএ এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) একাধিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছিলেন যে, হোয়াইট হাউস থেকেই খানকে হত্যা না করার নির্দেশ এসেছিল। আর এটি করা হয়েছিল কেবল সৌদিদের অনুরোধের কারণেই।
কিরিয়াকু বলেন, ‘আমরা প্রায়ই ভাবতাম, সৌদিরা হয়তো নিজেদের পারমাণবিক সক্ষমতা তৈরির চেষ্টা করছে, আর সেটিই এ কিউ খানের প্রতি তাদের আগ্রহের কারণ। আমার মনে হয়, এটি এমন একটি বিষয় যা আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে ভাবা উচিত।’
উল্লেখ্য, ১৯৩৬ সালে ভারতের ভোপালে জন্ম নেওয়া আবদুল কাদির খান ১৯৫২ সালে পরিবারের সঙ্গে পাকিস্তানে চলে যান। পাকিস্তানের পারমাণবিক বোমার জনক হিসেবে পরিচিত এই বিজ্ঞানী ২০২১ সালে ৮৫ বছর বয়সে ইসলামাবাদে মারা যান।

নিউজ কমেন্ট করার জন্য প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে লগইন করুন




















