আজঃ বুধবার ০৪-০২-২০২৬ ইং || খ্রিষ্টাব্দ

ইসরায়েলি মন্ত্রী: আমাদের ‘মাতৃভূমিতে’ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র হবে না

  • আপডেটেড: মঙ্গলবার ১৮ Nov ২০২৫
  • / পঠিত : ৬৩ বার

ইসরায়েলি মন্ত্রী: আমাদের ‘মাতৃভূমিতে’ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র হবে না

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত গাজা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে ভোটের আগে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে নিজেদের কঠোর বিরোধিতার কথা জানিয়েছে ইসরায়েল। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার সরকারের শীর্ষ মন্ত্রীরা সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, তারা কোনো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র মেনে নেবেন না। এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমর্থিত একটি শান্তি প্রস্তাব নিয়ে পরিষদে ভোটাভুটি হতে যাচ্ছে।

নিরাপত্তা পরিষদে আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) যে খসড়া প্রস্তাবটি তোলার কথা রয়েছে, তা ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার পরবর্তী ধাপকে এগিয়ে নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রস্তাবে বিধ্বস্ত গাজায় একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসন এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের কথাও বলা হয়েছে। তবে সর্বশেষ খসড়ায় ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ থাকায় নেতানিয়াহু সরকার এর তীব্র আপত্তি জানিয়েছে।

রোববার মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু জানান, যে কোনো ভূখণ্ডে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতায় আমাদের অবস্থান অপরিবর্তিত। এক্ষেত্রে তিনি কারও কোনো স্বীকৃতি, টুইট বা বক্তৃতার আবশ্যকতা বোধ করেন না।

সম্প্রতি জোট সরকারের অন্যতম সদস্য ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ পশ্চিমা দেশগুলোর ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে নেতানিয়াহুকে কঠোর প্রতিক্রিয়া না দেখানোর জন্য অভিযুক্ত করেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘সারা বিশ্বকে জানিয়ে দিন, আমাদের মাতৃভূমিতে কখনোই কোনো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গড়ে উঠবে না।’

সরকারের অন্য মন্ত্রীরাও ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তাদের বিরোধিতা প্রকাশ করেছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এক্সে লিখেছেন, ‘ইসরায়েলের নীতি স্পষ্ট: কোনো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে না।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সারও এক্সে লিখেছেন, ‘দেশটি ইসরায়েলের হৃদয়ে ফিলিস্তিনি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সম্মত হবে না।’ এ বিষয়ে জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির ফিলিস্তিনি পরিচয়কে ‘একটি নতুন আবিষ্কার’ বলে অভিহিত করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া দুই বছরের যুদ্ধের পর গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। সোমবারের প্রস্তাবটি পাস হলে তা গত মাসে শুরু হওয়া মার্কিন-সমর্থিত চুক্তির দ্বিতীয় ধাপকে কার্যকর করবে। চুক্তির প্রথম ধাপে হামাস ২০ জন জীবিত ইসরায়েলি জিম্মি এবং ২৮ জন মৃত জিম্মির প্রায় সবাইকে মুক্তি দিয়েছে। এর বিনিময়ে ইসরায়েল প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে এবং ৩৩০টি মৃতদেহ ফিরিয়ে দিয়েছে।

ট্যাগস :


নিউজ কমেন্ট করার জন্য প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে লগইন করুন

Copyright © 2025. All right reserved OnlinePress24
Theme Developed BY Global Seba